চোটে অবসর ডি মিনরের বেইজিংয়ে জোকোভিচের ১০২তম শিরোপা

বেইজিংয়ে আবারও চ্যাম্পিয়নের মুকুট উঠল নোভাক জোকোভিচের মাথায়। তবে শিরোপা নির্ধারণী ম্যাচটি পূর্ণাঙ্গভাবে শেষ করতে পারেননি তার প্রতিপক্ষ অ্যালেক্স ডি মিনর। চোটের কারণে দ্বিতীয় সেটের শুরুতেই ম্যাচ থেকে সরে দাঁড়ান অস্ট্রেলিয়ান তারকা। ফলে চায়না ওপেনের শিরোপা জিতে নেন সার্বিয়ার জোকোভিচ।

এই জয়ের মধ্য দিয়ে বেইজিংয়ে নিজের সপ্তম চায়না ওপেন শিরোপা নিশ্চিত করলেন ৩৯ বছর বয়সী জোকোভিচ। একই সঙ্গে এটি তার ক্যারিয়ারের ১০২তম ট্যুর-লেভেল শিরোপা। ফাইনালে শুরু থেকেই দুই খেলোয়াড়ের মধ্যে ছিল হাড্ডাহাড্ডি লড়াই। ডি মিনর নিজের দুর্দান্ত কোর্ট কভারেজ এবং আক্রমণাত্মক খেলার মাধ্যমে জোকোভিচকে চাপে রাখার চেষ্টা করেন।

তবে গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে অভিজ্ঞতার পরিচয় দেন জোকোভিচ। প্রথম সেট গড়ায় টাইব্রেকারে। সেখানে ৭-৩ ব্যবধানে জিতে ৭-৬ ব্যবধানে সেটটি নিজের করে নেন সার্বিয়ান তারকা। এরপর দুজনই চিকিৎসা বিরতি নেন। জোকোভিচ চিকিৎসা নেওয়ার পর ডি মিনর কুঁচকির সমস্যার জন্য কোর্টের বাইরে যান।

চিকিৎসা শেষে কোর্টে ফিরে দ্বিতীয় সেটের প্রথম গেমটি জেতেন ডি মিনর। কিন্তু শারীরিক সমস্যার কারণে এরপর আর ম্যাচ চালিয়ে যাওয়া সম্ভব হয়নি তার। ফলে দ্বিতীয় সেটের শুরুতেই ম্যাচ থেকে অবসরের সিদ্ধান্ত নেন অস্ট্রেলিয়ান খেলোয়াড়। এর মধ্য দিয়ে জোকোভিচের হাতে ওঠে চায়না ওপেনের শিরোপা।

ম্যাচ শেষে ডি মিনর দর্শকদের কাছে দুঃখ প্রকাশ করেন। এত বড় মঞ্চে এভাবে ম্যাচ শেষ করতে না পারায় হতাশা প্রকাশের পাশাপাশি নিজের দল ও সমর্থকদের ধন্যবাদ জানান তিনি। ডি মিনরের অবসরের ফলে পাওয়া জয়টি জোকোভিচের ক্যারিয়ারে যোগ করেছে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক। এটি তার ১০২তম ট্যুর-লেভেল শিরোপা।

ওপেন যুগে সর্বোচ্চ ট্যুর-লেভেল শিরোপা জয়ের তালিকায় এখন জিমি কনর্স ১০৯ টি নিয়ে শীর্ষে এবং রজার ফেদেরার ১০৩টি নিয়ে দ্বিতীয় স্থানে রয়েছেন। জোকোভিচের শিরোপা সংখ্যা ১০২ হওয়ায় তিনি ফেদেরারের খুব কাছাকাছি চলে এসেছেন।

চায়না ওপেনে জোকোভিচের আধিপত্যও অব্যাহত থাকল। বেইজিংয়ের এই ATP 500 প্রতিযোগিতায় তার জয়ের রেকর্ড এখন ৩৪-০। অর্থাৎ বেইজিংয়ে এখন পর্যন্ত ৩৪টি ম্যাচ খেলেছেন এবং প্রতিটিতেই জয় পেয়েছেন সার্বিয়ান কিংবদন্তি। এ নিয়ে তিনি টুর্নামেন্টটির শিরোপা জিতলেন সাতবার।

জোকোভিচ সর্বশেষ ২০১৫ সালে বেইজিংয়ে খেলেছিলেন। সেবার ফাইনালে রাফায়েল নাদালকে হারিয়ে ষষ্ঠবারের মতো শিরোপা জিতেছিলেন তিনি। দীর্ঘ বিরতির পর এ বছর ফিরে এসে আবারও ট্রফি নিজের করে নিলেন সাবেক বিশ্বসেরা।

জোকোভিচের কঠিন পথ পেরিয়ে ফাইনালে ওঠা

এবারের চায়না ওপেনে জোকোভিচকে সহজ পথ পাড়ি দিতে হয়নি। কোয়ার্টার ফাইনালে টুর্নামেন্টের শীর্ষ বাছাই আলেকজান্ডার জভেরেভকে হারিয়ে দেন তিনি। এরপর সেমিফাইনালে ড্যানিল মেদভেদেভের বিপক্ষেও কঠিন পরিস্থিতির মুখোমুখি হন জোকোভিচ। ম্যাচে জোকোভিচ যখন জয়ের জন্য সার্ভ করছিলেন, তখন মেদভেদেভকে ম্যাচ থেকে ডিফল্ট করা হয়।

সব মিলিয়ে বেইজিংয়ে দুর্দান্ত একটি সপ্তাহ কাটিয়েছেন জোকোভিচ। চায়না ওপেনের এই শিরোপা জয়ের মাধ্যমে ওপেন যুগে নতুন একটি রেকর্ডও গড়েছেন জোকোভিচ। টানা ২১টি মৌসুমে ট্যুর-লেভেল শিরোপা জেতা প্রথম পুরুষ খেলোয়াড় হয়েছেন তিনি।

চলতি মৌসুমে শারীরিক ও স্বাস্থ্যগত নানা সমস্যার মধ্যেও এই সাফল্য এসেছে। ট্রফি হাতে নিয়ে জোকোভিচ জানান, বেইজিংয়ে ফিরে শিরোপা জেতার প্রত্যাশা তার সবসময়ই ছিল। তবে সাম্প্রতিক বছরগুলোর বাস্তবতা বিবেচনায় নিজের ওপর প্রত্যাশা সামলানোও ছিল একটি চ্যালেঞ্জ।

তার মতে, কোর্টে নিজের সেরা অনুভূতি পাওয়া এবং ভালোভাবে বল হিট করতে পারলে এখনও বিশ্বের সেরা খেলোয়াড়দের সঙ্গে লড়াই করার সামর্থ্য রয়েছে। বেইজিংয়ের এই সপ্তাহ তারই প্রমাণ। বেইজিংয়ের শিরোপা জয়ের ফলে বছরের শেষের ATP Finals-এ জায়গা করে নেওয়ার দৌড়েও গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি করেছেন জোকোভিচ।

PIF ATP Live Race To Turin-এ ছয় ধাপ এগিয়ে নবম স্থানে উঠে এসেছেন তিনি। একই সঙ্গে দশম স্থানে থাকা ডি মিনরের চেয়ে এখন ১৪০ পয়েন্ট এগিয়ে রয়েছেন। অর্থাৎ মৌসুমের শেষভাগে এই শিরোপা জোকোভিচের জন্য শুধু আরেকটি ট্রফি নয়, বছরের শেষের বড় প্রতিযোগিতায় জায়গা করে নেওয়ার লড়াইয়েও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

শিরোপা জয়ের পর জোকোভিচের প্রতিক্রিয়াতেও ছিল কিছুটা দ্বিধা। কারণ প্রতিপক্ষ চোটের কারণে ম্যাচ শেষ করতে পারেননি। জোকোভিচ জানান, গত কয়েক বছরের মধ্যে এটি তার অন্যতম সেরা সপ্তাহ। তাই অর্জনটি নিয়ে তিনি গর্বিত। তবে ডি মিনর দ্বিতীয় সেটের শুরুতেই ম্যাচ থেকে সরে দাঁড়ানোয় স্বাভাবিকভাবে আনন্দ উদযাপন করাটা তার কাছে কিছুটা অস্বস্তিকর মনে হয়েছে।

তারপরও বেইজিংয়ে পাওয়া এই সাফল্য যে জোকোভিচের ক্যারিয়ারের আরেকটি উল্লেখযোগ্য অধ্যায়, তা নিয়ে কোনো সন্দেহ নেই। একদিকে ১০২তম ট্যুর-লেভেল শিরোপা, অন্যদিকে বেইজিংয়ে ৩৪ ম্যাচে অপরাজিত থাকার রেকর্ড-চায়না ওপেনে জোকোভিচের প্রত্যাবর্তন শেষ হলো আরও একটি ঐতিহাসিক সাফল্য দিয়ে।

spot_imgspot_img
spot_img

Related Articles