দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে টেস্ট সিরিজ হারের পর তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েছে অস্ট্রেলিয়া। সাবেক ওপেনার ডেভিড ওয়ার্নার বর্তমান দলের পারফরম্যান্সকে ‘ভয়াবহ’ ও ‘অস্ট্রেলিয়াসুলভ নয়’ বলে মন্তব্য করেছেন। তবে ওয়ার্নারের এমন সমালোচনার জবাবে কী বলবেন, তা যেন খুঁজে পাননি অধিনায়ক প্যাট কামিন্স।
সিরিজের প্রথম টেস্টে দারুণ জয় দিয়ে সফর শুরু করেছিল অস্ট্রেলিয়া। কিন্তু পরের দুই ম্যাচে হেরে সিরিজ হাতছাড়া করে তারা। কেপটাউনে তৃতীয় টেস্টে ১৭৬ রানে পরাজয়ের মধ্য দিয়ে শেষ হয় তাদের হতাশাজনক সফর। সবশেষ সাত টেস্টে এটি কামিন্সদের চতুর্থ হার।
সিরিজজুড়ে ব্যাটারদের ব্যর্থতা ছিল চোখে পড়ার মতো। শেষ টেস্টের চতুর্থ ইনিংসে ২৮৮ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে মাত্র ১১১ রানেই গুটিয়ে যায় অস্ট্রেলিয়া। এই পারফরম্যান্সের সমালোচনা করে ওয়ার্নার বলেন, ব্যাটসম্যানদের ব্যর্থতায় বোলাররাও ডুবেছেন। দলের লড়াই করার মানসিকতার অভাবকেও লজ্জাজনক বলে উল্লেখ করেন তিনি।
ওয়ার্নারের মন্তব্য নিয়ে প্রশ্ন করা হলে কামিন্স বলেন, ‘আমি নিজেও আসলে জানি না এ ব্যাপারে কী বলতে পারি।’
তবে দলের পরিবর্তনের প্রয়োজনীয়তা অস্বীকার করেননি অস্ট্রেলিয়ান অধিনায়ক। দীর্ঘদিন ধরে রানখরায় ভুগছেন মার্নাস লাবুশেন। টানা ৩৯ ইনিংসে সেঞ্চুরি নেই তার, সর্বশেষ ১৬ ইনিংসে পাননি ফিফটির দেখাও। তার পাশাপাশি দলের অন্য ব্যাটারদের ধারাবাহিকতা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।
কামিন্সের মতে, অস্ট্রেলিয়া এখনো ভালো দল। তবে আবারও টেস্ট র্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষে ফিরতে হলে নিজেদের আরও উন্নতি করতে হবে। প্রয়োজনে খেলার ধরন ও দলে ক্রিকেটার পরিবর্তনের ইঙ্গিতও দিয়েছেন তিনি।
সিরিজ হারের পর টস জিতে আগে বোলিং নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েও আলোচনা হচ্ছে। তবে কামিন্স মনে করেন, শেষ ইনিংসে ব্যাটিং ব্যর্থতাই পরাজয়ের বড় কারণ। তার বিশ্বাস ছিল, ২৮৮ রানের লক্ষ্য অস্ট্রেলিয়ার নাগালের মধ্যেই ছিল।
সিরিজ হারের ফলে টেস্ট র্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষস্থান হারানোর পাশাপাশি আইসিসি টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপেও তিন নম্বরে নেমে গেছে অস্ট্রেলিয়া। কামিন্স স্বীকার করেছেন, দলের অনেক ক্রিকেটারের জন্য দক্ষিণ আফ্রিকায় এটিই হয়তো শেষ সিরিজ খেলার সুযোগ ছিল। কিন্তু প্রত্যাশা পূরণে ব্যর্থ হওয়ায় সেই সফর শেষ হয়েছে হতাশা নিয়ে।


