ইংল্যান্ডকে তাদের ঘরের মাঠেই স্তব্ধ করে দিল অস্ট্রেলিয়ার নারী ক্রিকেট দল। লর্ডসের ঐতিহাসিক ক্রিকেট গ্রাউন্ডে স্বাগতিক ইংল্যান্ডকে ৭ উইকেটে হারিয়ে সপ্তমবারের মতো আইসিসি নারী টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের শিরোপা নিজেদের করে নিল অজিরা। টানা দু’টি বৈশ্বিক টুর্নামেন্টের সেমিফাইনালে হারের বৃত্ত ভেঙে দুর্দান্তভাবে সিংহাসন ফিরে পেল অস্ট্রেলিয়া। ফাইনালের ইতিহাসে সর্বোচ্চ রান তাড়া করার রেকর্ড গড়ে ২০২৩ সালের পর আবারও বিশ্বজয়ের উল্লাসে মাতল তারা।

লর্ডসের গ্যালারিতে রেকর্ড ২৮,৮৮৭ জন দর্শকের উপস্থিতিতে টস জিতে ইংল্যান্ডকে প্রথমে ব্যাটিংয়ের আমন্ত্রণ জানায় অস্ট্রেলিয়া। নির্ধারিত ২০ ওভারে ৪ উইকেট হারিয়ে ১৫০ রান তোলে স্বাগতিকরা। জবাবে ১৭.১ ওভারেই মাত্র ৩ উইকেট হারিয়ে জয়ের বন্দরে পৌঁছে যায় অজি নারী দল।
সিভার-ব্রান্টের লড়াই সত্ত্বেও ইংল্যান্ডের মাঝারি সংগ্রহ
পপস্টার রিতা ওরার পারফরম্যান্সের পর লর্ডসের কানায় কানায় পূর্ণ গ্যালারিতে খেলতে নামে দুই দল। শুরুতে ব্যাটিং বিপর্যয়ে পড়ে ইংল্যান্ড। দলীয় স্কোরে মাত্র ৮ রান যোগ হতেই টুর্নামেন্টের সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক ড্যানি ওয়াট-হজকে (৮) হারায় তারা। লুসি হ্যামিল্টন ও অ্যানাবেল সাদারল্যান্ডের তোপে ৭০ রানেই ৪ উইকেট হারিয়ে ধুঁকতে থাকে ইংলিশরা।

সেখান থেকে দলের হাল ধরেন অধিনায়ক ন্যাট সিভার-ব্রান্ট। ফ্রেয়া কেম্পকে সাথে নিয়ে গড়েন অবিচ্ছিন্ন ৮০ রানের জুটি, যা বিশ্বকাপের ফাইনালে ইংল্যান্ডের ইতিহাসে সর্বোচ্চ। সিভার-ব্রান্ট ৪৫ বলে খেলেন অপরাজিত ৫৮ রানের এক দুর্দান্ত ইনিংস। এই হাফ-সেঞ্চুরির মাধ্যমে নারী টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ইতিহাসে সর্বোচ্চ ৯টি ফিফটির রেকর্ড গড়েন তিনি। অন্যদিকে কেম্প ২৮ বলে ৪৪ রানে অপরাজিত থাকলে ইংল্যান্ডের সংগ্রহ দাঁড়ায় ১৫০ রান।
মুনি-লিচফিল্ডের রেকর্ড জুটিতে চূর্ণ ইংল্যান্ডের স্বপ্ন
১৫১ রানের রেকর্ড লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরুতেই ওপেনার জর্জিয়া ভলকে (৯) হারায় অস্ট্রেলিয়া। তবে সেই ধাক্কা টের পেতে দেননি বেথ মুনি এবং ফোবি লিচফিল্ড। পাওয়ার প্লে-তেই এই জুটি স্কোরবোর্ডে ৬২ রান তুলে ম্যাচ অস্ট্রেলিয়ার নিয়ন্ত্রণে নিয়ে আসেন।

- বেথ মুনির রেকর্ড ইনিংস: ৩৮ বলে নিজের অর্ধশতক পূরণ করেন মুনি। টুর্নামেন্টে এটি তাঁর তৃতীয় হাফ-সেঞ্চুরি, যার মাধ্যমে তিনি সিভার-ব্রান্টের সর্বোচ্চ ফিফটির রেকর্ডে ভাগ বসান। শেষ পর্যন্ত ৬৪ রান করে এলবিডব্লিউ (LBW) হয়ে মাঠ ছাড়েন তিনি।
- লিচফিল্ডের ঝড়: মুনিকে যোগ্য সঙ্গ দিয়ে লিচফিল্ড খেলেন ৪৮ রানের এক আগ্রাসী ইনিংস। দ্বিতীয় উইকেটে এই দুজনের ১০০ রানের জুটিই অস্ট্রেলিয়ার জয় নিশ্চিত করে দেয়।
শেষের দিকে এলিস পেরি ও অ্যাশলেই গার্ডনার বাকি কাজটুকু অনায়াসেই সারেন। ম্যাচের ১৭.১ ওভারে ওয়াইডের মাধ্যমে জয়সূচক রানটি আসে এবং প্রায় ৩ ওভার বাকি থাকতেই শিরোপা নিশ্চিত করে অস্ট্রেলিয়া।
ফাইনালে অস্ট্রেলিয়ার শতভাগ রেকর্ড
এই জয়ের ফলে বিশ্বকাপের ফাইনালে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে নিজেদের শতভাগ জয়ের রেকর্ড ধরে রাখল অস্ট্রেলিয়া (দুই ফরম্যাট মিলিয়ে ৭টি ফাইনালের সবকটিতেই জয়)। অন্যদিকে, ২০০৯ সালের পর প্রথম টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ জয়ের খোঁজে থাকা ইংল্যান্ডকে আরও একবার রানার্স-আপ হয়েই সন্তুষ্ট থাকতে হলো। ঘরের মাঠে বিশ্বকাপ ফাইনাল হারের স্বাদও এবারই প্রথম পেল ইংলিশরা। হোয়াইট বলের দুই সংস্করণের কোনো ট্রফি ছাড়া টুর্নামেন্ট শুরু করা অস্ট্রেলিয়া আবারও প্রমাণ করল—ক্রিকেট বিশ্বে তাদের আধিপত্য এখনো শেষ হয়ে যায়নি।
সংক্ষিপ্ত স্কোর:
- ইংল্যান্ড: ২০ ওভারে ১৫০/৪ (ন্যাট সিভার-ব্রান্ট ৫৮*, ফ্রেয়া কেম্প ৪৪*; লুসি হ্যামিল্টন ১/১৯, কিম গার্থ ১/২০)
- অস্ট্রেলিয়া: ১৭.১ ওভারে ১৫৩/৩ (বেথ মুনি ৬৪, ফোবি লিচফিল্ড ৪৮; সোফি একলস্টোন ১/২৪, চার্লি ডিন ১/২৮)
- ফলাফল: অস্ট্রেলিয়া ৭ উইকেটে জয়ী ও চ্যাম্পিয়ন।



