লাল কার্ডের ধাক্কা সামলাতে ‘অসম লড়াইয়ের’ প্রস্তুতি নিচ্ছে সুইজারল্যান্ড

মাঠের ফুটবলে যেকোনো মুহূর্তে বদলে যেতে পারে ম্যাচের ভাগ্য। একটি পেনাল্টি, একটি ইনজুরি কিংবা আকস্মিক একটি লাল কার্ড পুরো দলের চেনা ছন্দকে মুহূর্তে চূর্ণ-বিচূর্ণ করে দিতে পারে। বিশেষ করে নকআউট পর্ব বা বড় টুর্নামেন্টগুলোতে ১০ জন বা তার কম খেলোয়াড় নিয়ে ম্যাচ বাঁচানো যেকোনো কোচের জন্যই সবচেয়ে বড় দুঃস্বপ্ন। তবে এই চরম প্রতিকূল পরিস্থিতিকে আর ভাগ্যের ওপর ছেড়ে দিতে রাজি নয় সুইজারল্যান্ড জাতীয় ফুটবল দল। ম্যাচে যেকোনো ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি মোকাবিলা করতে এক অভিনব ও কঠোর কৌশল বেছে নিয়েছেন সুইস কোচ।

সম্প্রতি বিখ্যাত ক্রীড়া সাংবাদিক হোসে রামন ফার্নান্দেজের এক চাঞ্চল্যকর প্রতিবেদনে উঠে এসেছে সুইজারল্যান্ড দলের এই ভিন্নধর্মী ও চমকপ্রদ অনুশীলনের চিত্র।

অনুশীলনে ‘ইচ্ছাকৃত’ অসম সংখ্যার লড়াই

হোসে রামন ফার্নান্দেজের তথ্য অনুযায়ী, সুইজারল্যান্ডের সাম্প্রতিক অনুশীলন সেশনগুলো সাধারণ নিয়মে চলছে না। সাধারণত অনুশীলনে ১১ বনাম ১১ জনের ম্যাচ পরিস্থিতি তৈরি করা হলেও, সুইস ফুটবলাররা মাঠে নামছেন সম্পূর্ণ ভিন্ন এক চ্যালেঞ্জ নিয়ে। তারা ইচ্ছাকৃতভাবেই অসম সংখ্যক খেলোয়াড় নিয়ে ম্যাচ পরিস্থিতি তৈরি করছেন।

অনুশীলনে কখনো দেখা যাচ্ছে মূল একাদশের ১১ জনের বিপক্ষে খেলছেন ১০ জন। এখানেই শেষ নয়, পরিস্থিতি আরও জটিল করে তুলতে কখনো ৯ জন, এমনকি মাত্র ৮ জন নিয়ে ১১ জনের শক্তিশালী প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে লড়াই করতে হচ্ছে সুইস ফুটবলারদের।

“ম্যাচে যদি লাল কার্ডের মতো কোনো চরম প্রতিকূল পরিস্থিতি তৈরি হয়, তাহলে যেন দল কৌশলগতভাবে ভেঙে না পড়ে এবং কম খেলোয়াড় নিয়েও মাঠের নিয়ন্ত্রণ ধরে রেখে সংগঠিত ফুটবল খেলতে পারে—সেটিই এই অনুশীলনের মূল লক্ষ্য।” — হোসে রামন ফার্নান্দেজ, বিখ্যাত ক্রীড়া সাংবাদিক।

কেন এই অভিনব কৌশল?

ফুটবলে লাল কার্ড বা খেলোয়াড় কমে যাওয়ার ঘটনা নতুন কিছু নয়। তবে অধিকাংশ দলই এমন পরিস্থিতির শিকার হলে তাৎক্ষণিকভাবে রক্ষণাত্মক কৌশল অবলম্বন করে কিংবা অতিমাত্রায় চাপে পড়ে ভুল করতে শুরু করে। সুইজারল্যান্ড এখানেই নিজেদের আলাদা করতে চায়। এই বিশেষ অনুশীলনের পেছনে মূলত তিনটি বড় কারণ রয়েছে:

  • মানসিক দৃঢ়তা তৈরি: হুট করে একজন খেলোয়াড় কমে গেলে দলের ভেতর যে ভীতি বা বিশৃঙ্খলা তৈরি হয়, তা কাটিয়ে ওঠা। খেলোয়াড়রা যেন ৮ বা ৯ জন নিয়েও মানসিকভাবে ভেঙে না পড়েন।
  • কৌশলগত শৃঙ্খলা (Tactical Discipline): কম খেলোয়াড় নিয়েও কীভাবে মাঠের ফাঁকা জায়গাগুলো (Spaces) ভরাট করতে হবে এবং বল পজেশন ধরে রাখতে হবে, তার নিখুঁত ছক তৈরি করা।
  • কাউন্টার-অ্যাটাকের ধার বাড়ানো: ডিফেন্সে লোকবল কম থাকা সত্ত্বেও কীভাবে দ্রুত কাউন্টার-অ্যাটাকে গিয়ে প্রতিপক্ষকে স্তব্ধ করে দেওয়া যায়, সেই রণকৌশল রপ্ত করা।

ফুটবল বিশ্বে আলোচনার ঝড়

হোসে রামন ফার্নান্দেজের এই তথ্যটি সামনে আসার পর ফুটবল বিশ্বে বেশ শোরগোল পড়ে গেছে। অনেক ফুটবল বিশ্লেষকই সুইস কোচের এই দূরদর্শিতার প্রশংসা করছেন। আধুনিক ফুটবলে যেখানে প্রতিটি সেকেন্ড এবং প্রতিটি ট্যাকটিক্স গুরুত্বপূর্ণ, সেখানে ম্যাচের সবচেয়ে বাজে পরিস্থিতির জন্য আগে থেকেই দলকে এভাবে প্রস্তুত করা সত্যিই প্রশংসনীয়।

অতীতে দেখা গেছে, অনেক বড় বড় দলও কেবল একটি লাল কার্ডের ধাক্কা সামলাতে না পেরে টুর্নামেন্ট থেকে ছিটকে গেছে। সুইজারল্যান্ড প্রমাণ করতে চায়, মাঠের লড়াইয়ে সংখ্যায় কম হলেও কৌশলে তারা কখনো কম পড়বে না।

এখন দেখার বিষয়, অনুশীলনের এই ‘অসম যুদ্ধের’ কঠিন পাঠ সুইস ফুটবলারদের আসল ম্যাচে কতটা সুবিধা দেয়। তবে এতটুকু বলাই যায়, প্রতিপক্ষ দলগুলো সুইজারল্যান্ডের বিপক্ষে কেবল ১১ জনের বিরুদ্ধে নয়, এক অপরাজেয় মানসিকতার বিরুদ্ধে মাঠে নামবে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

spot_imgspot_img
spot_img

Hot Topics

Related Articles