বিশ্বকাপের প্রথম কোয়ার্টার ফাইনালে মরক্কোকে হারিয়ে সেমিফাইনালে উঠেছে ফ্রান্স। ২-০ গোলের জয় সাবেক চ্যাম্পিয়নদের। অধিনায়ক কিলিয়ান এমবাপে ও উসমান দেম্বেলে করেন গোল। ৬৬ মিনিটের মধ্যে এই দুই গোল করে ফ্রান্স সেমিফাইনালে খেলার সম্ভাবনা উজ্জল করে। আর তখনই ঘটে এক দুর্ঘটনা। আহত হন এমবাপে।
ম্যাচের ৭৭ মিনিটের সময় আহত হয়ে এমবাপে মাঠ ছেড়ে চলে যান। তার এই মাঠ ছেড়ে যাওয়া ফ্রান্সের সমর্থকদের মধ্যে উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়ে। তার ইনজুরির মাত্রা নিয়ে বিভিন্ন প্রশ্নের জম্ম দেয়। তবে খুব বেশি ডালপালা ছড়াতে পারেনি, তার আগেই এমবাপে নিজের ইনজুরির বিষয়টি পরিস্কার করেন। তিনি জানান, তার ইনজুরি মারাত্মক কিছু নয়, ভয়ের কিছু নেই। ভালো আছেন এবং পরের ম্যাচেই মাঠে নামতে পারবেন।
চোপ সম্পর্কে এমবাপে বলেন, আমার গোড়ালিতে আঘাত লেগেছিল। তবে উদ্বিগ্ন হওয়ার মতো কিছু নয়। আমি ঠিক আছি। তবে ইনজুরি অবস্থায় আমার খেলার চেয়ে শেষ কয়েক মিনিট জ্য ফিলিপ মাতেতার মাঠে থাকাটাই বেশি ভালো ছিল।

সব মনোযোগ সেমিফাইনালে
ফ্রান্সের অধিনায়কের এখন মনোযোগ ইনজুরিতে নয়, সেমিফাইনাল ম্যাচে। সেমিফাইনালে ফ্রান্সের প্রতিপক্ষ এখনো ঠিক হয়নি। শুক্রবার রাতে দ্বিতীয় কোয়ার্টার ফাইনালে দুই ইউরোপিয়ান পরাশক্তি স্পেন ও বেলজিয়াম মুখোমুখি হবে। এ ম্যাচের জয়ী দল আগামী ১৪ জুলাই সেমিফাইনালে মুখোমুখি হবে।
এদিকে মরক্কোর বিপক্ষে জয়ের রহস্য নিয়ে কথা বলেছেন এমবাপে। তিনি বলেন, এই ফ্রান্স দল একটা তত্ত্বে বিশ্বাসী। দলের মাঝে স্বস্তি ছড়িয়ে দেওয়ার একটা মাত্র ওষুধ রয়েছে। সেটা হচ্ছে জয়। আমরা যতক্ষণ না জয়ের দেখা পাই, ততক্ষণ লড়ে যাই। জয় না পাওয়া পর্যন্ত আমরা হাল ছাড়ি না, প্রতিপক্ষকেও ছাড় দিই না। জয় আমাদের একমাত্র স্বস্তি।
টানা তৃতীয় ফাইনালের হাতছানি
বিশ্ব ফুটবলে ফ্রান্স এখন রমরমা অবস্থায়। বিশেষ করে বিশ্বকাপে। টানা তৃতীয়বার ফাইনালে খেলার হাতছানি ১৯৯৮ সালে প্রথমবার চ্যাম্পিয়ন হওয়া ফ্রান্সের সামনে। ২০১৮ সালে তারা দ্বিতীয়বারের মতো চ্যাম্পিয়ন হয়। ফাইনালে হারিয়েছিল ক্রোয়েশিয়াকে। ২০২২ সালে তারা ফাইনালে খেলে। অল্পের জন্য শিরোপার দেখা পায়নি। তাদের সামনে থেকে শিরোপা নিয়ে যায় আর্জেন্টিনা। ২০২৬ সালেও তাদের সামনে ফাইনাল খেলার হাতছানি। ফাইনালে ওঠার পথে মাত্র একটা ধাপ বাকি। আর ২০১৮ সালের সাফল্যের পুনরাবৃত্তি করতে বাকি মাত্র দুই ধাপ।


