২০২৭-এর আগে কোর্টে ফিরছেন না বিশ্বসেরা তারকা
হাঁটুর চোটের কারণে চলতি ২০২৬ মৌসুমের বাকি সময় আর কোর্টে নামবেন না টেনিস বিশ্বের এক নম্বর তারকা জানিক সিনার। চিকিৎসকদের সঙ্গে পরামর্শ করে হাঁটুর জন্য বিশেষ চিকিৎসা নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন ইতালির এই তারকা। ফলে বছরের শেষভাগের গুরুত্বপূর্ণ টুর্নামেন্টগুলোতে তাকে ছাড়াই লড়াই করতে হবে টেনিস বিশ্বকে।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রকাশিত এক ভিডিও বার্তায় সিনার নিজেই তার মৌসুম শেষ করার সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছেন। তিনি বলেন,
দীর্ঘমেয়াদি ক্যারিয়ারের কথা বিবেচনা করেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এখন তার মূল লক্ষ্য হলো পুরোপুরি সুস্থ হয়ে আবার কোর্টে ফেরা।
সিনারের এই সিদ্ধান্তে টেনিস মৌসুমের শেষ দিকের প্রতিযোগিতায় নতুন সমীকরণ তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে বিশ্ব র্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষস্থান নিয়ে লড়াই আরও জমে উঠতে পারে। সিনার মাঠের বাইরে থাকায় তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বীদের সামনে র্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষস্থান দখলের সুযোগ তৈরি হয়েছে।
২০২৬ সালে সিনারের শেষ ম্যাচ ছিল উইম্বলডন ফাইনাল। জুলাইয়ে অনুষ্ঠিত সেই ফাইনালে আলেকজান্ডার জভেরেভকে হারিয়ে শিরোপা জিতেছিলেন তিনি। ওই জয় দিয়ে বছরের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ গ্র্যান্ড স্ল্যাম ট্রফি নিজের করে নেন পাঁচবারের গ্র্যান্ড স্ল্যাম চ্যাম্পিয়ন।
কিন্তু উইম্বলডনের পর থেকেই হাঁটুর চোটের কারণে প্রতিযোগিতা মূলক টেনিস থেকে দূরে রয়েছেন সিনার। শুরুতে ধারণা করা হয়েছিল, চিকিৎসা ও বিশ্রামের পর হয়তো মৌসুমের শেষদিকে আবার কোর্টে ফিরতে পারবেন তিনি। তবে শেষ পর্যন্ত সেই সম্ভাবনা আর থাকছে না।
চিকিৎসকদের সঙ্গে আলোচনা করে সিনার এখন মৌসুম শেষ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। অর্থাৎ ২০২৬ সালে আর কোনো ম্যাচে দেখা যাবে না বর্তমান বিশ্বসেরা এই খেলোয়াড়কে।
নিজের ভিডিও বার্তায় সিনার জানিয়েছেন, সিদ্ধান্তটি তার জন্য সহজ ছিল না। গত কয়েক বছর তার ক্যারিয়ারে দারুণ সব সাফল্য ও আবেগঘন মুহূর্ত এনে দিয়েছে। কিন্তু এবার পরিস্থিতি ভিন্ন।
সিনারের বক্তব্য অনুযায়ী, সাময়িক ভাবে কোর্টের বাইরে থাকার চেয়ে দীর্ঘমেয়াদে সম্পূর্ণ সুস্থ থাকা তার কাছে বেশি গুরুত্বপূর্ণ। তাই হাঁটুর সমস্যা পুরোপুরি কাটিয়ে ওঠার জন্য চিকিৎসায় মনোযোগ দিচ্ছেন তিনি।
তিনি বলেন, গত কয়েক বছর তাকে অনেক সুন্দর অনুভূতি ও আবেগ দিয়েছে। কিন্তু ২০২৬ সাল তার জন্য ভিন্ন ভাবে শেষ হচ্ছে। একই সঙ্গে নিজের দীর্ঘ মেয়াদি ক্যারিয়ারকে গুরুত্ব দিয়ে পুরোপুরি ফিট হয়ে ফেরার জন্য তিনি সর্বোচ্চ চেষ্টা করবেন বলেও জানিয়েছেন।
সিনারের মৌসুম শেষ হওয়ার ঘোষণার পর সবচেয়ে বড় প্রশ্ন এখন বিশ্ব র্যাঙ্কিং নিয়ে। বছরের বাকি সময় তিনি কোনো ম্যাচ খেলতে না পারায় শীর্ষস্থান ধরে রাখা কঠিন হয়ে পড়তে পারে।
বিশেষ করে আলেকজান্ডার জভেরেভ এখন সিনারের র্যাঙ্কিংয়ের অবস্থানের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠেছেন। উইম্বলডন ফাইনালে সিনারের কাছে হেরে গেলেও বছরের শেষভাগে সিনার কোর্টের বাইরে থাকায় জভেরেভের সামনে গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্ট সংগ্রহের সুযোগ রয়েছে।
ফলে মৌসুমের শেষ টুর্নামেন্ট গুলোতে জভেরেভের পারফরম্যান্সের ওপর অনেক কিছু নির্ভর করবে। সিনার খেলতে না পারায় র্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষস্থান নিয়ে লড়াইয়ে নতুন মাত্রা যোগ হয়েছে।
বিশ্ব টেনিসের অন্যতম প্রধান তারকা হিসেবে গত কয়েক মৌসুমে সিনার নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন। গ্র্যান্ড স্ল্যাম সাফল্য, ধারাবাহিক পারফরম্যান্স এবং বিশ্ব র্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষে অবস্থান সব মিলিয়ে তিনি বর্তমানে পুরুষ টেনিসের সবচেয়ে আলোচিত খেলোয়াড়দের একজন।
এমন একজন খেলোয়াড়ের মৌসুমের মাঝপথে চোটের কারণে ছিটকে যাওয়া টেনিস প্রেমীদের জন্য বড় ধাক্কা। বিশেষ করে বছরের শেষ দিকের গুরুত্বপূর্ণ প্রতিযোগিতা গুলোতে সিনারের অনুপস্থিতি টুর্নামেন্ট গুলোর লড়াইকে অন্যরকম করে তুলবে।
তার অনুপস্থিতিতে অন্য শীর্ষ খেলোয়াড়দের সামনে নিজেদের অবস্থান শক্ত করার সুযোগ তৈরি হয়েছে। একই সঙ্গে র্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষস্থান নিয়ে প্রতিযোগিতাও আরও আকর্ষণীয় হয়ে উঠতে পারে।
সিনারের পক্ষ থেকে স্পষ্ট করে জানানো হয়েছে, ২০২৬ মৌসুম তার জন্য শেষ। এখন তার লক্ষ্য চিকিৎসা শেষ করে পুরোপুরি সুস্থ হওয়া এবং ২০২৭ মৌসুমে নতুন ভাবে কোর্টে ফেরা।
তবে ঠিক কখন তিনি অনুশীলনে ফিরবেন বা ২০২৭ সালের কোন টুর্নামেন্ট দিয়ে প্রতিযোগিতা মূলক টেনিসে প্রত্যাবর্তন করবেন, সে বিষয়ে এখনও নির্দিষ্ট কোনো সময়সূচি জানানো হয়নি।
সিনারের জন্য এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো হাঁটুর চোট থেকে সম্পূর্ণ সুস্থ হয়ে ওঠা। কারণ দ্রুত কোর্টে ফেরার চেয়ে দীর্ঘমেয়াদি ক্যারিয়ারকে গুরুত্ব দেওয়ার সিদ্ধান্তই নিয়েছেন তিনি।
এক নজরে জানিক সিনার
- দেশ: ইতালি
- বিশ্ব র্যাঙ্কিং: ১ নম্বর
- গ্র্যান্ড স্ল্যাম: ৫টি
- ২০২৬ সালের শেষ ম্যাচ: উইম্বলডন ফাইনাল
- শেষ প্রতিপক্ষ: আলেকজান্ডার জভেরেভ
- চোট: হাঁটু
- ২০২৬ মৌসুম: সমাপ্ত
- পরবর্তী প্রত্যাবর্তন: ২০২৭ মৌসুমে





