ভারতের অধিনায়কত্ব ছাড়লেন হারমানপ্রিত

ভারতের হয়ে বিশ্বকাপ জয়ের পর জিতেছেন সবশেষ এশিয়া গেমস ক্রিকেটের সোনার পদক। তার ঠিক কয়েক দিন আগে পুনরুদ্ধার করেছে এশিয়া কাপের শিরোপা। অবিশ্বাস্য সাফল্য যাত্রার মধ্যেই নিজের নেতৃত্বের পথচলার সমাপ্তি দেখে ফেললেন হারমানপ্রিত কৌর। নেতৃত্ব ছাড়ার ঘোষণা দিয়ে ভারতের সফল অধিনায়ক বললেন, এখন কেবল ক্রিকেটের প্রতি ভালোবাসা থেকেই খেলে যাবে।

৩৭ বছর বয়সী ব্যাটার মঙ্গলবার সামাজিক মাধ্যমে লিখেছেন,‘সব সংস্করণ মিলিয়ে ভারতীয় নারী ক্রিকেট দলের অধিনায়কের পদ থেকে আজ আমি সরে দাঁড়াচ্ছি। তিনি ভারতকে ৫ টেস্ট, ৫১ ওয়ানডে ও রেকর্ড ১৫৫ টি-টোয়েন্টিতে নেতৃত্ব দিয়েছেন হারমানপ্রিত। তার অধিনায়কত্বেই বহু আরাধ্য ওয়ানডে বিশ্বকাপের প্রথম শিরোপা জেতে ভারত গত বছর। এছাড়াও দুটি এশিয়া কাপ ও দুবার এশিয়ান গেমসে সোনার পদক জয়ে নেতৃত্ব দিয়েছেন তিনি।


হারমানপ্রিত ভারতকে প্রথম নেতৃত্ব দেন ২০১২ সালে একটি টি-টোয়েন্টিতে। তবে ২০১৬ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ঘরের মাঠে গ্রুপ পর্ব থেকে ভারতের বিদায়ের পর এই সংস্করণে নিয়মিত অধিনায়ক করা হয় তাকে।

হারমানপ্রীত ২০১২ সালে প্রথম টি-টোয়েন্টি দলের অধিনায়কত্ব করেন, কিন্তু ২০১৬ সালে ঘরের মাঠে অনুষ্ঠিত টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে গ্রুপ পর্ব থেকেই ভারত বিদায় নেওয়ার পরেই তাকে এই পদের জন্য একজন গুরুত্বপূর্ণ প্রার্থী হিসেবে বিবেচনা করা শুরু হয়। কিংবদন্তি মিতালি রাজের বিদায়ের পর ক্রমে সব সংস্করণেই দায়িত্ব পান হারমানপ্রিত। সেই পথচলা এবার শেষ হলো।

সিদ্ধান্ত নেওয়া কতটা কঠিন ছিল, তা ফুটে উঠল হারমানপ্রিতের দীর্ঘ বিদায়ী বার্তায়। ‘এটা কোনো সহজ সিদ্ধান্ত নয়। এর সঙ্গে মিশে আছে বছরের পর বছরের স্মৃতি, আবেগ, ত্যাগ এবং এমন সব মুহূর্ত, যা আমার বাকি জীবনজুড়ে সঙ্গী হবে।

এই দলকে এবং ভারতীয় মহিলা ক্রিকেটকে আমি সবকিছু দিয়েছি – আমার রক্ত, আমার ঘাম, আমার সময়, এবং অনেক সময়, আমার নিজের খেলা ও ব্যক্তিগত আকাঙ্ক্ষার অংশও। এমন অনেক মুহূর্ত ছিল, যখন আমাকে আমার ব্যক্তিগত পারফরম্যান্স, আমার নিজের উন্নতি এবং নিজের জন্য যা চেয়েছিলাম, তা একপাশে সরিয়ে রাখতে হয়েছে, কারণ বিশ্বাস করতাম দলকেই সবার আগে রাখতে হবে।

নেতৃত্বের কারণে অনেক সময় অনেক কঠিন সিদ্ধান্ত তাকে নিতে হয়েছে, যে কারণে এমনকি তার ব্যক্তিগত ক্যারিয়ারে ক্ষতিও হয়েছে। তবে তার দাবি, সবকিছুই ছিল দলের স্বার্থে। একজন অধিনায়ক হিসেবে আমাকে অনেক সময় কঠিন সিদ্ধান্ত নিতে হয়েছে। এমন সব সিদ্ধান্ত যা সবসময় বোঝা যেত না, সবসময় সহজ ছিল না এবং কখনও কখনও যেসবের জন্য আমাকে ব্যক্তিগতভাবে মূল্য দিতে হয়েছে।

কিন্তু আমার নেওয়া প্রতিটি সিদ্ধান্তের পেছনে একটাই উদ্দেশ্য ছিল – এই দলকে আরও ভালো করে তোলা এবং অন্য ক্রিকেটারদের বেড়ে ওঠার, নিজেদের ওপর বিশ্বাস রাখার এবং নিজেদের সেরা সংস্করণ হয়ে ওঠার সুযোগ করে দেওয়া।

spot_imgspot_img
spot_img

Related Articles