Home Blog Page 8

ভারতের অধিনায়কের সঙ্গে হাত না মেলানো জ্যোতির ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত

0

ভারতের বিপক্ষে ম্যাচে প্রতিপক্ষ অধিনায়কের সঙ্গে হাত না মেলানো নিয়ে তৈরি হওয়া আলোচনা এবার নতুন মাত্রা পেল। বাংলাদেশ নারী ক্রিকেট দলের অধিনায়ক নিগার সুলতানা জ্যোতির এমন সিদ্ধান্তকে একান্তই ব্যক্তিগত বিষয় হিসেবে দেখছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। নারী উইংয়ের চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলাম বাবু জানিয়েছেন, এ বিষয়ে বোর্ডের পক্ষ থেকে কোনো নির্দেশনা ছিল না।

সাম্প্রতিক সময়ে ভারত-বাংলাদেশ ম্যাচে দুই দলের অধিনায়কের করমর্দমা নিয়ে আলোচনা চলছে। সর্বশেষ নারী এশিয়া কাপের সেমিফাইনালেও ভারতের অধিনায়ক হারমানপ্রীতের সঙ্গে হাত মেলাতে দেখা যায়নি জ্যোতিকে। বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও বেশ আলোচনার জন্ম দেয়।

রফিকুল ইসলাম বাবু

শনিবার মিরপুর শেরেবাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে রফিকুল ইসলাম বাবু বলেন, হাত না মেলানোর সিদ্ধান্ত জ্যোতির নিজের। তবে তার মতে, খেলাধুলার মূল উদ্দেশ্যই হলো দেশগুলোর মধ্যে সৌহার্দ্য ও বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক তৈরি করা।

তিনি বলেন,

অবশ্যই, এটা তার নিজের সিদ্ধান্ত। আমরা মনে করি, খেলাধুলার মাধ্যমে সারা বিশ্ব ঐক্যবদ্ধ হয়। আমরা চাই, এই সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্কটা সব দেশের সঙ্গেই থাকুক। এটা ভারত বলে নয়, সবার সঙ্গেই থাকুক। আর যে যেটা করেছে, সেটা একেবারেই তার ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত।

এদিকে সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশ নারী ক্রিকেট দলের অধিনায়ক ও কোচিং প্যানেল নিয়ে নানা সমালোচনা চলছে। অধিনায়কের পারফরম্যান্স এবং তার বিরুদ্ধে ওঠা বিভিন্ন অভিযোগ নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। তবে এখনই এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে চাইছে না বিসিবি।

রফিকুল ইসলাম বাবু জানিয়েছেন, আসন্ন এশিয়ান গেমসে দলের পারফরম্যান্স দেখার পর নারী দলের অধিনায়ক ও কোচিং প্যানেল নিয়ে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। এশিয়ান গেমসের পর বাংলাদেশের সামনে রয়েছে অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ড সফরও। ফলে নারী ক্রিকেট নিয়ে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার কথাও ভাবছে বোর্ড।

অধিনায়কের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগগুলো খতিয়ে দেখার কথাও জানিয়েছেন নারী উইংয়ের চেয়ারম্যান। তিনি বলেন, বোর্ড সভাপতি ও পরিচালকদের সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয়েছে। অভিযোগগুলো যাচাই করে প্রয়োজন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

তবে শুধু অধিনায়ক বা কোচিং স্টাফের পরিবর্তন নয়, দলের সামগ্রিক শক্তি বাড়ানোর দিকেও নজর দিতে চায় বিসিবি। বড় দলগুলোর বিপক্ষে ধারাবাহিকভাবে ভালো করতে না পারাকে অন্যতম সমস্যা হিসেবে দেখছেন রফিকুল ইসলাম বাবু।

বিশ্বকাপেও বাংলাদেশ ভালো ক্রিকেট খেলেছে বলে মনে করেন তিনি। কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে সামান্য ভুলের কারণে ম্যাচ হাতছাড়া হয়েছে। তাই ভবিষ্যতে এসব জায়গায় উন্নতি এনে দলকে আরও শক্তিশালী করাই এখন বোর্ডের লক্ষ্য।

নারী ক্রিকেটে নেতৃত্ব নিয়ে চলমান আলোচনা, জ্যোতির ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত এবং আসন্ন এশিয়ান গেমসে দলের পারফরম্যান্স—সব মিলিয়ে বাংলাদেশের নারী ক্রিকেটে সামনে গুরুত্বপূর্ণ সময় অপেক্ষা করছে। এশিয়ান গেমসের পরই অধিনায়কত্ব ও কোচিং কাঠামো নিয়ে বিসিবির অবস্থান আরও পরিষ্কার হতে পারে।

ফেডারেশন কাপের ড্র – এক গ্রুপে খেলবে গত আসরের ফাইনালিস্ট কিংস ও মোহামেডান

0

বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন, বাফুফে ভবনে ড্র অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে আনুষ্ঠানিকতা শুরু হলো ২০২৬-২৭ ফুটবল মৌসুমের ফেডারেশন কাপের। ড্রয়ের ফলাফলে টুর্নামেন্টের শুরুতেই রোমাঞ্চকর লড়াইয়ের আভাস পাওয়া যাচ্ছে। গত আসরের দুই ফাইনালিস্ট বসুন্ধরা কিংস ও মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাব একই গ্রুপে জায়গা করে নিয়েছে। অন্যদিকে, রেকর্ড শিরোপাধারী ঢাকা আবাহনী পড়েছে তুলনামূলকভাবে অনেকটাই সহজ গ্রুপে।

‘বি’ গ্রুপ: শক্তির লড়াইয়ে কিংস ও মোহামেডান চলতি আসরের ‘বি’ গ্রুপটিকে বিবেচনা করা হচ্ছে প্রতিযোগিতার সবচেয়ে প্রতিদ্বন্দ্বীতাপূর্ণ গ্রুপ হিসেবে। গত মৌসুমে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী মোহামেডানকে হারিয়ে কিংস তাদের পঞ্চম শিরোপা ঘরে তুলেছিল। এবার ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন কিংস ও ১১ বারের চ্যাম্পিয়ন মোহামেডান মুখোমুখি হচ্ছে গ্রুপ পর্বেই।

ফেডারেশন কাপের ড্র দুই জায়ান্টের গ্রুপে শক্ত প্রতিপক্ষ

মোহামেডান সবশেষ ২০২২-২৩ মৌসুমে ট্রফি জয়ের স্বাদ পেয়েছিল। এই দুই জায়ান্ট ছাড়াও গ্রুপে আছে শক্তিশালী প্রতিপক্ষ বাংলাদেশ পুলিশ এফসি, পিডব্লিউডি স্পোর্টস ক্লাব, আরামবাগ ক্রীড়া সংঘ, সিটি ক্লাব এবং ঐতিহ্যবাহী ঢাকা ওয়ান্ডারার্স ক্লাব। এদের মধ্যে আরামবাগ ২০১৬ সালে রানার্সআপ হয়েছিল এবং ওয়ান্ডারার্স বহু আগে ১৯৮৭ সালে একবারই ফাইনাল খেলার সুযোগ পেয়েছিল।

‘এ’ গ্রুপ: শক্ত অবস্থানে আবাহনী টুর্নামেন্টের সর্বাধিক ১২ বারের চ্যাম্পিয়ন ঢাকা আবাহনী স্থান পেয়েছে ‘এ’ গ্রুপে। ঐতিহ্য ও শক্তিমত্তার বিচারে তাদের গ্রুপ পর্বের পথ কিছুটা সহজ বলে মনে করছেন ফুটবল সংশ্লিষ্টরা। আবাহনীর সঙ্গী হিসেবে রয়েছে ফর্টিস এফসি, রহমতগঞ্জ মুসলিম ফ্রেন্ডস অ্যান্ড সোসাইটি, ব্রাদার্স ইউনিয়ন, ফকিরেরপুল ইয়ংমেন্স ক্লাব এবং চট্টগ্রাম সিটি।

আবাহনী সবশেষ ২০২১-২২ মৌসুমে টুর্নামেন্টের শিরোপা জিতেছিল। এরপর টানা দুই আসরে ফাইনালে উঠলেও ২০২৩ সালে মোহামেডান এবং সবশেষ মৌসুমে কিংসের কাছে হেরে রানার্সআপ হয়েই সন্তুষ্ট থাকতে হয় তাদের। এই গ্রুপের অন্য দলগুলোর মধ্যে ব্রাদার্স ইউনিয়ন ২০১৫ সালে শিরোপা জিতেছিল এবং রহমতগঞ্জ ২০২১-২২ আসরের ফাইনাল খেলেছিল। বাকি দলগুলোর ফাইনাল খেলার কোনো পূর্ব অভিজ্ঞতা নেই।

বাফুফের নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী, আগামী ২২ সেপ্টেম্বর থেকে মাঠের লড়াইয়ে গড়াচ্ছে ২০২৬-২৭ মৌসুমের এই ঐতিহ্যবাহী টুর্নামেন্ট। দেশীয় ফুটবলের শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণের এই লড়াইয়ে মাঠের পারফরম্যান্স দেখতে এখন ফুটবলপ্রেমীদের চোখ মাঠের দিকে।

রুট-কক্সের ব্যাটে পাকিস্তানকে হোয়াইটওয়াশ ইংল্যান্ডের

0

তিন ম্যাচের সিরিজ ৩-০

জো রুট ও জর্ডান কক্সের দুর্দান্ত ব্যাটিংয়ে পাকিস্তানকে ৮ উইকেটে হারিয়ে তিন ম্যাচের টেস্ট সিরিজে ৩-০ ব্যবধানে হোয়াইটওয়াশ করেছে ইংল্যান্ড। এজবাস্টনে সিরিজের তৃতীয় ও শেষ টেস্টে জয়ের জন্য পাওয়া ১৩০ রানের ছোট লক্ষ্য মাত্র দুই উইকেট হারিয়েই পেরিয়ে যায় স্বাগতিকরা। রুট ৬২ ও কক্স ৫৯ রানে অপরাজিত থেকে ইংল্যান্ডকে জয় এনে দেন।

চতুর্থ দিনের শুরুতে পাকিস্তানের আশা অবশ্য একেবারে শেষ হয়ে যায়নি। আগের দিন নবম উইকেটে রাযাউল্লাহ ও মোহাম্মদ আব্বাসের ১২১ রানের জুটি পাকিস্তানকে বড় বিপর্যয় থেকে ঘুরে দাঁড়ানোর সুযোগ দিয়েছিল। একসময় ইনিংস পরাজয়ের শঙ্কায় থাকা পাকিস্তান শেষ পর্যন্ত ইংল্যান্ডের সামনে ১২৯ রানের লিড দাঁড় করায়।

ছোট লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরুতেই অবশ্য চাপে পড়ে ইংল্যান্ড। দিনের প্রথম ওভারেই দুই ওপেনারকে ফিরিয়ে দেন মোহাম্মদ আব্বাস। বেন ডাকেটের বাজে সময়টা আরও দীর্ঘ করেন তিনি। অফ স্টাম্পের বাইরে লেংথ বল এজ করিয়ে ডাকেটকে কট বিহাইন্ড করেন আব্বাস। এরপর এমিলিও গেকে এলবিডব্লিউ করে ফেরান পাকিস্তানের এই অভিজ্ঞ পেসার।

রুট

তবে এরপর আর কোনো সুযোগ দেয়নি ইংল্যান্ড। জো রুট ও জর্ডান কক্স ধীরে ধীরে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে নেন। শুরুতে সতর্ক থাকলেও পরে রান তোলার গতি বাড়ান দুজন। রুটের ব্যাটে ছিল দারুণ টাইমিং, আর কক্সও খেলেছেন আত্মবিশ্বাসী শট।

২৩ রানে জীবন পান রুট। মোহাম্মদ আলীর বলে বোল্ড হয়েছেন মনে হলেও পরে দেখা যায়, পাকিস্তানি পেসারের পা ক্রিজের বাইরে চলে গিয়েছিল। নো-বল হওয়ায় বেঁচে যান রুট। এরপর সেই সুযোগ কাজে লাগিয়ে দ্রুত এগিয়ে যান ইংল্যান্ডের অভিজ্ঞ ব্যাটার। বাউন্ডারি মেরে অর্ধশতক পূর্ণ করেন তিনি ৫৭ বলে।

অন্য প্রান্তে কক্সও ছিলেন দুর্দান্ত। রাযাউল্লাহর বলে চমৎকার স্ট্রেইট ড্রাইভে চার মেরে নিজের অর্ধশতকের পথে এগিয়ে যান তিনি। পরে সাইম আইয়ুবের বলে ডিপ মিডউইকেট দিয়ে চার মেরে ফিফটি পূর্ণ করেন কক্স।

শেষ পর্যন্ত রুট-কক্সের অপরাজিত জুটি ইংল্যান্ডের জয় নিশ্চিত করে। এই সিরিজে কক্সের এটি তৃতীয় অর্ধশতক। মূলত ইনজুরিতে থাকা জ্যাকব বেথেলের পরিবর্তে দলে সুযোগ পেয়েছিলেন তিনি। উইকেটকিপার জেমি স্মিথের অনুপস্থিতিতেও দ্বিতীয় ইনিংসে দায়িত্ব সামলে নিজের সামর্থ্যের প্রমাণ দিয়েছেন কক্স।

এর আগে প্রথম ইনিংসে ৪৫৩ রান করে ইংল্যান্ড। হ্যারি ব্রুক ৭৫, জেমি স্মিথ ৬৯, ড্যান লরেন্স ৬৫, এমিলিও গে ৬০ এবং অলি রবিনসন ৫০ রান করেন। পাকিস্তানের হয়ে রাযাউল্লাহ নেন ৪ উইকেট।

পাকিস্তানের ব্যাটিং ধস

প্রথম ইনিংসে মাত্র ১৩৩ রানে অলআউট হয়ে বড় বিপদে পড়েছিল পাকিস্তান। সাকিলের ৪৩ রান ছাড়া উল্লেখযোগ্য অবদান ছিল না কারও। ইংল্যান্ডের হয়ে ক্রিস টং ৪, অলি রবিনসন ৩ এবং জোফরা আর্চার ৩ উইকেট নেন।

দ্বিতীয় ইনিংসে পাকিস্তান অবশ্য লড়াই করার চেষ্টা করে। অধিনায়ক শান মাসুদ ৯৫ রানের দারুণ ইনিংস খেলেন। বাবর আজম করেন ৭৬ এবং আজান আওয়াইস ৫৯ রান করেন। তবে ইনিংসের সবচেয়ে আলোচিত পারফরম্যান্স ছিল অভিষিক্ত রাযাউল্লাহর। মাত্র ৬৩ বলে ৮১ রানের ঝড়ো ইনিংস খেলেন তিনি। তার ব্যাট থেকে আসে ৯টি ছক্কা ও ৪টি চার।

বল হাতেও দারুণ ছিলেন রাযাউল্লাহ। ইংল্যান্ডের প্রথম ইনিংসে চার উইকেট নেন এই ২১ বছর বয়সী পেসার। তবে তার দুর্দান্ত পারফরম্যান্সও পাকিস্তানকে ম্যাচ কিংবা সিরিজ বাঁচাতে পারেনি।

রুট-কক্সের ব্যাটে পাকিস্তানকে হোয়াইটওয়াশ ইংল্যান্ডের

পুরো সিরিজে ইংল্যান্ডের আধিপত্য ছিল স্পষ্ট। হেডিংলিতে প্রথম টেস্টে ইনিংস ব্যবধানে জয় দিয়ে শুরু করে তারা। লর্ডসে দ্বিতীয় টেস্টে পাকিস্তান হারে ১৯৪ রানে। সেই পরাজয়ের পর পাকিস্তানের স্কোয়াড ও কোচিং স্টাফে বড় ধরনের পরিবর্তন আনা হলেও তাতেও দলের ভাগ্য বদলায়নি।

তৃতীয় টেস্টেও প্রথম ইনিংসে মাত্র ১৩৩ রানে অলআউট হয়ে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ হারায় পাকিস্তান। শেষ পর্যন্ত লড়াই করে ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করলেও রুট ও কক্সের ব্যাটে তাদের সেই আশা শেষ হয়ে যায়।

সিরিজে ইংল্যান্ডের হয়ে বল হাতে সবচেয়ে উজ্জ্বল ছিলেন অলি রবিনসন। তিন টেস্টে ২১ উইকেট নিয়ে ৮.৭৬ গড়ে তিনি নির্বাচিত হয়েছেন ‘টেস্ট প্লেয়ার অব দ্য সামার’। তৃতীয় টেস্টে ম্যাচসেরার পুরস্কার পেয়েছেন ড্যান লরেন্স। প্রথম ইনিংসে ৬৫ রানের পাশাপাশি দ্বিতীয় ইনিংসে নিয়েছেন ২ উইকেট।

অন্যদিকে, সিরিজজুড়ে পাকিস্তানের সবচেয়ে সফল বোলার ছিলেন মোহাম্মদ আব্বাস। ১৩ উইকেট নিয়ে তিনি হয়েছেন পাকিস্তানের ‘প্লেয়ার অব দ্য সিরিজ’। তবে শেষ ম্যাচের গুরুত্বপূর্ণ সময়ে রুট ও কক্সের জুটি ভাঙতে পারেননি তিনি।

সংক্ষিপ্ত স্কোরকার্ড

ইংল্যান্ড: ৪৫৩ ও ১৩২/২
ব্রুক ৭৫, স্মিথ ৬৯, লরেন্স ৬৫, গে ৬০, রবিনসন ৫০; রাযাউল্লাহ ৪/১৪৮।
রুট ৬২*, কক্স ৫৯*।

পাকিস্তান: ১৩৩ ও ৪৪৯
মাসুদ ৯৫, রাযাউল্লাহ ৮১, বাবর ৭৬, আওয়াইস ৫৯; টং ৪/৪২, রবিনসন ৩/১৫, আর্চার ৩/২৫।

  • ফল: ইংল্যান্ড ৮ উইকেটে জয়
  • সিরিজ: ইংল্যান্ড ৩-০ ব্যবধানে জয়ী
  • ম্যাচসেরা: ড্যান লরেন্স
  • সিরিজসেরা (ইংল্যান্ড): অলি রবিনসন
  • সিরিজসেরা (পাকিস্তান): মোহাম্মদ আব্বাস

জাপানে ইতিহাস গড়ার লক্ষ্য বাংলাদেশ নারী ফুটবল দলের

0

চীনের প্রস্তুতি পর্ব শেষে জাপানে পৌঁছেছে বাংলাদেশ নারী ফুটবল দল। জাপানে পৌঁছানোর মধ্য দিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হলো ২০তম এশিয়ান গেমস আইচি-নাগোয়া ২০২৬-এর নারী ফুটবল প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশের যাত্রা।

গতকাল ১১ সেপ্টেম্বর চীন থেকে জাপানের উদ্দেশে রওনা দেয় বাংলাদেশ দল। দীর্ঘ ভ্রমণ শেষে ১২ সেপ্টেম্বর ভোররাত ৩টার দিকে জাপানে নিজেদের নির্ধারিত টিম হোটেলে পৌঁছান সাবিনা খাতুনরা।

এশিয়ান গেমসকে সামনে রেখে বেশ কিছুদিন ধরেই চীনে প্রস্তুতি ক্যাম্প করেছে বাংলাদেশ নারী দল। সেখানে অনুশীলনের পাশাপাশি প্রস্তুতি ম্যাচ খেলে নিজেদের ঝালিয়ে নেওয়ার সুযোগ পেয়েছেন খেলোয়াড়রা। চীনের ক্যাম্পে দলের কৌশল, ফিটনেস এবং ম্যাচ পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করেছে কোচিং স্টাফ।

এবার জাপানে মূল প্রতিযোগিতার প্রস্তুতি শুরু করবে বাংলাদেশ। এশিয়ান গেমসের মতো বড় মঞ্চে নিজেদের সামর্থ্যের প্রমাণ দিতে মুখিয়ে আছে দলের খেলোয়াড়রা। চীনের প্রস্তুতি ক্যাম্প থেকে পাওয়া অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে জাপানে আরও আত্মবিশ্বাসী পারফরম্যান্সের লক্ষ্য বাংলাদেশের।

বাংলাদেশ নারী ফুটবল দলের জন্য এবারের এশিয়ান গেমস তাই শুধু অংশগ্রহণের আসর নয়, নিজেদের উন্নতির প্রমাণ দেওয়ারও বড় সুযোগ। আন্তর্জাতিক পর্যায়ে সাম্প্রতিক সময়ে ধারাবাহিকভাবে এগিয়ে চলা দলটি এবার এশিয়ার শক্তিশালী দলগুলোর বিপক্ষে নিজেদের অবস্থান জানান দিতে চাইবে।

জাপানে পৌঁছে এখন মূল লড়াইয়ের অপেক্ষা। প্রস্তুতির পর এবার মাঠের পারফরম্যান্সেই নিজেদের সামর্থ্য তুলে ধরতে হবে বাংলাদেশের মেয়েদের।

ইউএস ওপেনে শিরোপা লড়াই – মুখোমুখি সাবালেঙ্কা ও রিবাকিনা

0

১৩ বছর পর ফাইনালে মুখোমুখি শীর্ষ দুই বাছাই

ইউএস ওপেনের নারী এককের শিরোপা নির্ধারণ হবে বিশ্বের দুই শীর্ষ তারকার লড়াইয়ে। শনিবারের ফাইনালে মুখোমুখি হচ্ছেন এক নম্বর বাছাই বেলারুশের আরিনা সাবালেঙ্কা ও দুই নম্বর বাছাই কাজাখস্তানের ইয়েলেনা রিবাকিনা। ২০১৩ সালের পর এই প্রথম ইউএস ওপেনের নারী এককের ফাইনালে মুখোমুখি হচ্ছেন টুর্নামেন্টের শীর্ষ দুই বাছাই। ফলে এবারের ফাইনাল ঘিরে তৈরি হয়েছে বাড়তি উত্তেজনা।

ফাইনালটি সাবালেঙ্কার জন্য যেমন টানা তৃতীয় ইউএস ওপেন শিরোপা জয়ের মঞ্চ, তেমনি রিবাকিনার জন্যও এটি বিশেষ এক উপলক্ষ। ম্যাচের ফল যা-ই হোক, সোমবার প্রকাশিত নতুন র‌্যাঙ্কিংয়ে বিশ্বের এক নম্বর নারী খেলোয়াড়ের আসনে বসবেন রিবাকিনা। অর্থাৎ শিরোপা জিতলে এক নম্বর র‌্যাঙ্কিংয়ের সঙ্গে গ্র্যান্ড স্ল্যাম ট্রফিও যোগ হবে তার অর্জনে।

ইউএস ওপেনে শিরোপা লড়াই - মুখোমুখি সাবালেঙ্কা ও রিবাকিনা
বেলারুশের আরিনা সাবালেঙ্কা

দুই খেলোয়াড়ের মুখোমুখি লড়াইয়ের ইতিহাসও বেশ জমজমাট। গ্র্যান্ড স্ল্যামের মঞ্চে এ নিয়ে চতুর্থবার দেখা হচ্ছে তাদের। আগের তিন ম্যাচে সাবালেঙ্কা জিতেছেন দুটি, রিবাকিনা একটি। তবে সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে ১৭বার মুখোমুখি হয়েছেন তারা। সেখানে সাবালেঙ্কা এগিয়ে ১০-৭ ব্যবধানে। কিন্তু ফাইনালে দুজনের পরিসংখ্যান রিবাকিনার পক্ষে। তাদের মুখোমুখি ছয়টি ফাইনালের মধ্যে রিবাকিনা জিতেছেন চারটি, সাবালেঙ্কা দু’টি।

চলতি বছরও দুই তারকার লড়াই হয়েছে তিনবার। প্রথম সাক্ষাৎ ছিল অস্ট্রেলিয়ান ওপেনের ফাইনালে। সেখানে ৬-৪, ৪-৬, ৬-৪ গেমে জিতে সাবালেঙ্কাকে হারিয়েছিলেন রিবাকিনা। এরপর ইন্ডিয়ান ওয়েলসের ফাইনালে পাল্টা জবাব দেন সাবালেঙ্কা। তৃতীয় সেটের টাইব্রেকারে ৮-৬ ব্যবধানে জয় পান তিনি। মিয়ামি ওপেনের সেমিফাইনালেও রিবাকিনাকে সরাসরি সেটে হারিয়ে বছরের লড়াইয়ে এগিয়ে যান সাবালেঙ্কা।

ইউএস ওপেনে শিরোপা লড়াই - মুখোমুখি সাবালেঙ্কা ও রিবাকিনা
কাজাখস্তানের ইয়েলেনা রিবাকিনা

ইউএস ওপেন শিরোপা ধরে রাখার পথে সাবালেঙ্কা

ইউএস ওপেনেও দু’জনের পথচলা ছিল আলাদা রকমের। সাবালেঙ্কা বেশির ভাগ ম্যাচেই দাপট দেখিয়েছেন। কোয়ার্টার ফাইনালে লিন্ডা নসকোভার বিপক্ষে তিন সেট খেলতে হলেও অন্য ম্যাচগুলো সরাসরি সেটে জিতেছেন তিনি। ফলে শিরোপা ধরে রাখার মিশনে বেশ আত্মবিশ্বাসী অবস্থায় ফাইনালে উঠেছেন বেলারুশের এই তারকা।

অন্যদিকে রিবাকিনার শুরুটা ছিল আরও স্বচ্ছন্দ। টুর্নামেন্টের প্রথম চার রাউন্ডে কোনো সেট না হেরেই জয় পেয়েছিলেন তিনি। তবে শেষ দুই ধাপে কঠিন পরীক্ষা দিতে হয়েছে তাকে। কোয়ার্টার ফাইনালে ঝেং কিনওয়েনের বিপক্ষে প্রথম সেট ৩-৬ ব্যবধানে হারার পর ৬-১, ৬-৪ ব্যবধানে ম্যাচ জিতে ঘুরে দাঁড়ান রিবাকিনা। সেমিফাইনালেও একই রকম প্রত্যাবর্তন করতে হয়েছে তাকে। কোকো গফের বিপক্ষে প্রথম সেট ৩-৬ ব্যবধানে হারলেও পরের দুই সেট ৬-৪, ৬-৪ জিতে ফাইনালের টিকিট নিশ্চিত করেন তিনি।

পরিসংখ্যান বলছে, ফাইনালে লড়াই হওয়ার সম্ভাবনাই বেশি। দুই তারকার আগের ১৭ ম্যাচের ১১টিই গড়িয়েছে তৃতীয় সেট পর্যন্ত। অর্থাৎ একে অপরের বিপক্ষে দীর্ঘ ও কঠিন লড়াইয়ের অভিজ্ঞতা দুজনেরই রয়েছে। এবারও তাই শিরোপা নির্ধারণী ম্যাচে হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের প্রত্যাশা করছেন টেনিসপ্রেমীরা।

সাবালেঙ্কার সামনে এখন ইতিহাস গড়ার সুযোগ। টানা তিনবার ইউএস ওপেন জিতলে বিরল এক কীর্তির অংশ হবেন তিনি। সর্বশেষ কোনো নারী খেলোয়াড় হিসেবে টানা তিনটি ইউএস ওপেন শিরোপা জিতেছিলেন সেরেনা উইলিয়ামস, ২০১২ থেকে ২০১৪ সালের মধ্যে। সেই কীর্তির পুনরাবৃত্তির পথে এখন মাত্র একটি ম্যাচ দূরে সাবালেঙ্কা।

অন্যদিকে রিবাকিনার লক্ষ্য হবে চলতি বছরের অস্ট্রেলিয়ান ওপেনের সাফল্যের পর আরেকটি গ্র্যান্ড স্ল্যাম শিরোপা জেতা। বছরের শুরুতে সাবালেঙ্কাকে হারিয়েই অস্ট্রেলিয়ান ওপেনের ট্রফি জিতেছিলেন তিনি। এবার ইউএস ওপেনের ফাইনালেও একই প্রতিপক্ষ। তাই নিউইয়র্কের মঞ্চে সাবালেঙ্কার হ্যাটট্রিক ঠেকিয়ে ক্যারিয়ারের আরেকটি বড় অর্জনের দিকে তাকিয়ে থাকবেন রিবাকিনা।

সব মিলিয়ে এবারের ইউএস ওপেন নারী এককের ফাইনাল শুধু একটি শিরোপার লড়াই নয়; এটি দুই তারকার সাম্প্রতিক দ্বৈরথের আরেকটি অধ্যায়। একদিকে সাবালেঙ্কার টানা তৃতীয় শিরোপার স্বপ্ন, অন্যদিকে রিবাকিনার নতুন এক নম্বর হওয়ার আনন্দকে গ্র্যান্ড স্ল্যাম ট্রফি দিয়ে পূর্ণ করার লক্ষ্য। তাই শিরোপার এই মহারণে কে শেষ হাসি হাসেন, সেটিই এখন দেখার অপেক্ষা।

জর্ডানের বিপক্ষে ২য় ম্যাচের আগে প্রস্তুত বাংলাদেশের মেয়েরা

0

জর্ডানের বিপক্ষে দ্বিতীয় আন্তর্জাতিক প্রীতি ম্যাচের আগে নিজেদের প্রস্তুতি শেষ করেছে বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-১৭ নারী ফুটবল দল। আম্মানের জেএফএ ফিল্ডে আজ স্থানীয় সময় বিকেল ৪টা থেকে সাড়ে ৫টা পর্যন্ত শেষ অনুশীলন করেছে বাংলাদেশের কিশোরীরা। আসন্ন এএফসি অনূর্ধ্ব-১৭ নারী এশিয়ান কাপের বাছাইপর্বকে সামনে রেখে গুরুত্বপূর্ণ এই ম্যাচে নিজেদের সামর্থ্য আরও একবার যাচাই করে নিতে প্রস্তুত দলটি।

জর্ডানের বিপক্ষে প্রস্তুত বাংলাদেশের মেয়েরা

জর্ডান ম্যাচ সামনে রেখে প্রস্তুত বাংলাদেশ দল

শেষ দিনের অনুশীলনে খেলোয়াড়দের শারীরিক প্রস্তুতির পাশাপাশি বল দখল, পাসিং ও সেট-পিসের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়। শুরুতে ওয়ার্ম-আপের মাধ্যমে অনুশীলন শুরু হলেও পরবর্তী সময়ে ছোট জায়গায় বল দখলের অনুশীলন এবং ম্যাচ পরিস্থিতি অনুযায়ী বিভিন্ন কৌশল নিয়ে কাজ করেন কোচিং স্টাফরা। বিশেষ করে সেট-পিস থেকে আক্রমণ তৈরি এবং প্রতিপক্ষের আক্রমণ ঠেকানোর কৌশলও ঝালিয়ে নেওয়া হয়েছে।

অনুশীলন জুড়ে বাংলাদেশের খেলোয়াড়দের মধ্যে ছিল দারুণ উদ্যম ও আত্মবিশ্বাস। দলের প্রত্যেক সদস্যই নিজেদের সেরাটা দেওয়ার জন্য প্রস্তুত বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ দল। গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, ম্যাচের আগে দলের সব খেলোয়াড়ই সুস্থ আছেন। ফলে জর্ডানের বিপক্ষে দ্বিতীয় ম্যাচে পূর্ণ শক্তির দল নিয়েই মাঠে নামার সুযোগ পাচ্ছে বাংলাদেশ।

আগামীকাল আম্মানের জেএফএ ফিল্ডে জর্ডান অনূর্ধ্ব-১৭ নারী দলের বিপক্ষে দ্বিতীয় প্রীতি ম্যাচ খেলবে বাংলাদেশ। ম্যাচটি স্থানীয় সময় বিকেল ৫টায় শুরু হবে। বাংলাদেশ সময় ম্যাচটি শুরু হবে রাত ৮টায়।

জর্ডানের বিপক্ষে এই ম্যাচ শুধু আরেকটি প্রীতি ম্যাচ নয়, বাংলাদেশের তরুণীদের জন্য এটি বড় একটি প্রস্তুতির মঞ্চ। কারণ সামনে অপেক্ষা করছে এএফসি অনূর্ধ্ব-১৭ নারী এশিয়ান কাপের বাছাইপর্ব। আগামী ৫ অক্টোবর উজবেকিস্তানে শুরু হবে সেই বাছাইপর্ব। তার আগে শক্তিশালী প্রতিপক্ষ জর্ডানের বিপক্ষে দুটি আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলার সুযোগ পাচ্ছে বাংলাদেশ।

প্রথম ম্যাচের অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে দ্বিতীয় ম্যাচে আরও গোছানো ফুটবল খেলতে চাইবে বাংলাদেশের মেয়েরা। বিশেষ করে বল দখল ধরে রাখা, দ্রুত আক্রমণে ওঠা এবং সুযোগ কাজে লাগানোর দিকে নজর থাকবে দলের। একই সঙ্গে রক্ষণ ভাগের সমন্বয়ও হবে কোচিং স্টাফদের অন্যতম মনোযোগের জায়গা।

আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বয়স ভিত্তিক ফুটবলে নিয়মিত ভালো করার লক্ষ্য বাংলাদেশের। সেই ধারাবাহিকতায় এএফসি অনূর্ধ্ব-১৭ নারী এশিয়ান কাপের বাছাই পর্বের আগে জর্ডানের বিপক্ষে ম্যাচ দুটি দলের জন্য গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা। প্রতিপক্ষের শক্তি ও গতি সামলে নিজেদের পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে পারলে বাছাই পর্বের আগে আত্মবিশ্বাস আরও বাড়বে বাংলাদেশের।

সবশেষ অনুশীলনে খেলোয়াড়দের দৃঢ়তা ও মনোযোগ তাই আশাবাদী করে তুলছে দলকে। এখন মাঠের লড়াইয়ে সেই প্রস্তুতির প্রতিফলন ঘটানোর পালা। জর্ডানের বিপক্ষে দ্বিতীয় ম্যাচে বাংলাদেশের কিশোরীরা কতটা উন্নতি দেখাতে পারে, সেটিই হবে দেখার বিষয়।

মালয়েশিয়াকে হারিয়ে বাংলাদেশের অনূর্ধ্ব-২০ নারী হকি দলের ইতিহাস

0

শক্তিশালী মালয়েশিয়াকে হারিয়ে অনূর্ধ্ব-২০ নারী জুনিয়র এশিয়া কাপ হকিতে ইতিহাস গড়েছে বাংলাদেশ। পঞ্চম স্থান নির্ধারণী ম্যাচে মালয়েশিয়াকে ২-১ গোলে হারিয়ে আসর শেষ করেছে লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা। এই জয়ে টুর্নামেন্টে পঞ্চম স্থান নিশ্চিত করেছে বাংলাদেশ।

চীনের হুলুনবুয়ির সিটিতে অনুষ্ঠিত ম্যাচে শুরু থেকেই আত্মবিশ্বাসী ফুটবল নয়, বরং দুর্দান্ত হকি খেলেছে বাংলাদেশের মেয়েরা। আক্রমণ ও রক্ষণ দুই বিভাগেই ছিল শৃঙ্খলিত পারফরম্যান্স। তবে প্রথম দুই কোয়ার্টারে কোনো দলই গোলের দেখা পায়নি। ফলে গোলশূন্য সমতায় শেষ হয় ম্যাচের প্রথমার্ধ।

মালয়েশিয়াকে হারিয়ে বাংলাদেশের অনূর্ধ্ব-২০ নারী হকি দলের ইতিহাস
ম্যাচের সেরা খেলোয়াড় হয়েছেন শারিকা সাফা রিমণ

তৃতীয় কোয়ার্টারে এসে কাঙ্ক্ষিত গোলের দেখা পায় বাংলাদেশ। পেনাল্টি স্ট্রোক থেকে দারুণভাবে বল জালে পাঠিয়ে দলকে এগিয়ে দেন অধিনায়ক শারিকা সাফা রিমণ। অধিনায়কের গোলে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে গিয়ে আরও আত্মবিশ্বাসী হয়ে ওঠে বাংলাদেশ।

চতুর্থ কোয়ার্টারে ব্যবধান দ্বিগুণ করে লাল-সবুজের দল। চমৎকার এক ফিল্ড গোল থেকে বাংলাদেশের হয়ে দ্বিতীয় গোলটি করেন কনা। এতে ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায় বাংলাদেশ এবং জয়ের পথ অনেকটাই সহজ হয়ে আসে।

শেষ দিকে ম্যাচে ফেরার চেষ্টা করে মালয়েশিয়া। এক গোল শোধও দেয় তারা। তবে বাকি সময়টুকু নিজেদের রক্ষণ সামলে খেলায় আর কোনো গোল হতে দেয়নি বাংলাদেশ। শেষ পর্যন্ত ২-১ গোলের জয় নিয়েই মাঠ ছাড়ে লাল-সবুজের মেয়েরা।

শক্তিশালী মালয়েশিয়ার বিপক্ষে এই জয় বাংলাদেশের অনূর্ধ্ব-২০ নারী হকি দলের জন্য বড় অর্জন হিসেবে দেখা হচ্ছে। পুরো টুর্নামেন্টে লড়াকু মানসিকতা ও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ পারফরম্যান্স দেখানোর পর শেষ ম্যাচে জয় দিয়ে নিজেদের মিশন শেষ করল বাংলাদেশ।

এই জয়ের মধ্য দিয়ে জুনিয়র এশিয়া কাপে পঞ্চম স্থান অর্জন করেছে বাংলাদেশ। আন্তর্জাতিক মঞ্চে বয়সভিত্তিক নারী হকিতে বাংলাদেশের সামর্থ্যেরও বড় প্রমাণ হয়ে থাকল মালয়েশিয়ার বিপক্ষে এই জয়।

বাংলাদেশ হকি ফেডারেশন দলের এই সাফল্যে খেলোয়াড়, কোচিং স্টাফ ও কর্মকর্তাদের অভিনন্দন জানিয়েছে। দেশের নারী হকির জন্যও মালয়েশিয়ার বিপক্ষে এই জয়কে গুরুত্বপূর্ণ অর্জন হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।

ব্যস্ত সূচিতেও নেপালের বিপক্ষে সিরিজ খেলতে চায় বিসিবি

0

বাংলাদেশের বিপক্ষে দ্বিপাক্ষিক সিরিজ খেলার প্রস্তাব দিয়েছে নেপাল ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশন। ব্যস্ত আন্তর্জাতিক সূচির মধ্যেও প্রস্তাবটি গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। দুই দেশের ক্রিকেট বোর্ডের মধ্যে এ নিয়ে আলোচনা চলছে বলে জানিয়েছেন বিসিবির ক্রিকেট পরিচালনা বিভাগের ইনচার্জ শাহরিয়ার নাফীস।

শনিবার মিরপুরে সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে শাহরিয়ার বলেন, নেপালের প্রস্তাবটি ইতিবাচকভাবেই দেখছে বিসিবি। তিনি বলেন, ‘নেপাল বেশ কিছুদিন আগেই আমাদের কাছে একটি প্রস্তাব পাঠিয়েছিল। তারা বাংলাদেশের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক সিরিজ খেলার আগ্রহ প্রকাশ করেছে। বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড সেই আহ্বান খুব ইতিবাচকভাবে নিয়েছে।’

তবে বাংলাদেশের সামনে এখন ব্যস্ত সূচি। আগামী ২৮ সেপ্টেম্বর এশিয়ান গেমসের কোয়ার্টার ফাইনাল দিয়ে শুরু হবে দলের পরবর্তী ব্যস্ততা। এরপর সংযুক্ত আরব আমিরাতে আফগানিস্তানের বিপক্ষে টেস্ট এবং আফগানিস্তান ও জিম্বাবুয়ের সঙ্গে ত্রিদেশীয় সিরিজ রয়েছে। এরপর বাংলাদেশ সফরে আসবে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। ২৮ অক্টোবর থেকে ৯ নভেম্বর পর্যন্ত ক্যারিবীয়দের বিপক্ষে দুটি টেস্ট খেলবে বাংলাদেশ।

ওয়েস্ট ইন্ডিজ সিরিজ শেষে দক্ষিণ আফ্রিকা সফরে যাবে দল। সেখানে দুটি টেস্টের পাশাপাশি তিনটি করে ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টি খেলার কথা রয়েছে। এরপর ঘরোয়া ক্রিকেটের ব্যস্ততার পাশাপাশি ভারতের বিপক্ষে স্থগিত সিরিজ আয়োজনের আলোচনা চলছে। ফেব্রুয়ারিতে ইংল্যান্ডের বাংলাদেশ সফরও রয়েছে।

এত ব্যস্ততার মধ্যেও নেপালের বিপক্ষে সিরিজের জন্য সময় বের করতে চায় বিসিবি। শাহরিয়ার জানান, চলতি এফটিপি চক্রের মধ্যেই সিরিজটি আয়োজনের চেষ্টা চলছে। তবে সময় চূড়ান্ত না হওয়া পর্যন্ত নিশ্চিত করে কিছু বলতে চাননি তিনি।

আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে নেপালের বিপক্ষে এখন পর্যন্ত দুটি টি-টোয়েন্টি খেলেছে বাংলাদেশ। দুটিতেই জয় পেয়েছে লাল-সবুজের দল।

গত ২৬ আগস্ট নেপালে ভয়াবহ বন্যার পর তহবিল সংগ্রহের উদ্দেশ্যে এই সিরিজের প্রস্তাব কি না, জানতে চাইলে শাহরিয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করতে পারেননি। তিনি বলেন, দুই দেশের সরকারি পর্যায়ে এ নিয়ে আলোচনা হয়ে থাকতে পারে। তবে ক্রিকেট বোর্ডের সঙ্গে আলোচনায় বন্যার বিষয়টি আসেনি।

চাইনিজ তাইপেকে হারিয়ে এশিয়া কাপে সপ্তম বাংলাদেশ

0

চীনের ইনার মঙ্গোলিয়ায় অনুষ্ঠিত অনূর্ধ্ব-২০ এশিয়া কাপ হকিতে জয় দিয়ে টুর্নামেন্ট শেষ করেছে বাংলাদেশ। শনিবার সপ্তম-অষ্টম স্থান নির্ধারণী ম্যাচে চাইনিজ তাইপেকে ৫-২ গোলে হারিয়েছে জাইলস বোনেটের দল। এই জয়ে টুর্নামেন্টে সপ্তম স্থান নিশ্চিত করেছে বাংলাদেশের যুবারা।

ম্যাচের শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবল-এখানে হকি-খেলতে থাকে বাংলাদেশ। প্রথম কোয়ার্টারে পেনাল্টি কর্নার থেকে গোল করে দলকে এগিয়ে দেন মুন্না ইসলাম। তবে কোয়ার্টারের শেষ দিকে গোল শোধ করে সমতায় ফেরে চাইনিজ তাইপে।

দ্বিতীয় কোয়ার্টারে বাংলাদেশের আক্রমণের ধার আরও বাড়ে। নবম মিনিটে দারুণ এক ফিল্ড গোল করে বাংলাদেশকে আবারও এগিয়ে দেন মোহাম্মদ রিফাত। তাঁর গোলে ২-১ ব্যবধানে এগিয়ে থেকেই বিরতিতে যায় বাংলাদেশ।

তৃতীয় কোয়ার্টারে বলের নিয়ন্ত্রণ বেশির ভাগ সময় বাংলাদেশের হাতেই ছিল। তবে খেলার ধারার বিপরীতে ১৩তম মিনিটে গোল করে আবারও সমতায় ফেরে চাইনিজ তাইপে। এক মিনিট পরই অবশ্য সেই গোলের জবাব দেয় বাংলাদেশ। পেনাল্টি কর্নার থেকে গোল করে দলকে ৩-২ ব্যবধানে এগিয়ে দেন তায়েব আলী।

শেষ কোয়ার্টারে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ পুরোপুরি নিজেদের হাতে নেয় বাংলাদেশ। তৃতীয় মিনিটে নিজের দ্বিতীয় গোল করে ব্যবধান ৪-২ করেন রিফাত। ম্যাচ শেষ হওয়ার পাঁচ মিনিট আগে আবদুল্লাহর ফিল্ড গোল বাংলাদেশকে এনে দেয় ৫-২ ব্যবধানের বড় জয়।

শেষ পর্যন্ত রক্ষণ সামলে রেখে স্বস্তির জয় নিয়েই মাঠ ছাড়ে বাংলাদেশের যুবারা। জোড়া গোল করে ম্যাচসেরার পুরস্কারও জিতেছেন মোহাম্মদ রিফাত।

এই জয়ের মধ্য দিয়ে এশিয়া কাপে বাংলাদেশের অভিযান শেষ হলো সপ্তম স্থান নিয়ে।

সিপিএলে ম্যাচ সেরা মিরাজ

0

ক্যারিবিয়ান প্রিমিয়ার লিগে (সিপিএল) নিজের দ্বিতীয় ম্যাচেই বল হাতে দুর্দান্ত পারফরম্যান্স দেখালেন মেহেদী হাসান মিরাজ। ত্রিনবাগো নাইট রাইডার্সের বিপক্ষে ৪ ওভারে মাত্র ২৩ রান দিয়ে ৪ উইকেট নিয়েছেন বাংলাদেশের এই অলরাউন্ডার। তাঁর ঘূর্ণিতে একে একে সাজঘরে ফিরেছেন কলিন মুনরো, নিকোলাস পুরান ও সুনীল নারাইনের মতো তারকা ব্যাটসম্যানরা।

মিরাজের দুর্দান্ত বোলিংয়ে ত্রিনবাগোর ব্যাটিং লাইনআপ বড় সংগ্রহ গড়তে পারেনি। প্রথম ওভারেই জোড়া উইকেট তুলে নিয়ে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে নেয় গায়ানা অ্যামাজন ওয়ারিয়র্স। এরপর দ্বিতীয় ও চতুর্থ ওভারে আরও দুটি উইকেট নিয়ে নিজের চার ওভারের স্পেলটি স্মরণীয় করে রাখেন মিরাজ।

সিপিএলে নিজের প্রথম ম্যাচেও তিন উইকেট নিয়েছিলেন মিরাজ। দ্বিতীয় ম্যাচে এসে সেই পারফরম্যান্সকেও ছাড়িয়ে গেলেন তিনি। বল হাতে এমন কার্যকর পারফরম্যান্সের পর ম্যাচসেরার পুরস্কারও উঠেছে তাঁর হাতে।

ম্যাচ শেষে মিরাজ বলেন, ‘আলহামদুলিল্লাহ, এটা আমার জন্য দারুণ একটি মুহূর্ত। আমি প্রথমবারের মতো সিপিএল খেলছি এবং ম্যান অব দ্য ম্যাচের পুরস্কার পেয়েছি। ম্যাচটি আমি দারুণ উপভোগ করেছি।’

নিজের বোলিং পরিকল্পনা নিয়েও কথা বলেছেন মিরাজ। তাঁর মতে, উইকেটের আচরণ বুঝে সঠিক জায়গায় বল করাই ছিল সাফল্যের মূল চাবিকাঠি। তিনি বলেন, ‘আমি সঠিক জায়গায় বল করার এবং উইকেট নেওয়ার চেষ্টা করেছি। আমি জানতাম উইকেট কিছুটা টার্নিং ছিল এবং এটি স্পিনারদের সাহায্য করবে।’

ব্যাট হাতে অবশ্য মিরাজ তেমন কিছু করতে পারেননি। তবে তাঁর বোলিং নৈপুণ্যেই ম্যাচে বড় ভূমিকা রেখেছে গায়ানা। শেষ পর্যন্ত তারা ৬ উইকেটের সহজ জয় তুলে নেয়।

দলের হয়ে খেলার অভিজ্ঞতা নিয়েও সন্তুষ্ট মিরাজ। গায়ানার ম্যানেজমেন্টের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে তিনি বলেন, ‘গায়ানায় খেলার অভিজ্ঞতা আমার জন্য সত্যিই দারুণ একটি মুহূর্ত। তারা খুবই ভালো। বিশেষ করে ম্যানেজমেন্টকে ধন্যবাদ জানাই।’

এই জয়ে সিপিএলের এবারের আসরে গায়ানার অবস্থান আরও শক্ত হয়েছে। ৯ ম্যাচে ৮ জয়ে ১৬ পয়েন্ট নিয়ে পয়েন্ট তালিকার শীর্ষে রয়েছে দলটি। প্লে-অফের টিকিটও নিশ্চিত করেছে তারা। বাকি ম্যাচগুলোতেও দলের জয়ের ধারাবাহিকতা ধরে রাখার প্রত্যাশা মিরাজের।