Home Blog Page 10

জর্ডানে বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-১৭ নারী দলের কঠোর অনুশীলন

0

জর্ডানের বিপক্ষে দ্বিতীয় ফিফা আন্তর্জাতিক প্রীতি ম্যাচকে সামনে রেখে আম্মানে প্রস্তুতি চালিয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-১৭ নারী ফুটবল দল। আগামী ১৩ সেপ্টেম্বর জর্ডান অনূর্ধ্ব-১৭ নারী দলের বিপক্ষে মাঠে নামবে বাংলাদেশের মেয়েরা। এর আগে গতকাল অনুষ্ঠিত আন্তর্জাতিক প্রীতি ম্যাচের পর আজ আম্মানের জেএফএ মাঠে তৃতীয় অনুশীলন সেশন করেছে বাংলাদেশ দল।

স্থানীয় সময় রাত ৮টা থেকে ৯টা পর্যন্ত অনুষ্ঠিত হয় দিনের অনুশীলন। ঢাকার সময় অনুযায়ী রাত ১১টা থেকে মধ্যরাত পর্যন্ত চলে সেশনটি। ম্যাচের পর খেলোয়াড়দের শারীরিক অবস্থা বিবেচনায় নিয়ে আজকের অনুশীলন দুই ভাগে ভাগ করা হয়।

জর্ডানে বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-১৭ নারী দলের কঠোর অনুশীলন
বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-১৭ নারী দল

গতকালের আন্তর্জাতিক প্রীতি ম্যাচে যারা খেলেছেন, তাদের জন্য রাখা হয় মূলত রিকভারি সেশন। ম্যাচে খেলার ধকল কাটিয়ে দ্রুত স্বাভাবিক অবস্থায় ফেরাতেই তাদের অনুশীলনে গুরুত্ব দেওয়া হয় বিশ্রাম ও পুনরুদ্ধার প্রক্রিয়ায়। অন্যদিকে, যারা ম্যাচে খেলেননি কিংবা তুলনামূলক কম সময় মাঠে ছিলেন, তারা অংশ নেন পূর্ণাঙ্গ অনুশীলনে।

এই গ্রুপের অনুশীলনে ছিল ওয়ার্ম-আপ, বল দখলের অনুশীলন এবং ছোট পরিসরের ম্যাচ। বল পায়ে নিয়ন্ত্রণ, দ্রুত পাসিং এবং সীমিত জায়গায় সিদ্ধান্ত নেওয়ার দক্ষতা বাড়ানোর দিকেই ছিল অনুশীলনের মূল লক্ষ্য। পুরো সেশনজুড়েই খেলোয়াড়দের মধ্যে ছিল ভালো উদ্যম ও তীব্রতা।

অনুশীলনে দলের সব খেলোয়াড়ই নিজেদের উজাড় করে দেন। কোচিং স্টাফের নির্দেশনা মেনে নির্ধারিত অনুশীলনগুলো সম্পন্ন করেন তারা। দলের পক্ষ থেকেও জানানো হয়েছে, স্কোয়াডের সব খেলোয়াড় সুস্থ আছেন এবং আগামী ম্যাচের জন্য প্রস্তুতি চালিয়ে যাচ্ছেন।

জর্ডানে বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-১৭ নারী দলের কঠোর অনুশীলন
জর্ডানে বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-১৭ নারী দল

জর্ডানের বিপক্ষে ১৩ সেপ্টেম্বরের ম্যাচটি বাংলাদেশের অনূর্ধ্ব-১৭ নারী দলের জন্য গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তুতির অংশ। সামনে রয়েছে এএফসি অনূর্ধ্ব-১৭ নারী এশিয়ান কাপ ২০২৭ বাছাইপর্ব। উজবেকিস্তানে অনুষ্ঠিতব্য ওই বাছাইপর্বকে সামনে রেখেই জর্ডান সফরে প্রীতি ম্যাচ খেলছে বাংলাদেশ।

আন্তর্জাতিক পর্যায়ের প্রতিপক্ষের বিপক্ষে নিয়মিত ম্যাচ খেলে নিজেদের প্রস্তুতি যাচাই করার সুযোগ পাচ্ছে বাংলাদেশের মেয়েরা। বিশেষ করে ম্যাচের গতি, বল দখল, আক্রমণ গড়ে তোলা এবং রক্ষণ সামলানোর ক্ষেত্রে নিজেদের উন্নতির জায়গাগুলো চিহ্নিত করাই এই প্রস্তুতির অন্যতম লক্ষ্য।

আগামীকাল স্থানীয় সময় বিকেল ৪টায় আম্মানে পরবর্তী অনুশীলনে নামবে বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-১৭ নারী দল। ঢাকার সময় অনুযায়ী অনুশীলনটি শুরু হবে সন্ধ্যা ৭টায়। এরপর ১৩ সেপ্টেম্বর জর্ডানের বিপক্ষে দ্বিতীয় আন্তর্জাতিক প্রীতি ম্যাচে মাঠে নামবে বাংলাদেশের মেয়েরা।

এএফসি অনূর্ধ্ব-১৭ নারী এশিয়ান কাপ ২০২৭ বাছাইয়ের আগে জর্ডানের বিপক্ষে এই দুই ম্যাচকে নিজেদের প্রস্তুতির গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা হিসেবে দেখছে বাংলাদেশ। আন্তর্জাতিক ম্যাচের অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে উজবেকিস্তানের বাছাইপর্বে আরও আত্মবিশ্বাসী পারফরম্যান্সের লক্ষ্য নিয়েই এগিয়ে যাচ্ছে দল।

ইউএস ওপেনে পেগুলাকে উড়িয়ে ফাইনালে সাবালেঙ্কা

0

নিউইয়র্কের ফ্লাশিং মিডোজে আরেকটি ইতিহাসের দ্বারপ্রান্তে আরিনা সাবালেঙ্কা। ঘরের মাটির জেসিকা পেগুলাকে হারিয়ে টানা তৃতীয় ইউএস ওপেন শিরোপা জয়ের পথে আরও এক ধাপ এগিয়ে গেলেন বেলারুশের এই তারকা। সেমিফাইনালে পেগুলাকে ৭-৫, ৬-২ গেমে হারিয়ে শনিবারের ফাইনালের টিকিট নিশ্চিত করেছেন তিনি। ইউএস ওপেনে এটি সাবালেঙ্কার টানা ২০তম জয়।

শুরুটা অবশ্য খুব স্বস্তির ছিল না সাবালেঙ্কার। প্রথম সেটে একের পর এক অনাকাঙ্ক্ষিত ভুলে নিজের ওপরই বিরক্ত হচ্ছিলেন তিনি। অন্যদিকে দ্রুত ছন্দে ফিরে পেগুলা পরিষ্কার শটে চাপ তৈরি করছিলেন। একপর্যায়ে মনে হচ্ছিল, ম্যাচটি বেশ কঠিন পরীক্ষাই হতে যাচ্ছে শীর্ষ বেলারুশিয়ান তারকার জন্য। কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ সময়ে নিজের সেরা খেলাটা বের করে আনেন সাবালেঙ্কা। প্রথম সেটের ৬-৫ গেমে আক্রমণাত্মক টেনিসে পেগুলাকে চাপে ফেলে সেটটি নিজের করে নেন। এরপর দ্বিতীয় সেটে আর পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি। একের পর এক শক্তিশালী শটে প্রতিপক্ষকে অসহায় করে দ্রুতই ম্যাচ শেষ করেন তিনি। পুরো ম্যাচে সাবালেঙ্কার ব্যাট থেকে আসে ২৯টি উইনার, সেখানে পেগুলার উইনার ছিল ১২টি।

জয়ের পর সাবালেঙ্কা বলেন, ‘আমি জিততে মরিয়া ছিলাম। খুব করে চেয়েছিলাম জয়টা। কোনো অভিযোগ নেই, এত ভালো টেনিস খেলতে পেরে আমি দারুণ খুশি।’

এই জয়ের মাধ্যমে ইউএস ওপেনে নতুন এক রেকর্ডও গড়েছেন ২৮ বছর বয়সী সাবালেঙ্কা। ওপেন যুগে হার্ড কোর্টের গ্র্যান্ড স্লামে টানা সবচেয়ে বেশি ফাইনালে ওঠার রেকর্ড এখন তাঁর। ২০২৩ সালের অস্ট্রেলিয়ান ওপেনের পর থেকে হার্ড কোর্টের প্রতিটি গ্র্যান্ড স্লামেই ফাইনালে উঠেছেন তিনি। এবার তাঁর সামনে আরও বড় ইতিহাস। ইউএস ওপেনে টানা তিনবার নারী এককের শিরোপা জয়ের কীর্তি ওপেন যুগে এর আগে কেবল সেরেনা উইলিয়ামস ও ক্রিস এভার্টের রয়েছে। সাবালেঙ্কা সেই বিরল তালিকায় নাম লেখানোর অপেক্ষায়।

আরিনা সাবালেঙ্কা

তবে ফাইনালের আগে তাঁকে অপেক্ষা করতে হবে এলেনা রিবাকিনা ও কোকো গফের মধ্যকার দ্বিতীয় সেমিফাইনালের ফলের জন্য। অস্ট্রেলিয়ান ওপেনজয়ী রিবাকিনা ইতিমধ্যে বিশ্ব র‌্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষস্থান নিশ্চিত করেছেন। সোমবার নতুন র‌্যাঙ্কিং প্রকাশ হলে সাবালেঙ্কাকে এক নম্বর জায়গা ছাড়তে হবে। তবে বছরের শেষ গ্র্যান্ড স্লামটি জিতে সেই হতাশা কিছুটা হলেও ভুলতে চাইবেন তিনি।

পেগুলার বিপক্ষে এই জয় সাবালেঙ্কার কাছে অন্য কারণেও বিশেষ। ২০২৪ সালের ইউএস ওপেন ফাইনালে এই আমেরিকানকেই হারিয়ে প্রথমবারের মতো নিউইয়র্কের শিরোপা জিতেছিলেন তিনি। গত বছর সেমিফাইনালেও পেগুলাকে থামিয়েছিলেন বেলারুশিয়ান। যদিও জুনের বার্লিন ওপেনে সর্বশেষ মুখোমুখি লড়াইয়ে জয় পেয়েছিলেন পেগুলা। এবারও শুরুতে সেই লড়াইয়ের ছাপ দেখা গেলেও শেষ পর্যন্ত সাবালেঙ্কার শক্তির সামনে টিকতে পারেননি ৩২ বছর বয়সী পেগুলা। তাঁর জন্য হতাশাটা আরও বড়-ইউএস ওপেনের সেমিফাইনালে উঠেও প্রথম গ্র্যান্ড স্লাম শিরোপার অপেক্ষা শেষ করতে পারলেন না তিনি।

অন্যদিকে সাবালেঙ্কার পথটা এবারের আসরে ক্রমেই মসৃণ হয়েছে। টুর্নামেন্ট শুরুর আগে তাঁর ফর্ম নিয়ে কিছুটা সংশয় ছিল। মৌসুমের শুরুতে ইন্ডিয়ান ওয়েলস ও মিয়ামি-দুটি বড় টুর্নামেন্ট জিতে দুর্দান্ত ছন্দে থাকলেও ফরাসি ওপেনে কোয়ার্টার ফাইনাল এবং উইম্বলডনে চতুর্থ রাউন্ডেই থেমে গিয়েছিলেন তিনি। কিন্তু নিউইয়র্কে এসে আবার নিজের পরিচিত বিধ্বংসী টেনিস ফিরে পেয়েছেন। ফাইনালে ওঠার পথে মাত্র একটি সেট হারিয়েছেন।

২০২৩ সালের ফাইনালে কোকো গফের কাছে হারের পর থেকে ইউএস ওপেনে আর হারেননি সাবালেঙ্কা। এবার সেই জয়যাত্রাকে টানা তৃতীয় শিরোপায় রূপ দিতে চান তিনি। সামনে আর মাত্র একটি ম্যাচ। আর সেই ম্যাচ জিতলেই সেরেনা ও এভার্টের পাশে লেখা হবে তাঁর নাম-ইউএস ওপেনের ইতিহাসে টানা তিন শিরোপাজয়ী হিসেবে।

গ্লিমটের জালে বায়ার্নের পাঁচ গোল

0

দীর্ঘ বিরতির পর শুরুর একাদশে ফিরেই গোল করলেন জামাল মুসিয়ালা। তাঁর প্রত্যাবর্তনের ম্যাচেই গ্লিমটকে ৫-০ গোলে উড়িয়ে উয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লিগের লিগ পর্ব শুরু করেছে বায়ার্ন মিউনিখ। মুসিয়ালার পাশাপাশি গোল পেয়েছেন হ্যারি কেন, আলফোনসো ডেভিস ও মাইকেল ওলিসে।

গত আগস্টে আরবি লাইপজিগ ও হাইডেনহাইমের বিপক্ষে প্রস্তুতি ম্যাচে চার দিনের ব্যবধানে দুবার মাঠে পড়ে গিয়েছিলেন মুসিয়ালা। পরে তিনি জানিয়েছিলেন, তাঁর ‘চিকিৎসাযোগ্য অনুপস্থিতি-খিঁচুনি’ বা ‘অ্যাবসেন্স সিজার’ ধরা পড়েছে। এরপর কিছুদিন মাঠের বাইরে থাকার পর গত শনিবার শালকের বিপক্ষে গোলশূন্য ড্রয়ে বদলি হিসেবে মাঠে ফিরেছিলেন তিনি। এবার বায়ার্নের শুরুর একাদশে ফিরে গোলও পেলেন।

অ্যালিয়াঞ্জ অ্যারেনায় প্রথমার্ধে অবশ্য গোলের দেখা পায়নি বায়ার্ন। লুইস দিয়াজের হেড অল্পের জন্য লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়। হ্যারি কেনের বাঁকানো শটও সহজেই সামলে নেন গ্লিমটের গোলরক্ষক নিকিতা হাইকিন। মাঝপথে দিয়াজ পেনাল্টির আবেদন করলেও রেফারি তাতে সাড়া দেননি। ৩৬ মিনিটে গোলের খুব কাছে চলে গিয়েছিল বায়ার্ন। জশুয়া কিমিখের দূরপাল্লার শট পোস্টে লেগে ফিরে আসে। একই আক্রমণে আরও সুযোগ তৈরি হলেও অফসাইডের কারণে তা কাজে লাগানো যায়নি। বিরতির ঠিক আগে মুসিয়ালাও দুর্দান্ত এক দৌড়ে গোলের সুযোগ তৈরি করেছিলেন। কিন্তু হাইকিন তা ঠেকিয়ে দেন। ফলে প্রথমার্ধ শেষ হয় গোলশূন্যভাবে।

গোলের পর জামাল মুসিয়ালা

দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই বদলে যায় ম্যাচের চিত্র। মাত্র ৭৭ সেকেন্ডের মধ্যে কর্নার থেকে আসা বল ঘুরে দাঁড়িয়ে জোরালো শটে জালে পাঠান মুসিয়ালা। এর মধ্য দিয়ে বায়ার্নের ১৩৫ মিনিটের বেশি সময়ের গোলখরা কাটে। এরপর গোলবন্যা যেন সময়ের অপেক্ষা। প্রথমার্ধেই চোটের কারণে হাইকিনকে তুলে নিতে হয়েছিল গ্লিমটকে। তাঁর বদলি জুলিয়ান ফায়ে লুন্ড মাঠে নামার পরপরই গোল হজম করেন। ৬১ মিনিটে ওলিসের বিপজ্জনক ফ্রি-কিক থেকে হেডে গোল করেন কেন। টানা আটটি চ্যাম্পিয়ন্স লিগ ম্যাচে গোল করার কীর্তি গড়েন ইংলিশ স্ট্রাইকার। এই গোলটি ছিল ইউরোপীয় ফুটবলে বায়ার্নের ৯০০তম গোলও।

৭৭ মিনিটে কর্নার থেকে ফিরতি বলে দুর্দান্ত হাফ-ভলিতে গোল করেন ডেভিস। ছয় মিনিট পর ওলিসে নিজেই গোলের খাতায় নাম লেখান। ডান দিক থেকে ভেতরে ঢুকে নিখুঁত বাঁকানো শটে বল পাঠান ওপরের কোণে।

শেষ দিকে ওলিসেকে ফাউল করে দ্বিতীয় হলুদ কার্ড দেখে মাঠ ছাড়েন ওডিন বিয়র্তুফট। যোগ করা সময়ে আবারও গোল করেন ওলিসে। তাঁর দ্বিতীয় গোলেই বায়ার্নের জয় পূর্ণতা পায় ৫-০ ব্যবধানে। বড় জয়ের রাতে সবচেয়ে স্বস্তির খবর অবশ্য মুসিয়ালার গোল করে ফেরাটা। তাঁর প্রত্যাবর্তন বায়ার্নের চ্যাম্পিয়ন্স লিগ অভিযানেও এনে দিল দারুণ এক শুরু।

ক্যারিকের অধীনে ম্যানইউয়ের দাপুটে প্রত্যাবর্তন

0

এক হাজার তিনদিন পর উয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লিগে ফিরেই দাপুটে জয় পেয়েছে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড। ওল্ড ট্রাফোর্ডে আজারবাইজানের ক্লাব সাবাহ এফকেকে ৪-০ গোলে হারিয়ে ইউরোপের শীর্ষ ক্লাব প্রতিযোগিতায় নিজেদের প্রত্যাবর্তন স্মরণীয় করেছে মাইকেল ক্যারিকের দল। ইউনাইটেডের এটি চ্যাম্পিয়ন্স লিগে ৩০০তম ম্যাচ।

মৌসুমের শুরুটা ওঠানামায় ভরা হলেও সাবাহর বিপক্ষে শুরু থেকেই ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নেয় ইউনাইটেড। ২৭ মিনিটে প্যাট্রিক দর্গুর দারুণ ক্রস থেকে কাছ থেকে শটে গোল করে স্বাগতিকদের এগিয়ে দেন মাতেউস কুনহা। এরপর অবশ্য সমতা ফেরানোর সুযোগ পেয়েছিল সাবাহ। ৩৬ মিনিটে কাহিম প্যারিসের ক্রস থেকে জয়স-ল্যান্স মিকেলসের হেড অল্পের জন্য লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়।

এই সুযোগ নষ্টের পর আর পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি ইউনাইটেডকে। ছয় মিনিট পর দারুণ এক দলীয় আক্রমণ থেকে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন অধিনায়ক ব্রুনো ফার্নান্দেজ। নতুন মৌসুমে দলে যোগ দেওয়া ইউরি তিলেমান্সের বুদ্ধিদীপ্ত কাটব্যাক কাজে লাগিয়ে গোল করেন পর্তুগিজ তারকা। বিরতির ঠিক আগে ব্যবধান ৩-০ করে ইউনাইটেড। ব্রায়ান এমবুমোর বাড়ানো বলে গোলরক্ষককে কাটিয়ে ফাঁকা জালে বল পাঠান বেঞ্জামিন সেস্কো। চলতি মৌসুমে এটি ছিল তাঁর প্রথম শুরু থেকে মাঠে নামার ম্যাচ, আর তাতেই গোলের দেখা পেলেন এই স্ট্রাইকার।

বল দখলের লড়াইয়ে ম্যানইউ ও সাবাহ’র খেলোয়াড়রা

তিন গোলের লিড নিয়ে দ্বিতীয়ার্ধে কিছুটা সতর্ক হন ক্যারিক। বিরতির সময় তিলেমান্সকে তুলে ম্যাসন মাউন্টকে মাঠে নামান। এরপরও সাবাহর ওপর চাপ অব্যাহত ছিল। শেষ পর্যন্ত ৬৮ মিনিটে সেট-পিস থেকে চতুর্থ গোল পায় ইউনাইটেড। ফার্নান্দেজের দ্রুত নেওয়া ফ্রি-কিক থেকে জশুয়া জির্কজির ব্যাকহিলের পর তৈরি হওয়া জটলার সুযোগে বল জালে পাঠান লিসান্দ্রো মার্তিনেজ। শেষ দিকে সাবাহ গোল শোধের চেষ্টা করলেও ইউনাইটেডের রক্ষণে ফাটল ধরাতে পারেনি। যোগ করা সময়ে মিকেলসের শট লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়, আর অরফে এমবিনার শট ক্রসবারে লেগে ফিরে আসে।

শেষ পর্যন্ত ৪-০ গোলের জয় নিয়েই মাঠ ছাড়ে ইউনাইটেড। চ্যাম্পিয়ন্স লিগের লিগ পর্বে আরও কঠিন প্রতিপক্ষ অপেক্ষা করছে তাদের জন্য। তবে আপাতত চার গোলের জয় দিয়ে ইউরোপের শীর্ষ প্রতিযোগিতায় প্রত্যাবর্তন উদ্‌যাপন করার যথেষ্ট কারণই পেল ক্যারিকের দল।

টিভিতে আজকের খেলা: ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬

0

নারী এশিয়া কাপ ক্রিকেটের দ্বিতীয় সেমিফাইনাল আজ, মুখোমুখি পাকিস্তান ও শ্রীলঙ্কা। রাতে ও কাল সকালে আছে ইউএস ওপেনের পুরুষ সেমিফাইনাল।

ক্রিকেট
এজবাস্টন টেস্ট-৩য় দিন
ইংল্যান্ড-পাকিস্তান
বিকেল ৪টা, সনি স্পোর্টস ২

নারী এশিয়া কাপ ক্রিকেট
পাকিস্তান-শ্রীলঙ্কা
রাত ৮-৩০ মি., টি স্পোর্টস

টেনিস
ইউএস ওপেন: পুরুষ সেমিফাইনাল

জভেরেভ-খাচানভ
রাত ১টা, স্টার স্পোর্টস ১ ও ২

টিয়াফো-শেলটন
আগামীকাল ভোর ৫টা, স্টার স্পোর্টস ১ ও ২

ফুটবল
লা লিগা
সেভিয়া-ভ্যালেন্সিয়া
রাত ১টা, টি স্পোর্টস

ক্রিকেট ও ক্রীড়া কূটনীতিতে সম্পর্ক জোরদার করতে চায় ঢাকা-কাঠমান্ডু

0

ক্রিকেট ও ক্রীড়া কূটনীতিতে সম্পর্ক জোরদার করতে চায় ঢাকা-কাঠমান্ডু & বাংলাদেশ ও নেপালের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরও জোরদারের বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। বৃহস্পতিবার সকালে বাংলাদেশ সচিবালয়ে যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হকের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন বাংলাদেশে নিযুক্ত নেপালের রাষ্ট্রদূত ঘনশ্যাম ভান্ডারি। এ সময় দুই দেশের মধ্যে ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক বিনিময় বাড়ানোর বিষয়ে আলোচনা হয়।

সাক্ষাতে নেপালে সাম্প্রতিক ভয়াবহ বন্যা ও প্রাকৃতিক দুর্যোগের সময় সময়মতো সহযোগিতা করায় বাংলাদেশ সরকার ও দেশের জনগণের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান রাষ্ট্রদূত ঘনশ্যাম ভান্ডারি।

দুই দেশের মধ্যে বিদ্যমান সুদৃঢ় রাজনৈতিক সম্পর্কের কথা তুলে ধরে তিনি দ্বিপক্ষীয় যোগাযোগ ও সহযোগিতা আরও বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেন। রাষ্ট্রদূত বলেন, “বাংলাদেশ ও নেপালের মধ্যে চমৎকার রাজনৈতিক সম্পর্ক রয়েছে। তবে সাংস্কৃতিক বিনিময় ও ক্রীড়ার মাধ্যমে সম্পর্ক আরও এগিয়ে নেওয়ার ব্যাপক সুযোগ রয়েছে।”

এ সময় দুই দেশের মধ্যে আবারও দ্বিপক্ষীয় ক্রিকেট সিরিজ আয়োজনের প্রস্তাব দেন নেপালের রাষ্ট্রদূত। তিনি বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশ ও নেপালের মধ্যে কোনো দ্বিপক্ষীয় ক্রিকেট সিরিজ অনুষ্ঠিত হয়নি।

রাষ্ট্রদূত বলেন, “বিশেষ করে সাম্প্রতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত আমাদের জনগণের জন্য অনুপ্রেরণা প্রয়োজন। আমরা বাংলাদেশকে একটি টি-টোয়েন্টি সিরিজ আয়োজনের অনুরোধ করছি। আমাদের দল বাংলাদেশ সফরে যেতে পুরোপুরি প্রস্তুত। একইভাবে বাংলাদেশ দলকে নেপালে স্বাগত জানাতেও আমরা প্রস্তুত।”

নেপালের প্রস্তাবে ইতিবাচক সাড়া দেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক। তিনি আঞ্চলিক সহযোগিতা বাড়াতে ক্রীড়া কূটনীতিকে গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম হিসেবে ব্যবহারের বিষয়ে বাংলাদেশের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন।

আমিনুল হক বলেন, “আমরা ক্রীড়া কূটনীতিতে দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি এবং বিভিন্ন খেলায় সহযোগিতা সম্প্রসারণে ইতোমধ্যে কাজ করছি।”

এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে একটি চিঠি দেওয়ার জন্য নেপালের রাষ্ট্রদূতকে অনুরোধ করেন তিনি। চিঠি পাওয়ার পর বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) সঙ্গে আলোচনা করে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে জানান প্রতিমন্ত্রী।

এদিকে, নেপালের ভৌগোলিক সুবিধাকে কাজে লাগিয়ে বাংলাদেশের ক্রীড়াবিদদের প্রশিক্ষণ ও সক্ষমতা বাড়ানোর প্রস্তাবও দেন আমিনুল হক। বিশেষ করে পর্বতারোহণসহ সংশ্লিষ্ট ক্রীড়া ক্ষেত্রে বাংলাদেশি অ্যাথলেটদের সহযোগিতা ও সুযোগ দেওয়ার জন্য নেপালকে আহ্বান জানান তিনি।

দুই দেশের মধ্যে ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক বিনিময় বাড়ানোর পাশাপাশি ক্রিকেটের মাধ্যমে পারস্পরিক সম্পর্ক আরও ঘনিষ্ঠ করার সম্ভাবনাকে এ বৈঠকে গুরুত্ব দেওয়া হয়।

জর্ডানের জালে বাংলাদেশের পাঁচ গোল

0

এএফসি অনূর্ধ্ব-১৭ নারী চ্যাম্পিয়নশিপ

এএফসি অনূর্ধ্ব-১৭ নারী চ্যাম্পিয়নশিপের বাছাইপর্বকে সামনে রেখে প্রস্তুতি বেশ ভালোভাবেই এগিয়ে নিচ্ছে বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-১৭ নারী ফুটবল দল। প্রস্তুতির অংশ হিসেবে জর্ডান সফরে গিয়ে স্বাগতিকদের বিপক্ষে দুর্দান্ত জয় পেয়েছে বাংলাদেশের কিশোরীরা। আম্মানে অনুষ্ঠিত প্রীতি ম্যাচে জর্ডানের জালে বাংলাদেশের পাঁচ গোল । জর্ডান অনূর্ধ্ব-১৭ নারী দলকে ৫-০ গোলে উড়িয়ে দিয়েছে বাংলাদেশ।

ম্যাচের শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলেছে বাংলাদেশের মেয়েরা। প্রথমার্ধে এক গোলের লিড নিয়ে বিরতিতে যায় তারা। বাংলাদেশের হয়ে প্রথম গোলটি করেন আলপি আক্তার। তাঁর গোলে এগিয়ে যাওয়ার পরও আক্রমণের ধার কমেনি। তবে প্রথম ৪৫ মিনিটে আর গোল না হওয়ায় ১-০ ব্যবধানেই বিরতিতে যেতে হয় বাংলাদেশকে।

দ্বিতীয়ার্ধে অবশ্য ম্যাচের পুরো নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নেয় বাংলাদেশের মেয়েরা। একের পর এক আক্রমণে জর্ডানের রক্ষণকে ব্যস্ত রাখে তারা। দ্বিতীয়ার্ধে আরও চারবার জর্ডানের জালে বল পাঠায় বাংলাদেশ। রিয়া, মৌসুমী, কুলসুম ও পায়েল একটি করে গোল করেন। শেষ পর্যন্ত ৫-০ গোলের বড় জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে বাংলাদেশ।

এএফসি অনূর্ধ্ব-১৭ নারী চ্যাম্পিয়নশিপের বাছাইপর্বের আগে এমন জয় বাংলাদেশের আত্মবিশ্বাস বাড়াবে বলেই মনে করা হচ্ছে। বিশেষ করে আক্রমণভাগের কার্যকারিতা এবং ম্যাচের দ্বিতীয়ার্ধে একের পর এক গোল আদায় করে নেওয়া দলের প্রস্তুতির ইতিবাচক দিক তুলে ধরেছে। প্রতিপক্ষের মাঠে পাঁচ গোলের জয় বাংলাদেশের মেয়েদের সামর্থ্যেরও জানান দিয়েছে।

বাংলাদেশ নারী ফুটবল দল

এদিকে দেশের অনূর্ধ্ব-১৭ দল যখন জর্ডানে নিজেদের প্রস্তুতি ঝালিয়ে নিচ্ছে, তখন সিনিয়র নারী ফুটবল দল ব্যস্ত এশিয়ান গেমসের প্রস্তুতিতে। বাংলাদেশ নারী ফুটবল দল বর্তমানে চীনের গুয়াংজুতে অবস্থান করছে। সেখানে চলছে নিয়মিত অনুশীলন। জাপানের আইচি-নাগোয়া এশিয়ান গেমসকে সামনে রেখে নিজেদের প্রস্তুত করছে দলটি।

১৯ সেপ্টেম্বর এশিয়ান গেমসের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন। তবে বাংলাদেশের নারী ফুটবলের লড়াই শুরু হবে তারও আগে। ১৪ সেপ্টেম্বর মাঠে নামবে বাংলাদেশ। ফলে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের আগেই গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচ দিয়ে গেমস অভিযান শুরু করতে হবে লাল-সবুজের প্রতিনিধিদের। চীনের গুয়াংজু থেকে সরাসরি জাপানের নাগোয়ায় যাবে বাংলাদেশ দল।

জর্ডানের জালে বাংলাদেশের পাঁচ গোল

শুধু নারী ফুটবল দলই নয়, এশিয়ান গেমসের প্রস্তুতিতে ব্যস্ত বাংলাদেশ জাতীয় হকি দলও। তারাও বর্তমানে চীনের গুয়াংজুতে অনুশীলন করছে। সেখানে গেমসের আগে নিজেদের শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি নিচ্ছে হকি দল। আগামীকাল শেষ প্রস্তুতি ম্যাচ খেলে পরদিন দেশে ফেরার কথা রয়েছে দলের।

এশিয়ান গেমসের প্রস্তুতির পাশাপাশি জাতীয় হকি দলে এখন ভিসা ও অ্যাক্রিডিটেশন নিয়েও চলছে ব্যস্ততা। দলের অভিজ্ঞ খেলোয়াড় রাসেল মাহমুদ জিমি এরই মধ্যে দেশে ফিরেছেন জাপানের ভিসা-সংক্রান্ত কাজ সম্পন্ন করতে। দুই দিন আগে তিনি দেশে ফেরেন। জাপানের ভিসার জন্য পাসপোর্ট জমা দেওয়ার পর ফেডারেশনে এসে এশিয়ান গেমসের অ্যাক্রিডিটেশন কার্ডও সংগ্রহ করেছেন তিনি।

এশিয়ান গেমসের ক্ষেত্রে এই অ্যাক্রিডিটেশন কার্ডের গুরুত্ব অনেক। মূলত জাপানে প্রবেশের ভিসা প্রক্রিয়ার সঙ্গে এটি সরাসরি সম্পর্কিত। তাই দলের সঙ্গে চীনে অনুশীলনে থাকার পরিবর্তে জিমিকে দেশে ফিরে ভিসা ও অ্যাক্রিডিটেশনের কাজ শেষ করতে হয়েছে।

সব মিলিয়ে এশিয়ান গেমস সামনে রেখে বাংলাদেশের ফুটবল ও হকি অঙ্গনে এখন ব্যস্ত সময়। একদিকে জর্ডানে জয়ের মাধ্যমে এএফসি অনূর্ধ্ব-১৭ নারী চ্যাম্পিয়নশিপের বাছাইয়ের প্রস্তুতি জোরদার করছে কিশোরীরা। অন্যদিকে সিনিয়র নারী ফুটবল ও জাতীয় হকি দল চীনে শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি নিচ্ছে এশিয়ান গেমসের জন্য।

জর্ডানের বিপক্ষে ৫-০ গোলের জয় তাই শুধু একটি প্রীতি ম্যাচের ফল নয়। বাছাইপর্বের কঠিন লড়াইয়ের আগে বাংলাদেশের অনূর্ধ্ব-১৭ মেয়েদের আত্মবিশ্বাসেরও বড় উৎস হয়ে থাকল এই জয়। আর সামনে এশিয়ান গেমস থাকায় দেশের নারী ফুটবল ও হকির ব্যস্ততাও এখন পৌঁছেছে চূড়ান্ত পর্যায়ে।

এশিয়া কাপের ফাইনালের স্বপ্নভঙ্গ বাংলাদেশের

0

নারী এশিয়া কাপের প্রথম সেমিফাইনালে ভারতের কাছে ৪০ রানে হেরে বিদায় নিয়েছে বাংলাদেশ। দুবাই আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে টস জিতে ভারতকে আগে ব্যাটিংয়ে পাঠিয়েছিল বাংলাদেশ। নির্ধারিত ২০ ওভারে ৬ উইকেটে ১৪৯ রান সংগ্রহ করে ভারত। জবাবে ব্যাটিং ব্যর্থতায় বাংলাদেশ ২০ ওভারে ৭ উইকেটে ১০৯ রানের বেশি করতে পারেনি। ফলে ৪০ রানের জয় নিয়ে ফাইনালে উঠে গেছে ভারত।

ভারতের হয়ে ব্যাট হাতে সবচেয়ে উজ্জ্বল ছিলেন শেফালি ভার্মা। ওপেনিংয়ে নেমে ৪০ বলে ৬৪ রানের ঝোড়ো ইনিংস খেলেন তিনি। তাঁর ইনিংসে ছিল ৭টি চার ও ৩টি ছক্কা। ১৬০ স্ট্রাইক রেটে ব্যাট করে শুরু থেকেই বাংলাদেশের বোলারদের ওপর চাপ তৈরি করেন শেফালি।

তবে ভারতের শুরুটা ছিল বেশ ধীরগতির। ইনিংসের পঞ্চম বলেই স্মৃতি মান্ধানাকে ফিরিয়ে দেন সুলতানা খাতুন। ৫ বলে ২ রান করে স্বর্ণা আক্তারের হাতে ক্যাচ দেন ভারতের অভিজ্ঞ ওপেনার।

এরপর শেফালির সঙ্গে ২৪ বলে ২০ রানের জুটি গড়েন প্রতিকা রাওয়াল। একটি চার ও একটি ছক্কার সাহায্যে ২০ রান করে রাবেয়া খানের বলে দিলারা আক্তারের হাতে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন তিনি।

শেফালি ফিরে যাওয়ার পর ভারতের ইনিংস এগিয়ে নেন অধিনায়ক হরমনপ্রীত কৌর ও রিচা ঘোষ। হরমনপ্রীত করেন ২৪ রান, রিচা ঘোষের ব্যাট থেকে আসে ২১ রান। শেষ দিকে দীপ্তি শর্মার ১৩ রানও ভারতের সংগ্রহ বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। শেষ পাঁচ ওভারে ৫৩ রান তুলে ভারত ১৪৯ রানের লড়াকু সংগ্রহ দাঁড় করায়।

বাংলাদেশের হয়ে সুলতানা খাতুন নেন ২ উইকেট। রাবেয়া খান, মারুফা আক্তার ও নাহিদা আক্তার একটি করে উইকেট পান।

১৫০ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরু থেকেই চাপে পড়ে বাংলাদেশ। দিলারা আক্তার ২৬ বলে ২১ রান করেন। জুয়াইরিয়া ফেরদৌসের ব্যাট থেকে আসে ১৪ রান। সোবহানা মোস্তারি করেন ২৪ বলে ১৮ রান।

অধিনায়ক নিগার সুলতানা ১৭ বলে ১৯ রান করে দলকে ম্যাচে ফেরানোর চেষ্টা করেন। তবে নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারানোয় বাংলাদেশের রান তোলার গতি বাড়েনি।

মাঝের দিকে স্বর্ণা আক্তার কিছুটা প্রতিরোধ গড়েন। ১৮ বলে ২২ রান করে অপরাজিত থাকেন তিনি। তাঁর ইনিংসে ছিল একটি চার ও একটি ছক্কা। ফাহিমা খাতুন করেন ১৪ বলে ১৪ রান। শারমিন আক্তার ২ বলে ১ রান করে ফেরেন। রাবেয়া খান কোনো রান না করেই আউট হন।

শেষ পর্যন্ত ২০ ওভারে ৭ উইকেটে ১০৯ রানেই থামে বাংলাদেশের ইনিংস। ভারত জিতে নেয় ৪০ রানে। এই হারে এশিয়া কাপের ফাইনালে ওঠার স্বপ্ন শেষ হয়ে গেল নিগার সুলতানার দলের।

সংক্ষিপ্ত স্কোর

  • ভারত ২০ ওভারে ১৪৯/৬
  • বাংলাদেশ ২০ ওভারে ১০৯/৭
  • ভারত ৪০ রানে জয়ী

আইসিসির সেরা ক্রিকেটার মনোনয়নে বাংলাদেশের হাসান মাহমুদ

0

আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি) আগস্ট মাসের সেরা খেলোয়াড় (প্লেয়ার অব দ্য মান্থ) নির্বাচনের জন্য মনোনীতদের তালিকা প্রকাশ করেছে। পুরুষদের সংক্ষিপ্ত তালিকায় স্থান পেয়েছেন বাংলাদেশের গতি তারকা হাসান মাহমুদ, শ্রীলঙ্কার ব্যাটার সোনাল দিনুশা এবং ইংল্যান্ডের পেসার ওলি রবিনসন। অন্যদিকে, নারীদের তালিকায় মনোনীত হয়েছেন থাইল্যান্ডের সুলেপোরন লাওমি ও নান্নাপাত কঞ্চারোইনকাই এবং আইল অব ম্যান-এর লুসি বার্নেট।
​

পুরুষদের মনোনয়ন

​হাসান মাহমুদ (বাংলাদেশ): ডারউইনে অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে বাংলাদেশের ঐতিহাসিক ৯ উইকেটের টেস্ট জয়ে ম্যাচসেরা হন হাসান মাহমুদ। ম্যাচে প্রথম ইনিংসে ৫৫ রানে ৬ উইকেট এবং দ্বিতীয় ইনিংসে ৫৬ রানে ৩ উইকেট নেন তিনি। সিরিজে মোট ৯টি উইকেট নিয়ে আইসিসি টেস্ট বোলিং র‌্যাঙ্কিংয়ে ২৬ ধাপ এগিয়ে ৩৮ নম্বরে উঠে এসেছেন এই পেসার।

​সোনাল দিনুশা (শ্রীলঙ্কা): ভারতের বিপক্ষে টেস্ট সিরিজে দুর্দান্ত পারফরম্যান্স করে আলো কেড়েছেন ২৫ বছর বয়সী এই বাঁহাতি ব্যাটার। প্রথম টেস্টে ১০০ ও ৮৪ রানের পর কলম্বোয় দ্বিতীয় টেস্টে ফলো-অনে পড়েও ১০৩ ও অপরাজিত ১৩৩ রানের ইনিংস খেলে ম্যাচ ড্র করান। টেস্ট ইতিহাসে ফলো-অনে পড়ে দুই ইনিংসে সেঞ্চুরি করা মাত্র তৃতীয় ব্যাটার হিসেবে রেকর্ড গড়েন তিনি।

​ওলি রবিনসন (ইংল্যান্ড): পাকিস্তানের বিপক্ষে ঘরের মাঠে টেস্ট সিরিজে বল হাতে তাণ্ডব চালিয়েছেন এই ইংলিশ পেসার। প্রথম দুই টেস্টেই ম্যাচ সেরা হয়ে ইংল্যান্ডকে ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে দেন। দুই ম্যাচে ১৬ উইকেট নিয়ে র‌্যাঙ্কিংয়ে ৫ নম্বর স্থানে উঠে এসেছেন তিনি।

​নারীদের মনোনয়ন

​সুলেপোরন লাওমি (থাইল্যান্ড): লেগ-স্পিনার লাওমি ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টি-দুই ফরম্যাটেই দারুণ বোলিং করেছেন। পাপুয়া নিউ গিনির বিপক্ষে ৩-০ ব্যবধানে সিরিজ জয়ে ৩/২৭ বোলিং সহ মোট ৪ উইকেট নেন। এরপর নারী এশিয়া কাপে ভারতের বিরুদ্ধে ২৬ রানে ৩ উইকেট শিকার করে টুর্নামেন্ট শুরু করেন।

​নান্নাপাত কঞ্চারোইনকাই (থাইল্যান্ড): পাপুয়া নিউ গিনির বিরুদ্ধে টি-টোয়েন্টি সিরিজে সর্বোচ্চ রানসংগ্রাহক ছিলেন কঞ্চারোইনকাই। ওয়ানডে সিরিজেও গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন। ওয়ানডেতে ১২১ রান এবং চার টি-টোয়েন্টিতে ১৪৪ রান সংগ্রহ করেন এই ব্যাটার।

​লুসি বার্নেট (আইল অব ম্যান): আইল অব ম্যান-এর প্রথম ক্রিকেটার হিসেবে আইসিসির এই সংক্ষিপ্ত তালিকায় জায়গা পেয়ে ইতিহাস গড়েছেন অধিনায়ক লুসি বার্নেট। রুমানিয়ায় অনুষ্ঠিত কন্টিনেন্টাল কাপে ৪টি টি-টোয়েন্টিতে ১২৮.৫ গড় ও ১৭৮.৪৭ স্ট্রাইক রেটে ২৫৭ রান করেন, যার মধ্যে নরওয়ের বিপক্ষে ৬৪ বলে ১২৩* রানের ইনিংস রয়েছে। পাশাপাশি অফ-স্পিন করে ৪টি উইকেটও নেন তিনি।

সিটি ক্লাবকে হুঁশিয়ারি আমিনুল হকের

0

ঘরোয়া ফুটবল লিগের সূচি নিয়ে বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের (বাফুফে) কাছে দেওয়া একটি চিঠিতে ঢাকা সিটি ক্লাবের সাধারণ সম্পাদকের স্বাক্ষর জাল করার অভিযোগ উঠেছে। ঘটনাটিকে গুরুতর অপরাধ হিসেবে উল্লেখ করে এর সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে তদন্তের পাশাপাশি প্রয়োজনে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক।

২০২৬-২৭ মৌসুমের ফুটবল লিগ সামনে রেখে সম্প্রতি বাফুফের কাছে একটি স্মারকপত্র দেওয়া হয়। সেখানে লিগের সময়সূচি নিয়ে বাফুফের নেওয়া সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করে সিটি ক্লাবের পক্ষ থেকে একটি প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়। চিঠিটিতে সিটি ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মো. মঈনুল হক মঈনের স্বাক্ষর ছিল।

তবে বিষয়টি অস্বীকার করেছে সিটি ক্লাব। ক্লাবটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ওই প্রস্তাবের সঙ্গে তাদের কোনো সম্পর্ক নেই। এমনকি চিঠিতে সাধারণ সম্পাদকের যে স্বাক্ষর ব্যবহার করা হয়েছে, সেটিও জাল বলে দাবি করেছে ক্লাবটি।

ঘটনার তদন্ত ও শাস্তির দাবি সিটি ক্লাবের

সিটি ক্লাবের অভিযোগ, তাদের অনুমতি বা মতামত ছাড়া এ ধরনের একটি চিঠি দেওয়ার মাধ্যমে ক্লাবটিকে নেতিবাচক ভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে। এতে ক্লাবের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয়েছে। এ ঘটনায় প্রতিবাদ জানিয়ে বাফুফে সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক ও প্রফেশনাল লিগ কমিটির চেয়ারম্যানের কাছে চিঠি দিয়েছে সিটি ক্লাব। পাশাপাশি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও জড়িত ব্যক্তিদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছে তারা।

স্বাক্ষর জাল করার ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন সিটি ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মঈনুল হক মঈন। তিনি বলেন,

আমার মতামত না নিয়ে এভাবে স্বাক্ষর করে দেওয়া দুঃখজনক। আমরা দুই মাস আগে অনুশীলন শুরু করেছি। দেশের শীর্ষ লিগ বারবার পেছাচ্ছে। আমাদের অনেক টাকা-পয়সা খরচ হয়েছে এরই মধ্যে। খেলা নির্ধারিত সময়েই হওয়া উচিত।

সিটি ক্লাবের অভিযোগের বিষয়ে কঠোর অবস্থানের কথা জানিয়েছেন আমিনুল হক। তিনি বলেন,

যে ক্লাবের চিঠি জাল করে এবং জাল সাইন করে সেই তথ্য দেওয়া হয়, এটা আমি মনে করি গুরুতর একটি অপরাধ। এর সঙ্গে যারা জড়িত আছে, অবশ্যই আমি আজকের ভেতরেই তদন্ত কমিটি করে সঠিক তথ্য-উপাত্ত যাচাই-বাছাই করে দেখবো। কেন এই ধরনের জালিয়াতি হয়েছে এবং কারা এর সুযোগ নিল, এই বিষয়গুলো খতিয়ে দেখে আমরা ব্যবস্থা নেব।

জড়িত ব্যক্তিদের কোনোভাবেই ছাড় দেওয়া হবে না বলেও জানিয়েছেন ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী। তাঁর ভাষায়, খেলোয়াড়দের পক্ষ থেকে কিংবা একজন স্পোর্টস মিনিস্টার হিসেবে শুধু সাংগঠনিক ব্যবস্থা না, প্রয়োজনে এই ধরনের কাজের সঙ্গে যারা জড়িত রয়েছে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থাও নেওয়া হবে।

ফুটবলের এই ঘটনার পাশাপাশি দেশের হকির উন্নয়ন ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়েও কথা বলেছেন আমিনুল হক। সম্প্রতি গঠিত হকির নতুন অ্যাডহক কমিটির প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, আমাদের মেয়েরা, আমাদের ছেলেরা হকিতে অনেক ভালো করছে। সেই লক্ষ্য নিয়ে আমরা আশা করি যে হকি লিগটা চালু হবে।

হকি লিগ শুধু ঢাকাকেন্দ্রিক না রেখে ভবিষ্যতে দেশের বিভিন্ন বিভাগে আয়োজনের পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি। আমিনুল হক বলেন, আর সেই হকি লিগটা শুধু ঢাকা-কেন্দ্রিক না, ভবিষ্যতে বিভিন্ন বিভাগীয় পর্যায়েও যাতে আমরা হকি লিগ করতে পারি, সেই ধরনের পরিকল্পনা আমাদের রয়েছে।