বৈভব সূর্যবংশীর রেকর্ডের ছড়াছড়ি অব্যাহত রয়েছে বিস্ময়কর পারফরম্যান্স ধরে রেখে। আজ তিনি ৩৭ বলে ৫টি চার ও ১২টি ছক্কায় ১০৩ রানের ইনিংস খেলার পথে গড়েছেন আরো রেকর্ড। তবে এরপরও তার দল রাজস্থান রয়্যালস পাঁচ উইকেটে হেরেছে সানরাইজার্স হায়দরাবাদের কাছে।
শনিবার বৈভব সূর্যবংশীর রেকর্ডের ছড়াছড়ি দেখেছে জয়পুর। তার রেকর্ডময় সেঞ্চুরির সুবাদে রাজস্থান ২০ ওভারে ছয় উইকেটে ২২৮ রান করে। কিন্তু হায়দরাবাদ ১৮.৩ ওভারে পাঁচ উইকেট হারিয়ে ২২৯ রান তুলে জয় ছিনিয়ে নেয়। অভিষেক শর্মা ২৯ বলে ১১ চার, ১টি ছয়ে ৫৭ ও ইশান কিষাণ ৩১ বলে ১১টি চার, ৩টি ছক্কায় ৭৪ রান করেন।
বৈভব সূর্যবংশীর রেকর্ডের ছড়াছড়ি
৩৬ — হায়দরাবাদের বিরুদ্ধে সেঞ্চুরি করতে বৈভব সূর্যবংশীর নেওয়া বলের সংখ্যা এটি, যা আইপিএল ইতিহাসের তৃতীয় দ্রুততম। দ্রুততম সেঞ্চুরির রেকর্ডটি ক্রিস গেইলের। তিনি ২০১৩ সালে পুনে ওয়ারিয়র্সেল বিপক্ষে ৩০ বলে সেঞ্চুরি করেন। আর গত বছর গুজরাট টাইটান্সের বিপক্ষে সূর্যবংশেই ৩৫ বলে সেঞ্চুরি করেছিলেন।
সূর্যবংশী প্রথম ব্যাটার হিসেবে আইপিএলে ৪০ বলের কম খেলে একাধিক সেঞ্চুরি করার নজির গড়লেন। সামগ্রিকভাবে, টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে ৪০ বলের নিচে তার তিনটি সেঞ্চুরি রয়েছে, যা অভিষেক শর্মা এবং উরভিল প্যাটেলের সাথে যৌথভাবে সর্বোচ্চ।

১২ — শনিবার সূর্যবংশী যে ১২টি ছক্কা মেরেছেন, তা আইপিএলের এক ইনিংসে কোনো ভারতীয় ব্যাটারের মারা সর্বোচ্চ ছক্কা। এর আগে সর্বোচ্চ ছিল ১১টি, যা মুরলী বিজয় রাজস্থান রয়্যালসের বিপক্ষে এবং গত বছর সূর্যবংশী নিজে গুজরাট টাইটানসের বিপক্ষে মেরেছিলেন। আইপিএলের এক ইনিংসে ১২টির বেশি ছক্কা মারার ঘটনা ঘটেছে মাত্র তিনবার।
সূর্যবংশী আইপিএলে একাধিক ইনিংসে ১০ বা তার বেশি ছক্কা মারা তৃতীয় ব্যাটার। গেইল এটি চারবার করেছেন, আর অভিষেকেরও এমন দুটি ইনিংস রয়েছে।
১৫ — এদিন সূর্যবংশী হাফ-সেঞ্চুরি করতে খেলেছেন মাত্র ১৫টি বল। এটি আইপিএলে তার যৌথ দ্রুততম। এই মৌসুমেই চেন্নাই সুপার কিংস এবং রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরুর বিপক্ষেও তিনি ১৫ বলে ফিফটি করেছিলেন।
আইপিএলে ১৫ বা তার কম বলে তিনটি ফিফটি করা প্রথম খেলোয়াড় সূর্যবংশী। সব ধরনের টি-টোয়েন্টি মিলিয়ে অভিষেক শর্মার (চারটি) পর সূর্যবংশীই একমাত্র ব্যাটার যার ১৫ বা তার কম বলে তিনটি বা তার বেশি ফিফটি রয়েছে।
বল ও রানের রেকর্ড
৪৭৩ — টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে ১০০০ রান পূর্ণ করতে সূর্যবংশী ৪৭৩ বল খেলেছেন। বল খেলার দিক থেকে পুরুষদের টি-২০ ক্রিকেটে তিনি দ্রুততম ১০০০ রানের মাইলফলকে পৌঁছেছেন। এর আগে দ্রুততম ছিলেন মিচেল ওয়েন (৫৩৩ বলে)।
২৬- সূর্যবংশী পুরুষদের টি-টোয়েন্টিতে ১০০০ রান পূর্ণ করা সর্বকনিষ্ঠ খেলোয়াড়। ১৮ বছর বয়সের আগে আর কোনো খেলোয়াড় এই উচ্চতায় পৌঁছাতে পারেননি। ইনিংসের হিসেবে তিনি দেবদূত পাডিক্কালের (২৫ ইনিংস) পর দ্বিতীয় দ্রুততম ভারতীয়। সূর্যবংশী ২৬ ইনিংসে এটি সম্পন্ন করেছেন।

১৫ — আইপিএলে ৫০টি ছক্কা মারতে সূর্যবংশী খেলেছেন মাত্র ১৫ ইনিংস। এটি দ্রুততম। তিনি ক্রিস গেইলের রেকর্ডকে ৬ ইনিংস ব্যবধানে (২১ ইনিংস) ছাড়িয়ে গেছেন। বলের হিসেবেও তিনি দ্রুততম। শনিবারই প্রিয়াংশ আর্য ৩৬০ বলে এই মাইলফলক ছুঁয়ে আগের রেকর্ডটি গড়েছিলেন, যা সূর্যবংশী ভেঙে দিলেন।
২৬ — টি-টোয়েন্টিতে চারটি সেঞ্চুরি করতে সূর্যবংশী ২৬ ইনিংস খেলেছেন। পুরুষদের ক্রিকেটে তিনি দ্রুততম হিসেবে উসমান খানকে (৩৩ ইনিংস) পেছনে ফেলেছেন। আইপিএলে ১৫ ইনিংসে তার দুটি সেঞ্চুরি রয়েছে, যা একটি রেকর্ড। হাশিম আমলা তার প্রথম ১৬ ইনিংসে দুটি আইপিএল সেঞ্চুরি করেছিলেন, আর গেইলের লেগেছিল ২০ ইনিংস।
সংক্ষিপ্ত স্কোর
রাজস্থান- ২২৮/৬; ২০ ওভার (সূর্যবংশী ১০৩, জুরেল ৫১, ফেরেইরা ৩৩; মালিঙ্গা ২/৩৮, নীতিশ রেড্ডি ১/২০, কামিন্স ১/২৭)।
হায়দরাবাদ- ২২৯/৫; ১৮.৩ ওভার (কিষাণ ৭৪, অভিষেক ৫৭, নীতিশ রেড্ডি ৩৬, ক্লাসেন ২৯; আর্চার ২/৩৪, ব্রিজেশ ২/৪৪)।
ফল : সানরাইজার্স হায়দরাবাদ ৫ উইকেটে জয়ী।
ম্যাচসেরা : ইশান কিষাণ।
স্কোর কার্ড
বিশ্বকাপ ২০২৩

















