বিশ্ব ফুটবলের দুই মহাতারকা ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো ও লিওনেল মেসিকে ঘিরে তুলনা নতুন কিছু নয়। যুগের পর যুগ ধরে গোল, রেকর্ড, ট্রফি আর ব্যক্তিগত কৃতিত্বে তাদের দ্বৈরথ ফুটবল বিশ্বকে আলোড়িত করেছে। তবে ২০২৬ বিশ্বকাপের নকআউটের আগে সেই চিরচেনা তুলনাকেই এক কথায় উড়িয়ে দিলেন পর্তুগালের কোচ রবার্তো মার্টিনেজ। বরং পাশে দাঁড়ালেন রোনালদোর।
পর্তুগাল কোচের ভাষায়, রোনালদোর প্রয়োজনকে মেসি কিংবা আর্লিং হালান্ডের সঙ্গে তুলনা করা ‘শিশুসুলভ’।
রোনালদো দলে থাকতে পারবেন কিনা- তা নিয়ে একটা সময় জল কম ঘোলা হয়নি। সতীর্থদের সঙ্গে সম্পর্কের দূরত্ব বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বের প্রথম ম্যাচেই স্পষ্ট হয়ে উঠেছিল। তা সত্ত্বেও গ্রুপ পর্বে পর্তুগাল হয়ে প্রতিটি মিনিট খেলেছেন রোনালদো। কলম্বিয়ার বিপক্ষে গোলশূন্য ড্রয়ের ম্যাচেও পুরো ৯০ মিনিট মাঠে ছিলেন ৪১ বছর বয়সী এই ফরোয়ার্ড। অর্থাৎ গ্রুপ পর্বের তিন ম্যাচ মিলিয়ে ২৭০ মিনিটই খেলেছেন তিনি-যা বয়সের বিচারে বিস্ময়কর।
অবশ্য কলম্বিয়ার বিপক্ষে রোনালদো খুব বেশি প্রভাব ফেলতে পারেননি। পর্তুগালের আক্রমণেও ছিল ধারহীনতা। ফলে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হতে পারেনি দলটি; রানার্সআপ হিসেবেই নকআউটে উঠতে হয়েছে। সামনে অপেক্ষা করছে কঠিন পরীক্ষা- ক্রোয়েশিয়া তাদের প্রতিপক্ষ।

পরিবর্তন যে কোনো সময়
এমন পরিস্থিতিতে প্রশ্ন উঠেছে- যেখানে আর্জেন্টিনা মেসিকে বিশ্রাম দিয়েছে, আর নরওয়ে হালান্ডকে রোটেশনে রেখেছে, সেখানে রোনালদোকে কেন বিশ্রাম দেওয়া হচ্ছে না? মার্টিনেজের উত্তর ছিল পরিষ্কার এবং আত্মবিশ্বাসী।
তিনি বলেন, রোনালদোর শক্তি শুধু শারীরিক সামর্থ্যে নয়; তার সবচেয়ে বড় সম্পদ ম্যাচ পড়ার ক্ষমতা, সঠিক জায়গায় উপস্থিত হওয়া এবং আক্রমণে জায়গা তৈরি করা। তিনি জানান, রোনালদোর জন্য ৯০ মিনিট খেলা কোনো সমস্যা নয়। তবে কৌশলগত প্রয়োজন হলে পরবর্তী ম্যাচে পরিবর্তন আসতে পারে- যেমনটা অন্য যেকোনো খেলোয়াড়ের ক্ষেত্রেও হয়।
রোনালদোর প্রশংসায় মার্টিনেজ বলেন, বয়স ৪১ হলেও তার ফুটবল বুদ্ধিমত্তা, পজিশনিং এবং মানসিক দৃঢ়তা এখনও তাকে আলাদা করে রাখে। তরুণদের মতো হয়তো আর প্রতি মুহূর্তে স্প্রিন্ট দেন না, কিন্তু গোলের গন্ধ পাওয়ার ক্ষমতা এখনো ক্ষয় হয়নি।
কোচ আরও বলেন, দল পরিচালনায় তারা ডেটা-নির্ভর সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন। অনুশীলন, ম্যাচ লোড, ফিটনেস- সবকিছু বিশ্লেষণ করেই মিনিট বণ্টন করা হচ্ছে। ইতোমধ্যে ২১ জন আউটফিল্ড খেলোয়াড়কে ব্যবহার করেছে পর্তুগাল, যা দেখায় স্কোয়াড রোটেশনে তারা যথেষ্ট সচেতন।
শুরু হচ্ছে আসল বিশ্বকাপ
মার্টিনেজের কণ্ঠে উদ্বেগের চেয়ে প্রস্তুতির সুরই বেশি। তার মতে, গ্রুপ পর্ব ছিল আসল ছন্দ খুঁজে পাওয়ার সময়। এখন শুরু হচ্ছে আসল বিশ্বকাপ’। তিনি বলেন, পর্তুগাল এখনো নিজেদের সেরা রূপ দেখায়নি। বরং বল দখল, ম্যাচ নিয়ন্ত্রণ এবং আক্রমণের ধার বাড়িয়ে নকআউটে নতুনভাবে শুরু করতে চায় তারা।
সবশেষে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে আবারও সেই এক নাম-রোনালদো।সমালোচকেরা বলছেন বয়সের ভার তাকে ধীর করে দিয়েছে। সমর্থকেরা বলছেন, বড় ম্যাচের জন্যই তিনি তৈরি। আর কোচ মার্টিনেজ জানিয়ে দিলেন-অন্তত তার চোখে রোনালদো এখনও বিশেষ, এখনও নির্ভরতার প্রতীক।
স্কোর কার্ড
বিশ্বকাপ ২০২৩


















