হালান্ডের জোড়া গোলেও ম্যানচেস্টার সিটির হার

উয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লিগে প্যারিস সেন্ত জার্মেইয়ের বিপক্ষে দাঁড়াতেই পারলো না ম্যানচেস্টার সিটি। বুধবার রাতে নিজেদের মাঠে আর্লিং হালান্ডের জোড়া গোল সত্ত্বেও ৪-২ গোলে হেরেছ দলটি।

প্রথমার্ধে একে একে তিনবার ম্যানসিটি জালে বল ফেলে প্যারিস সেন্ত জার্মেই। আর তাতেই ম্যাচের ফল সম্পর্কে ধারণা হয়ে যায় সমর্থকদের। কিন্তু দ্বিতীয়ার্ধে জোড়া গোল করে হালান্ড কিছুটা প্রতিদ্বন্দ্বিতা গড়ে তুলেছিলেন। তবে তার জোড়া গোল ম্যাচের ভাগ্য বদলাতে পারেননি।

পিএসজির হয়ে গোল করেন দেজিয়ে দুয়ে, উসমান দেম্বেলে, ভিতিনিয়া ও ম্যাগনেস অ্যাকলিউশে। ম্যাচটি ঘিরে ছিল বাড়তি উত্তেজনা। আর্থিক অনিয়মের অভিযোগে স্বাধীন কমিশনের রায়ের পর নিজেদের মাঠে প্রথম ম্যাচ খেলতে নামে ম্যানসিটি। সেই সঙ্গে দীর্ঘদিনের কোচ পেপ গার্দিওলাও গত গ্রীষ্মে ক্লাব ছাড়ার পর প্রথমবারের মতো ইত্তিহাদে ফেরেন। গ্যালারিতে তাকে ঘিরে সমর্থকদের উচ্ছ্বাস ছিল চোখে পড়ার মতো। ক্লাবের প্রতি সমর্থন জানিয়ে গ্যালারিতে প্রদর্শিত হয় ‘সিটি টিল আই ডাই’ লেখা বিশাল ব্যানার। তবে মাঠের লড়াইয়ে শুরু থেকে দাপট দেখায় পিএসজি।

শুরুতেই পিএসজির গোল

১৩ মিনিটের সময়ে দেজিয়ে দুয়ের গোলে এগিয়ে যায় সফরকারীরা। বাম দিক থেকে ভেতরে ঢুকে তার নেওয়া শটে পরাস্ত হয় ম্যানসিটি গোলরক্ষক জিয়ানলুইজি দোনারুমা। দুই মিনিট পর ব্যবধান দ্বিগুনন করেন উসমান দেম্বেলে। ডান দিক থেকে আক্রমণ গড়ে বল বাড়িয়ে দিয়ে সামনে এগিয়ে যান তিনি। পরে দুয়ের ফিরতি বল হেডে জালে পাঠান ফরাসি ফরোয়ার্ড।

হালান্ডের জোড়া গোলেও ম্যানচেস্টার সিটির হার
গ্যালারিতে ম্যানসিটির সাবেক কোচ গার্দিওলা

ম্যানসিটির রক্ষণ তখন দিশেহারা। এ ফাঁকেই ৩২ মিনিটে ভিতিনিয়ার গোলে ব্যবধান বাড়িয়ে নেয় পিএসজি। ওয়ারেন জাইরে -এমেরির পাস থেকে পাওয়া বলে জোরালো শটে জালে পাঠান পর্তুগিজের এই মিডফিল্ডার। এর আগে আশরাফ হাকিমির হেড পোস্টে লেগে ফিরে আসে। বিরতির আগে আরও গোলের সুযোগ পেয়েছিল পিএসজি। তবে সে সব সুযোগ তারা কাজে লাগাতে পারেনি।

দ্বিতীয়ার্ধে ম্যানসিটির তিন পরিবর্তন

ঘরে দাঁড়ানোর আশায় দ্বিতীয়ার্ধে তিনটি পরিবর্তন আনেন ম্যানসিটির কোচ এনজো মারেস্কা। তাতে দ্রুতই সুফল মেলে। বিরতির পর মাঠে নামা ইলিমান এনদিয়ায়ের ক্রস থেকে হেডে গোল করে ব্যবধান কমান হালান্ড। ম্যাচের ৪৯ মিনিটের সময়ে করা এ গোটি ম্যানসিটিকে নতুন করে লড়াইয়ে ফেরার সাহস জোগায়। তবে স্বাগতিকদের ফেরার পথে বাঁধা হয়ে দাঁড়ায় পিএসজি। ৫৪ মিনিটে আবার গোল পায় তারা।

হাল ছাড়েনি ম্যানসিটি

তবে হাল ছাড়েনি ম্যানসিটি। একের পর এক আক্রমণে পিএসজির রক্ষণভাগকে তটস্ত করে রাখে। এনজো ফার্নান্দেজ ও হালান্ডের শট পোস্টে আঘাত করে ফিরে আসে। তবে ৭৫ মিনিটে আয়ুব বুয়াদ্দির পাস থেকে পাওয়া বলে হালান্ডের শট ঠিকই জাল খুঁজে নেয়। এই গোলের মাঝ দিয়ে হালান্ড ৪১ ম্যাচে ৩৮ গোল করে সিটির ইতিহাসে সর্বোচ্চ গোলদাতা হওয়ার কীর্তি গড়েন।

spot_imgspot_img
spot_img

Related Articles