বেলজিয়ামের বিপক্ষে শেষ মুহূর্তের গোলে নাটকীয় জয় পেয়েছে ফ্রান্স। উয়েফা নেশনস লিগের এ১ গ্রুপের ম্যাচে ব্রাসেলসে স্বাগতিকদের ১-০ গোলে হারিয়েছে ফরাসিরা। ম্যাচের ৮৯ মিনিটে দুর্দান্ত একক প্রচেষ্টায় জয়সূচক গোল করেন মাইকেল ওলিসে।
ম্যাচজুড়ে বল দখল ও আক্রমণে এগিয়ে ছিল ফ্রান্স। একাধিক গোলের সুযোগ তৈরি করেও নির্ধারিত সময়ের শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত বেলজিয়ামের জাল খুঁজে পাচ্ছিল না তারা। শেষ পর্যন্ত বদলি হিসেবে মাঠে নামা ওলিসের অসাধারণ গোলে কাঙ্ক্ষিত জয় নিশ্চিত করে ফ্রান্স।
তুরস্কের বিপক্ষে ১-০ গোলের জয়ের ম্যাচের একাদশ থেকে নয়টি পরিবর্তন নিয়ে মাঠে নামে ফ্রান্স। শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবলে বেলজিয়ামকে চাপে রাখে সফরকারীরা। ম্যাচের প্রথম বড় সুযোগ আসে দেজিয়ে দুয়ের কাছ থেকে। তার শট বেলজিয়ামের ক্রসবারে লেগে ফিরে আসে।
এরপর দুয়ের ক্রস থেকে গোলের সুযোগ পেয়েছিলেন এস্তেবান লেপল। গোলরক্ষক সেন লামেন্সকে একা পেয়েও সরাসরি তার হাতেই শট নেন ফরাসি ফরোয়ার্ড। ফলে গোলবঞ্চিত থাকে ফ্রান্স। মাঝে পাল্টা আক্রমণে সুযোগ তৈরি করে বেলজিয়াম। ডান দিক দিয়ে আক্রমণ থেকে কেভিন ডি ব্রুইনের বিপজ্জনক কাটব্যাক ফরাসি বক্স অতিক্রম করলেও বল পা বাড়িয়ে কাজে লাগানোর মতো কোনো সতীর্থকে পাননি তিনি।
পেনাল্টির আবেদন নাকচ
ফ্রান্সের ব্র্যাডলি বারকোলাকে বক্সের মধ্যে ব্র্যান্ডন মেখেলের ধাক্কা দেওয়ার অভিযোগ উঠলেও পেনাল্টির আবেদন নাকচ করে দেন রেফারি। এরপর মাঝমাঠ থেকেই ফ্রান্সের গোলরক্ষক মাইক মাইয়াঁকে চমকে দেওয়ার চেষ্টা করেন ডি ব্রুইনে। তবে তার প্রচেষ্টা সফল হয়নি।
প্রথমার্ধে ফ্রান্সই ছিল বেশি আক্রমণাত্মক। ম্যাগনেস আকলিউশের ফ্রি-কিক থেকে বেলজিয়ামের রক্ষণে ব্যস্ততা তৈরি হয়। একের পর এক বাধা পেরিয়ে শেষ পর্যন্ত বল বিপদমুক্ত করেন স্বাগতিকদের ডিফেন্ডাররা।

দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতে কিছুটা ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করে বেলজিয়াম। তিমোথি কাস্তানিয়ে বিপজ্জনক ক্রস পাঠিয়েও সতীর্থদের কাউকে খুঁজে পাননি। তবে এরপর আবারও ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নেয় ফ্রান্স। দুয়ের নিজের দক্ষতায় বেলজিয়ামের রক্ষণ ভেঙে শট নেন, কিন্তু অল্পের জন্য লক্ষ্যভ্রষ্ট হয় সেটি। এরপর দূরপাল্লার শটে পোস্টে বল লাগান লুকা দা কুনহা। ফ্রান্সের আক্রমণের চাপ বাড়তে থাকলে দুর্দান্ত সেভে দলকে রক্ষা করেন লামেন্স। দুএর আরেকটি প্রচেষ্টাও আঙুলের ডগায় ঠেকিয়ে দেন বেলজিয়ামের গোলরক্ষক।
মাইকেল ওলিসের দুর্দান্ত একক প্রচেষ্টা
ম্যাচের শেষ দিকে অবশ্য ফ্রান্সকেও কঠিন পরীক্ষার মুখে পড়তে হয়। পাল্টা আক্রমণে চার্লস দে কেতেলারে বল বাড়িয়ে দেন দোদি লুকেবাকিওকে। তবে তার শট দুর্দান্ত দক্ষতায় ঠেকিয়ে দেন মাইয়াঁ। কিছুক্ষণ পর আবারও লুকেবাকিওর প্রচেষ্টা রুখে দেন ফ্রান্সের গোলরক্ষক। শেষ পর্যন্ত ম্যাচের ৮৯ মিনিটে আসে কাঙ্ক্ষিত গোল। মাঠে নামার মাত্র ১২ মিনিটের মধ্যেই অসাধারণ একক প্রচেষ্টায় ফ্রান্সকে এগিয়ে দেন মাইকেল ওলিসে। নিজেদের অর্ধ থেকে বল নিয়ে এগিয়ে চার বেলজিয়ান ডিফেন্ডারকে কাটিয়ে বক্সে ঢুকে নিচের বাঁ কোণ দিয়ে নিখুঁত শটে বল জালে পাঠান তিনি।




