মিলার-বাভুমার ব্যাটে অজিদের বিপক্ষে প্রোটিয়াদের সিরিজ জয়

জোহানেসবার্গে রানবন্যার ম্যাচে অস্ট্রেলিয়াকে ৩২ রানে হারিয়ে এক ম্যাচ হাতে রেখেই ওয়ানডে সিরিজ নিজেদের করে নিয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকা। ডেভিড মিলারের ক্যারিয়ারসেরা ১৪২ ও অধিনায়ক টেম্বা বাভুমার ১০৩ রানের ওপর ভর করে ৯ উইকেটে ৩৬৫ রান করে সংগ্রহ করে দক্ষিণ আফ্রিকা। ওয়ান্ডারার্সে এটি ছিলো পঞ্চম সর্বোচ্চ দলীয় সংগ্রহ। জবাবে ৪৮.৪ ওভারে ৩৩৩ রানে অলআউট হয় অস্ট্রেলিয়া।

এ নিয়ে দ্বিপক্ষীয় সিরিজে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে টানা ষষ্ঠ ওয়ানডে সিরিজ জিতল দক্ষিণ আফ্রিকা।

ম্যাচটি ছিল গোলাপি রঙে সাজানো বিশেষ আয়োজনের ১৪তম সংস্করণ। স্তন ক্যানসার সচেতনতা ও চিকিৎসার জন্য তহবিল সংগ্রহের উদ্দেশ্যে আয়োজিত এই ম্যাচে দক্ষিণ আফ্রিকা জিতল দশমবার। জার্সিতে খেলোয়াড়দের নামের পরিবর্তে ছিলো ক্যানসার আক্রান্ত ব্যক্তির নাম। মিলারের জার্সিতে ছিল তার মা জেনির নাম। ম্যাচে ব্যাট হাতে তিনি উপহার দিয়েছেন দুর্দান্ত এক ইনিংস।

ম্যাচে টস জিতে দক্ষিণ আফ্রিকাকে ব্যাটিংয়ে পাঠিয়ে শুরুতেই সফল হয় অস্ট্রেলিয়া। ইনিংসের প্রথম বলেই অ্যাডাম মার্করামকে গোল্ডেন ডাক করেন জশ হ্যাজলউড। উইকেটরক্ষক ব্যাটার কুইন্টন ডি কক ব্যক্তিগত ১৫ রানে আউট হলে দলীয় ৩৬ রানে দুই উইকেট হারায় স্বাগতিকরা।

এরপর বাভুমা ও ম্যাথু ব্রিটজকের ৫৭ রানের জুটি শুরুর ধাক্কা কাটিয়ে দক্ষিণ আফ্রিকাকে বড় সংগ্রহের দিকে নিয়ে যায়। ৩৪ রান করা ব্রিটজকে ফিরলেও বাভুমা নিজের ইনিংসকে বড় করতে থাকেন। চতুর্থ উইকেটে তার সঙ্গে যোগ দেন মিলার।

মিলারের ক্যারিয়ারসেরা ইনিংস

দু’জন মিলে গড়েন ১৫৬ রানের জুটি। বাভুমা ১১২ বলে ক্যারিয়ারের ষষ্ঠ ওয়ানডে সেঞ্চুরি পূর্ণ করেন। অবশ্য ঘরের মাঠে এটি তার প্রথম ওয়ানডে সেঞ্চুরি। শেষ পর্যন্ত ১০৩ রানে থামেন তিনি। বাভুমা ফেরার পরও সচল ছিলো মিলারের ব্যাট। মাত্র ৭৩ বলে সেঞ্চুরি পূর্ণ করে আরও আক্রমণাত্নক হয়ে ওঠেন মিলার। শেষ পর্যন্ত ১০৬ বলে করেন ক্যারিয়ার সেরা ১৪২ রান। তার ইনিংসে ছিল ৯টি চার ও ৮টি ছক্কা।

অস্ট্রেলিয়ার হয়ে দ্বিতীয় ওয়ানডে খেলতে নামা জ্যাক এডওয়ার্ডস ৫ উইকেট নিলেও দক্ষিণ আফ্রিকার রান আটকাতে পারেননি। লিস্ট ‘এ’ ক্রিকেটে এটিই তার প্রথম পাঁচ উইকেট। অন্যদিকে ইনিংসের প্রথম বলেই উইকেট পাওয়া হ্যাজলউড ১০ ওভারে ৭০ রানের বিনিময়ে নিয়েছেন তিন উইকেট। অন্যদিকে জ্যাভিয়ের ব্রাটলেট নিয়েছেন এক উইকেট। অস্ট্রেলিয়া এদিন মোট ৭জন বোলারকে ব্যবহার করলেও প্রোটিয়া ব্যাটারদের থামাতে ব্যর্থ হয়েছে।

জবাবে ৩৬৬ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে দুর্দান্ত শুরু করে অস্ট্রেলিয়া। মিচেল মার্শ ও ট্রাভিস হেডের উদ্বোধনী জুটিতে আসে ১৩০ রান। উভয়েই খেলেন ৮৪ রানের ইনিংস। অবশ্য হেডের চেয়ে আক্রমণাত্নক ছিলেন অধিনায়ক মিচেল মার্শ। মার্শ ৮৪ রান তুলতে খেলেছেন ৫৩ বল। অন্যদিকে হেড খেলেন ৭৬ বল।

কিন্তু এরপর ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ চলে যায় দক্ষিণ আফ্রিকার স্পিনারদের হাতে। কেশব মহারাজ, বিয়র্ন ফোর্টুইন ও মার্করামের স্পিনে একের পর এক উইকেট হারাতে থাকে অস্ট্রেলিয়া। ১৭ থেকে ৪০ ওভারের মধ্যে মাত্র ১২১ রানে ছয় উইকেট হারায় তারা।

মহারাজ ও ফোর্টুইন দু’টি করে উইকেট শিকার করেন। মার্করাম পেয়েছেন এক উইকেট। অবশ্য সর্বোচ্চ তিন উইকেট নিয়েছেন লিজাড উইলিয়ামস। পেসার মার্কো জানসেনও নিয়েছেন দুই উইকেট।

শেষ দিকে, জয়ের জন্য অস্ট্রেলিয়ার প্রয়োজন ছিল ১০ ওভারে ১১৩ রান। জ্যাক এডওয়ার্ডস ও জেভিয়ার বার্টলেট সপ্তম উইকেটে ৬১ রান যোগ করে ম্যাচে ফেরার চেষ্টা করেন। বার্টলেট ২৬ বলে ফিফটি তুলে নিলেও প্রয়োজনীয় রানরেটের চাপ সামল দিতে পারেননি। শেষ পর্যন্ত ৪৮.৪ ওভারে ৩৩৩ রানে অলআউট হয় অস্ট্রেলিয়া। আর দক্ষিণ আফ্রিকা জয় পায় ৩২ রানে।

spot_imgspot_img
spot_img

Related Articles