মেক্সিকোকে বিদায় করে ২০২৬ বিশ্বকাপ ফুটবলের কোয়ার্টার ফাইনালে পৌঁছেছে ইংল্যান্ড। বাংলাদেশ সময় সোমবার সকালে মেক্সিকোর আজতেকা স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত প্রি কোয়ার্টার ফাইনালে স্বাগতিক মেক্সিকোকে তারা ৩-২ গোলে হারায়।। ইংল্যান্ডের হয়ে জুডে বেলিংহাম জোড়া গোল করেন। অন্য গোলটি করেন হ্যারি কেন। মেক্সিকোর হয়ে ব্যবধান কমান কুইনোনেস ও জিমিনেজ।
ইংল্যান্ডের এই জয়কে ইতিহাসের অন্যতম সেরা জয়ের একটি বিবেচনা করা হচ্ছে। বিশেষ করে ওয়েম্বলির বাইরে অর্থাৎ দেশের বাইরে এমন উত্তেজনাপূর্ণ জয় খুব একটা দেখা যায়নি। অন্যদিকে কপাল পুড়ছে মেক্সিকোর। আজতেকা স্টেডিয়ামে এই নিয়ে ৯০ ম্যাচে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছে মেক্সিকো। আজতেকা মানেই সাফল্য আর সাফল্য। সেখানে মাত্র তৃতীয় ম্যাচে হারলো তারা। আর তাতেই বিশ্বকাপে আবার স্বপ্নভঙ্গ তাদের।
এই হারের ফলে যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডার পর বিশ্বকাপ ফুটবলের তৃতীয় আয়োজক মেক্সিকোও বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নিয়েছে। অন্যদিকে জয়ের ফলে শিরোপা জয়ের পথে আরও এক ধাপ এগুলো ১৯৬৬ সালের চ্যাম্পিয়ন দল। আগামী ১১ জুলাই কোয়ার্টার ফাইনালে তারা নরওয়ের মুখোমুখি হবে। ইংল্যান্ড-মেক্সিকো ম্যাচের আগে নরওয়ে ২-১ গোলে পাঁচবারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন ব্রাজিলকে হারিয়ে কোয়ার্টার ফাইনালে খেলা নিশ্চিত করে।

প্রি কোয়ার্টারে অন্যতম উত্তেজনাপূর্ণ ম্যাচে রূপ নিয়েছিল ইংল্যান্ড-মেক্সিকো ম্যাচ। কোনো কিছুর অভাব ছিল না। আক্রমণ, পাল্টা আক্রমণ, লাল কার্ড, হলুদ কার্ড, পেনাল্টি-সব কিছু এই এক ম্যাচে। উভয় দল পেনাল্টি পেয়েছে। উভয় দলই পেনাল্টি সুযোগ সঠিকভাবে কাজে লাগিয়েছে। তবে ইংল্যান্ডের পাওয়া লাল কার্ড নিয়ে বিতর্ক আসতেই পারে।
আক্রমণে প্রতি আক্রমণে ম্যাচটি বেশ জমে উঠেছিল। যার প্রমাণ মাত্র ছয় মিনিটে তিন গোল। প্রথমার্ধের শেষ সময়ের দিকে ছয় মিনিটের ব্যবধানে জুডে বেলিংহামের জোড়া গোলের সুবাদে ইংল্যান্ড ২-১ গোলে এগিয়ে বিরতিতে যায়। বেলিংহাম ৩৬ ও ৩৮ মিনিটে গোল করেন। ৪২ মিনিটে কুইনোনেস ব্যবধান কমান।
দ্বিতীয়ার্ধের বড় এক সময় ইংল্যান্ডকে একজন কম নিয়ে খেলতে হয়। ৫৪ মিনিটে জারেল কোয়ানসা বিধি বহির্ভূতভাবে খেলার অপরাধে লাল কার্ড দেখেন। তবে ছয় মিনিট পর এক পেনাল্টি ইংল্যান্ডকে স্বস্তি এনে দেয়। তা থেকে হ্যারি কেন গোল করে ইংল্যান্ডকে ৩-১ গোলে এগিয়ে নেন। ৬৯ মিনিটে এক পেনাল্টি থেকে মেক্সিকো ব্যবধান কমায়। পরের সময়ে মেক্সিকো একাধিক চাপ তৈরি করলেও গোল আদায়ে ব্যর্থ হয়। সেই ব্যর্থতা বিশ্বকাপ থেকে তাদের বিদায় নিশ্চিত করে।



