রবার্তো মানচিনির অধীনে দ্বিতীয় অধ্যায়ের প্রথম জয় পেল ইতালি। উয়েফা নেশনস লিগে তুরস্ককে ৪-১ গোলে হারিয়ে দারুণভাবে ঘুরে দাঁড়িয়েছে আজ্জুরিরা। বুরসায় অনুষ্ঠিত ম্যাচে প্রথমার্ধেই তিন গোল করে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নেয় ইতালি। দ্বিতীয়ার্ধে তুরস্ক একটি গোল করলেও দ্রুত ব্যবধান বাড়িয়ে স্বস্তির জয় নিশ্চিত করে সফরকারীরা।
বেলজিয়ামের বিপক্ষে ২-০ গোলের হারের মধ্য দিয়ে মানচিনির দ্বিতীয় মেয়াদ শুরু হয়েছিল। তবে দ্বিতীয় ম্যাচেই নিজেদের শক্তির জানান দিয়েছে ইতালি। এই জয়ে গ্রুপ এ১-এ প্রথম পয়েন্ট পাওয়ার পাশাপাশি তৃতীয় স্থানে উঠে এসেছে তারা। আগামী শুক্রবার ফ্রান্সের বিপক্ষে আবার মাঠে নামবে দলটি।
রবার্তো মানচিনির একাদশে চমক
তুরস্কের বিপক্ষে ম্যাচে বেলজিয়ামের কাছে হারা একাদশে আটটি পরিবর্তন আনেন মানচিনি। আগের ম্যাচ থেকে কেবল জিয়ানলুইজি দোন্নারুম্মা, সান্দ্রো তোনালি ও পিও এসপোসিতো জায়গা ধরে রাখেন। শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলতে থাকে ইতালি। ম্যাচের শুরুতেই গোলের সুযোগ তৈরি করেন জিয়াকোমো রাসপাদোরি। তার শট অল্পের জন্য লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়। এরপর পিও এসপোসিতোর প্রচেষ্টা কোনোমতে ঠেকিয়ে দেন তুরস্কের গোলরক্ষক আলতাই বায়িন্দির।

তবে গোলের জন্য বেশিক্ষণ অপেক্ষা করতে হয়নি ইতালিকে। নবম মিনিটেই কর্নার থেকে আলেসান্দ্রো বাস্তোনি জোরালো শটে বল জালে পাঠিয়ে এগিয়ে দেন দলকে। গোল পাওয়ার পর আক্রমণের ধার কমেনি ইতালির। ২২ মিনিটে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন দাভিদে ফ্রাতেসি। মাইকেল কায়োদে শট নিলে তা ঠেকিয়ে দেন বায়িন্দির। তবে ফিরতি বল পেয়ে সহজেই জালে পাঠান ফ্রাতেসি।
অভিষেক ম্যাচেই গোল কায়োদের
পাঁচ মিনিট পরই তৃতীয় গোল পেয়ে যায় ইতালি। অভিষেক ম্যাচেই গোলের দেখা পান কায়োদে। দারুণ একটি দলীয় আক্রমণের শেষ ধাপে নিচু শটে তুরস্কের গোলরক্ষককে পরাস্ত করেন তিনি।
প্রথমার্ধেই তিন গোলের লিড নিয়ে বিরতিতে যায় ইতালি। দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতে অবশ্য ঘুরে দাঁড়ানোর ইঙ্গিত দেয় তুরস্ক। বিরতির দুই মিনিট পরই ওগুজ আইদিনের পাস থেকে বারিস আলপের ইলমাজ নিচু শটে একটি গোল শোধ করেন।
তবে স্বাগতিকদের প্রত্যাবর্তনের আশা বেশিক্ষণ স্থায়ী হয়নি। ৫০ মিনিটে সান্দ্রো তোনালির শট পোস্টে লেগে ফিরে আসে। সেই ফিরতি বলেই মাথা ছুঁইয়ে গোল করেন পিও এসপোসিতো। ফলে আবারও তিন গোলের ব্যবধান তৈরি হয় ইতালির।
এরপর ম্যাচে ফিরতে একাধিক চেষ্টা করে তুরস্ক। আরদা গুলের ও ইলমাজের কয়েকটি শট ইতালির রক্ষণে বাধা পায়। অন্যদিকে ইতালিও ব্যবধান বাড়ানোর সুযোগ পেয়েছিল। নিকোলো কামবিয়াগির শট ঠেকিয়ে দেন বায়িন্দির।
শেষ দিকে তুরস্ক আরও আক্রমণ বাড়ালেও ইতালির রক্ষণ ভাঙতে পারেনি। কেরেম আক্তুরকোলুর শট জর্জিও স্কালভিনি ব্লক করেন। এরপর গুলের আরও একবার গোলের চেষ্টা করলেও তার শট ক্রসবারের ওপর দিয়ে চলে যায়। ওগুজ আইদিনের শেষদিকের প্রচেষ্টাও দোন্নারুম্মা ঠেকিয়ে দেন।




