বিশ্বকাপ ফুটবলের ডামডোলে অন্য সব খেলা অনেকটাই আড়ালে পড়ে গেছে। তবে বিশ্ব ক্রীড়াঙ্গন থেমে নেই। চলছে উইম্বল্ডন। অনেকটা নীরবে এগিয়ে চলেছে এই ঐতিহ্যবাহী টুর্নামেন্ট। শুধু তাই নয়, প্রায় শেষের পথে এগিয়ে গেছে। একেবারেই শেষ পর্যায়ে। নারী ইভেন্টের ফাইনালে মুখোমুখি হচ্ছে চেকিয়ার দুই খেলোয়াড়- ক্যারোলিনা মুচোভা ও লিন্ডা নাসকোভা। যার অর্থ উইম্বল্ডনের নারী শিরোপা এবার চেকিয়াতেই যাচ্ছে। পাশাপাশি উইম্বল্ডন পাচ্ছে নতুন চ্যাম্পিয়ন।
সেমিফাইনালে ক্যারোলিনা মুচোভা খেলেছেন যুক্তরাষ্ট্রর কোকো গাউফের বিপক্ষে। গাউফ বেশ কঠিন প্রতিদ্বন্দ্বিতা গড়ে তুলেছিলেন। মুচোভা জয় পান ৬-২, ১-৬ ও ৭-৬ গেমে। গত ছয় বছরে চেকিয়ার চতুর্থ খেলোয়াড় হিসেবে ফাইনালে ওঠার কৃতিত্ব দেখান তিনি। একটু পরেই সংখ্যা পাঁচে রূপ নেয়। পঞ্চম খেলোয়াড় হিসেবে ফাইনালে ওঠেন নাসকোভা।
কঠিন লড়াই
কোকো গাউফের বিপক্ষে কঠিন লড়াই লড়তে হয়েছে মুচোভাকে। ১-১ সেটে সমতার পর যে কেউ জয়ের হাসি হাসতে পারতো। জয় নির্ধারণী সেট গড়িয়েছিল টাইব্রেকারে। সেখানে গফ ম্যাচ পয়েন্ট নষ্ট করেন। তার জোরালো ফোরহ্যান্ড শট নেটে আছড়ে পড়ে। এর পর মুচোভ একটি লব উইনার মেরে প্রথম ম্যাচ পয়েন্ট পান।ঘাসে পিছলে গিয়ে পয়েন্ট হারান তিনি। তারপরেই আরও একটা ম্যাচ পয়েন্ট পান। গফকে পরিশ্রান্ত করে তুলেছিলেন তিনি। গফকে কোর্টের এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে দৌড় করার। এরই মাঝে পরিশ্রান্ত গফের একটি শট নেটে আঘাত করতেই ম্যাচ জয়ের আনন্দে মেতে ওঠেন মুচোভা।

ম্যাচের পর মুচোভা বলেন, কঠিন লড়াই করতে হয়েছে। কিন্তু দূর্দান্ত এক ম্যাচ ছিল। মাত্র ১০ সেকেন্ডের মধ্যে উত্থান পতন দেখেছি। ম্যাচ পয়েন্ট পেয়ে আবার হারিয়েছি। চিন্তা ভাবনা করারই সময় ছিল না। শেষ পর্যন্ত চাপ উপেক্ষা করে সফল হয়েছি। এখন বিষয়টা বিশ্বাস হচ্ছে না। অসম্ভব এক জয় পেয়েছি।
বিশ্বের ৯ নম্বর নারী খেলোয়াড় মুচোভার এটি হবে দ্বিতীয় গ্র্যান্ড স্ল্যাম ফাইনাল। এর আগে তিনি ফ্রেঞ্চ ওপেনের ফাইনালে উঠেছিলেন। তবে সাফল্যের হাসি হাসতে পারেননি। ইগা শিয়ানটেকের কাছে হেরে গিয়েছিলেন।
দুর্ভাগ্য গফের
দুর্ভাগ্য গফের। মুচোভার বিপক্ষে তার ছিল একচ্ছত্র আধিপত্য। আগের সাত ম্যাচের ছয়টিতেই জয় ছিল তার। এদিন কাছাকাছি এসেও পারলেন না।
চেকিয়ার অন্য খেলোয়াড় নোসকোভা জয় পেয়েছেন হেসেখেলে। ৬-৪ ও ৬-৪ গেমে হারান মার্তা কস্তিয়ুককে।


