মাঠে যখন ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপে একের পর এক ইতিহাস গড়ে চলেছে মরক্কো, ঠিক তখনই মাঠের বাইরে আরেকটি সমমানের বড় লড়াইয়ে নেমেছে দেশটি। আর তা হলো – ২০৩০ ফিফা বিশ্বকাপের ফাইনাল ম্যাচটি নিজেদের মাটিতে আয়োজন করার অধিকার ছিনিয়ে নেওয়া।
সাম্প্রতিক বিভিন্ন প্রতিবেদন অনুযায়ী, ফৌজি লেকজার নেতৃত্বাধীন রয়্যাল মরক্কান ফুটবল ফেডারেশন বিশ্বাস করে যে, তারা ইতিমধ্যে ফিফা কাউন্সিলের সংখ্যাগরিষ্ঠ সদস্যের সমর্থন আদায় করতে সক্ষম হয়েছে। তাদের লক্ষ্য স্পেনের চেয়ে ক্যাসাব্লাঙ্কাকে ফাইনালের ভেন্যু হিসেবে এগিয়ে রাখা, অথচ দীর্ঘদিন ধরে স্পেনকেই এই মেগা ম্যাচের মূল দাবিদার মনে করা হচ্ছিল।
আফ্রিকান ও এশিয়ান ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনসহ বিভিন্ন প্রভাবশালী রাজনৈতিক ও ক্রীড়া ব্যক্তিত্বদের সমর্থনের কারণে মরক্কোর এই প্রচারণায় দারুণ গতি এসেছে। তবে ফিফা এখনো চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্ত না জানানোয়, বিশ্বকাপ ফাইনাল আয়োজনের এই জমজমাট রেস এখনো পুরোপুরি উন্মুক্ত।
আফ্রিকান ফুটবলের জন্য এক ঐতিহাসিক সুযোগ
ক্যাসাব্লাঙ্কা যদি শেষ পর্যন্ত ২০৩০ ফিফা বিশ্বকাপ ফাইনাল ম্যাচটির আয়োজনের দায়িত্ব পায়, তবে তা হবে আফ্রিকান ফুটবলের ইতিহাসে এক অবিস্মরণীয় মুহূর্ত।
- আফ্রিকায় ‘গৌরবময়’ প্রথম ফাইনাল: এর আগে কখনো আফ্রিকান মাটিতে ফিফা বিশ্বকাপের ফাইনাল ম্যাচ অনুষ্ঠিত হয়নি। ২০১০ সালে দক্ষিণ আফ্রিকা সফলভাবে পুরো টুর্নামেন্ট আয়োজন করলেও ফাইনাল ম্যাচটি আফ্রিকার ফুটবল আধিপত্যের প্রতীকী গৌরব এনে দিতে পারেনি, যা মরক্কো দিতে চাইছে।
- মরক্কোর ফুটবলের উত্থান: এই বিডটি এমন এক সময়ে এসেছে যখন মরক্কোর ফুটবল বিশ্বমঞ্চে রাজত্ব করছে। ২০২২ কাতার বিশ্বকাপে প্রথম আফ্রিকান দেশ হিসেবে সেমিফাইনালে উঠে চমক দেখানোর পর, চলমান ২০২৬ বিশ্বকাপে কোয়ার্টার ফাইনালে পৌঁছে তারা প্রমাণ করেছে যে তাদের সাফল্য কোনো কাকতালীয় ঘটনা ছিল না।
স্টেডিয়ামের গণ্ডি ছাড়িয়ে এক মেগা প্রজেক্ট
মরক্কোর এই দাবি কেবল ক্যাসাব্লাঙ্কায় নির্মাণাধীন ‘গ্র্যান্ড স্টেড হাসান ২’ স্টেডিয়ামের ওপর ভিত্তি করে নয়, যা ১ লাখ ১০ হাজারেরও বেশি দর্শক ধারণক্ষমতা নিয়ে বিশ্বের অন্যতম বৃহত্তম স্টেডিয়াম হতে যাচ্ছে।
বরং, এই বিশ্বকাপ প্রকল্পকে বিশ্বের যেকোনো দেশের চেয়ে সেরা করতে মরক্কো পরিবহন, রাস্তাঘাট, বিমানবন্দর, হোটেল এবং ক্রীড়া অবকাঠামো খাতে শত কোটি ডলার বিনিয়োগ করেছে। ফাইনাল ম্যাচটি আয়োজন করতে পারলে তা উত্তর আফ্রিকার অর্থনীতি এবং পর্যটন শিল্পে এক অভূতপূর্ব জোয়ার আনবে, যা আগামী কয়েক দশক ধরে মরক্কোকে মহাদেশের অন্যতম প্রধান ক্রীড়া কেন্দ্রে পরিণত করবে।
হাল ছাড়তে নারাজ স্পেন
অন্যদিকে, শক্ত অবস্থানে রয়েছে স্পেনও। তাদের মতে, সান্তিয়াগো বার্নাব্যু কিংবা ভবিষ্যতের স্পটিফাই ক্যাম্প ন্যু এর মতো আইকনিক ভেন্যুগুলোই বিশ্ব ফুটবলের এই মহোৎসবের ফাইনাল আয়োজনের জন্য সবচেয়ে আদর্শ জায়গা।
রয়্যাল স্প্যানিশ ফুটবল ফেডারেশনের সভাপতি রাফায়েল লুজান প্রকাশ্যে জানিয়েছেন যে, স্পেন ছাড়া অন্য কোথাও বিশ্বকাপের ফাইনাল হবে, এমনটা তিনি ভাবতেই পারেন না। স্পেনের দীর্ঘদিনের প্রাতিষ্ঠানিক ও সাংগঠনিক অভিজ্ঞতা ফিফার চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় ভূমিকা রাখবে বলে তিনি দৃঢ় আত্মবিশ্বাস ব্যক্ত করেছেন।
চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা কেবল ফিফার হাতে থাকলেও, ২০৩০ বিশ্বকাপের ফাইনাল ম্যাচটি নিজেদের করে নেওয়ার লড়াই ইতিমধ্যেই জমে উঠেছে। একদিকে ২০২৬ বিশ্বকাপে মরক্কো যখন মাঠের পারফরম্যান্সে ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম সেরা অধ্যায় লিখছে, ঠিক তখনই তারা আরেকটি উচ্চাভিলাষী স্বপ্ন বুনছে, যেন ঠিক চার বছর পর, গোটা ফুটবল বিশ্বের নজর আটকে থাকে ক্যাসাব্লাঙ্কার সবুজ মাঠে।


