জাপানের কোচের ঘোষণা: ইতিহাস বদলাতে চাই

বিশ্বকাপ ফুটবল

সংবাদ সম্মেলনে জাপানের কোচ

বিশ্বকাপের নকআউট মানেই স্নায়ুর যুদ্ধ, চাপ আর সাহসের লড়াই। সঙ্গে সুযোগ থাকে নতুন করে ইতিহাস লেখার। বিশ্বকাপ ফুটবলে সেই মঞ্চেই এবার দাঁড়িয়ে জাপান। প্রতিপক্ষ ফুটবল বিশ্বের এক মহাশক্তি ষষ্ঠ শিরোপার স্বপ্নে ব্রাজিল। কাগজে-কলমে শক্তির বিচারে ব্রাজিল স্পষ্ট ফেবারিট। কিন্তু জাপান এমন এক দল, যারা জানে-ফুটবলে অসম্ভব বলে কিছু নেই। ইতিহাস বদলে দিতে চায় তারা- এমন ঘোষণা জাপান কোচের।

তবে জাপানের সবচেয়ে বড় দুশ্চিন্তার নাম তাকেফুসা কুবো। টানা তৃতীয় ম্যাচেও মাঠে নামতে পারছেন না দলের এই সৃজনশীল মিডফিল্ডার। রিয়াল সোসিয়েদাদের এই তারকা কুবোকে ঘিরেই ছিল জাপানের আক্রমণভাগের বহু পরিকল্পনা। ডাচদের বিপক্ষে প্রথম ম্যাচে বদলি হয়ে মাঠ ছাড়ার পর থেকেই তিনি ইনজুরিতে ভুগছেন। গ্রুপ পর্বে তিউনিসিয়া ও সুইডেনের বিপক্ষেও মাঠে ছিলেন না, এবার ব্রাজিল ম্যাচেও তাকে পাওয়া যাচ্ছে না।

কুবোর অনুপস্থিতি বড় ধাক্কা

এমন একজন প্লেমেকারের অনুপস্থিতি নিঃসন্দেহে জাপানের জন্য বড় ধাক্কা। কারণ কুবোই ছিলেন সেই খেলোয়াড়, যিনি এক মুহূর্তের জাদুতে ম্যাচের গতি বদলে দিতে পারেন; শক্তিশালী প্রতিপক্ষের ডিফেন্সে ফাটল ধরাতে পারেন। মূল দলের অনুশীলনে তিনি ছিলেন না। একাই অনুশীলন করেছেন। ফলে বার্তাটা পরিস্কার- এখনো পুরোপুরি ফিট নন তিনি। তবে এ নিয়ে এখন ভাবতে চায় না জাপান। তাকে না পাওয়ার হতাশার ছায়াও নেই শিবিরে। বরং আছে এক অদম্য বিশ্বাস।

কোচ হাজিমে মোরিয়াসু পরিষ্কার ভাষায় জানিয়েছেন, ব্রাজিল বিশ্বের অন্যতম সেরা দল-এতে কোনো সন্দেহ নেই। কিন্তু তিনি এটাও মনে করিয়ে দিয়েছেন, আন্ডারডগ পরিচয় নিয়েই জাপান অতীতে চমক দেখিয়েছে। তার কণ্ঠে ছিল আত্মবিশ্বাসের দৃঢ়তা- প্রতিপক্ষের প্রতি সম্মান থাকবে, ভয় নয়।

ব্রাজিলের বিপক্ষে ম্যাচের জন্য অনুশীলনে জাপানের খেলোয়াড়রা

মরিয়াসুর বক্তব্যে সবচেয়ে শক্তিশালী বার্তা ছিল একটি-‌ ‘আমরা ইতিহাস বদলাতে চাই।’ -এই বাক্যই যেন জাপানের মানসিকতার প্রতিচ্ছবি। তারা শুধু ম্যাচ খেলতে নামছে না; তারা নামছে বিশ্ব ফুটবলের ক্ষমতার ভারসাম্যে ধাক্কা দিতে।

ব্রাজিলের বিপক্ষে জাপানের সবচেয়ে বড় অস্ত্র হতে পারে তাদের শৃঙ্খলাবদ্ধ দলগত ফুটবল। ব্যক্তিগত নৈপুণ্যে হয়তো ব্রাজিল এগিয়ে, কিন্তু জাপানের সংগঠিত প্রেসিং, দ্রুত ট্রানজিশন এবং নিরলস পরিশ্রম বড় ম্যাচে পার্থক্য গড়ে দিতে পারে।

দুঃশ্চিন্তার নাম টাইব্রেকার

এতকিছু সত্ত্বেও জাপানের একটা দুঃশ্চিন্তা ঠিকই উঁকি দিচ্ছে- তা হচ্ছে টাইব্রেকার। ২০২২ বিশ্বকাপে ক্রোয়েশিয়ার কাছে টাইব্রেকারে বিদায়ের তিক্ত স্মৃতি এখনো জাপানের মনে তাজা। এবার তাই প্রস্তুতিতে কোনো ঘাটতি রাখতে চান না মরিয়াসু। আগের মতো খেলোয়াড়দের স্বেচ্ছায় কিকার ঠিক করতে দেবেন না; শুটআউটের আগেই নিজে ঠিক করবেন কে কখন শট নেবে। এটি কেবল কৌশলগত সিদ্ধান্ত নয়, মানসিক প্রস্তুতিরও বড় অংশ।

ফুটবল ইতিহাস বলে, নকআউটে অনেক সময় শক্তি নয়- সাহসই নির্ধারণ করে ফলাফল। আজ জাপানের সামনে ঠিক সেই পরীক্ষা।

Exit mobile version