শুধু মাঠ নয় খাবার টেবিলেও হাল্যান্ড রীতিমতো একজন দানব!

রোজ ৬ হাজার ক্যালরি আর গরুর কলিজা-হৃৎপিণ্ড: মাঠ কাঁপানো হাল্যান্ডের ‘দানবীয়’ খাদ্যাভ্যাস

ফুটবল মাঠে বল পায়ে তাঁর গতি আর অতিমানবীয় শক্তি দেখলে মনে হতে পারে তিনি কোনো মানুষ নন, যেন এক নিখুঁত ‘রোবট’। আর এই কারণেই বিশ্ব ফুটবলে তাঁর ডাকনাম ‘সাইবর্গ’ বা ‘নরওয়েজিয়ান মেশিন’। তিনি আর কেউ নন, ম্যানচেস্টার সিটি ও নরওয়ের ২৫ বছর বয়সী গোলমেশিন আর্লিং ব্রাউট হাল্যান্ড। সম্প্রতি ফুটবলের এই মহাতারকা আবারও বিশ্বজুড়ে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে এসেছেন, তবে এবার মাঠের কোনো গোলের জন্য নয়, বরং তাঁর অদ্ভুত এবং চেনা ছকের বাইরের খাদ্যাভ্যাসের (ডায়েট) কারণে।

আধুনিক স্পোর্টস নিউট্রিশন বা ক্রীড়া পুষ্টির চেনা ব্যাকরণকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে এই নরওয়েজিয়ান তারকা প্রতিদিন প্রায় ৬,০০০ ক্যালরি খাবার গ্রহণ করেন, যা একজন সাধারণ মানুষের দৈনিক প্রয়োজনের তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ!

হাল্যান্ডের ‘বিস্ট ডায়েট’: পাস্তা-চিকেন নয়, প্লেটে থাকে গোরুর অঙ্গপ্রত্যঙ্গ

বর্তমান যুগের অধিকাংশ ফুটবলার যখন মেপে মেপে সেদ্ধ চিকেন, পাস্তা কিংবা প্রোটিন সাপ্লিমেন্টের ওপর ভরসা রাখেন, হাল্যান্ড সেখানে বেছে নিয়েছেন এক সম্পূর্ণ আদিম ও ভিন্ন পথ। তাঁর এই দানবীয় ডায়েটের সবচেয়ে চমকপ্রদ অংশ হলো গোরুর হৃৎপিণ্ড (হার্ট) এবং যকৃৎ বা কলিজা (লিভার)।

হাল্যান্ডের দৈনিক খাদ্যতালিকায় যা যা থাকে:

  • অঙ্গপ্রত্যঙ্গের মাংস: গোরুর টাটকা হৃৎপিণ্ড ও যকৃৎ।
  • ভারী মাংস ও মাছ: বড় আকারের স্টেক, বিলাসবহুল টমাহক স্টেক এবং সি-বাস মাছ।
  • অন্যান্য খাবার: অ্যাসপারাগাস (এক ধরণের সবজি), এগ ফ্রাইড রাইস এবং কাঁচা মধু।
  • জাদুকরী পানীয়: প্রচুর পরিমাণে কাঁচা দুধ। এটিকে তিনি নিজের শক্তির অন্যতম উৎস মনে করেন এবং সকালে নাস্তার পাশাপাশি কফির সাথেও কাঁচা দুধ মিশিয়ে পান করেন।

প্রক্রিয়াজাত খাবারকে লাল কার্ড, খাঁটি মাংসে ভরসা

নিজের খাদ্যাভ্যাস নিয়ে নির্মিত ‘হাল্যান্ড: দ্য বিগ ডিসিশন’ নামক একটি তথ্যচিত্রে এই ফুটবলার তাঁর এই ব্যতিক্রমী দর্শনের ব্যাখ্যা দিয়েছিলেন। ফাস্টফুডের তীব্র সমালোচনা করে হাল্যান্ড বলেন:

“অনেকে হয়তো এসব (হৃৎপিণ্ড বা যকৃৎ) খান না, কিন্তু আমি আমার শরীরের সর্বোচ্চ যত্ন নিতে চাই। আমার কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো স্থানীয় উৎস থেকে পাওয়া একদম খাঁটি ও উচ্চমানের খাবার খাওয়া। মানুষ ঢালাওভাবে বলে মাংস খাওয়া স্বাস্থ্যের জন্য খারাপ। কিন্তু প্রশ্ন হলো, আপনি কোন মাংসটা খাচ্ছেন? ফাস্টফুডের দোকান থেকে কেনা প্রক্রিয়াজাত মাংস? নাকি আপনার চোখের সামনে সবুজ মাঠে ঘাস খেয়ে বড় হওয়া স্থানীয় গোরুর তাজা মাংস? আমি নিশ্চিতভাবেই পরেরটি বেছে নিই।”

ম্যাচ পরবর্তী কঠোর ‘রিকভারি’ রুটিন

শুধু খাওয়াদাওয়াই নয়, আধুনিক ফুটবলের তীব্র ধকল সামলে শরীরকে শতভাগ ফিট রাখতে হাল্যান্ডের রয়েছে অত্যন্ত কঠোর এবং বৈজ্ঞানিক এক রুটিন। মাঠের লড়াই শেষে দ্রুত চাঙ্গা হতে তিনি নিয়মিত যেসব থেরাপি নেন:

  • ক্রায়োথেরাপি ও আইস বাথ: পেশীর ক্লান্তি দূর করতে বরফশীতল পানিতে গোসল।
  • রেড-লাইট থেরাপি ও সনা: শরীরের কোষ সতেজ রাখতে বিশেষ লাইট থেরাপির ব্যবহার।
  • প্রাকৃতিক নিয়ম: একদম ভোরে ঘুম থেকে উঠে নিয়ম করে শরীরে সূর্যের আলো লাগানো এবং দৈনিক ফিজিওথেরাপি।

খাদ্যতালিকায় এই আদিম ছোঁয়া আর আধুনিক বিজ্ঞানসম্মত ফিটনেস রুটিনের অদ্ভুত মিশ্রণই ২৫ বছরের এই তরুণকে করে তুলেছে সমসাময়িক ফুটবল বিশ্বের সবচেয়ে ভয়ঙ্কর ও অপ্রতিরোধ্য স্ট্রাইকার।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

spot_imgspot_img
spot_img

Hot Topics

Related Articles