মেসির বিদায়ী ম্যাচ
লিওনেল মেসি! ফুটবলের ইতিহাস, লিওনেল ফুটবলের জীবন্ত কিংবদন্তি! লিও বিশ্ব ফুটবরের মহাতারকা আর বর্তমান প্রজন্মের আগের নাম। তাই মেসির বিদায়ী ম্যাচটা আর্জেন্টিনার মানুষের জন্য শুধু একটা ফুটবল ম্যাচ নয়, লিওর এই ম্যাচটা হবে একটা যুগের বিদায়! ৬ অক্টোবর ২০২৬, বুয়েনস আয়ার্সের মনুমেন্টালে বেনিনের বিপক্ষে ম্যাচটিই আর্জেন্টিনার জার্সিতে মেসির শেষ ম্যাচ! কিন্তু মেসি আর্জেন্টিনার হৃদয়ে অমর হয়ে থাকবেন ১০ নম্বর হয়ে।
আচ্ছা একবার ভাবুন তো লিওর বিদায়ী ম্যাচের দৃশ্যটা কেমন হবে- লিও যখন শেষবারের মতো আর্জেন্টিনার ১০ নম্বর জার্সি পরে মাঠে নামবেন, ৮৫ হাজার মানুষের গর্জনের মাঝেও হয়তো একটা অদ্ভুত নীরবতা অনুভূত হবে। কারণ সবাই জানবে , এই দৃশ্যটা আর কখনো দেখা যাবে না। যে ছেলেটাকে একসময় আর্জেন্টিনার সমর্থকদের সমালোচনা সহ্য করতে হয়েছে, সেই লিওই কিনা পরে তাদের এনে দিয়েছেন কোপা আমেরিকা, বিশ্বকাপ আর ফিনালিসিমার মত শিরোপা! আর সবচেয়ে আবেগের মুহূর্ত সম্ভবত হবে ম্যাচ শেষে। লিও হয়তো সতীর্থদের সঙ্গে দাঁড়াবেন, আকাশি-সাদা পতাকা উড়বে, গ্যালারি থেকে একসঙ্গে ধ্বনি উঠবে-মেসি, মেসি, মেসি!
আবার অনেক মানুষ কাঁদবেনও। কেউ হয়তো লিওর জন্য নয়, বরং নিজের জীবনের একটা সময়ের জন্য কাঁদবেন-কারণ তারা ছোটবেলা থেকে লিওকে দেখে বড় হয়েছেন। লিও নিজেও বলেছেন, আর্জেন্টিনার হয়ে খেলা তিনি সবসময় উপভোগ করেছেন, তাই ২০ বছরের ভালোবাসার জন্য সমর্থকদের ধন্যবাদ জানিয়েছেন তিনি।
আমার মনে হয় সবচেয়ে সুন্দর ব্যাপারটা হবে-আর্জেন্টাইনরা লিওকে বিদায় দেবে না, তারা তাকে উদযাপন করবে। কারণ লিওর গল্পটা শুধু ট্রফির গল্প নয়। এটা ব্যর্থতা থেকে ফিরে আসার গল্প, কান্না থেকে হাসিতে ফেরার গল্প, আর একটা দেশের মানুষকে বারবার আনন্দ দেওয়ার গল্প।
আর্জেন্টিনার ফুটবল আর লিওর স্মৃতি কি ভুলে থাকা যায়? না যায়না, আর যায়না বলেই আর্জেন্টিনার ফুটবলে লিও আসবে ফিফা যুব বিশ্বকাপের ট্রফি হয়ে, লিও ফিরবে অলিম্পিক ফুটবল জয়ের ইতিহাস হয়ে আর লিও ফিরে আসবে আর্জেন্টিনার বিশ্বকাপ জয়ের ইতিহাস হয়ে।
বিদায়ী ম্যাচের মনুমেন্টালে শেষ বাঁশি বাজবে, লিও হয়তো মাথা নিচু করে দাঁড়িয়ে থাকবেন… আর পুরো মনুমেন্টাল দাঁড়িয়ে তাকে অভিবাদন জানাবে। আগামীকাল সকালেই লিওর বিদায়ী সেই ম্যাচের প্রতিক্ষায় এখন বিশ্বের লাখো ফুটবল প্রেমিরা। সেই মুহূর্তে হয়তো আর্জেন্টিনার মানুষ মনে মনে বলবে “বিদায় নয়, লিও। তুমি আমাদের স্মৃতিতে চিরকাল ১০ নম্বর হয়েই থাকবে।” শুধুই হৃদয়ের গহীনে তুমি রবে চিরকাল।




