শুরুতে বায়ার্ন মিউনিখের একতরফা দাপট, প্রথমার্ধে দুই গোলের পিছিয়ে পড়া-তবে হাল ছাড়েনি ম্যানচেস্টার সিটি।দ্বিতীয়ার্ধে পাল্টে গেল দৃশ্যপট। দুর্দান্ত প্রত্যাবর্তনে শেষ পর্যন্ত বায়ার্ন মিউনিখের মাঠ থেকে ২-২ গোলের ড্র নিয়ে ফিরল ম্যানচেস্টার সিটি। নারী চ্যাম্পিয়নস লিগে প্রত্যাবর্তনের ম্যাচটিই তাই হয়ে থাকল স্মরণীয়।
এই ড্রয়ের মাধ্যমে ইউরোপীয় প্রতিযোগিতায় বায়ার্ন মিউনিখের বিপক্ষে হার এড়ানো প্রথম ইংলিশ দল হওয়ার কৃতিত্বও অর্জন করেছে ম্যানচেস্টার সিটি। ম্যাচের শেষ দিকে কার্লোটা ওয়ামসারের গোলে সমতা ফেরায় সফরকারীরা।
অথচ ম্যাচের শুরুটা ছিল পুরোপুরি বায়ার্নের নিয়ন্ত্রণে। প্রথম ৩০ মিনিটের মধ্যেই দুই গোলের লিড নেয় জার্মান ক্লাবটি। মাঝমাঠে সিটির খেলোয়াড়দের প্রায় অচল করে দিয়ে একের পর এক আক্রমণ চালাতে থাকে তারা। স্বাগতিকদের সামনে তখন মনে হচ্ছিল বড় ব্যবধানে জয়ই কেবল সময়ের অপেক্ষা। ১১ মিনিটেই বায়ার্নকে এগিয়ে দেন জিউলিয়া গোয়িন। লিন্ডা ডালমান মাঝমাঠ থেকে প্রায় বাধাহীনভাবে এগিয়ে এসে আক্রমণের সূচনা করেন। এরপর তাঁর পাস থেকে গোয়িনের চিপ করা শট সিটির গোলরক্ষক আয়াকা ইয়ামাশিতাকে পরাস্ত করে।
গোল খাওয়ার পরও স্বস্তি পায়নি রেহাই মেলেনি ম্যানচেস্টার সিটির। বারবার সিটির মাঝমাঠ ভেদ করে আক্রমণে উঠে আসছিল বায়ার্ন। এর মধ্যেই ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায় স্বাগতিকরা। পার্নিলে হার্ডারের ক্রস সামলাতে গিয়ে সিটির ডিফেন্ডার কার্স্টিন ক্যাসপারিজ ভুল করে বল নিজেদের জালে পাঠিয়ে দেন। আত্মঘাতী গোলে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ আরও শক্ত করে বায়ার্ন।

প্রথমার্ধের অধিকাংশ সময়ই বায়ার্নের দাপট থাকলেও বিরতির ঠিক আগে একটি গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত বদলে দেয় ম্যাচের চিত্র। ডান প্রান্ত দিয়ে ক্যাসপারিজের দারুণ আক্রমণ থেকে বল যায় বেথ মিডের কাছে। তিনি কাছ থেকে বল জালে পাঠিয়ে ব্যবধান ২-১ করেন।
বিরতির পর বদলে যায় ম্যাচের চেহারা। দ্বিতীয়ার্ধে অনেক বেশি সংগঠিত ও আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলতে শুরু করে ম্যানচেস্টার সিটি। বায়ার্নকে ক্রমাগত চাপে ফেলতে থাকে তারা। দ্বিতীয়ার্ধের পারফরম্যান্স বিবেচনায় শেষ পর্যন্ত এক পয়েন্ট পাওয়াটা প্রাপ্যই ছিল সিটির।
ম্যাচের ৮৬ মিনিটে গোল করে দলকে সমতায় ফেরান জার্মানির কার্লোটা ওয়ামসার। পেনাল্টি এলাকার ভেতর সম্পূর্ণ অরক্ষিত অবস্থায় বল পেয়ে ঠান্ডা মাথায় সুযোগ কাজে লাগান তিনি। ম্যানচেস্টার সিটির হয়ে এটিই ওয়ামসারের প্রথম গোল।


