Home Blog Page 109

কলম্বিয়াকে কাঁদিয়ে সুইজারল্যান্ড শেষ আটে

বিশ্বকাপ ফুটবলে গত কয়েক আসর ধরে নিয়মিত মুখ সুইজারল্যান্ড। কিন্তু খুব বেশি দূরে যাওয়া হয় না। গ্রুপ পর্বটা পার হওয়ার পরই বিদায়ের টিকিট কাটতে বাধ্য হয় দলটি। তবে এবারের আসর ভিন্ন। একের পর এক চমক দেখিয়ে দলটি পৌঁছে গেছে কোয়ার্টার ফাইনালে। ভ্যানকুয়েভারে অনুষ্ঠিত শেষ ষোলোর লড়াইয়ে মঙ্গলবার রাতে তারা কলম্বিয়াকে হারিয়ে শেষ আটে উঠেছে। নির্ধারিত সময়ে গোলশূন্য ম্যাচে টাইব্রেকারে ৪-৩ গোলে জয় পেয়েছে।

সুইজারল্যান্ডের শেষ আটে ওঠার মাঝ দিয়ে ২০২৬ বিশ্বকাপ ফুটবলের কোয়ার্টার ফাইনালের লাইন আপ চূড়ান্ত হলো। সুইজারল্যান্ডের ম্যাচের আগে তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতার পর আর্জেন্টিনা ৩-২ গোলে মিসরকে হারিয়ে শেষ আটে খেলা নিশ্চিত করে।

সুইজারল্যান্ডের প্রতিপক্ষ আর্জেন্টিনা

কোয়ার্টার ফাইনালে সাবেক চ্যাম্পিয়ন ফ্রান্স মরক্কোর বিপক্ষে খেলবে। স্পেন খেলবে বেলজিয়ামের বিপক্ষে। নরওয়ের প্রতিপক্ষ ইংল্যান্ড। আর শেষ কোয়ার্টার ফাইনাল ম্যাচে আর্জেন্টিনার প্রতিপক্ষ সুইজারল্যান্ড।

বিশ্বকাপের শুরুর দিকে সুইজারল্যান্ড নিয়মিত প্রথম রাউন্ড পার হতো। খেলতো কোয়ার্টার ফাইনালে। মাঝের কয়েকটি আসরে তাদের অনুপস্থিতি নিয়মিত হয়ে পড়েছিল। অবশেষে ২০০৬ সাল থেকে আবার তারা নিয়মিত হলেও দ্বিতীয় রাউন্ডে বিদায় নিত। এবার দলটি রূপকথা রচনা করে চলেছে। বারবার আটকে যাওয়ার গোরো খুলেছে। ১৯৫৪ সালের পর এই প্রথম অর্থাৎ ৭২ বছর পর তারা কোয়ার্টার ফাইনালে উঠেছে। প্রথম চার আসরের তিনটিতেই তারা কোয়ার্টার ফাইনালে খেলেছিল।

টাইব্রেকারে হারের পর কলম্বিয়ার খেলোয়াড়রা

টাইব্রেকার হওয়ায় কলম্বিয়ার সামনে সুযোগ ছিল কোয়ার্টার ফাইনালে যাওয়ার। কিন্তু দলটি একের পর এক ব্যর্থ হয়েছে। গোল করতে পারেনি। ফলে বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নিতে হয়েছে। দাভিনসন সানচেজ ও কুচো হার্নান্দেজ গোল করতে ব্যর্থ হন। এর মধ্যে হার্নান্দেজের শট রুখে দেন সুইজারল্যান্ডের গোলরক্ষক গ্রেগর কোবেল। সুইজারল্যান্ডের হয়ে শুধু মানুয়েল আকাঞ্জি গোল করতে ব্যর্থ হন।

সুযোগ বেশি পেয়েছিল কলম্বিয়া

নির্ধারিত সময়ের খেলায় অবশ্য কলম্বিয়ায় গোলের বেশি সুযোগ পেয়েছিল। ১২০ মিনিটের খেলায় অন্তত ১৫টি শট তারা সুইজারল্যান্ডের পোস্ট লক্ষ্য করে নিয়েছিল। তার মধ্যে তিনটি শট লক্ষ্যে ছিল। কর্নার আদায়ও করেছে সাতটি। কিন্তু এ থেকে তারা কোনো সুফল আদায় করতে পারেনি।

ম্যাচে কলম্বিয়া ২১ মিনিটে সবচেয়ে সহজ সুযোগটি পায়। তখন কেভিন পুয়ের্তার দারুণ বাঁকানো শট দুর্দান্ত সেভে ফিরিয়ে দেন সুইজারল্যান্ডের গোলরক্ষক কোবেল। ম্যাচে সুইসদের সামনে সহজ সুযোগ এসেছিল দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতে। এনদোয়ের পাস থেকে জিব্রিল সো ফাঁকা অবস্থায় বল পেয়েছিলেন কিন্তু তার শট অল্পের জন্য বাইরে চলে যায়।

টিভিতে আজকের খেলা: ৮ জুলাই ২০২৬

বিশ্বকাপ ফুটবলে আজ কোনো ম্যাচ নেই। উইম্বলডনে চলছে কোয়ার্টার ফাইনাল।

টেনিস
উইম্বলডন
কোয়ার্টার ফাইনাল
সন্ধ্যা ৬টা, স্টার স্পোর্টস সিলেক্ট ১ ও ২

বিশ্বকাপ ফুটবল: পুনঃপ্রচার
আর্জেন্টিনা–মিসর
সকাল ১০টা, টি স্পোর্টস

মহাকাব্যিক কামব্যাক! মিশরকে ৩-২ গোলে হারিয়ে কোয়ার্টার ফাইনালে আর্জেন্টিনা

পরাজয়ের মুখ থেকে জয় ছিনিয়ে নিলো আর্জেন্টিনা: মেসির জাদুতে মিশরের বিপক্ষে মহাকাব্যিক জয়

পরাজয়ের একেবারে দ্বারপ্রান্ত থেকে ঘুরে দাঁড়িয়ে আরও একবার নিজেদের বিশ্বজয়ের স্বপ্ন টিকিয়ে রাখলো আর্জেন্টিনা ও লিওনেল মেসি। মঙ্গলবার বিকেলে আটলান্টায় অনুষ্ঠিত বিশ্বকাপের শেষ ১৬-এর ম্যাচে ২-০ গোলে পিছিয়ে পড়েও মাত্র ১৩ মিনিটের ঝড়ে মিশরকে ৩-২ ব্যবধানে হারিয়ে কোয়ার্টার ফাইনাল নিশ্চিত করেছে ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়নরা।

প্রথমার্ধেই মিশরের চমক ও মেসিকে রুখে দেওয়া

ম্যাচের শুরুতেই বিশ্ব চ্যাম্পিয়নদের চমকে দেয় মিশর। ১৫তম মিনিটে মারওয়ান আত্তিয়ার দুর্দান্ত ক্রস থেকে হেডের সাহায্যে গোলরক্ষক এমি মার্টিনেজকে পরাস্ত করেন ইয়াসের ইব্রাহিম। ২০২২ বিশ্বকাপের পর এই প্রথম বিশ্বকাপে কোনো ম্যাচে পিছিয়ে পড়ে আলবিসেলেস্তেরা।

২১তম মিনিটে পেনাল্টি থেকে সমতায় ফেরার সুবর্ণ সুযোগ পেয়েছিলেন লিওনেল মেসি। কিন্তু মিশরের গোলরক্ষক মোস্তফা শৌবির বাম দিকে ঝাঁপিয়ে পড়ে মেসির শট রুখে দিলে হতাশ হতে হয় আর্জেন্টিনাকে। ১-০ ব্যবধানে পিছিয়ে থেকেই প্রথমার্ধ শেষ করে আর্জেন্টিনা।

ভিএআর (VAR) নাটক ও জিকোর দ্বৈত রূপ

দ্বিতীয়ার্ধের ৫৮তম মিনিটে কাউন্টার অ্যাটাক থেকে গোল করে মিশরকে ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে নেন মোস্তফা জিকো। তবে ভিএআর (VAR) রিভিউতে দেখা যায়, আক্রমণের শুরুতে আর্জেন্টিনার লিসান্দ্রো মার্টিনেজকে ফাউল করেছিলেন মিশরের আত্তিয়া। ফলে গোলটি বাতিল হয় এবং ব্যবধান ১-০ ই থাকে।

তবে এতে দমে যায়নি মিশর। ৬৭তম মিনিটে মোহাম্মদ সালাহ মাঝমাঠ থেকে একাই বল টেনে নিয়ে বক্সে পাস দেন হাইসেম হাসানকে। হাসানের নিখুঁত পাস থেকে বল জালে জড়াতে ভুল করেননি সেই জিকো। এবার আর কোনো বাধা ছাড়াই ২-০ গোলে এগিয়ে যায় মিশর।

১৩ মিনিটের অতিমানবীয় কামব্যাক

দেয়ালে পিঠ ঠেকে যাওয়া অবস্থায় আরও একবার জ্বলে উঠলেন ফুটবল ইতিহাসের সবচেয়ে সুসজ্জিত তারকা লিওনেল মেসি।

  • প্রথম আঘাত (৭৯ মিনিট): মেসির চমৎকার লব পাস থেকে ক্রিশ্চিয়ান রোমেরো জোরালো হেডে গোল করে আর্জেন্টিনার শিবিরে প্রাণ ফিরিয়ে আনেন (২-১)।
  • সমতা (৮৩ মিনিট): মিশরীয় ডি-বক্সের ভেতর বলের দখল নেওয়ার লড়াইয়ের এক পর্যায়ে বল পান মেসি। বাম পায়ের নিখুঁত স্ট্রাইকে বল জালে জড়িয়ে ম্যাচ সমতায় ফেরান তিনি (২-২)। এটি চলতি টুর্নামেন্টে মেসির অষ্টম এবং বিশ্বকাপ ক্যারিয়ারের ২১তম গোল। একই সাথে বিশ্বকাপে টানা ৯ ম্যাচে গোল করার অনন্য রেকর্ড গড়লেন তিনি।
  • বিজয়সূচক গোল (৯০+২ মিনিট): ইনজুরি টাইমের দ্বিতীয় মিনিটে এনজো ফার্নান্দেজ হেডের সাহায্যে গোল করে আর্জেন্টিনার এই অলৌকিক কামব্যাক সম্পূর্ণ করেন (৩-২)।

রেকর্ডের সামনে আর্জেন্টিনা

এই রোমাঞ্চকর জয়ের পর কোয়ার্টার ফাইনালে আর্জেন্টিনার প্রতিপক্ষ হতে যাচ্ছে সুইজারল্যান্ড ও কলম্বিয়ার মধ্যকার ম্যাচের বিজয়ী দল। আগামী শনিবার কানসাস সিটিতে সেমিফাইনালে ওঠার লড়াইয়ে নামবে তারা।

উল্লেখ্য, ইতালি (১৯৩৪ ও ১৯৩৮) এবং ব্রাজিলের (১৯৫৮ ও ১৯৬২) পর ইতিহাসের মাত্র তৃতীয় দল হিসেবে টানা দুবার বিশ্বকাপ জয়ের রেকর্ডের হাতছানি এখন আলবিসেলেস্তেদের সামনে।

ফ্রান্স ম্যাচের আগে মরক্কো শিবিরে দুশ্চিন্তা, চোটে অনিশ্চিত সাইবারি

বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে ফ্রান্সের বিপক্ষে মহাগুরুত্বপূর্ণ ম্যাচের আগে বড় ধাক্কা খেল মরক্কো। দলের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ আক্রমণভাগের ফুটবলার ইসমাইল সাইবারি হ্যামস্ট্রিং ইনজুরিতে আক্রান্ত হওয়ায় তার খেলা নিয়ে তৈরি হয়েছে অনিশ্চয়তা। নকআউট পর্বের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচের আগে এই খবর স্বাভাবিকভাবেই দুশ্চিন্তায় ফেলেছে মরক্কো শিবিরকে।

রাউন্ড অব ১৬-এ কানাডার বিপক্ষে ৩-০ গোলের জয়ের ম্যাচে চোট পান সাইবারি। ম্যাচ চলাকালীন হ্যামস্ট্রিংয়ে ব্যথা অনুভব করার পর আর খেলা চালিয়ে যেতে পারেননি তিনি। পরে তাকে মাঠ থেকে তুলে নেওয়া হয়। মরক্কো শিবিরের প্রাথমিক ধারণা, এটি হ্যামস্ট্রিং স্ট্রেন বা পেশির টান। তবে এখন পর্যন্ত চোটের প্রকৃত অবস্থা বা কতটা গুরুতর, সে বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানায়নি মরক্কো ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন।

বর্তমানে চিকিৎসকদের নিবিড় পর্যবেক্ষণে রয়েছেন এই তারকা ফুটবলার। নিয়মিত ফিটনেস পরীক্ষা চলছে এবং কোয়ার্টার ফাইনালের আগে তার শারীরিক অবস্থার উন্নতি হয় কি না, সেটিই এখন দেখছে দলটির মেডিকেল স্টাফ। ম্যাচের আগে শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত অপেক্ষা করেই তার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে।

সাইবারির সম্ভাব্য অনুপস্থিতি মরক্কোর জন্য বড় ধাক্কা হতে পারে। চলতি বিশ্বকাপে আক্রমণভাগে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন তিনি। গতি, ড্রিবলিং ও সুযোগ তৈরির দক্ষতায় প্রতিপক্ষের রক্ষণকে নিয়মিত চাপে রেখেছেন এই উইঙ্গার। তাই ফ্রান্সের মতো শক্তিশালী প্রতিপক্ষের বিপক্ষে তাকে না পেলে মরক্কোর আক্রমণভাগে প্রভাব পড়তে পারে।

অন্যদিকে, ফ্রান্সের বিপক্ষে নিজেদের ইতিহাসে আরেকটি স্মরণীয় অধ্যায় লেখার স্বপ্ন দেখছে মরক্কো। ২০২২ বিশ্বকাপের সেমিফাইনালিস্টরা এবারও দুর্দান্ত ছন্দে রয়েছে। সেই ধারাবাহিকতা ধরে রেখে শেষ চারে জায়গা করে নেওয়াই তাদের লক্ষ্য। তবে সেই লড়াইয়ে সাইবারি খেলতে পারবেন কি না, সেটিই এখন মরক্কো শিবিরের সবচেয়ে বড় প্রশ্ন।
কোচ মোহাম্মদ ওয়াহবি অবশ্য গুরুত্বপূর্ণ এই ম্যাচে দলের অন্যতম সেরা ফুটবলারকে ফিরে পাওয়ার আশাতেই অপেক্ষা করছেন।

মিশরের বিপক্ষে যে একাদশ নিয়ে নামছে আর্জেন্টিনা

আর্জেন্টিনা বনাম মিসর ম্যাচকে সামনে রেখে শুরুর একাদশে তিনটি পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিয়েছেন আর্জেন্টিনা কোচ লিওনেল স্কালোনি। দলের অনুশীলন ও আর্জেন্টিনার বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে উঠে এসেছে, মিডফিল্ড, রক্ষণভাগ ও আক্রমণভাগে পরিবর্তন আনতে যাচ্ছেন বিশ্বকাপজয়ী এই কোচ।

ম্যাচপূর্ব সংবাদ সম্মেলনে স্কালোনি নিশ্চিত করেছেন যে, একাদশে অন্তত তিনটি পরিবর্তন থাকবে। এর মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন হচ্ছে মিডফিল্ডে। দীর্ঘদিন পর শুরুর একাদশে ফিরছেন লিয়ান্দ্রো পারেদেস। তাঁর ফেরায় জায়গা হারাতে পারেন থিয়াগো আলমাদা, যিনি আগের ম্যাচে একাদশে ছিলেন।

রক্ষণভাগেও আসছে পরিবর্তন। চোট কাটিয়ে বাঁ-প্রান্তের ডিফেন্ডার নিকোলাস তাগলিয়াফিকো আবারও প্রথম একাদশে ফিরছেন। আগের ম্যাচে ক্র্যাম্পের কারণে মাঠ ছাড়তে হয়েছিল ফাকুন্দো মেদিনাকে। ফলে তাঁর পরিবর্তে শুরু থেকেই খেলতে পারেন তাগলিয়াফিকো।

আক্রমণভাগেও বদলের আভাস মিলেছে। অধিনায়ক লিওনেল মেসির সঙ্গে এবার শুরু থেকেই দেখা যেতে পারে হুলিয়ান আলভারেজকে। টুর্নামেন্টের আগের ম্যাচগুলোতে শুরুর একাদশে থাকা মার্তিনেজকে এবার বেঞ্চে বসতে হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। আলভারেজের গতি ও প্রেসিং ক্ষমতাকে কাজে লাগাতেই এই পরিবর্তনের পরিকল্পনা করেছেন স্কালোনি।

অনুশীলনে স্কালোনি মিডফিল্ডে রদ্রিগো দি পলর জায়গায় নিকো গঞ্জালেজকে দিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষাও করেছেন। তবে ম্যাচের শুরু থেকেই এই পরিবর্তন দেখা যাওয়ার সম্ভাবনা কম। পরিস্থিতি অনুযায়ী দ্বিতীয়ার্ধে গঞ্জালেজকে মাঠে নামানো হতে পারে।

আর্জেন্টিনার একাধিক সংবাদমাধ্যমের দাবি, মিসরের বিপক্ষে প্রথম একাদশে নিশ্চিতভাবেই দেখা যেতে পারে পারেদেস, তাগলিয়াফিকো ও আলভারেজকে। এখন দেখার বিষয়, স্কালোনির কৌশল মাঠে কতটা সফল হয় এবং জয় দিয়ে আর্জেন্টিনা তাদের লক্ষ্য পূরণ করতে পারে কি না।

মিসরের বিপক্ষে আর্জেন্টিনার সম্ভাব্য একাদশ: এমিলিয়ানো মার্তিনেজ (গোলকিপার); নাহুয়েল মলিনা, ক্রিস্টিয়ান রোমেরো, লিসান্দ্রো মার্তিনেজ, নিকোলাস তাগলিয়াফিকো; রদ্রিগো দি পল, লিয়ান্দ্রো পারেদেস, অ্যালেক্সিস ম্যাক অ্যালিস্টার, এনজো ফার্নান্দেজ; হুলিয়ান আলভারেজ ও লিওনেল মেসি।

বিশ্বকাপ, লাল কার্ড ও ডোনাল্ড ট্রাম্পের ফোন কল বিতর্ক।

বিশ্বকাপ লাল কার্ড ট্রাম্প বিতর্ক

২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপে যুক্তরাষ্ট্রের স্ট্রাইকার ফোলারিন বালোগানের লাল কার্ড বিতর্ক যেন থামছেই না। বসনিয়া ও হার্জেগোভিনার বিপক্ষের বালোগান সরাসরি লাল কার্ড পাওয়ায় নিয়ম অনুযায়ী পরবর্তী ম্যাচ নিষিদ্ধ থাকার কথা যা বেলজিয়ামের বিপক্ষে। বাঁচা মরার লড়াইয়ের ম্যাচে বালোগান খেলতে পারবেন না এমন খবর চাউর হলে নড়ে চড়ে বসেন খোদ মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। বেলজিয়াম ম্যাচ সামনে রেখে ফিফা সভাপতির কাছে ট্রাম্প ফোনে সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করার অনুরোধ করলে ফিফা নীতি পরিবর্তন করে বালোগানকে খেলার অনুমতি দেন যা নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় ঝড় উঠে “বিশ্বকাপ, লাল কার্ড ও ডোনাল্ড ট্রাম্পের ফোন কল বিতর্ক” নিয়ে।

ট্রাম্প বিষয়টি নিয়ে সরাসরি ফোন করে বসেন ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনোকে। আর তাতেই লাল কার্ডের শান্তি কমে যায় বালোগানের। খেলতে নামেন বেলজিয়ামের বিপক্ষে কোয়ার্টার ফাইনালে উঠার ম্যাচে। যদিও বালোগানে ভর করে বেলজিয়াম বাধা অতিক্রম করতে পারেনি যুক্তরাষ্ট্র। কিন্তু তাতে থেমে নেই নেটিজেনদের সমালোচনা।

মার্কিন প্রেসিডেন্ড বলেন, “আমি কেবল সিদ্ধান্তটি পুনর্বিবেচনা করার অনুরোধ করেছিলাম, কারণ আমার মনে হয়নি ওটা কোন ফাউল ছিল। দুজন অ্যাথলেট পূর্ণ গতিতে দৌড়ানোর সময় একে অপরের সাথে ধাক্কা খেয়ে জড়িয়ে পড়েছিল মাত্র” তিনি আরো বলেন আমি ফিফাকে চাপ দেয়নি শুধু সিদ্ধান্তটি পুনর্বিবেচনা করার অনুরোধ করেছি।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনোর মধ্যকার কথোপকথনে বিশ্বকাপ চলাকালীন নিয়মের এমন নজিরবিহীন পরিবর্তনে বিশ্বকাপে কি কলঙ্ক লেপে দিলে? ফিফার এই আকস্মিক নিয়ম শিথিল করার সিদ্ধান্তে বেলজিয়াম ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন তীব্র বিস্ময় প্রকাশ করেছে অপরদিকে ফিফার সাবেক সভাপতি সেপ ব্ল্যাটার এই ঘটনার কঠোর সমালোচনা করে বলেন, রাজনৈতিক ফোনের মাধ্যমে ফুটবলের লাল কার্ড বা নিষেধাজ্ঞা এভাবে বাতিল হওয়া ক্রীড়াঙ্গনের নিরপেক্ষতাকেই শুধু প্রশ্নবিদ্ধ করেছে।

আফগান সাবেক ক্রিকেটার শাপুর জাদরান আর নেই

0

দীর্ঘ অসুস্থতার পর মারা গেলেন আফগানিস্তানের সাবেক পেসার শাপুর জাদরান। আফগানিস্তান ক্রিকেটের শুরুর দিকের অন্যতম পরিচিত মুখ শাপুর জাদরান আর নেই। বিরল রোগে দীর্ঘদিন ভোগার পর মঙ্গলবার তিনি মারা গেছেন।

দীর্ঘদিন বিরল রোগ হেমোফাগোসাইটিক লিম্ফোহিস্টিওসাইটোসিস (এইচএলএইচ)-এ ভুগছিলেন আফগানিস্তানের সাবেক পেসার শাপুর জাদরান। ভারতের দিল্লির একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মঙ্গলবার শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি।

এইচএলএইচ একটি বিরল রোগ, যেখানে শরীরের রোগ প্রতিরোধব্যবস্থা নিজের সুস্থ কোষ ও অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের ওপরই আক্রমণ চালায়। এতে লিভার, প্লীহা ও অস্থিমজ্জাসহ শরীরের বিভিন্ন অঙ্গে মারাত্মক জটিলতা দেখা দেয়। কয়েক সপ্তাহ আগে তার শারীরিক অবস্থার কিছুটা উন্নতি হলেও পরে আবার অবনতি হলে তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। শেষ পর্যন্ত চিকিৎসকদের সব চেষ্টা ব্যর্থ হয়।

আফগানিস্তান ক্রিকেটের উত্থানের সময়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল জাদরানের। দেশের হয়ে তিনি ৪৪টি একদিনের আন্তর্জাতিক ও ৩৬টি টি–টোয়েন্টি আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলেছেন। দুই সংস্করণ মিলিয়ে তার উইকেট ৮০টি।

২০১৫ সালের ওয়ানডে বিশ্বকাপে স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে শাপুর জাদরানের ব্যাট থেকে আসে জয়সূচক রান। সেই জয়ে প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপে ম্যাচ জয়ের স্বাদ পায় আফগানিস্তান। দেশটির ক্রিকেট ইতিহাসের অন্যতম স্মরণীয় মুহূর্ত হিসেবে এখনো সেই ম্যাচের কথা মনে করা হয়।

জাদরানের মৃত্যুতে আফগানিস্তান ক্রিকেটে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। সাবেক ও বর্তমান ক্রিকেটার, কর্মকর্তা এবং সমর্থকেরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তার প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়েছেন। আফগান ক্রিকেটের পথচলার শুরুর সময়ের অন্যতম এই পেসারের অবদান দেশটির ক্রিকেট ইতিহাসে দীর্ঘদিন স্মরণীয় হয়ে থাকবে।

এমবাপ্পেকে বর্ণবাদী গালি, প্যারাগুয়ের সংসদ সদস্যের মন্তব্যে সরকারের নিন্দা

বিশ্বকাপের শেষ ষোলোতে ফ্রান্সের কাছে ১-০ গোলে হারের পর ফরাসি অধিনায়ক কিলিয়ান এমবাপ্পেকে নিয়ে বর্ণবাদী মন্তব্য করে বিতর্কের জন্ম দিয়েছেন প্যারাগুয়ের বিরোধী দলের সিনেটর সেলেস্তে আমারিল্লা। তাঁর মন্তব্যের তীব্র নিন্দা জানিয়েছে প্যারাগুয়ে সরকার। একই সঙ্গে ফ্রান্স সরকার, প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল মাখোঁ এবং ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনোও এ ঘটনার নিন্দা করেছেন।

প্যারাগুয়ের প্রধান বিরোধী দল লিবারেল পার্টির সদস্য সেলেস্তে আমারিল্লা এমবাপ্পেকে ‘ঔপনিবেশিক ক্যামেরুনিয়ান’বলে উল্লেখ করেন। তিনি আরও দাবি করেন, এমবাপ্পে নিজেকে ফরাসি হিসেবে পরিচয় দেন এবং তাঁকে ‘অহংকারী’ ‘তিক্ত’ও ‘কুৎসিত’ বলে কটাক্ষ করেন। পাশাপাশি ম্যাচে এমবাপ্পে ‘মৃত্যুভয়ে ভীত’ছিলেন বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

এ ঘটনার পর প্যারাগুয়ের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানায়, সিনেটরের বক্তব্য দেশটির শান্তি, সম্প্রীতি ও মানবমর্যাদার নীতির পরিপন্থী। সরকার স্পষ্ট করে জানায়, এই মন্তব্য কোনোভাবেই প্যারাগুয়ে রাষ্ট্র বা দেশটির জনগণের অবস্থানকে প্রতিনিধিত্ব করে না।

বিতর্কিত মন্তব্যের জবাবে এমবাপ্পে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে লেখেন, ‘মিসেস সেলেস্তে আমারিল্লা, আপনি একজন ঘৃণ্য নারী এবং আপনার পদের যোগ্য নন। আপনি প্যারাগুয়ের প্রতিনিধিত্ব করেন না। এই পুরো টুর্নামেন্টে প্যারাগুয়ে আবেগ ও সম্মানের সঙ্গে লড়াই করেছে।’

ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল মাখোঁ এমবাপ্পের প্রতি হওয়া এই বর্ণবাদী আক্রমণের তীব্র নিন্দা জানিয়ে বলেন, ফরাসি দলের অধিনায়কের পাশে পুরো দেশ রয়েছে। এলিসি প্যালেস থেকেও জানানো হয়, বর্ণবাদের বিরুদ্ধে ফ্রান্স সবসময় কঠোর অবস্থানে থাকবে।

এদিকে ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো ইনস্টাগ্রামে এক বিবৃতিতে বলেন, পুরো ফুটবল বিশ্ব এমবাপ্পের পাশে রয়েছে। তিনি বর্ণবাদের বিরুদ্ধে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে লড়াই করার আহ্বান জানান।

আত্মবিশ্বাসী মিশর ইতিহাস গড়তে চায়

বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনার বিপক্ষে কঠিন লড়াইয়ের আগে আত্মবিশ্বাসী মিশর। দলটির প্রধান কোচ হোসাম হাসান জানিয়েছেন, লিওনেল স্কালোনির দলকে যথেষ্ট সম্মান করলেও তারা আর্জেন্টিনাকে ভয় পান না। বরং শেষ ষোলোর ম্যাচে নিজেদের সম্ভাবনাও সমানভাবে দেখছেন তিনি।

বাংলাদেশ সময় ৭ জুলাই রাত ১০টায় আটলান্টায় মুখোমুখি হবে আর্জেন্টিনা ও মিশর। ইতিহাসে প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপের কোয়ার্টার-ফাইনালে ওঠার স্বপ্ন নিয়ে মাঠে নামবে আফ্রিকার প্রতিনিধিরা।

মিশরের ফুটবল ইতিহাসে অন্যতম সেরা খেলোয়াড় হোসাম হাসান ১৯৯০ বিশ্বকাপে দেশের হয়ে খেলেছিলেন। জাতীয় দলের ইতিহাসে সর্বোচ্চ ৬৯ গোলের মালিক তিনি। এক গোল কম নিয়ে দ্বিতীয় স্থানে রয়েছেন বর্তমান অধিনায়ক মোহামেদ সালাহ।

এবারের বিশ্বকাপে প্রথমবারের মতো নকআউট পর্বের ম্যাচ জিতে নতুন ইতিহাস গড়েছে মিশর। শেষ বত্রিশের লড়াইয়ে টাইব্রেকারে অস্ট্রেলিয়াকে হারিয়ে শেষ ষোলো নিশ্চিত করে দলটি। সেই জয়ের আত্মবিশ্বাস নিয়েই আর্জেন্টিনার বিপক্ষে মাঠে নামতে চান কোচ হাসান।

সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, ‘খেলোয়াড় হিসেবে অনেক কিছু অর্জন করেছি। কোচ হিসেবে আরও বেশি কিছু অর্জন করতে পারলে আমি খুশি হব। আমাদের লক্ষ্য জাতীয় দলকে নিয়ে মিশরীয়দের গর্বিত করা এবং সেই লক্ষ্য পূরণে আমরা দৃঢ়প্রতিজ্ঞ।’

আর্জেন্টিনার শক্তিমত্তা নিয়েও বাস্তববাদী মন্তব্য করেন মিশর কোচ। ২০২২ বিশ্বকাপ জয়ের পাশাপাশি দুটি কোপা আমেরিকার শিরোপাও জিতেছে স্কালোনির দল। বর্তমানে ফিফা র‍্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষে থাকা লিওনেল মেসিদের দলকে অন্যতম সেরা বলেই স্বীকার করেছেন তিনি।

তবে শক্তিশালী প্রতিপক্ষকে ঘিরে ভীত নন হাসান। তার ভাষায়, ‘আর্জেন্টিনা দারুণ একটি দল এবং তারা বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন। কিন্তু ফুটবলে অসম্ভব বলে কিছু নেই। আমরা জানি কোনো দলের জন্যই সহজ ম্যাচ হবে না। আমরা আর্জেন্টিনাকে সম্মান করি, কিন্তু আমরা তাদের ভয় পাই না।’

এখন দেখার বিষয়, আত্মবিশ্বাসী মিশর বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনার বিপক্ষে চমক দেখাতে পারে কি না। অন্যদিকে কোয়ার্টার-ফাইনালে জায়গা নিশ্চিত করে শিরোপা ধরে রাখার মিশন এগিয়ে নিতে চাইবে স্কালোনির দল।

নেইমারের পর রোনালদো তবে কি বিশ্বকাপ শেষে মেসিও!

বিশ্বকাপ যখন বিদায় মঞ্চ

অনেক সঙ্কার পর বিশ্বকাপ স্কোয়াডে জায়গা হয়েছিল নেইমার জুনিয়রের, শুরুতে নিয়মিত দলে না থাকলেও গুরুত্বপুর্ণ ম্যাচে বদলি হিসেবে ভালই খেলছিলেন। রাউন্ড অব সিক্সটিনের বাঁচা মরার লড়াইায়ে নরওয়ের বিপক্ষে মাঠে নামলেন গোল করলেন কিন্তু ব্রাজিল হেরে গেল। শেষ হয়ে গেল বিশ্বকাপে ব্রাজিলের হেক্সা জয়ের স্বপ্ন। বিশ্বকাপ থেকে ব্রাজিলের এমন বিদায়ের ম্যাচে ব্রাজিলের হয়ে আন্তর্জাতিক ফুটবল ক্যারিয়ারের ইতি টেনেছেন আধুনিক ফুটবলের অন্যতম প্রতিভাবান এবং জনপ্রিয় ফুটবলার নেইমার। নেইমারের ক্যারিয়ার যেমন ছিল জাদুকরী পারফরম্যান্সে ভরা তেমনই আবার ইনজুরি ও নাটকীয়তায় মোড়ানো ছিল অনেকটা সময়। বিশ্বকাপ শেষের দিকে দুজন খেলোয়াড়ের বিদায় বেলায় একটা প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে মনের গহীনে আর তা হল; নেইমারের পর রোনালদো তবে কি বিশ্বকাপ শেষে মেসিও!

নেইমারের পর রোনালদো তবে কি বিশ্বকাপ শেষে মেসিও!

বিদায় বেলায় সর্বকালের সেরা ফুটবলার পেলের আন্তর্জাতিক ৭৭ গোলকে পেছনে ফেলে নেইমার ১৩১ ম্যাচে ৮১ গোলের রেকর্ড ঝুলিতে ভরেছেন। গতি, ড্রিবলিং, স্কিল এবং ক্রিয়েটিভিটির জন্য নেইমারকে রোনালদিনহো ও পেলের যোগ্য উত্তরসূরি মনে করা হতো কিন্তু ইনজুরির কারণে ক্যারিয়ারের অনেকটা সময় বাধাগ্রস্ত হয়, তবে ব্রাজিলের জার্সিতে নিঃসন্দেহে তার ফুটবলীয় অবদান তাকে অবশ্যই ইতিহাসের অন্যতম সেরাদের কাতারে রাখবে।

ফুটবল ইতিহাসের সর্বকালের অন্যতম শ্রেষ্ঠ গোলদাতা ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোর ক্যারিয়ার এক অবিশ্বাস্য রূপকথার গল্প গাঁথায় ভরা। তার গতি, নিখুঁত ফিনিশিং, কঠোর পরিশ্রম এবং মানসিকতা তাকে ফুটবলের রেকর্ড চূড়ায় নিয়ে গেছে। ২৩২ ম্যাচে ১৪৬ গোল আর ৫টি ব্যালন ডি অর, ইউরো চ্যাম্পিয়নশিপ ও উয়েফা নেশনস লিগ শিরোপা দেশকে উপহার দিলেও বিশ্বকাপ যেন অধরা ছিল রোনালদোর কাছে আর এই আক্ষেপ নিয়ে নিজের ৬ষ্ট বিশ্বকাপটা রাঙ্গিয়ে দিতে চেয়েছিলেন রোনালদো। ক্লাব ফুটবলের সকল রেকর্ড পুর্ণ হলেও শুধু বিশ্বকাপটাই অধরা ছিল কিন্তু বিশ্বকাপে কোয়ার্টারে ওঠার ম্যাচে ৪১ বছর বয়সী রোনালদো হার মানলেন স্পেনের কাছে ১-০ গোলে হেরে। আর তাতেই আন্তর্জাতিক ফুটবলের পাট চুকিয়ে বিদায় বললেন ফুটবলকে। আসলে রোনালদো না যতটা পর্তুগালের তারকা তার চেয়ে বেশী যেন বিশ্ব ফুটবলের তারকা তাইতো বিদায় বেলায় শুধু তার চোখেই পানি ছিলনা বিশ্বময় অনেক ভক্ত সমর্থকরাও কেঁদেছে তার জন্য।

নেইমারের পর রোনালদো তবে কি বিশ্বকাপ শেষে মেসিও!

নতুন অভিযানে আর্জেন্টাইন অধিনায়ক

বিশ্ব ফুটবলের সর্বকালের সেরা কে? এই প্রশ্নে যে নাম দুটি প্রথমে আসবে তা হল পেলে এবং ম্যারাডোনা আর তার পরেই আসবে লিওনেল মেসি। আপাতত উত্তরটা কি হবে তা আপাতত থাক, এবার মেসিকে নিয়ে না হয় কিছু অনুমান করা যাক, না তাকে নিয়ে তো অনুমান করলে তিনি আবার ভুল প্রমাণ করেন, রোনালদোর মতই ক্লাব ফুটবলের সকল অর্জন পুর্ণ করলেও শুধু বিশ্বকাপের স্বপ্নটাই ছিল তার কাছে আকাশের চাঁদ তবে সেই স্বপ্ন ২০২২ সালে পুরণ করেছিলেন। সেই বিশ্বকাপ জয়ের পর নতুন গুঞ্জন উটেছিল বিদায়ের, এবার মনে হয় মেসি বিদায় বলবেন আন্তর্জাতিক ফুটবলকে কিন্তু না থেমে যাননি, অবসরের বিষয়টা মেসি পরিস্কার করে বলেননি আবার জাতীয় দলের হয়ে নিয়মিত খেলবেন এটাও পরিস্কার না করে খেলা চালিয়ে যাওয়া মেসি যেন নিজের দিকে তাকিয়েছেন আর ভেবেছেন আর কত? কিন্ত যার মধ্যে ফুটবলের অনন্ত ক্ষুধা লুকায়িত তিনি নিজেও হয়তো বুঝতে পারেননি তাকে কোথায় থামতে হবে এ যেন স্কালোনি-মেসি জুটির অপুর্ব মেলবন্ধন যা মেসিকে নিয়ে এলো আরেকটা বিশ্বকাপের মঞ্চে।

মেসি ক্যারিয়ারের ৮টি ব্যালন ডি অর, ২টি বিশ্বকাপে গোল্ডেন বল জয়, ফুটবলের ইতিহাসের সবচেয়ে বেশী ট্রফি জয়ী খেলোয়াড় আর চলমান বিশ্বকাপের সর্বোচ্চ ৭টি গোল করে বিশ্বকাপের ইতিহাসে সর্বোচ্চ ২০টি গোলদাতা মেসি কি তবে এবার নেইমার, রোনালদোর মত বিশ্বকাপটা শেষ করে বিদায় বলবেন আন্তর্জাতিক ফুটবলকে? আসলে রেকর্ড দিয়ে মাপা যায় নিদিষ্ট মাপের কিছু খেরোয়াড়কে কিন্তু কোন খেলোয়াড় যখন আকাশের মত বিশাল হয়ে যান তখন তাকে মাপার সাধ্য আর রেকর্ডের থাকেনা, মেসি হলেন সেই রকম ফুটবলের মহীরুহ যাকে দেখতে হয় শুধুই আকাশের দিকে তাকিয়ে। তাই এখন শুধুই অপেক্ষার পালা কবে কখন থামবেন ফুটবল ইতিহাসের অবিসংবাদিত শ্রেষ্ঠ খেলোয়াড় মহাকাব্যিক লিওনেল মেসি!