দেশজুড়ে ২৫ হাজারেরও বেশি বোলারের অংশগ্রহণে আয়োজিত রবি বোলার হান্টের চূড়ান্ত পর্ব থেকে নির্বাচিত হয়েছেন ২১ জন প্রতিভাবান বোলার। জমকালো সমাপনী অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে তাঁদের পরিচয় করিয়ে দেওয়ার পাশাপাশি বিশেষ পুরস্কার দেওয়া হয়েছে দুই খুদে ক্রিকেটারকেও।
মাত্র ৯ বছর বয়স সাইফের। তবে ক্রিকেটীয় বুদ্ধিমত্তা ও আত্মবিশ্বাসে সে বেশ পরিণত। দক্ষিণ আফ্রিকার সাবেক স্পিনার পল অ্যাডামসের মতো অদ্ভুতুড়ে বোলিং অ্যাকশনের এই বাঁহাতি রিস্ট স্পিনার মঞ্চে দাঁড়িয়ে জানায়, তার স্বপ্ন বাংলাদেশ দলের তারকা ক্রিকেটার তামিম ইকবালকে আউট করা।
সাইফের কথা শুনে মঞ্চে উঠে বিসিবি সভাপতি তামিম ইকবাল জানতে চান, কোন ধরনের ডেলিভারিতে তাঁকে আউট করতে চায় সে। বিন্দুমাত্র সময় না নিয়ে সাইফের উত্তর, ‘গুগলি!’ ছোট্ট এই ক্রিকেটারের আত্মবিশ্বাস ও ক্রিকেটীয় জ্ঞান উপস্থিত দর্শকদের মুগ্ধ করে।
রবি বোলার হান্টের অন্যতম বিশেষ প্রাপ্তি এই সাইফ। প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়ার ন্যূনতম বয়সসীমা ১৬ বছর হলেও প্রতিভার স্বাক্ষর রেখে বিশেষ স্বীকৃতি পেয়েছে সে। একইভাবে বিশেষ পুরস্কার জিতেছে ১২ বছর বয়সী বাঁহাতি স্পিনার শোয়েবও। সমাপনী অনুষ্ঠানে এই দুই খুদে ক্রিকেটারই ছিল অন্যতম আকর্ষণ।
দীর্ঘ আট বছর পর আবারও দেশব্যাপী বোলার হান্টের আয়োজন করে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। আয়োজনে সহযোগী হিসেবে ছিল মোবাইল সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান রবি। গত ১৫ সেপ্টেম্বর শুরু হওয়া এই প্রতিযোগিতায় দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ২৫ হাজারের বেশি বোলার নিবন্ধন করেন। ব্যাপক সাড়া পাওয়ায় নির্ধারিত সময়ের আগেই নিবন্ধন বন্ধ করতে হয় আয়োজকদের।
প্রাথমিক যাচাই-বাছাই শেষে ১৪৩ জন বোলারকে নির্বাচন করা হয়। তাঁদের মধ্যে ৫৭ জন পেসার ও ৮৬ জন স্পিনার। নির্বাচিতদের মধ্যে পুরুষ ১০৮ জন এবং নারী ৩৫ জন।
পরবর্তী সময়ে ঢাকায় দুই ধাপে অনুষ্ঠিত হয় জাতীয় পর্যায়ের ট্রায়াল। প্রথম ধাপে ১৪৩ জন থেকে বাছাই করা হয় ৪২ জনকে। এরপর চূড়ান্ত ট্রায়ালে অভিজ্ঞ কোচদের মূল্যায়নে জায়গা করে নেন ২১ জন বোলার। নির্বাচিতদের মধ্যে রয়েছেন চারজন নারী বোলার।
সোমবার সন্ধ্যায় মিরপুরের শের-ই-বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে জমকালো আয়োজনের মধ্য দিয়ে চূড়ান্তভাবে নির্বাচিত ২১ বোলার ও বিশেষ স্বীকৃতি পাওয়া দুই খুদে ক্রিকেটারকে পরিচয় করিয়ে দেওয়া হয়। ফ্যাশন শোর মাধ্যমে তাঁদের মঞ্চে উপস্থাপন করা হয়। পরে বিসিবি সভাপতি তামিম ইকবালসহ বোর্ড ও রবির কর্মকর্তারা তাঁদের হাতে স্মারক তুলে দেন। অনুষ্ঠানে ভিডিও প্রদর্শনীর পাশাপাশি ফায়ার শো ও আতশবাজির আয়োজনও ছিল।
বাছাই প্রক্রিয়ার বিভিন্ন পর্যায়ে বিচারকের দায়িত্ব পালন করেন বাংলাদেশ জাতীয় দলের স্পিন বোলিং কোচ মুশতাক আহমেদ, বিসিবির হাই পারফরম্যান্স (এইচপি) বিভাগের প্রধান কোচ মোহাম্মদ সালাহউদ্দিন, বিসিবির কোচ কোরি কলিমোর ও দিপু রায় চৌধুরী।
পুরো আয়োজনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সবাইকে ধন্যবাদ জানিয়ে বিসিবি সভাপতি তামিম ইকবাল বলেন, নির্বাচিত বোলারদের ভবিষ্যৎ গড়ে তোলার দায়িত্ব এখন বোর্ডের। তাঁদের যথাযথ পরিচর্যা ও প্রশিক্ষণের মাধ্যমে জাতীয় পর্যায়ের ক্রিকেটের জন্য প্রস্তুত করা হবে।
তামিম বলেন, প্রতিটি বিভাগে গিয়ে ভবিষ্যতের নাহিদ রানা ও তাসকিন আহমেদদের খুঁজে বের করার যে প্রচেষ্টা চালানো হয়েছে, তা প্রশংসনীয়। পুরো কার্যক্রম তিনি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করেছেন বলেও জানান। রবি ও সংশ্লিষ্ট সবার প্রচেষ্টায় তিনি গর্বিত।
নির্বাচিত বোলারদের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা সম্পর্কে বিসিবি সভাপতি জানান, তাঁরা বোর্ডের হাই পারফরম্যান্স (এইচপি) ইউনিটের তত্ত্বাবধানে থাকবেন। তাঁদের জন্য থাকবে বিশেষ পরিচর্যা ও প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা। প্রতিভা ও পারফরম্যান্সের ভিত্তিতে পরবর্তী সময়ে তাঁদের মূল এইচপি কার্যক্রমে অন্তর্ভুক্ত করা হবে।
এ জন্য বিসিবির হাই পারফরম্যান্স বিভাগের অধীনে আলাদা একটি বিশেষ উইং গঠন করা হবে। নির্বাচিত বোলারদের প্রথমে মেডিকেল পরীক্ষা ও অন্যান্য মূল্যায়নের মধ্য দিয়ে যেতে হবে। এরপর ধাপে ধাপে প্রশিক্ষণ ও উন্নয়ন কার্যক্রম চলবে। যারা নিজেদের যোগ্যতা ও সম্ভাবনার প্রমাণ দিতে পারবেন, তাঁদের জন্য খুলে যাবে পরবর্তী পর্যায়ের ক্রিকেটে যাওয়ার পথ।
এদিকে বোলার হান্টে সর্বোচ্চ গতিতে বল করে আলোচনায় আসা আবিদকে ইতোমধ্যে ডি থ্রি ট্রফির ফ্র্যাঞ্চাইজি একমি গ্রুপ দলে ভিড়িয়েছে। প্রতিভাবান এই বোলারকে সুযোগ করে দেওয়ায় প্রতিষ্ঠানটিকে বিশেষ ধন্যবাদ জানান তামিম।
এ সময় ক্রিকেটারদের উন্নয়নে বিসিবির আরও একটি বড় উদ্যোগের ইঙ্গিত দেন বোর্ড সভাপতি। তিনি জানান, দেশজুড়ে ছড়িয়ে থাকা ক্রিকেটারদের প্রশিক্ষণ ও পরিচর্যার সুযোগ বাড়াতে নতুন একটি প্রকল্প নিয়ে কাজ করছে বোর্ড। সবকিছু প্রস্তুত না হলেও উদ্যোগটি বাস্তবায়নের কাছাকাছি রয়েছে। আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসতে পারে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তামিম।


