পাকিস্তান সুপার লিগে (পিএসএল) ৯ বছর পর পিএসএল শিরোপা জিতল পেশোয়ার। লাহোরে অনুষ্ঠিত ফাইনালে রবিবার রাতে হায়দরাবাদ কিংসমেনকে পাঁচ উইকেটে হারিয়েছে পেশোয়ার জালমি। বাংলাদেশি পেসার নাহিদ রানার দুর্দান্ত বোলিং ও অ্যারন হার্ডির অলরাউন্ড নৈপুণ্যে ২০১৭ সালের পর আবার শিরোপা জিতেছে দলটি।
২০১৭ সালে প্রথমবার শিরোপা জেতার ৯ বছর পর পিএসএল চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করেছে পেশোয়ার। লো-স্কোরিং ফাইনালে হায়দরাবাদ আগে ব্যাট করে ১৮ ওভারে মাত্র ১২৯ রানে গুটিয়ে যায়। ওয়ানডাউনে নেমে সাইম আইয়ুব ৫০ বলে ৫টি চার ও ২টি ছয়ে ৫৪ রানের একটি সংগ্রামী ইনিংস উপহার দেন।

এছাড়া অধিনায়ক মারনাস লাবুশেন ওপেনিংয়ে নেমে ১২ বলে ৩টি চার ও ১টি ছয়ে ২০ রান করেন। আর কেউ উল্লেখযোগ্য ইনিংস খেলতে পারেননি। দুই উইকেটে ৭১ রান তুলেছিল হায়দরাবাদ। সেখান থেকে পরের ৩৭ রানে ৭টি উইকেট হারিয়ে বিপাকে পড়ে তারা।
ফাইনালের জন্য বাংলাদেশি ফাস্ট বোলার নাহিদকে উড়ে নিয়ে যায় পেশোয়ার। অনেক জল্পনা-কল্পনার পর তাকে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) খেলার ছাড়পত্র দেয়। সেই নাহিদ আস্থার প্রতিদান দিয়েছেন বেশ ভালোভাবেই।
৯ বছর পর পিএসএল শিরোপা হার্ডির অলরাউন্ড নৈপুণ্যে
চার ওভার বোলিং করে একটি মেডেনসহ মাত্র ২২ রান দিয়ে দুটি উইকেট নেন নাহিদ। তবে সফলতম বোলার অ্যারন হার্ডি চার ওভারে ২৭ রান দিয়ে চারটি উইকেট শিকার করে। জবাব দিতে নেমে শুরুতেই বিপর্যয়ে পড়ে পেশেয়ার। ৪০ রানেই চারটি উইকেট হারায় তারা।

অবশ্য পঞ্চম উইকেটে ৮৫ রানের ম্যাচজয়ী জুটি গড়েন অ্যারন হার্ডি ও আব্দুল সামাদ। ৩৪ বলে ৩টি চার, ৪টি ছয়ে ৪৮ রান করে সামাদ সাজঘরে ফিরে গেলেও দলকে জিতিয়েই মাঠ ছাড়েন হার্ডি। তিনি ৩৯ বলে ৯টি চারে ৫৬ রান করে অপরাজিত থাকেন।
মাত্র ১৫.২ ওভারে পাঁচ উইকেটে ১৩০ রান তুলে জয় ছিনিয়ে নিয়ে পিএসএল ইতিহাসে দ্বিতীয়বার শিরোপা পায় পেশোয়ার। মুহাম্মদ আলি চার ওভারে ৩৮ রান খরচায় ৩টি উইকেট নেন। আকিফ জাভেদ ও হুনাইন শাহ একটি করে উইকেট নেন।

মূলত অ্যারন হার্ডির অলরাউন্ড নৈপুণ্যেই ফাইনাল জিততে পেরেছে পেশোয়ার। তবে বোলিংয়ে তার পাশাপাশি নাহিদ সবচেয়ে মিতব্যয়ি ও কার্যকর বোলিং উপহার দেন। ফলে প্রথমবার পিএসএল খেলতে নেমেই ফাইনালে উঠলেও ট্রফি অধরাই থাকল হায়দরাবাদের।
সংক্ষিপ্ত স্কোর
হায়দরাবাদ- ১২৯/১০; ১৮ ওভার (সাইম ৫৪, লাবুশেন ২০, হুনাইন ১২; হার্ডি ৪/২৭, নাহিদ ২/২২)।
পেশোয়ার- ১৩০/৫; ১৫.২ ওভার (হার্ডি ৫৬*, সামাদ ৪৮, মুহাম্মদ ৩/৩৮, আকিফ ১/২৯, হুনাইন ১/২৬)।
ফল : পেশোয়ার জালমি ৫ উইকেটে জয়ী।
ম্যাচসেরা : অ্যারন হার্ডি।
স্কোর কার্ড
বিশ্বকাপ ২০২৩
















