ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোকে ছোটবেলা থেকেই আদর্শ মানেন কিলিয়ান এমবাপ্পে। পর্তুগিজ তারকার প্রতি নিজের মুগ্ধতার কথা বিভিন্ন সময়েই জানিয়েছেন ফ্রান্সের এই ফরোয়ার্ড। তবে ক্যারিয়ারের স্থায়িত্বের দিক থেকে রোনালদোকে অনুসরণ করার সম্ভাবনা দেখছেন না তিনি। কারণ, ফ্রান্স জাতীয় দলের হয়ে ৪১ বছর বয়স পর্যন্ত খেলার সুযোগ পাওয়া কঠিন বলেই মনে করেন এমবাপ্পে।
৪১ বছর বয়সেও আন্তর্জাতিক ফুটবলে খেলছেন রোনালদো। গত বিশ্বকাপের পরও জাতীয় দল থেকে অবসর নেননি তিনি। বয়স নিয়ে নানা আলোচনা থাকলেও পর্তুগালের হয়ে এখনো মাঠে নামছেন এই তারকা। অবসরের সময় নিয়েও এখন পর্যন্ত নির্দিষ্ট কোনো ঘোষণা দেননি তিনি।
অন্যদিকে নেশন্স লিগে ফ্রান্সের নেতৃত্ব দেবেন এমবাপ্পে। ভবিষ্যতে আরও এক দশকের বেশি সময় ফ্রান্সের জার্সিতে তাঁকে দেখা যাবে কি না জার্মান সংবাদমাধ্যম ‘বিল্ড’ এর সাক্ষাৎকারে এমন প্রশ্নের মুখোমুখি হন তিনি।
উত্তরে এমবাপ্পে বলেন,
সত্যি বলতে, আমি যে দেশের হয়ে খেলি, সেটি বিবেচনা করলে এটা সম্ভব নয়। ফ্রান্স আমাকে কখনোই ৪১ বছর বয়সে খেলতে দেবে না।
রোনালদোর উদাহরণ টানলেন এমবাপ্পে
রোনালদোর উদাহরণ টেনে এমবাপ্পে আরও বলেন, ‘ক্রিশ্চিয়ানো প্রমাণ করেছেন, শারীরিক ও মানসিকভাবে ফিট থাকলে দীর্ঘদিন সর্বোচ্চ পর্যায়ে খেলা সম্ভব। তবে আমার ক্ষেত্রে এমনটা হওয়ার সম্ভাবনা দেখি না। সাক্ষাৎকারে ফরাসি সতীর্থ মাইকেল ওলিসেকে নিয়েও কথা বলেছেন এমবাপ্পে। বায়ার্ন মিউনিখের এই ফরোয়ার্ডকে রিয়াল মাদ্রিদে নেওয়ার গুঞ্জন একসময় বেশ জোরালো হয়েছিল। তবে শেষ পর্যন্ত সেই দলবদল হয়নি।
ওলিসেকে রিয়াল মাদ্রিদে যাওয়ার পরামর্শ দেবেন কি না-এমন প্রশ্নের জবাবে এমবাপ্পে বলেন, কোনো ফুটবলারকে দলবদল নিয়ে পরামর্শ দেওয়া তাঁর কাছে ঠিক মনে হয় না।
ওলিসের রিয়াল মাদ্রিদে আসা নিয়ে জল্পনা-কল্পনা আমারও জানা ছিল। তবে এ ধরনের পরিস্থিতি আমি ভালোভাবেই চিনি। পিএসজিতে থাকাকালে আমাকেও নিয়ে এমন অসংখ্য গুঞ্জন হয়েছে,’ বলেন এমবাপ্পে।
তিনি আরও বলেন,
আমি মনে করি, একজন ফুটবলারকে দলবদল নিয়ে পরামর্শ দেওয়া অসম্মানজনক। বায়ার্নের প্রতিও এটি অন্যায় হবে। বিশেষ করে বায়ার্ন যেহেতু দুর্দান্ত একটি ক্লাব, যেখানে মাইকেল অনেক কিছু অর্জন করতে পারে। তবে একটা বিষয় পরিষ্কার-বিশ্বের প্রতিটি ক্লাবই মাইকেল ওলিসেকে দলে পেতে চাইবে। সে অসাধারণ একজন ফুটবলার।
পিএসজি ছেড়ে রিয়াল মাদ্রিদে যোগ দেওয়ার পর এখনো বড় কোনো শিরোপা জিততে পারেননি এমবাপ্পে। স্বপ্নের ক্লাবে যোগ দিলেও দলীয় সাফল্যের দিক থেকে প্রত্যাশিত অর্জন এখনো আসেনি। নতুন মৌসুমের শুরুটাও খুব একটা স্বস্তিদায়ক হয়নি।
তবে রিয়ালের কোচ জোসে মরিনিয়োর ওপর আস্থা রাখছেন এমবাপ্পে। তাঁর ভাষায়, ‘জোসে মরিনিয়ো অত্যন্ত বুদ্ধিমান। এ কারণেই তিনি ক্যারিয়ারে এত বড় সাফল্য অর্জন করতে পেরেছেন। তিনি আমাদের ফুটবলারদের খুব কাছের এবং আমাদের প্রতি তাঁর সত্যিকারের আগ্রহ রয়েছে। তিনি একজন নেতা। আমাদের কাছ থেকে সেরাটা কীভাবে বের করে আনতে হয়, তা তিনি জানেন।




