রাবাদাকে অস্ট্রেলিয়া সিরিজে পেতে আশাবাদী কোচ

হ্যামস্ট্রিং চোট থেকে সেরে উঠতে পুনর্বাসন প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যাচ্ছেন কাগিসো রাবাদা। এখন পর্যন্ত তাঁর পুনর্বাসন ভালোভাবেই এগোচ্ছে বলে জানিয়েছেন দক্ষিণ আফ্রিকার কোচ শুক্রি কনরাড। অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ঘরের মাঠের টেস্ট সিরিজে তারকা এই পেসারকে পাওয়ার ব্যাপারে তাই আশাবাদী তিনি।

আগস্টের মাঝামাঝি দক্ষিণ আফ্রিকার অনুশীলনে ডান হ্যামস্ট্রিংয়ে চোট পান রাবাদা। এই চোটের কারণে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে চলতি মাসের ওয়ানডে সিরিজ থেকে ছিটকে যান তিনি।

তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজের পর অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে তিনটি টেস্ট খেলবে দক্ষিণ আফ্রিকা। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের গুরুত্বপূর্ণ এই সিরিজে রাবাদার খেলা নিয়ে এখনো অনিশ্চয়তা রয়েছে। তবে তাঁর পুনর্বাসনের অগ্রগতি দেখে আশার কথাই জানিয়েছেন কনরাড।

আইসিসিকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে রাবাদার পুনর্বাসন নিয়ে ইতিবাচক মন্তব্য করেছেন দক্ষিণ আফ্রিকার কোচ। তিনি বলেন, ‘পুনর্বাসন ও তাঁর জন্য নির্ধারিত কার্যক্রম ভালোভাবেই এগোচ্ছে। টেস্ট সিরিজে যদি তাঁকে না পাই, তবে আমি খুবই অবাক হব।’

রাবাদার গুরুত্ব তুলে ধরে কনরাড আরও বলেন, ‘সে আমাদের জন্য ভীষণ গুরুত্বপূর্ণ একজন খেলোয়াড়। মনে হয়, সে অস্ট্রেলিয়া সিরিজের জন্য তার সেরাটা তুলে রাখে। তাই আমি বেশ আত্মবিশ্বাসী যে কেজি (রাবাদা) খেলবে। যদিও এখনো কিছু কাজ বাকি আছে।’

আগামী ৯ অক্টোবর শুরু হবে অস্ট্রেলিয়া ও দক্ষিণ আফ্রিকার টেস্ট সিরিজ। ২০২৩-২৫ টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালের এক বছরের বেশি সময় পর এই সংস্করণে আবার মুখোমুখি হতে যাচ্ছে দল দুটি। লর্ডসে অনুষ্ঠিত সেই ফাইনালে অস্ট্রেলিয়াকে ৫ উইকেটে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল দক্ষিণ আফ্রিকা।

অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে এখন পর্যন্ত ১১টি টেস্ট খেলেছেন রাবাদা। ২১.৩৯ গড়ে নিয়েছেন ৫৮ উইকেট। ২০২৫ সালের জুনে অনুষ্ঠিত টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালেও বল হাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন তিনি। অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ওই ম্যাচে ৯ উইকেট নিয়ে দক্ষিণ আফ্রিকার জয়ে বড় অবদান ছিল তাঁর।

তবে রাবাদাকে নিয়ে তাড়াহুড়ো করতে চায় না দক্ষিণ আফ্রিকা। আরও কিছুদিন চিকিৎসা ও পুনর্বাসনের পরই তাঁর বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন কনরাড। সামনে ব্যস্ত মৌসুম থাকায় তাঁর ফিটনেস নিয়ে কোনো ধরনের ঝুঁকি নিতে চায় না দল।

কনরাড বলেন, ‘আমার মনে হয়, এই সপ্তাহের শেষের দিকে কোনো একসময় রাবাদার বিষয়ে ভালো ধারণা পাব। তখন তাঁর কয়েক সপ্তাহের নিবিড় চিকিৎসা ও পুনর্বাসন হয়ে যাবে। এখন পর্যন্ত সবকিছুই ভালো দেখাচ্ছে।’

রাবাদার দ্রুত সেরে ওঠার সক্ষমতার কথাও উল্লেখ করেছেন কনরাড। তবে শেষ সিদ্ধান্ত চিকিৎসকদের ওপরই ছেড়ে দিয়েছেন তিনি। তাঁর ভাষায়, ‘কেজি সত্যিকারের একজন তারকা। সে সাধারণত অন্যদের তুলনায় দ্রুত সেরে ওঠে। আমি খুবই আশাবাদী। তবে মেডিকেল দলের সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করছি। চিকিৎসার বিষয়ে আমার আশাবাদের আসলে কোনো মূল্য নেই।’

spot_imgspot_img
spot_img

Related Articles