অবিশ্বাস্য প্রত্যাবর্তনের গল্প লিখে বেইজিংয়ে চায়না ওপেনের শেষ ষোলো নিশ্চিত করেছেন পোল্যান্ডের তারকা ইগা সিওনতেক। তৃতীয় রাউন্ডে ক্রোয়েশিয়ার ডোনা ভেকিচের বিপক্ষে প্রথম সেট হারের পর দ্বিতীয় সেটেও ৫-২ গেমে পিছিয়ে ছিলেন তিনি। সেখান থেকে ঘুরে দাঁড়িয়ে শেষ পর্যন্ত ৪-৬, ৭-৬ (৭-০), ৬-২ গেমে জয় তুলে নেন সাবেক চ্যাম্পিয়ন।
বেইজিংয়ে সোমবারের ম্যাচটি সিওনতেকের জন্য মোটেও সহজ ছিল না। ম্যাচের শুরু থেকেই ভেকিচ আত্মবিশ্বাসী টেনিস খেলতে থাকেন। এক পর্যায়ে সিওনতেক-কে ৬-৪, ৫-২ ব্যবধানে পিছিয়ে দেন ৩০তম বাছাই ভেকিচ। এর আগে টানা চারবার মুখোমুখি সাক্ষাতে জয় পেয়েছিলেন সিওনতেক। এবার মনে হচ্ছিলো তিনি হেরে যাচ্ছেন। কিন্তু হাল ছাড়েননি চায়না ওপেনে ২০২৩ সালের চ্যাম্পিয়ন। দ্বিতীয় সেটে গুরুত্বপূর্ণ সময়ে নিজের খেলা আরও আক্রমণাত্মক করে তোলেন তিনি।

দ্বিতীয় সেটে নাটকীয় প্রত্যাবর্তন
৫-২ ব্যবধানে পিছিয়ে থাকার পর সিওনতেক ম্যাচে ফেরার লড়াই শুরু করেন। ভেকিচের সার্ভিস দুবার ভেঙে দ্বিতীয় সেটে ৫-৫ সমতা ফেরান তিনি। এরপর টাইব্রেকারে একতরফা আধিপত্য দেখান পোলিশ তারকা। টাইব্রেকারে ভেকিচকে একটি পয়েন্টও নিতে দেননি সিওনতেক। ফলে ৭-০ ব্যবধানে টাইব্রেকার জিতে দ্বিতীয় সেট নিজের করে নেন তিনি এবং ম্যাচ গড়ায় নির্ধারক তৃতীয় সেটে।
তৃতীয় সেটের শুরুতেও দুই খেলোয়াড় একে অপরের সার্ভিস ভাঙেন। তবে ২-২ সমতার পর আবার ভেকিচের সার্ভিস ব্রেক করেন সিওনতেক। এরপর আর পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি তাকে।

শেষ পর্যন্ত ২ ঘণ্টা ৪০ মিনিটের লড়াইয়ের পর ৬-২ ব্যবধানে তৃতীয় সেট জিতে ম্যাচ নিশ্চিত করেন তিনি। ম্যাচ শেষে নিজের প্রত্যাবর্তন নিয়ে সিওনতেক জানান, প্রথম সেটের পর কী পরিবর্তন করলে ভালো খেলতে পারবেন, সেটিই বুঝতে পারছিলেন না।
তিনি বলেন, স্কোরের দিক থেকে তখন তিনি খুব খারাপ অবস্থায় ছিলেন। তবে দ্বিতীয় সেটের শেষদিকে আরও সাহসী ও আক্রমণাত্মক টেনিস খেলতে শুরু করেন। একই সঙ্গে কোর্টের বিভিন্ন দিকে বল পাঠানোর কৌশলেও পরিবর্তন আনেন।
সিওনতেকের চোখে ম্যাচের মোড় বদলানো কৌশল
সিওনতেকের মতে, ম্যাচের গতি পরিবর্তনের ক্ষেত্রে এই কৌশলই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। তিনি আরও জানান, দুই খেলোয়াড়ই ভালো টেনিস খেলছিলেন বলে তার মনে হচ্ছিল। কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্ট গুলোতে ভেকিচ বেশি কার্যকর ছিলেন। নিজের সুযোগ গুলো কাজে লাগাতে না পারায় প্রথম সেটে পিছিয়ে পড়েছিলেন বলেও স্বীকার করেন তিনি।
এই ম্যাচের আগে ডোনা ভেকিচের বিপক্ষে চারবার খেলেছিলেন সিওনতেক। প্রতিবারই জয় পেয়েছিলেন পোলিশ তারকা এবং সেই চার ম্যাচে মাত্র একটি সেট হেরেছিলেন। বেইজিংয়ের ম্যাচে ভেকিচ দীর্ঘ সময় এগিয়ে থেকেও শেষ পর্যন্ত সেই ধারার পরিবর্তন ঘটাতে পারেননি। ৬-৪, ৫-২ ব্যবধানে এগিয়ে থেকেও ম্যাচ জিততে ব্যর্থ হন তিনি।
২০২৬ সালে শীর্ষ ১০ খেলোয়াড়ের বিপক্ষে এটি ভেকিচের তৃতীয় হার। এর আগে অস্ট্রেলিয়ান ওপেনে মিরা আন্দ্রেভার এবং ইন্ডিয়ান ওয়েলসে জেসিকা পেগুলার কাছে হেরেছিলেন তিনি। শেষ ষোলোতে সিওনতেকের প্রতিপক্ষ এখন ১০ নম্বর বাছাই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ইভা জোভিচ। তৃতীয় রাউন্ডে ম্যাচে কামিলা রাখিমোভাকে ৬-১, ৭-৫ ব্যবধানে হারিয়ে শেষ ষোলো নিশ্চিত করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের এই খেলোয়াড়।
ফলে পরের রাউন্ডেও সিওসতেক-কে কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে হবে। তবে ভেকিচের বিপক্ষে ৬-৪, ৫-২ পিছিয়ে থেকেও যেভাবে ম্যাচে ফিরেছেন, তাতে বেইজিংয়ে তার আত্মবিশ্বাস যে এখন আরও বেড়েছে, তা বলাই যায়।




