ডারবানে প্রথম ওয়ানডেতে দুর্দান্ত জয়ের পর সিরিজে এগিয়ে আছে দক্ষিণ আফ্রিকা। এবার জোহানেসবার্গে দ্বিতীয় ম্যাচে মাঠে নামছে দুই দল। ঘরের মাঠে আরেকটি জয় তুলে নিয়ে সিরিজ নিজেদের করে নেওয়ার লক্ষ্য স্বাগতিকদের। অন্যদিকে প্রথম ম্যাচের ব্যর্থতা ভুলে ঘুরে দাঁড়াতে মরিয়া অস্ট্রেলিয়া।
সিরিজের প্রথম ম্যাচে দক্ষিণ আফ্রিকার জয়টা এসেছে দারুণ এক দলীয় পারফরম্যান্সের মাধ্যমে। ব্যাট হাতে ম্যাথিউ ব্রেটজকে ও মার্কো ইয়ানসেনের গুরুত্বপূর্ণ জুটি দলকে শক্ত অবস্থানে পৌঁছে দেয়। পরে বল হাতে স্পিনার কেশব মহারাজের নেতৃত্বে অস্ট্রেলিয়ার ব্যাটিং লাইনআপকে চাপে ফেলে স্বাগতিকরা।
প্রথম ম্যাচের শিক্ষা নিয়ে মাঠে অস্ট্রেলিয়া
ডারবানে রান তাড়ায় অস্ট্রেলিয়ার শুরুটা ছিল দুর্দান্ত। মিচেল মার্শ মাত্র ৩৬ বলে ৬০ রানের ঝড়ো ইনিংস খেলেন। তার ব্যাটিংয়ে একপর্যায়ে অস্ট্রেলিয়ার জয়ের পথও বেশ সহজ মনে হচ্ছিল।
তবে মহারাজের বলে মার্শ আউট হওয়ার পর ম্যাচের চিত্র পাল্টে যায়। অস্ট্রেলিয়ার পরের ব্যাটাররা প্রয়োজনীয় রানরেট খুব বেশি না থাকা সত্ত্বেও স্পিনের বিপক্ষে ঝুঁকি নিয়ে বড় শট খেলতে থাকেন। একের পর এক উইকেট হারিয়ে শেষ পর্যন্ত ম্যাচ থেকে ছিটকে যায় তারা।
দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে অস্ট্রেলিয়ার জন্য স্পিন মোকাবিলা বরাবরই একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। বিশেষ করে বাঁহাতি স্পিনের বিরুদ্ধে সাম্প্রতিক ওয়ানডে রেকর্ড তাদের জন্য খুব স্বস্তিদায়ক নয়। জোহানেসবার্গে সেই জায়গাটি আবারও পরীক্ষার মুখে পড়তে পারে।
ব্রেটজকে-ইয়ানসেনের জুটিতে শক্ত ভিত
প্রথম ওয়ানডেতে দক্ষিণ আফ্রিকার ইনিংসও একসময় চাপে ছিল। সেই পরিস্থিতি সামাল দেন ম্যাথিউ ব্রেটজকে ও মার্কো ইয়ানসেন।
দুজনের ব্যাটে গড়ে ওঠা ১০৭ রানের জুটি ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেয়। ব্রেটজকে আবারও নিজের প্রতিভার প্রমাণ দিয়েছেন এবং অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ওয়ানডেতে তার ধারাবাহিকতা নজর কেড়েছে।
ইয়ানসেনও ব্যাট হাতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখার পাশাপাশি বল হাতে দলের জন্য কার্যকর ভূমিকা রেখেছেন। তার নেওয়া একটি দুর্দান্ত ক্যাচও ম্যাচের আলোচিত মুহূর্তগুলোর একটি হয়ে আছে।
নজরে ডেভিড মিলার
প্রথম ম্যাচে বড় ইনিংস খেলতে পারেননি ডেভিড মিলার। ২৫ বল খেলে মাত্র ৯ রান করে নাথান এলিসের বলে ফিরতে হয় তাকে।
তবে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে মিলারের অতীত রেকর্ড দক্ষিণ আফ্রিকার জন্য আশাব্যঞ্জক। এই প্রতিপক্ষের বিপক্ষে ওয়ানডেতে তার ব্যাটিং গড় ৫০-এর ওপরে এবং রয়েছে তিনটি সেঞ্চুরিও। ফলে দ্বিতীয় ম্যাচে তার কাছ থেকে বড় ইনিংস আশা করতেই পারে স্বাগতিকরা।
অস্ট্রেলিয়ার ভরসা ক্যামেরন গ্রিন
জিম্বাবুয়ে সিরিজে কাঁধের সমস্যার কারণে খেলতে না পারা ক্যামেরন গ্রিন প্রথম ম্যাচে দলে ফিরেছেন। তবে এখনো বোলিংয়ে পুরোপুরি ফিরেননি তিনি।
ব্যাট হাতে প্রথম ম্যাচে ভালো কিছু করার সুযোগ থাকলেও মহারাজের বলে লং-অনে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন গ্রিন। তারপরও গত বিশ্বকাপের পর ওয়ানডে ক্রিকেটে তার পরিসংখ্যান বেশ ভালো। ১৪ ইনিংসে তার গড় ৪৬-এর বেশি।
দ্বিতীয় ম্যাচে ব্যাট হাতে গ্রিনের ভূমিকা অস্ট্রেলিয়ার জন্য গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে।
কামিন্স ফিরবেন কি?
অস্ট্রেলিয়ার একাদশ নিয়ে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন প্যাট কামিন্সকে ঘিরে। তিনি এখনো দলের আনুষ্ঠানিক ওয়ানডে অধিনায়ক হলেও ২০২৩ বিশ্বকাপের ফাইনালের পর মাত্র দুটি ওয়ানডে খেলেছেন।
টেস্ট সিরিজ সামনে রেখে কামিন্সকে ম্যাচে ফেরানোর পরিকল্পনা থাকলে জোহানেসবার্গে তার মাঠে নামার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে খেললে তিনিই অধিনায়কত্ব করবেন কি না, সেটিও এখনো নিশ্চিত নয়।
এদিকে জশ হ্যাজলউড ও মিচেল স্টার্কের ওপরও নজর থাকবে। টেস্ট সিরিজ সামনে থাকায় তাদের ব্যবহারের ক্ষেত্রে অস্ট্রেলিয়া কতটা সতর্ক থাকে, সেটিও ম্যাচের গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হতে পারে।
দক্ষিণ আফ্রিকাতেও পরিবর্তনের সম্ভাবনা
স্বাগতিক দলে আইডেন মার্করামের ফেরার সম্ভাবনা রয়েছে। তিনি ফিরলে ব্যাটিং অর্ডারে জায়গা করে নেওয়ার পাশাপাশি অফস্পিন দিয়ে অতিরিক্ত বোলিং বিকল্পও দিতে পারবেন।
মার্করামকে একাদশে নেওয়া হলে দক্ষিণ আফ্রিকা একজন বিশেষজ্ঞ পেসার বাড়ানোর সুযোগ পেতে পারে। প্রথম ম্যাচে ভালো বল করা বিজর্ন ফোর্টুইনের জায়গা নিয়েও তাই আলোচনা রয়েছে।
জোহানেসবার্গের উইকেট
ওয়ান্ডারার্স সাধারণত ভালো গতি ও বাউন্স পাওয়া ব্যাটিং উইকেটের জন্য পরিচিত। এখানে ব্যাটাররা শট খেলার সুযোগ পান, তবে ম্যাচ এগোনোর সঙ্গে সঙ্গে বোলাররাও কার্যকর হতে পারেন।
আবহাওয়ার পূর্বাভাসও ম্যাচের জন্য অনুকূল। শুষ্ক, রৌদ্রোজ্জ্বল ও উষ্ণ আবহাওয়া প্রত্যাশা করা হচ্ছে।
পরিসংখ্যানে নজর
অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে মার্কো ইয়ানসেনের রেকর্ডও বেশ উল্লেখযোগ্য। সাতটি ওয়ানডে ইনিংসের মধ্যে মাত্র একবার ২৩ রানের নিচে আউট হয়েছেন তিনি। তার স্ট্রাইক রেটও ১২৪-এর ওপরে।
অন্যদিকে নাথান এলিস চলতি বছরে পেসারদের মধ্যে ওয়ানডেতে সবচেয়ে বেশি উইকেটশিকারিদের তালিকায় ওপরের দিকেই আছেন। তার শিকার ২২ উইকেট।
আর ম্যাথিউ ব্রেটজকের জন্য অস্ট্রেলিয়া যেন বিশেষ এক প্রতিপক্ষ। তাদের বিপক্ষে নিজের তিনটি ওয়ানডে ইনিংসে তার রান যথাক্রমে ৫৭, ৮৮ ও ১১২। অর্থাৎ প্রতিবারই তিনি পঞ্চাশের ঘর পার করেছেন।
সিরিজে সমতা ফেরানোর চ্যালেঞ্জ অস্ট্রেলিয়ার
প্রথম ম্যাচের পর দক্ষিণ আফ্রিকা এখন আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে দ্বিতীয় ওয়ানডেতে নামবে। একটি জয় তাদের সিরিজও নিশ্চিত করে দিতে পারে।
অন্যদিকে অস্ট্রেলিয়ার সামনে লক্ষ্য একটাই—হার এড়িয়ে সিরিজে সমতা ফেরানো। ডারবানের ভুলগুলো শুধরে জোহানেসবার্গে তারা কীভাবে নিজেদের পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করে, সেটিই ম্যাচের অন্যতম আকর্ষণ।
দুই দলের লড়াইয়ে তাই শুধু ব্যাট-বলের দ্বৈরথ নয়, কৌশলগত দিক থেকেও দ্বিতীয় ওয়ানডেটি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।


