অবিশ্বাস্য ব্যাটিং ধসে দক্ষিণ আফ্রিকার কাছে অস্ট্রেলিয়ার হার

৬৭ রানে জিতে ওয়ানডে সিরিজে এগিয়ে গেল প্রোটিয়ারা

জয়ের খুব কাছেই ছিল অস্ট্রেলিয়া। ২৯৮ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে ১৬ ওভার শেষে মাত্র এক উইকেট হারিয়ে ১২৯ রান তুলে ফেলেছিল তারা। ম্যাচের নিয়ন্ত্রণও তখন অস্ট্রেলিয়ার হাতেই মনে হচ্ছিল। কিন্তু এরপরই বদলে গেল পুরো চিত্র। ভয়াবহ ব্যাটিং ধসে মাত্র ১০১ রানের মধ্যে শেষ নয় উইকেট হারিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে যায় অস্ট্রেলিয়া।

ডারবানে সিরিজের প্রথম ওয়ানডেতে শেষ পর্যন্ত ৬৭ রানের জয় পেয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকা। এই জয়ে তিন ম্যাচের সিরিজে এগিয়ে গেল স্বাগতিকরা।

মহারাজের ঘূর্ণিতে অস্ট্রেলিয়ার পতন

অস্ট্রেলিয়ার ব্যাটিং বিপর্যয়ের মূল নায়ক দক্ষিণ আফ্রিকার অভিজ্ঞ স্পিনার কেশব মহারাজ। নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ে অস্ট্রেলিয়ার মিডল ও লোয়ার অর্ডারে বড় ধাক্কা দেন তিনি।

৯.২ ওভার বল করে মাত্র ২০ রান খরচায় চারটি উইকেট শিকার করেন মহারাজ। তাঁর সঙ্গে বিজর্ন ফর্টুইন ও করবিন বোশ দুটি করে উইকেট নিয়ে অস্ট্রেলিয়ার ইনিংস দ্রুত গুটিয়ে দিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন।

দক্ষিণ আফ্রিকার ফিল্ডাররাও ছিলেন বেশ সক্রিয়। মার্কো জানসেন ও ম্যাথিউ ব্রিটজকের নেওয়া কয়েকটি দুর্দান্ত ক্যাচ অস্ট্রেলিয়ার রান তোলার গতি কমিয়ে দেয় এবং ধস আরও ত্বরান্বিত হয়।

মার্শের ঝড়ও কাজে এল না

২৯৮ রান তাড়া করতে নেমে অস্ট্রেলিয়ার শুরুটা ছিল দুর্দান্ত। ওপেনার মিচেল মার্শ মাত্র ৩৬ বলে ৬০ রানের ঝোড়ো ইনিংস খেলেন। তাঁর ব্যাটিংয়ে অস্ট্রেলিয়া দ্রুত লক্ষ্যের দিকে এগোতে থাকে।

ম্যাট রেনশ ৪৪ এবং কুপার কনোলি ৩৮ রান করে দলকে ভালো অবস্থানে রাখেন। কিন্তু পরের ব্যাটাররা সেই ভিত্তি কাজে লাগাতে পারেননি। ১৬ ওভারে ১ উইকেটে ১২৯ রান থেকে অস্ট্রেলিয়ার ইনিংস শেষ হয় ৪১.২ ওভারে ২৩০ রানে। অর্থাৎ শেষ নয় উইকেট হারাতে গিয়ে তারা যোগ করতে পেরেছে মাত্র ১০১ রান।

ব্রিটজকে-জানসেনের ব্যাটে দক্ষিণ আফ্রিকার লড়াই

এর আগে টস হেরে ব্যাট করতে নেমে শুরুটা ভালো হয়নি দক্ষিণ আফ্রিকারও। ডারবানের কন্ডিশনে অস্ট্রেলিয়ার বোলারদের সামনে নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারায় স্বাগতিকরা।

টনি ডি জর্জি কোনো রান না করেই ফেরেন। কুইন্টন ডি কক করেন ১৪ রান। টেম্বা বাভুমা ৩০ এবং রায়ান রিকেলটন ২৭ রান করে কিছুটা প্রতিরোধ গড়লেও ইনিংস বড় করতে পারেননি। ডেভিড মিলারও ২৫ বলে মাত্র ৯ রান করে আউট হলে ১৬৮ রানেই পাঁচ উইকেট হারিয়ে বিপাকে পড়ে দক্ষিণ আফ্রিকা।

সেখান থেকেই ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেন ম্যাথিউ ব্রিটজকে ও মার্কো জানসেন।

১০৭ রানের জুটিতে ঘুরে দাঁড়াল প্রোটিয়ারা

ষষ্ঠ উইকেটে ব্রিটজকে ও জানসেনের আক্রমণাত্মক ব্যাটিং দক্ষিণ আফ্রিকার ইনিংসকে নতুন গতি দেয়। মাত্র ১৪ ওভারে দুজন মিলে যোগ করেন ১০৭ রান। ব্রিটজকে দায়িত্বশীল ব্যাটিংয়ে ইনিংসের ভিত শক্ত করেন, আর জানসেন ছিলেন আক্রমণাত্মক ভূমিকায়। এই জুটির ওপর ভর করেই দক্ষিণ আফ্রিকা শেষ পর্যন্ত ৫০ ওভারে ৮ উইকেটে ২৯৭ রান সংগ্রহ করে।

ব্রিটজকে ১০৬ বলে ১৪টি চার ও দুটি ছক্কার সাহায্যে ১১২ রান করেন। ওয়ানডে ক্যারিয়ারে এটি তাঁর দ্বিতীয় শতক। অন্যদিকে মাত্র ৫৯ বলে ৭৫ রানের ঝড়ো ইনিংস খেলেন জানসেন। তাঁর ইনিংসে ছিল সাতটি চার ও চারটি ছক্কা। ব্রিটজকে রানআউট হয়ে ফিরলেও ততক্ষণে দক্ষিণ আফ্রিকার স্কোরে বড় অবদান রেখে গেছেন।

বোলিংয়ে অস্ট্রেলিয়ার সাফল্যও শেষ পর্যন্ত ব্যর্থ

দক্ষিণ আফ্রিকার হয়ে মহারাজের চার উইকেটের বিপরীতে অস্ট্রেলিয়ার নাথান এলিস তিনটি এবং অ্যাডাম জাম্পা দুটি উইকেট নেন। শুরুতে অস্ট্রেলিয়ার বোলাররা স্বাগতিকদের চাপে রাখলেও ব্রিটজকে-জানসেনের জুটি সেই চাপ কাটিয়ে ওঠে।

শেষ পর্যন্ত ২৯৭ রানের সংগ্রহ অস্ট্রেলিয়ার জন্য নাগালের মধ্যেই ছিল। কিন্তু লক্ষ্য তাড়ার শুরুতে দুর্দান্ত অবস্থানে থেকেও নিজেদের ইনিংস ধরে রাখতে পারেনি তারা।

১৬ ওভারে ১২৯ রান থেকে ৪১.২ ওভারে ২৩০, এই নাটকীয় পতনই ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারণ করে দেয়। মহারাজের ঘূর্ণি, দক্ষিণ আফ্রিকার ফিল্ডিং এবং অস্ট্রেলিয়ার ব্যাটিং ব্যর্থতার সমন্বয়ে ডারবানের প্রথম ওয়ানডে নিজেদের করে নেয় প্রোটিয়ারা।

ফল: দক্ষিণ আফ্রিকা জয়ী ৬৭ রানে। সিরিজে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে গেল দক্ষিণ আফ্রিকা।

সংক্ষিপ্ত স্কোরকার্ড

দক্ষিণ আফ্রিকা: ২৯৭/৮ (৫০ ওভার)

  • ম্যাথিউ ব্রিটজকে — ১১২
  • মার্কো জানসেন — ৭৫
  • টেম্বা বাভুমা — ৩০
  • রায়ান রিকেলটন — ২৭

অস্ট্রেলিয়ার বোলিং:

  • নাথান এলিস — ৩ উইকেট
  • অ্যাডাম জাম্পা — ২ উইকেট

অস্ট্রেলিয়া: ২৩০ (৪১.২ ওভার)

  • মিচেল মার্শ — ৬০
  • ম্যাট রেনশ — ৪৪
  • কুপার কনোলি — ৩৮

দক্ষিণ আফ্রিকার বোলিং:

  • কেশব মহারাজ — ৪ উইকেট
  • বিজর্ন ফর্টুইন — ২ উইকেট
  • করবিন বোশ — ২ উইকেট

ফল: দক্ষিণ আফ্রিকা জয়ী ৬৭ রানে।
সিরিজ: দক্ষিণ আফ্রিকা এগিয়ে ১-০।

spot_imgspot_img
spot_img

Related Articles