ইংল্যান্ডের পর এবার ক্রোয়েশিয়াকেও হারিয়ে উয়েফা নেশন্স লিগে দারুণ ছন্দ ধরে রাখল বিশ্বচ্যাম্পিয়ন স্পেন। মঙ্গলবার সেভিয়ায় ক্রোয়েশিয়াকে ৪-১ গোলে উড়িয়ে দিয়েছে লুইস দে লা ফুয়েন্তের দল। জোড়া গোল করে স্পেনের জয়ে বড় অবদান রেখেছেন তরুণ তারকা লামিনে ইয়ামাল। একটি গোলে সহায়তাও করেছেন বার্সেলোনার এই ফরোয়ার্ড।
এই জয়ে নেশন্স লিগের গ্রুপে শীর্ষস্থান আরও মজবুত করেছে স্পেন। একই সঙ্গে টানা ৪০ ম্যাচ অপরাজিত থাকার রেকর্ড গড়েছে তারা। চার দিন আগে ওয়েম্বলিতে ইংল্যান্ডকে ৩-২ গোলে হারিয়েছিল স্পেন। সেই জয়ের আত্মবিশ্বাস নিয়েই ঘরের মাঠে ক্রোয়েশিয়ার বিপক্ষে নেমে শুরু থেকেই দাপট দেখিয়েছে বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা।
শুরুতেই ইয়ামালের গোল
ম্যাচের দুই মিনিট না যেতেই স্পেনকে এগিয়ে দেন ইয়ামাল। বক্সের ভেতর আলেক্স বায়েনার কাছ থেকে বল পেয়ে নিচু শটে ক্রোয়েশিয়ার গোলরক্ষক ডমিনিক লিভাকোভিচকে পরাস্ত করেন বার্সেলোনা তারকা। ইংল্যান্ডের বিপক্ষেও ম্যাচের শুরুতেই গোল করেছিলেন ইয়ামাল। মাত্র চার দিনের ব্যবধানে পরপর দুই ম্যাচে তাঁর দ্রুত গোল করার সামর্থ্য আবারও আলোচনায় আসে।
এরপর ব্যবধান বাড়ানোর সুযোগ পেয়েছিল স্পেন। বায়েনার শট ঠেকিয়ে দেন লিভাকোভিচ। ১৯ মিনিটে পাউ কুবাসির দূরপাল্লার শটও অল্পের জন্য লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়। তবে ২৮ মিনিটে ম্যাচে সমতা ফেরায় ক্রোয়েশিয়া। ইভান পেরিসিচের ক্রসে মাথা ছুঁইয়ে বল জালে পাঠান ডিওন বেলজো। গোলটি ক্রোয়েশিয়াকে ম্যাচে ফেরার আশা দেখালেও সেই সমতা বেশিক্ষণ স্থায়ী হয়নি।

৩১ মিনিটেই আবার এগিয়ে যায় স্পেন। কর্নার থেকে ইয়ামালের করা ক্রস বক্সের কাছাকাছি জায়গায় পেয়ে যান মার্ক পুবিল। কাছ থেকে হেডে বল জালে পাঠিয়ে স্পেনের হয়ে নিজের প্রথম গোল করেন তিনি। প্রথমার্ধের শেষ দিকে ব্যবধান বাড়ানোর আরও কয়েকটি সুযোগ তৈরি করে স্পেন। ফেরমিন লোপেজের দুটি প্রচেষ্টা অল্পের জন্য লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়। বিরতির ঠিক আগে ইয়ামালের একটি শট ক্রোয়েশিয়ার পোস্টে লেগে ফিরে আসে।
দ্বিতীয়ার্ধে ক্রোয়েশিয়া আক্রমণাত্মক
দ্বিতীয়ার্ধে অবশ্য ক্রোয়েশিয়া কিছুটা আক্রমণাত্মক হয়ে ওঠে। মার্কো পাসালিচ ও বেলজোর প্রচেষ্টা স্পেনের রক্ষণ আটকে দেয়। কিন্তু ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখে স্বাগতিকরা।
৬০ মিনিট পার হওয়ার কিছু পরেই আবার জ্বলে ওঠেন ইয়ামাল। বাঁ পায়ের দুর্দান্ত শটে গোল করেন তিনি। তাঁর দ্বিতীয় গোলে স্পেনের লিড দাঁড়ায় ৩-১।এরপর ব্যবধান আরও বাড়ানোর সুযোগ পায় স্পেন। ভিক্তর মুনিওসের হেড অল্পের জন্য বাইরে চলে যায়। বদলি হিসেবে নামা নিকো উইলিয়ামসও একটি সুযোগ কাজে লাগাতে পারেননি। অন্যদিকে ফ্রাঞ্জো ইভানোভিচের অ্যাঙ্গেল শটও স্পেনের রক্ষণে বাধা পায়।
শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত আক্রমণ চালিয়ে যায় স্পেন। পেদ্রির শট ভালোভাবে ঠেকিয়ে দেন লিভাকোভিচ। তবে ৮৯ মিনিটে আর কিছু করার ছিল না ক্রোয়েশিয়ার গোলরক্ষকের। মিকেল মেরিনোর পাস থেকে বক্সের ভেতর বল পেয়ে জোরালো শটে স্পেনের চতুর্থ গোল করেন নিকো উইলিয়ামস। সবশেষ এই জয়ের মাধ্যমে টানা ৪০ ম্যাচ অপরাজিত থাকার রেকর্ডও ধরে রাখল স্পেন।




