Home Blog Page 9

থমকে আছে নারী ক্রিকেট! ব্যর্থতার বৃত্ত থেকে বের হওয়ার পথ কোথায়?

0

নারী এশিয়া কাপ

২০১৮ সালের এশিয়া কাপে ভারতকে হারিয়ে বাংলাদেশ মেয়েদের এশিয়া কাপ প্রথম জিতেছিল। কিন্তু তারপর আর সেই চমক জাগানিয়া জয়ের পারফরম্যান্স আর দেখাতে পারেনি, বিশেষ করে ভারতের বিপক্ষে, সেবার ভারতের বিপক্ষে বাংলাদেশ গ্রুপ পর্বেও জয় লাভ করেছিল। অপরদিকে বাংলাদেশ পুরুষ দল এশিয়া কাপের ফাইনাল খেললেও শিরোপা অধরা রয়েছে গেছে সেখানে নারী এশিয়া কাপে প্রথম বার ফাইনালে উঠেই শক্তিশালি ভারতকে হারিয়ে ২০১৮ সালেই বাংলাদেশ ক্রিকেটে বড় চমকই দিয়েছিল সালমার দল। কিন্তু তার পর আর বাংলাদেশ নারী দল সেমির বাধা অতিক্রম করতে পারছেনা। গত আসরে শ্রীলংকা আর এবার ভারতের কাছে সেমিতে হেরে ফাইনালে ওঠার স্বপ্ন ভঙ্গ। এবারের এশিয়া কাপে বাংলাদেশ সেমি ফাইনাল সহ যে ৪টি ম্যাচ খেলেছে তা দেখে মনে হচ্ছে ‘থমকে আছে নারী ক্রিকেট, তাই ব্যার্থতার বৃত্ত থেকে বের হওয়ার পথ কোথায় আছে? তা বের করার সময় এখনই।

থমকে আছে নারী ক্রিকেট! ব্যর্থতার বৃত্ত থেকে বের হওয়ার পথ কোথায়?

মেয়েদের অনেক অনেক আগে ক্রিকেট খেলা শুরু করা বাংলাদেশ পুরুষ দল মহাদেশীয় শ্রেষ্ঠত্ব পায়নি এখনও, কিন্তু এশিয়া কাপ জয়ের পর বাংলাদেশ নারী ক্রিকেটের নতুন যুগের সূচনা হওয়ার কথা ছিল আসলে আমরা মনে হয় এশিয়া কাপে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার পর অনেক সময় হেলায় হারিয়েছি আত্মতুষ্টিতে ভুগতে ভুগতে যার কারণে বাংলাদেশ নারী ক্রিকেট দলের আজ এই অবস্থা! এশিয়া কাপের শ্রেষ্ঠত্বই আমাদের কাছে বড় মনে হয়েছে আর কারণেই হয়তো একই বৃত্তে ঘুরপাক খাচ্ছে বাংলাদেশ।

২০১৮ সালে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার পর ৩টি আসরে ফাইনালে যেতে পারেনি বাংলাদেশ। যার সর্বশেষ গত পরশু সেমিফাইনালে বিনা লড়াইয়ে হেরেছে ভারতের কাছে। সামগ্রিকভাবে দেখা যায় বাংলাদেশ নারী ক্রিকেট খুব একটা এগোয়নি। কারণ খুঁজতে গিয়ে দেখা যায় মেয়েদের ঘরোয়া ক্রিকেট কাঠামো, ফিটনেস, প্রতিভা উঠে আসার পথ না থাকা ইত্যাদি।

২০২৬ নারী এশিয়া কপে বাংলাদেশ বি গ্রুপে শ্রীলংকা, ইন্দোনেশিয়া ও আরব আমিরাতের সাথে খেলেছে, এই গ্রুপে বাংলাদেশ চ্যাম্পয়ন হলে যে সেমিতে ভারতকে এড়িয়ে যেতে পারতো তা আমরা আগে থেকেই জানতাম, কিন্তু এরপরও বাংলাদেশ গ্রুপ পর্বের ২য় ম্যাচে পরাজিত হয়েছে শ্রীলংকার কাছে ব্যাটিং বিপর্যয়ে পড়ে। শুধু শ্রীলংকার বিপক্ষেই নয় প্রথম ম্যাচে ইন্দোনেশিয়ার বিপক্ষে টেনে টুনে ১২৯ রান করলাম যদিও সেই ম্যাচ জিতেছি কিন্তু আপ টু দ্য মার্ক ব্যাটিং করতে পারিনি। অপরদিকে শ্রীলংকার বিপক্ষে মাত্র ১১৪ রান নিয়ে হারলাম আর শেষ ম্যাচে তো আরব আমিরাতের বিপক্ষে আরো কম রান করলাম মাত্র ১০৩! আবার সেমিফাইনালে ভারতের সাথে ১৫০ রান তাড়া করতে গিয়ে ১০৯ রানে শেষ। অর্থ্যাৎ এশিয়া কাপে বাংলাদেশ নারী ক্রিকেট দল ধারাবাহিকভাবে ব্যাটিং ব্যর্থতার কারণেই হেরেছে।

বাংলাদেশ দলের কোচ: নারী দলের প্রধান কোচ সরোয়ার ইমরান বলছেন, ‘আমাদের ওরকম ফিটনেস নেই। আমরা দুই রান নিতে ভয় পাচ্ছি রান আউট হওয়ার ভয়ে। খুব দ্রুত ক্লান্ত হয়ে যাচ্ছি। শুধু ক্যাম্পের আগে এক সপ্তাহ ফিটনেস ক্যাম্প হলে হবে না, আমাদের সারা বছর ফিটনেস নিয়ে কাজ চালিয়ে যেতে হবে।’

নারী ক্রিকেটের পাইপ লাইন বন্ধ: তবে মেয়েদের এই সংকট শুধু জাতীয় দলের নয়, আরও গভীর। জাতীয় দলে ক্রিকেটার উঠে আসার পথটা একরকম বন্ধ। অবিশ্বাস্য হলেও সত্যি, ঘরোয়া ক্রিকেটে মেয়েদের সর্বশেষ টুর্নামেন্ট হয়েছে প্রায় এক বছর আগে, গত ডিসেম্বরে। ঢাকা প্রিমিয়ার লিগও হয়নি জাতীয় দলের ব্যস্ততায়। নির্বাচকদের ক্রিকেটার খুঁজে বের করার কাজটা তাই কঠিন হয়ে গেছে আরও। জাতীয় দলের বাইরে ওই অর্থে খেলাই নেই। যাঁরা একবার জাতীয় দলে ঢুকে যান, তাঁদেরই ঘুরিয়ে ফিরিয়ে খেলানো ছাড়া উপায় থাকে না তাই। আবার এ কথাও সত্যি, প্রতিদ্বন্দ্বিতা গড়ে তুলতে পারবেন, এমন ক্রিকেটারের সংকট থাকায় জাতীয় দলের ক্রিকেটারদের ছাড়া ঘরোয়া ক্রিকেট আয়োজনও কঠিন।

নারী ক্রিকেট এর ব্যাটিং ব্যর্থতা থেকে যেভাবে বের হতে হবে

ব্যার্থতার বৃত্তে আটকে গেলে শুধু বেশি অনুশীলন করলেই হয় না-ব্যর্থতার কারণ শনাক্ত করে, ছোট ছোট ধাপে আত্মবিশ্বাস ও টেকনিক পুনর্গঠন করতে হয়।

১. সমস্যাটা নির্দিষ্ট করতে হবে

“আমি রান করতে পারছি না” এটা সমস্যা নয়, ফলাফল। কারণটা বের করতে হবে: অফ স্টাম্পের বাইরের বলে বারবার আউট? ইনসুইং/আউটসুইং বুঝতে সমস্যা? শর্ট বলে দুর্বল? প্রথম ১০–২০ বলেই অস্থির হয়ে যাচ্ছেন? ভালো শুরু করেও ভুল শট খেলছেন? চাপের সময় সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা কমে যাচ্ছে? আগের ব্যর্থতার কথা মাথায় রেখে নতুন ইনিংসে ঢুকছেন? শেষ ১০টি ইনিংস লিখে দেখুন, কোন ধরনের বলে, কোন শটে, কোন পর্যায়ে আউট হয়েছেন। এতে প্যাটার্ন বের হবে।

২. রান নয় বরং প্রক্রিয়াকে লক্ষ্য বানাতে হবে

পরের ম্যাচে লক্ষ্য যদি হয় “আজ ৫০ রান করব”, তাহলে প্রথম কয়েকটি ডট বলই মানসিক চাপ তৈরি করতে পারে। তার বদলে লক্ষ্য করুন: প্রথম ১০ বল: বল দেখব, মাথা স্থির রাখব। অফ স্টাম্পের বাইরে: অপ্রয়োজনে খেলব না। নিজের শক্তির জায়গার বল: আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে খেলব। প্রতি বলের আগে: লাইন → লেংথ → শট সিদ্ধান্ত। একটি ভুল বলকে পরের বলে নিয়ে যাব না। অর্থাৎ, স্কোরবোর্ড নয় , এক বল করে ইনিংস তৈরি করুন।

৩. নেটে “ব্যাটিং” নয়, সমস্যার অনুশীলন

সাধারণ নেটে ৩০ মিনিট ব্যাট করে শুধু বল মারা সমস্যার সমাধান নাও করতে পারে। উদাহরণ: সমস্যা: অফ স্টাম্পের বাইরে ড্রাইভ করতে গিয়ে ক্যাচ তাহলে অনুশীলন করুন: ২০টি বল শুধু ছেড়ে দেওয়া ২০টি বল শুধু ডিফেন্স এরপর ২০টি বল , শুধু নিজের স্কোরিং এলাকার বল কোচ/বোলার যেন ইচ্ছাকৃতভাবে অফ স্টাম্পের বাইরে বল করেন এভাবে দুর্বল জায়গাকে আলাদা করে ট্রেনিং করুন।

সারকথা: ব্যর্থতার বৃত্ত ভাঙতে শুধু শুধু বেশী বেশী অনুশীলন নয় বরং নির্দিষ্ট অনুশীলন দরকার।

চীনের কাছে হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ে বাংলাদেশ হকি দলের হার

0

প্রস্তুতি সফরের শেষ ম্যাচে ৫-৪ গোলে পরাজয়

চীনের বিপক্ষে দারুণ লড়াই করেও প্রস্তুতি সফরের শেষ ম্যাচে জয় পেল না বাংলাদেশ হকি দল। বেইজিংয়ে অনুষ্ঠিত পঞ্চম ও শেষ প্রস্তুতি ম্যাচে স্বাগতিক চীনের কাছে ৫-৪ গোলে হেরেছে বাংলাদেশ। শুরু থেকেই ম্যাচটি ছিল সমানে সমান। এক গোলের ব্যবধানে হারলেও শক্তিশালী চীনের বিপক্ষে বাংলাদেশের পারফরম্যান্স ছিল আশাব্যঞ্জক। সব মিলিয়ে জাপানে অনুষ্ঠেয় এশিয়ান গেমসের জন্য প্রস্তুতি ভালোভাবেই শেষ করলো বাংলাদেশ হকি দল।

বাংলাদেশের হয়ে চারটি গোল করেন পুষ্কর ক্ষিসা মিমো, আমিরুল ইসলাম, আশরাফুল ইসলাম ও দ্বীন ইসলাম ইমন। চার খেলোয়াড়ের প্রত্যেকেই একটি করে গোল করেন। ম্যাচে একাধিকবার গোল করে প্রতিপক্ষকে চাপে রাখে বাংলাদেশ। তবে শেষ পর্যন্ত চীনের আক্রমণ সামলাতে না পারায় এক গোলের ব্যবধানে ম্যাচটি হাতছাড়া হয়।

চীনের বিপক্ষে এই ম্যাচের মধ্য দিয়েই শেষ হয়েছে বাংলাদেশের পাঁচ ম্যাচের প্রস্তুতি সফর। আসন্ন আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতাকে সামনে রেখে নিজেদের প্রস্তুতি আরও ঝালিয়ে নিতে চীনে অবস্থান করছিল জাতীয় হকি দল। সফরে বিভিন্ন ম্যাচে খেলোয়াড়দের পারফরম্যান্স যাচাই করার পাশাপাশি দলের কৌশল, সমন্বয় ও ম্যাচ পরিস্থিতিতে নিজেদের সক্ষমতা পরখ করার সুযোগ পেয়েছে কোচিং স্টাফ।

চার গোলের আক্রমণ, পাঁচ গোলের রক্ষণ দুর্বলতা

শেষ ম্যাচে স্বাগতিকদের বিপক্ষে চার গোল করতে পারাটা বাংলাদেশের আক্রমণভাগের সক্ষমতারও প্রমাণ দিয়েছে। তবে পাঁচ গোল হজম করায় রক্ষণভাগ নিয়েও কাজ করার প্রয়োজনীয়তা স্পষ্ট হয়েছে। বিশেষ করে শক্তিশালী প্রতিপক্ষের বিপক্ষে গোলের সুযোগ কাজে লাগানোর পাশাপাশি নিজেদের রক্ষণ আরও সংগঠিত করার দিকে নজর দিতে হবে বাংলাদেশকে।

চীন সফরের আগে দলের প্রস্তুতির অন্যতম লক্ষ্য ছিল আন্তর্জাতিক পর্যায়ের শক্তিশালী দলের বিপক্ষে ম্যাচ খেলে খেলোয়াড়দের অভিজ্ঞতা বাড়ানো। সেই দিক থেকে পাঁচ ম্যাচের এই সফর বাংলাদেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তুতির সুযোগ তৈরি করেছে। প্রতিটি ম্যাচ থেকেই খেলোয়াড়দের পাশাপাশি কোচিং স্টাফও দলের শক্তি ও দুর্বলতার জায়গাগুলো পর্যালোচনা করার সুযোগ পেয়েছেন।

বাংলাদেশ হকি দলের এবার দেশে ফেরার পালা

পঞ্চম ম্যাচ শেষে এবার দেশে ফেরার পালা বাংলাদেশের। আগামীকাল চীন থেকে দেশের উদ্দেশে রওনা হবে জাতীয় হকি দল। বাংলাদেশ সময় রাত ১০টায় হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে দলের পৌঁছানোর কথা রয়েছে।

চীন সফরের শেষ ম্যাচে হার দিয়ে প্রস্তুতি পর্ব শেষ হলেও পুরো সফরের অভিজ্ঞতা সামনে কাজে লাগাতে চায় বাংলাদেশ। আন্তর্জাতিক মঞ্চে নিজেদের আরও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ দল হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে এই সফরের ম্যাচগুলোর অভিজ্ঞতা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলেই প্রত্যাশা সংশ্লিষ্টদের।

২০২৭ বিশ্বকাপ নিয়ে যে পরিকল্পনা নান্নুর

0

বিশ্বকাপে এর মতো বড় মঞ্চে ভালো করতে হলে তারকা ক্রিকেটার কিংবা প্রতিষ্ঠিত নামের ওপর নির্ভর না করে সাম্প্রতিক পারফরম্যান্সকে বেশি গুরুত্ব দেওয়া উচিত বলে মনে করেন বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) পরিচালক ও সাবেক প্রধান নির্বাচক মিনহাজুল আবেদীন নান্নু। ২০২৭ ওয়ানডে বিশ্বকাপ সামনে রেখে এখন থেকেই ক্রিকেটারদের পারফরম্যান্সের হিসাব রাখার পরামর্শ দিয়েছেন তিনি।

দক্ষিণ আফ্রিকা, জিম্বাবুয়ে ও নামিবিয়ায় অনুষ্ঠেয় ২০২৭ ওয়ানডে বিশ্বকাপের আগে বেশ কয়েকটি ওয়ানডে সিরিজ খেলবে বাংলাদেশ। নান্নুর মতে, এসব সিরিজই বিশ্বকাপের সম্ভাব্য সেরা দল বেছে নেওয়ার বড় সুযোগ। তবে দল নির্বাচনে ক্রিকেটারের নাম কিংবা অতীতের সাফল্যের চেয়ে সাম্প্রতিক পারফরম্যান্সকেই অগ্রাধিকার দিতে চান তিনি।

গণমাধ্যমের সঙ্গে আলাপকালে নান্নু বলেন, ‘সামনে যে সিরিজগুলো আছে, সেখানে অনেকগুলো ওয়ানডে ম্যাচ খেলার সুযোগ রয়েছে। সেখান থেকেই সম্ভাব্য সেরা দলটি আমাদের বেছে নিতে হবে। নামের দিকে না গিয়ে আগামী ১০ ইনিংসে কে কেমন পারফর্ম করছে, সেটি দেখতে হবে। এরপর সেরা সম্ভাব্য বিশ্বকাপ স্কোয়াড প্রস্তুত করতে হবে। পারফরম্যান্সই সবার আগে দেখতে হবে। পাশাপাশি আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে একজন ক্রিকেটার কতটা মানিয়ে নিতে পারছে, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ।’

বিশ্বকাপকে সামনে রেখে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার ওপরও জোর দিয়েছেন নান্নু। শুধু বর্তমান সময়ের পারফরম্যান্স নয়, আগামী কয়েক বছর জাতীয় দলের হয়ে খেলার সামর্থ্য আছে-এমন ক্রিকেটার খুঁজে বের করাও নির্বাচক ও কোচদের দায়িত্ব বলে মনে করেন তিনি।

এ প্রসঙ্গে তানজিদ হাসান তামিমের উদাহরণ টেনেছেন নান্নু। ২০২৩ সালে জাতীয় দলে তানজিদকে নেওয়ার পরিকল্পনা নিয়ে সমালোচনা হলেও পরবর্তী সময়ে তিনি নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন বলে মনে করেন সাবেক এই প্রধান নির্বাচক।

এশিয়া কাপ থেকে পাকিস্তানের বিদায়

0

পাকিস্তানকে যিনি ফাইনালের স্বপ্ন দেখাচ্ছিলেন, সেই ফাতিমা সানার হাতেই ভেঙে চুরমার স্বপ্নখানি। অল্পের জন্য হলো না আরও এক ভারত-পাকিস্তান লড়াই। প্রমীলা এশিয়া কাপে এর দ্বিতীয় সেমিফাইনালে রোমাঞ্চকর ম্যাচে পাকিস্তানকে হারিয়ে ফাইনাল নিশ্চিত করেছে শ্রীলঙ্কা। বাংলাদেশের পর পাকিস্তানও বিদায় নিল শেষ চার থেকে। 

আগের সেমিফাইনালে ভারত-বাংলাদেশ লড়াই জমজমাট না হলেও দ্বিতীয় সেমিফাইনালে উত্তাপ ছড়িয়েছে পাকিস্তান ও শ্রীলঙ্কার মধ্যকার লড়াই। দুবাই আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে টস জিতে প্রথমে ফিল্ডিংয়ের সিদ্ধান্ত নেয় শ্রীলঙ্কা। নির্ধারিত ২০ ওভারে ৫ উইকেট হারিয়ে ১৩০ রান দাঁড়ায় পাকিস্তানের সংগ্রহ।

দলের পক্ষে সর্বোচ্চ ৪৭ রান আসে অধিনায়ক ফাতিমা সানার ব্যাট থেকে। ৩৬ বলের মোকাবেলায় ৪টি চার ও ২টি ছক্কায় এই ইনিংস সাজিয়ে অপরাজিত থাকেন তিনি। এছাড়া শাওয়াল জুলফিকার ১৬ বলে ২৬ ও ফুল ফিরোজা ৩২ বলে ২১ রান করেন। ১০ বলে ১২ রান করে অপরাজিত থাকেন তুবা হাসান। লঙ্কানদের পক্ষে দুটি করে উইকেট পান চামারি আতাপাত্তু ও চামুদি প্রবোদা।

জবাব দিতে নেমে শ্রীলঙ্কার শুরুটা মোটেও ছিল না। দলীয় ৫ রানে দুই উইকেট হারিয়ে ফেলে লঙ্কানরা। এমনকি দলীয় ৩৩ রানের মধ্যেই সাজঘরে ফেরেন ৪ ব্যাটার।

এরপর প্রতিরোধ গড়ে তোলেন হারশিথা সামারাউইকরামা। ইমেশা দুলানি ২২ রান করে বিদায় নিলে সামারাউইকরামাকে সঙ্গ দেন কাভিশা দিলহারি। দুজন মিলে গড়েন ৬৭ রানের জুটি। তবে এই জুটিও ভাঙেন ফাতিমা সানা। যদিও তার হাতেই স্বপ্ন ভাঙে পাকিস্তানের। জমে ওঠা ম্যাচে ১৯তম ওভার করতে এসে নো বলের সাথে বাউন্ডারি হজম করেন, পাকিস্তানও ম্যাচ থেকে ছিটকে পড়ে। যদিও এদিন একাই ৪টি উইকেট শিকার করেছেন তিনি।

থাকতে হয়েছে অবশ্য বিজিত দলেই। হার্শিতা-কাভিশাদের পর নিলাকশিকা সিলভা ও কাউশিনি নুথিয়াঙ্গানা জয় নিশ্চিত করে মাঠ ছাড়েন শ্রীলঙ্কার।

অভিষেকে ৯ ছক্কায় রাজাউল্লাহর রেকর্ড, ইংল্যান্ডের লক্ষ্য ১৩০

0

এজবাস্টনে পাকিস্তানের দ্বিতীয় ইনিংসটা একসময় শেষ হয়ে যাওয়ার অপেক্ষাতেই ছিল সবাই। ৮ উইকেটে ৩১৮ রান, ইনিংস হার এড়াতে তখন প্রয়োজন মাত্র ২ রান। তিন দিনেই ম্যাচ শেষ করে সিরিজে ইংল্যান্ডের হোয়াইটওয়াশের সম্ভাবনাই যেন জোরালো হচ্ছিল। কিন্তু সব হিসাব বদলে দিলেন অভিষেক টেস্ট খেলতে নামা রাজাউল্লাহ।

নবম উইকেটে মোহাম্মাদ আব্বাসকে সঙ্গে নিয়ে ১২৩ বলে ১২১ রানের জুটি গড়েন ২১ বছর বয়সী এই পেসার। ৬৩ বলে ৮১ রানের ঝোড়ো ইনিংসে চারটি চার ও নয়টি ছক্কা মেরেছেন তিনি। টেস্ট অভিষেকে সর্বোচ্চ ছক্কার রেকর্ডে ইংল্যান্ডের সাবেক পেসার টিম সাউদির পাশে বসেছেন রাজাউল্লাহ। ২০০৮ সালে অভিষেক টেস্টে নয়টি ছক্কা মেরেছিলেন সাউদি।

রাজাউল্লাহর ব্যাটে ভর করেই শেষ পর্যন্ত পাকিস্তান দ্বিতীয় ইনিংসে ৪৭৮ রান করে। ফলে ইংল্যান্ডের সামনে জয়ের লক্ষ্য দাঁড়িয়েছে ১৩০ রান।

এর আগে আজান আওয়াইস, শান মাসুদ ও বাবর আজমের ব্যাটে ম্যাচে ঘুরে দাঁড়ানোর পথ তৈরি করেছিল পাকিস্তান। আজান করেন ৫৯, মাসুদ ৯৫ এবং বাবর ৭৬ রান। ৮৪ বলে ৫৯ রানের ইনিংসে আজানের সঙ্গে ওপেনিং জুটিতে ১২৫ রান যোগ করেন মাসুদ। তবে সেঞ্চুরির খুব কাছে গিয়েও ৫ রানের জন্য তিন অঙ্ক ছোঁয়া হয়নি তাঁর।

বাবর আজমও ফিফটি করলেও দীর্ঘ সেঞ্চুরি-খরা কাটাতে পারেননি। টেস্টে তাঁর শেষ সেঞ্চুরি ২০২২ সালের ডিসেম্বরে। এরপর টানা ৪০ ইনিংসে তিন অঙ্কের দেখা পাননি পাকিস্তান অধিনায়ক।

শেষ দিকে রাজাউল্লাহর ঝড়েই পাকিস্তানের স্কোর সাড়ে চার শ পেরোয়। তাঁর বিদায়ের সঙ্গে শেষ হয় পাকিস্তানের ইনিংস ও দিনের খেলা। এখন চতুর্থ দিনে ১৩০ রানের লক্ষ্য তাড়া করে সিরিজে ৩-০ ব্যবধানে জয় নিশ্চিত করতে নামবে ইংল্যান্ড।


সংক্ষিপ্ত স্কোর:
পাকিস্তান ১ম ইনিংস: ১৩৩
ইংল‍্যান্ড ১ম ইনিংস: ৪৫৩
পাকিস্তান ২য় ইনিংস: ৯৬.৪ ওভারে ৪৪৯/১০

ইংল্যান্ডের লক্ষ্য ১৩০

হৃদয়কে মুশফিকের বিকল্প হিসেবে দেখছেন নান্নুও

0

ব্যাট হাতে দারুণ ছন্দে আছেন তাওহীদ হৃদয়। সীমিত ওভারের ক্রিকেটে নিজেকে দলের গুরুত্বপূর্ণ সদস্য হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছেন। নেতৃত্বও দিয়েছেন বাংলাদেশ টি-টোয়েন্টি দলকে। তবে টেস্ট ক্রিকেটে এখনো নিজেকে সেভাবে মেলে ধরার সুযোগ পাননি এই তরুণ ব্যাটার। দক্ষিণ আফ্রিকা ‘এ’ দলের বিপক্ষে ৩৫০ রানের অপরাজিত ইনিংস খেলে অবশ্য লাল বলের ক্রিকেটেও নিজের সামর্থ্যের জানান দিয়েছেন তিনি।

হৃদয়ের সেই ইনিংসের পর তাঁকে টেস্ট দলে নেওয়ার দাবি জোরালো হয়েছে। বিশেষ করে ক্যারিয়ারের শেষ প্রান্তে থাকা মুশফিকুর রহিমের সম্ভাব্য বিকল্প হিসেবে হৃদয়কে দেখছেন অনেকে। এবার সেই আলোচনায় যোগ দিলেন সাবেক অধিনায়ক ও সাবেক প্রধান নির্বাচক মিনহাজুল আবেদিন নান্নুও।

বগুড়ার ছেলে হৃদয় বেড়ে উঠেছেন বগুড়ারই কিংবদন্তি মুশফিককে আদর্শ মেনে। মুশফিকের জায়গা পূরণে হৃদয়কে উপযুক্ত মনে করেন নান্নু। তাঁর মতে, লংগার ভার্সনের ক্রিকেটে হৃদয়ের পারফরম্যান্স এবং প্রথম শ্রেণির রেকর্ড তাঁকে টেস্ট দলের ভাবনায় রাখার যথেষ্ট কারণ।

নান্নু বলেন, ‘আমাদের অনেক ট্রেইনড খেলোয়াড়ের মধ্যে হৃদয় একজন। লংগার ভার্সনে যথেষ্ট ভালো, প্রথম শ্রেণির রেকর্ডও ভালো। দক্ষিণ আফ্রিকার মাটিতে সাড়ে তিন শ (রান), আমার মনে হয় দেশের হয়ে সেরা ইনিংসটি খেলে ফেলেছে।’

হৃদয়কে টেস্ট দলে দেখার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দিচ্ছেন না সাবেক এই প্রধান নির্বাচক। তবে তাঁর মতে, দলে জায়গা পাওয়ার জন্য ধারাবাহিকভাবে সঠিক প্রক্রিয়ায় এগিয়ে যেতে হবে হৃদয়কে।

নান্নুর ভাষায়, ‘ভালো প্রসেসে থাকলে অবশ্যই ওকে টেস্ট দলে দেখতে পাব। সারা জীবন তো কেউ দলে থাকবে না। কাউকে না কাউকে সরতে হবে। যদি সময়মতো বদলি রাখা যায়, দলে কোনো সমস্যা হয় না বিকল্প নিয়ে।’

দক্ষিণ আফ্রিকার মাটিতে ৩৫০ রানের অপরাজিত ইনিংস হৃদয়ের টেস্ট সম্ভাবনাকে নতুন করে সামনে এনেছে। এখন নির্বাচকদের পরিকল্পনায় তিনি কতটা জায়গা করে নেন, সেটিই দেখার বিষয়।

টিভিতে আজকের খেলা: ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬

0

পাকিস্তান-ইংল্যান্ড তৃতীয় টেস্টের চতুর্থ দিনের খেলা আজ। আছে ইউএস ওপেনের নারী এককের ফাইনাল। এছাড়াও রয়েছে ইংলিশ প্রিশিয়ার লিগ ও স্প্যানিশ লা লিগায় একাধিক ম্যাচ। খেলা.লাইভের পাঠকদের জন্য আজকের খেলার সূচী তুলে ধরা হলো।

টেনিস
ইউএস ওপেন: নারী ফাইনাল
সাবালেঙ্কা-রিবাকিনা
সরাসরি, রাত ২টা,
স্টার স্পোর্টস ১ ও ২

ফুটবল
ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগ
লিভারপুল-ফুলহাম
সরাসরি, রাত ৮টা,
স্টার স্পোর্টস সিলেক্ট ১

চেলসি-হাল সিটি
সরাসরি, রাত ৮টা,
স্টার স্পোর্টস সিলেক্ট ২

টটেনহাম-এভারটন
সরাসরি, রাত ১০-৩০ মি.,
স্টার স্পোর্টস সিলেক্ট ১

সান্ডারল্যান্ড-আর্সেনাল
সরাসরি, রাত ১টা,
স্টার স্পোর্টস সিলেক্ট ১

লা লিগা
রেসিং-দেপোর্তিভো
সরাসরি, সন্ধ্যা ৬টা,

ওসাসুনা-এসপানিওল
সরাসরি, রাত ৮-১৫ মি.,

বিলবাও-এলচে
সরাসরি, রাত ১০-৩০ মি.,

রিয়াল মাদ্রিদ-ভায়েকানো
সরাসরি, রাত ১টা,
টি স্পোর্টস

ক্রিকেট
এজবাস্টন টেস্ট-৪র্থ দিন
ইংল্যান্ড-পাকিস্তান
সরাসরি, বিকাল ৪টা,
সনি স্পোর্টস ২

প্রতি ইউনিয়নে মাঠ ও উপজেলায় মিনি স্টেডিয়াম, শরীয়তপুরে যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী

0

বাংলাদেশের খেলাধুলাকে তৃণমূল পর্যায়ে ছড়িয়ে দিতে দেশের প্রতিটি ইউনিয়নে একটি করে খেলার মাঠ সংরক্ষণ এবং প্রতিটি উপজেলায় মিনি স্টেডিয়াম নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী ও ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির আহ্বায়ক মো: আমিনুল হক।

তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বাংলাদেশের খেলাধুলাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছেন। তাঁর নেতৃত্বে খেলাধুলাকে পেশা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করার পাশাপাশি তৃণমূল পর্যায় থেকে প্রতিভাবান খেলোয়াড় খুঁজে বের করে জাতীয় পর্যায়ে তুলে আনার কার্যক্রম চলছে।

আজ শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) বিকেলে শরীয়তপুরের সখিপুরের হাবিব উল্যাহ ডিগ্রি কলেজ মাঠে হাবিব উল্ল্যা চোকদার স্মৃতি ফুটবল টুর্নামেন্টের গ্র্যান্ড ফাইনালে প্রধান অতিথির বক্তব্যে আমিনুল হক এসব কথা বলেন।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘ মাঠে বিপুলসংখ্যক দর্শকের উপস্থিতি প্রমাণ করে, বাংলাদেশের ফুটবল ও খেলাধুলার প্রতি মানুষের আগ্রহ এখনো অনেক বেশি। এই আগ্রহকে কাজে লাগিয়ে বাংলাদেশের খেলাধুলাকে আরও এগিয়ে নিতে চাই।’

তিনি বলেন, দেশে ৪ হাজার ৫৯৯টি ইউনিয়ন রয়েছে। প্রতিটি ইউনিয়নে একটি করে মাঠ সংরক্ষণের মাধ্যমে খেলাধুলার সুযোগ তৈরি করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি প্রতিটি উপজেলায় মিনি স্টেডিয়াম নির্মাণের কার্যক্রমও চলমান রয়েছে।

যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা খেলাধুলাকে পেশা হিসেবে প্রতিষ্ঠার জন্য ইতিমধ্যে কার্যক্রম শুরু করেছি। তৃণমূল থেকে নতুন প্রতিভাবান খেলোয়াড় তুলে আনতে চাই। শুধু রাজধানী বা বড় শহর নয়, দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলের প্রতিভাবান তরুণদেরও জাতীয় পর্যায়ে সুযোগ করে দিতে হবে।’

খেলাধুলার মাধ্যমে যুবসমাজকে মাদক ও অপরাধ থেকে দূরে রেখে একটি সুন্দর ও শান্তিপূর্ণ সমাজ গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করে আমিনুল হক বলেন, তরুণদের খেলাধুলার পাশাপাশি সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডেও সম্পৃক্ত করতে হবে। এতে তাঁদের মধ্যে শৃঙ্খলা, নেতৃত্বের গুণ ও মানবিক মূল্যবোধ তৈরি হবে।

তিনি আরও বলেন, ‘আমরা বিশ্বাস করি, খেলাধুলা ও সংস্কৃতিচর্চার মধ্য দিয়ে আমাদের যুবসমাজ এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে একটি সুন্দর, শান্তিপূর্ণ ও মানবিক সমাজের দিকে এগিয়ে নেওয়া সম্ভব। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে আমরা একটি সমৃদ্ধ ও মানবিক বাংলাদেশ গড়ে তুলতে চাই।’

অনুষ্ঠানে সংসদ সদস্য শফিকুর রহমান কিরণ ও সাঈদ আহমেদ আসলামসহ স্থানীয় রাজনৈতিক ও সামাজিক নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

আরচ্যারীর উন্নয়নে একসাথে কাজ করবে বাংলাদেশ ও সৌদি আরব

0

যৌথ প্রশিক্ষণ ও ফ্রেন্ডলি টুর্নামেন্ট আয়োজনের আলোচনা

আরচ্যারীর উন্নয়নে একসাথে কাজ করবে বাংলাদেশ ও সৌদি আরব । সৌদি আরবে সৌহার্দ্যপূর্ণ এক সৌজন্য সাক্ষাতে মিলিত হয়েছেন ওয়ার্ল্ড আরচ্যারী এশিয়া ও বাংলাদেশ আরচ্যারী ফেডারেশনের সভাপতি কাজী রাজীব উদ্দীন আহমেদ চপল এবং সৌদি আরব আরচ্যারী ফেডারেশনের সভাপতি তুর্কি আল-দারবি। বৈঠকে আরচ্যারীর উন্নয়নে একসাথে আরচ্যারীর উন্নয়নে একসাথে কাজ করার কথা জানিয়েছে বাংলাদেশ ও সৌদি আরবের আরচ্যারীর শীর্ষ দুই কর্মকর্তা।

দুই দেশের আরচ্যারীর উন্নয়ন, খেলোয়াড় ও কোচদের দক্ষতা বৃদ্ধি এবং পারস্পরিক সহযোগিতার ক্ষেত্র আরও বিস্তৃত করার লক্ষ্যেই অনুষ্ঠিত হয় এই গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক। আলোচনায় উঠে আসে প্রশিক্ষণ, অবকাঠামো উন্নয়ন, কোচ ও জুডিসিয়ারি ডেভেলপমেন্ট এবং যৌথ প্রশিক্ষণ কার্যক্রমসহ আরচ্যারীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।

আরচ্যারীর উন্নয়নে একসাথে কাজ করবে বাংলাদেশ ও সৌদি আরব

সাক্ষাতে সৌদি আরবে আরচ্যারীর বর্তমান অবকাঠামোগত উন্নয়ন ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে বিস্তারিত মতবিনিময় করেন দুই ক্রীড়া সংগঠক। দেশটিতে আরচ্যারীর বিকাশে নেওয়া বিভিন্ন উদ্যোগের পাশাপাশি খেলোয়াড়দের জন্য আধুনিক সুযোগ-সুবিধা এবং উচ্চতর প্রশিক্ষণের প্রয়োজনীয়তা নিয়েও আলোচনা হয়। একই সঙ্গে এশিয়া অঞ্চলে আরচ্যারীকে আরও জনপ্রিয় ও প্রতিযোগিতামূলক করে তুলতে দেশগুলোর মধ্যে সহযোগিতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেন তারা।

আন্তর্জাতিক অঙ্গনে সাফল্য পেতে হলে শুধু প্রতিভাবান খেলোয়াড় তৈরি করাই যথেষ্ট নয়, প্রয়োজন উন্নত প্রশিক্ষণ, দক্ষ কোচ এবং মানসম্পন্ন বিচারক। এ বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে দুই দেশের মধ্যে প্রশিক্ষণ কর্মসূচি বিনিময়ের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা করেন কাজী রাজীব উদ্দীন আহমেদ চপল ও তুর্কি আল-দারবি। কোচদের আধুনিক প্রশিক্ষণ এবং জুডিসিয়ারি ডেভেলপমেন্টের মাধ্যমে আরচ্যারীর সার্বিক মান আরও উন্নত করা সম্ভব বলে মত দেন তারা।

বৈঠকে খেলোয়াড়দের পারস্পরিক অভিজ্ঞতা বিনিময়ের বিষয়টিও বিশেষ গুরুত্ব পায়। দুই দেশের আরচ্যাররা একসঙ্গে অনুশীলন ও প্রতিযোগিতায় অংশ নিলে তাদের আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা বাড়বে। পাশাপাশি ভিন্ন পরিবেশ ও প্রতিপক্ষের বিপক্ষে নিজেদের দক্ষতা যাচাইয়ের সুযোগও তৈরি হবে। এ লক্ষ্যেই যৌথ ট্রেনিং ক্যাম্প আয়োজনের সম্ভাবনা নিয়ে ইতিবাচক আলোচনা হয়।

প্রশিক্ষণের পাশাপাশি ফ্রেন্ডলি আরচ্যারী টুর্নামেন্ট আয়োজনের পরিকল্পনা

শুধু প্রশিক্ষণ নয়, দুই দেশের আরচ্যারদের নিয়ে ফ্রেন্ডলি টুর্নামেন্ট আয়োজনের বিষয়েও আলোচনা হয়েছে বৈঠকে। নিয়মিত এমন প্রতিযোগিতা আয়োজন করা গেলে খেলোয়াড়দের ম্যাচ খেলার অভিজ্ঞতা বাড়ানোর পাশাপাশি দুই দেশের ফেডারেশনের মধ্যকার সম্পর্ক আরও দৃঢ় হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। ভবিষ্যতে এই সহযোগিতা আরও বিস্তৃত হয়ে এশিয়ার অন্যান্য দেশকেও যুক্ত করতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে।

আলোচনায় এশিয়ার পাশাপাশি মধ্যপ্রাচ্যে আরচ্যারীর প্রসার নিয়েও গুরুত্বারোপ করা হয়। মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে খেলাটির জনপ্রিয়তা ও প্রতিযোগিতামূলক কাঠামো আরও শক্তিশালী করতে ওয়ার্ল্ড আরচ্যারী এশিয়া কীভাবে ভূমিকা রাখতে পারে, সে বিষয়ে তুর্কি আল-দারবির সঙ্গে বিস্তারিত মতবিনিময় করেন কাজী রাজীব উদ্দীন আহমেদ চপল। এশিয়া ও মধ্যপ্রাচ্যের মধ্যে সহযোগিতার নতুন ক্ষেত্র তৈরির সম্ভাবনাও উঠে আসে আলোচনায়।

বর্তমান সময়ে আন্তর্জাতিক আরচ্যারীতে প্রতিযোগিতা ক্রমেই বাড়ছে। ফলে বিশ্বমানের খেলোয়াড় তৈরিতে উন্নত প্রশিক্ষণ ও নিয়মিত আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতার বিকল্প নেই। সেই বাস্তবতা বিবেচনায় নিয়ে দুই দেশের আরচ্যারীকে আরও শক্তিশালী করার বিষয়ে একমত হন দুই ফেডারেশন প্রধান। খেলোয়াড় ও কোচদের পাশাপাশি কর্মকর্তাদের মধ্যেও অভিজ্ঞতা বিনিময়ের সুযোগ তৈরি করার ওপর গুরুত্ব দেন তারা।

দুই দেশের ক্রীড়া সংগঠকদের এই সাক্ষাৎ শুধু আরচ্যারী উন্নয়নের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে না , এটি ক্রীড়া কূটনীতির ক্ষেত্রেও ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। খেলোয়াড় ও কোচদের নিয়মিত যোগাযোগ এবং যৌথ কার্যক্রমের মাধ্যমে বাংলাদেশ ও সৌদি আরবের মধ্যে ক্রীড়া সম্পর্ক আরও শক্তিশালী হওয়ার সুযোগ তৈরি হবে।

অত্যন্ত সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে অনুষ্ঠিত বৈঠকে দুই পক্ষই আরচ্যারীর উন্নয়নে একসঙ্গে কাজ করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন। যৌথ প্রশিক্ষণ, অভিজ্ঞতা বিনিময় ও প্রতিযোগিতা আয়োজনের মতো উদ্যোগ বাস্তবায়ন করা গেলে দুই দেশের খেলোয়াড়রা যেমন উপকৃত হবেন, তেমনি এশিয়া ও মধ্যপ্রাচ্যে আরচ্যারীর প্রসারেও নতুন গতি আসবে। সংশ্লিষ্টদের প্রত্যাশা, চপল ও তুর্কি আল-দারবির এই সৌহার্দ্যপূর্ণ সাক্ষাৎ ভবিষ্যতে দুই দেশের আরচ্যারী ফেডারেশনের মধ্যে আরও ঘনিষ্ঠ ও কার্যকর সহযোগিতার পথ খুলে দেবে।

উন্মুক্ত প্রাইজমানি র‌্যাংকিং টেবিল টেনিস শুরু

0

এশিয়ান টেবিল টেনিস চ্যাম্পিয়নশিপের প্রস্তুতির অংশ হিসেবে শুরু হয়েছে উন্মুক্ত প্রাইজমানি র‌্যাংকিং টেবিল টেনিস টুর্নামেন্ট। বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) শহীদ তাজউদ্দীন আহমেদ ইনডোর স্টেডিয়ামে চার দিনব্যাপী এই প্রতিযোগিতার উদ্বোধন হয়। ছয়টি ইভেন্টে প্রায় সাড়ে চারশ খেলোয়াড় অংশ নিচ্ছেন।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী মো. আমিনুল হক। তিনি বলেন, বর্তমানে প্রায় ৩০০ ক্রীড়াবিদ ক্রীড়া ভাতা পাচ্ছেন। তবে পারফরম্যান্সের ভিত্তিতে তাদের মধ্য থেকে ৩৫ জনকে বাদ দেওয়া হবে। সেই শূন্যস্থান পূরণ করা হবে ভালো পারফরম্যান্স করা ক্রীড়াবিদদের দিয়ে। পাশাপাশি আরও ২০০ ক্রীড়াবিদ ও কোচকে ক্রীড়া ভাতার আওতায় আনার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

ফেডারেশনের সভাপতি মোসলেহ উদ্দিন আহমেদের সভাপতিত্বে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন সহসভাপতি খন্দকার হাসান মুনীর, সাধারণ সম্পাদক সাইদুল হক সাদী, কোষাধ্যক্ষ আনোয়ার কবির চৌধুরী বাবুসহ ফেডারেশনের কর্মকর্তারা।

চার দিনব্যাপী প্রতিযোগিতায় পুরুষ একক, মহিলা একক, অনূর্ধ্ব-১৫ বালক একক, অনূর্ধ্ব-১৫ বালিকা একক, অনূর্ধ্ব-১৯ বালক একক ও অনূর্ধ্ব-১৯ বালিকা একক। এই ছয়টি ইভেন্টে লড়াই হবে। উন্মুক্ত এই র‌্যাংকিং প্রতিযোগিতায় দেশের বিভিন্ন পর্যায়ের খেলোয়াড়রা অংশ নেওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন।

তবে শুধু প্রাইজমানি কিংবা র‌্যাংকিং পয়েন্টের জন্যই নয়, আসন্ন এশিয়ান টেবিল টেনিস চ্যাম্পিয়নশিপের দল নির্বাচনের দিক থেকেও এবারের টুর্নামেন্টটি গুরুত্বপূর্ণ। তাই অনেকটা জাতীয় দলের বাছাইপর্বের আবহেই প্রতিযোগিতাটি অনুষ্ঠিত হচ্ছে।

আগামী ১৯ থেকে ২৫ অক্টোবর উজবেকিস্তানের রাজধানী তাসখন্দে বসবে ২৯তম এশিয়ান টেবিল টেনিস চ্যাম্পিয়নশিপ। ওই আসরে বাংলাদেশের তিনজন করে পুরুষ ও নারী খেলোয়াড় অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে।

তাসখন্দের টিকিট পেতে তাই এই র‌্যাংকিং টুর্নামেন্টে ভালো করার বিকল্প নেই খেলোয়াড়দের সামনে। এবারের প্রতিযোগিতায় পারফরম্যান্সের পাশাপাশি আগের দুই আসরে অর্জিত রেটিং পয়েন্টও বিবেচনায় নেওয়া হবে। অর্থাৎ বর্তমান পারফরম্যান্স ও র‌্যাংকিং এই দুইয়ের সমন্বয়েই নির্ধারিত হবে এশিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপের জন্য বাংলাদেশের প্রতিনিধিদল।

ফলে সাড়ে চারশ খেলোয়াড়ের অংশগ্রহণে শুরু হওয়া এই প্রতিযোগিতা হয়ে উঠেছে দেশের টেবিল টেনিসের জন্য গুরুত্বপূর্ণ এক মঞ্চ। তরুণদের পাশাপাশি অভিজ্ঞ খেলোয়াড়দেরও নিজেদের সামর্থ্য প্রমাণের সুযোগ থাকছে এখানে। বিশেষ করে পুরুষ ও নারী এককের শীর্ষ খেলোয়াড়দের পারফরম্যান্সের ওপর থাকবে বাড়তি নজর।

এশিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপের আগে দেশের সেরা খেলোয়াড় বাছাই এবং নতুন প্রতিভা খুঁজে বের করার ক্ষেত্রে এই র‌্যাংকিং টুর্নামেন্ট গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। প্রতিযোগিতা শেষে কারা র‌্যাংকিংয়ে এগিয়ে থাকেন এবং কারা তাসখন্দের মঞ্চে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্বের সুযোগ পান, সেটিই এখন দেখার বিষয়।