টাইব্রেকারে জার্মানিকে হারিয়ে ইতিহাসের পাতায় প্যারাগুয়ে

টাইব্রেকারে জার্মানিকে হারিয়ে ইতিহাসের পাতায় প্যারাগুয়ে

টাইব্রেকারে জার্মানিকে হারিয়ে ইতিহাসের পাতায় প্যারাগুয়ে

জার্মানিকে হারিয়ে ইতিহাসের পাতায় প্যারাগুয়ে জায়গা করে নিলো । টাইব্রেকারে চারবারের চ্যাম্পিয়ন জার্মানিকে ৪-৩ গোলে হারিয়ে শেষ ১৬তে জায়গা করে নিলো দক্ষিণ আমেরিকার দেশটি। নির্ধারিত সময়ের খেলা ১-১ গোলে ড্র থাকার পর অতিরিক্ত সময়েও ফলাফল নির্ধারণ না হওয়ায় খেলা গড়ায় টাইব্রেকারে। বিশ্বকাপের নক আউটে টাইব্রেকারে জার্মানদের হারের রেকর্ড না থাকলেও এবার সেই ধারা ভাঙলো। হেরে গেলো পাওয়ার ফুটবলের দেশটি।

প্যারাগুয়ের বিপক্ষে মাঠের পারফরম্যান্সে দ্বিগুণের চেয়ে বেশি এগিয়ে থেকেও নির্ধারিত ৯০ মিনিটে জয়ের দেখা পেল না জার্মানি। ২০২৬ বিশ্বকাপের রাউন্ড অব ৩২-এর এই মহানাটকীয় ম্যাচটি ১-১ সমতায় শেষ হওয়ায় খেলা গড়িয়েছে অতিরিক্ত ৩০ মিনিটে। বোস্টন স্টেডিয়ামে ডাই মানশাফটদের একের পর এক আক্রমণ প্যারাগুয়ের জমাট রক্ষণে প্রতিহত হলে নির্ধারিত সময়ে ফয়সালা সম্ভব হয়নি।

জার্মান আধিপত্যে প্যারাগুয়ের সপাটে কামড়

ম্যাচের শুরু থেকেই বল দখল এবং আক্রমণের দিক থেকে প্যারাগুয়েকে কোণঠাসা করে রেখেছিল জার্মানি। কিন্তু খেলার ধারার সম্পূর্ণ বিপরীতে গিয়ে প্রথমার্ধেই লিড নিয়ে জার্মানিকে স্তব্ধ করে দেয় লাতিন আমেরিকার দলটি।

৪২তম মিনিটে জার্মানি তাদের প্রথম কর্নারটি ক্লিয়ার করলেও বিপদ এড়াতে পারেনি। প্যারাগুয়ের হুয়ান হোসে ক্যাসেরেস এক দুর্দান্ত স্লাইড ট্যাকলে বলের দখল ধরে রাখেন। সেখান থেকে মিগুয়েল আলমিরন ও মাতিয়াস গালারজার চমৎকার সমন্বয়ে গড়ে ওঠে এক কাউন্টার-অ্যাটাক। গালারজার নিখুঁত ক্রসে দারুণ টাইমিংয়ে বক্সে দৌড়ে এসে এক বুলেট গতির হেড করেন জুলিও এনসিকো। জার্মান কিংবদন্তি গোলরক্ষক ম্যানুয়েল নয়্যারের নাগালের বাইরে দিয়ে বল জড়ায় জালে। এই গোলের মাধ্যমে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে থেকে বিরতিতে যায় প্যারাগুয়ে, যা বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে তাদের ফুটবল ইতিহাসেরই প্রথম গোল!

দ্বিতীয়োয়ার্ধের শুরুতেই হাভার্টজের জাদুকরী প্রত্যাবর্তন

এক গোলে পিছিয়ে পড়ে দ্বিতীয়োয়ার্ধের শুরু থেকেই গোল শোধে মরিয়া হয়ে ওঠে চারবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। আক্রমণের ধার বাড়িয়ে অবশেষে ৫৪তম মিনিটে প্যারাগুয়ের রক্ষণদুর্গ ভাঙতে সক্ষম হয় জার্মানি।

মাঝমাঠ থেকে ফ্লোরিয়ান উইর্টজ বক্সের ভেতরে চমৎকার একটি পাস বাড়ান। সেখানে ওত পেতে থাকা ফরোয়ার্ড কাই হাভার্টজ নিখুঁত স্পর্শে বলের নিয়ন্ত্রণ নেন এবং অত্যন্ত সূক্ষ্ম এক ফ্লিকে বল পাঠিয়ে দেন গোলপোস্টের ডানদিকের নিচের কোণে। ১-১ গোলে সমতায় ফিরে উল্লাসে মাতে জার্মান শিবির।

রক্ষণ বনাম আক্রমণের যুদ্ধ: সমতায় ফেরার পর জার্মানি প্যারাগুয়ের ওপর অল-আউট চাপ সৃষ্টি করে। পরিসংখ্যানে তারা প্রতিপক্ষের চেয়ে দ্বিগুণেরও বেশি ব্যবধানে এগিয়ে ছিল, কিন্তু শেষ ২০ মিনিটে প্যারাগুয়ের নিরেট ডিফেন্স আর ভাঙা যায়নি।

Exit mobile version