দুই গোলে পিছিয়ে পড়েও হার মানেনি রিয়াল মাদ্রিদ। ম্যাচের শেষ সাত মিনিটে তিন গোল করে উয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লিগে অবিশ্বাস্য প্রত্যাবর্তনের গল্প লিখেছে স্প্যানিশ ক্লাবটি। যোগ করা সময়ে অ্যান্তোনিও রুডিগারের গোল এএস রোমাকে ৪-৩ গোলে হারিয়ে নাটকীয় জয় পেয়েছে হোসে মরিনহোর দল।
ম্যাচের শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ম্যাচ খেলেছে রোমা। ২০ মিনিটে মার্টেন ডে রুনের গোলে এগিয়ে যায় ইতালিয়ান ক্লাবটি। মাতিয়াস বুলের পাস থেকে পাওয়া বল বা পায়ের শক্তিালী শটে জালে পাঠান তিনি। বলের গতিপথ পরিবর্তন হওয়ায় থিবো কর্তোয়া ঠেকাতে পারেননি।
তবে রোমার আনন্দ বেশিক্ষণ স্থায়ী হয়নি। ২৫ মিনিটে কিলিয়ান এমবাপের গোলে সমতায় ফেরে রিয়াল। চ্যাম্পিয়ন্স লিগে এটি তার শততম ম্যাচ। ২৭ বছর বয়সে ইউরোপের শীর্ষ ক্লাব প্রতিযোগিতায় ১০০ ম্যাচ খেলার মাইলফলক ছুঁয়ে ইতিহাসের সর্বকণিষ্ঠ খেলোয়াড় হিসেবে নাম লিখিয়েছেন তিনি। এর আগে ২০১৫ সালে ২৮ বছর বয়সে রোমার বিপক্ষে ম্যাচে এই রেকর্ড গড়েছিলেন বার্সেলোনার সাবেক খেলোয়াড় লিওনেল মেসি।
দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতে এগিয়ে রোমা
দ্বিতীয়ার্ধে কোন দল আর গোল পায়নি। তবে এ অর্ধের শুরুতেই গোল পেয়ে যায় রোমা। ৫১ মিনিটে রদ্রিগো মোরার পাস থেকে গোল করে আবার দলকে এগিয়ে নেন ডনিয়েল মালেন। ছয় মিনিট পর সুলের নিখুঁত পাস কাজে লাগিয়ে নিজেদের দ্বিতীয় গোলটি করেন এই ডাচ ফরোয়ার্ড। তাতে ৩-১ ব্যবধানে এগিয়ে যায় রোমা। শুরুতে অফসাইডের কারণে গোলটি বাতিল করা হলেও ভিডিও সহকারী রেফারির পর্যালোচনায় তা বৈধতা পায়।

মাঠে এনড্রিক
দুই গোলের ঘাটতিতে পড়ে বিপাকে তখন রিয়াল মাদ্রিদ। ম্যাচে ফেরার আশায় ভিনিসিয়ুস জুনিয়র তুলে এনড্রিককে মাঠে নামান কোচ মরিনহো। এরপর একের পর এক আক্রমণে রোমার রক্ষণভাগকে চাপে রাখে সফরকারীরা। তবে গোলরক্ষক পিয়েরলুইজি গোল্লিনির দৃঢ়তায় একাধিকবার হতাশ হতে হয় এমবাপেকে।
রুদ্ধশ্বাস প্রত্যাবর্তনে রিয়াল মাদ্রিদ এর অবিশ্বাস্য জয়
৮৩ মিনিটে শুরু রিয়াল মাদ্রিদের প্রত্যাবর্তনের গল্প। এনড্রিকের হেড গোলরক্ষক রুখে দিলেও ফিরতি বল জালে পাঠান কার্লোস এস্পি। ব্যবধান কমে দাঁড়ায় ৩-২। দুই মিনিট পর আর্দা গুলারের কর্নার থেকে হেড করে গোল করে ম্যাচে সমতা আনেন এনড্রিক। তার এ গোলে মুহুর্তেই স্তদ্ধ হয়ে যায় রোমার সমর্থকরা। তবে নাটকের তখনও বাকি ছিল। যোগ করা সময়ে আরেকটি সেট পিস থেকে বল জালে পাঠান রুডিগার। তার গোলেই রিয়াল মাদ্রিদ ৪-৩ গোলের অবিশ্বাস্য জয় পায়।




