বাংলাদেশ-আফগানিস্তান টেস্ট, সাগরিকার ২২৪ রানের ক্ষত শুকায়নি!

বাংলাদেশ-আফগানিস্তান টেস্ট

বাংলাদেশের ১৮ বছর পর টেস্ট খেলা শুরু করে প্রথম দেখাতেই ২০১৯ সালে বাংলাদেশকে আফগানিস্তান ২২৪ রানে হারিয়ে যে জয়োল্লাস করেছিল তা যে সেদিন শুধু সাগরিকার আকাশ বাতাসকে ভারি করেছিল তা নয় সেদিন সাকিব, রিয়াদ আর মুশফিকদের চোখের দৃষ্টি অনেকটাই ঝাপসা করে দিয়েছিল, বাকরুদ্ধ হয়ে পড়েছিল বাংলা ধারাভাষ্য কক্ষ, উপস্থিত দর্শক আর রেডিও শ্রোতাদের হৃদয় ভেঙ্গে খান খান করে দিয়েছিল রহমত শাহ আর আজগর আফগানের ব্যাটিং। সেদিন আমরা ভাষাহীন হয়ে পড়েছিলাম চট্টগ্রামের ধারাভাষ্য কক্ষে। সমুদ্রের গর্জনকে থামিয়ে সেদিন রশিদের ১১ উইকেটের প্রতিটি স্পেলের এক একটা বল যেন বঙ্গপোসাগরের ঘুর্নি ঝড়ের ভয়ংকর বলয় তৈরী করে বাংলাদেশের ব্যাটারদের হৃদয়ে আঘাত করছিল! মাইক্রোফোন হাতে কথা বলছিলাম ঠিকই কিন্তু নির্বাক হয়ে তাদের সেই উৎযাপন দেখে আফসোস হচ্ছিল এই ভেবে য়ে দুদিনের এই টেস্ট ছোকরাদের কাছেও নিজের মাটিতে এভাবে হারতে হচ্ছে আমাদের! এর সমাধান কোথায়? উভয় ইনিংসে বাংলাদেশের ভঙ্গুর ব্যাটিং! বাংলাদেশ-আফগানিস্তান প্রথম দেখার টেস্টে ২২৪ রানের হারের ক্ষত যেন আজও আমার কাছে দগদগে!

আফগানিস্তান-বাংলাদেশ আগের ২ টেস্টের ১টি করে জয় উভয় দেশ জয় পেয়েছে, ২০২৩ সালে হোম অব ক্রিকেট মিরপুরে ২য় দেখায় বাংলাদেশ আগের সব হিসেব চুকিয়ে কড়ায় গন্ডায় মিটিয়ে ৫৪৬ রানের বড় জয়ে সব উসুল করে নিয়েছিল। কিন্তু তাই বলে প্রথম দেখায় যেটা করা উচিৎ ছিল সেটা করলো ২য় দেখায় তাতে কি ঐ হারের ক্ষত শুকাবে? না প্রথম প্রেমে ব্যর্থতার মত প্রথম হারের বেদনাও ভুলবার নয়, কিন্তু অতিত তো অতীতই। সেই টেস্টে আফগানিস্তানের প্রথম ইনিংস ৩৪২ রানের জবাবে বাংলাদেশ করেছিল ২০৫ রান, আফগানিস্তানের রহমত শাহ ১০২, আজগর আফগান ৯২ রান করেছিলেন, তাইজুল ৪ উইকেট নিয়েছিলেন, বাংলাদেশের পক্ষে সর্বোচ্চ রান সেদিন করেছিলেন মুমিনুল ৫২ আর সৈকত ৪৮, রশিদ খান একাই বাংলাদেশকে ধসিয়ে দিয়েছিলেন ৫৫ রানে ৫ উইকেট শিকার করে।

২য় ইনিংসেও আফগানরা এগিয়েছিল ২৬০ রান করে বাংলদেশকে ৪র্থ ইনিংসে টার্গেট দিয়েছিল ৩৯৮ রানের। বাংলাদেশের ব্যাটিং ভরাডুবির আরো একটা ইনিংসে সাকিব ৪৪ আর সাদমান ৪১ রান করেছিলেন, রশিদ খান ২য় ইনিংসে আরো বেশি ভয়ংকর হয়ে উঠে ৬ উইকেট নিয়ে বাংরাদেশকে ১৭৩ রানে অলআউট করে ২২৪ রানের জয় তুলেছিলেন।

২য় দেখায় আফগানিস্তানকে বাংলাদেশ ৫৪৬ রানে হারিয়ে যেন সব উসুল করেছিল, মিরপুরে বাংলাদেশ ৩৮২ এবং ২য় ইনিংসে ৪ উইকেটে ৪২৫ রানে ইনিংস ঘোষনা করলে আফগানদের সামনে টার্গেট দাঁড়িয়েছিল ৬৬২ রানের। প্রথম ইনিংসে আফগানরা যেমন ১৪৬ রানের ব্যর্থতার স্কোর করেছিল ঠিক ২য় ইনংসেও তার ধারাবাহিকতা ধরে রেখে ১১৫ রানে অল আউট হয়ে ৫৪৬ রানে হেরেছিল। বাংলাশের পক্ষে শান্ত ‍প্রথম ইনিংসে ১৪৬ এবং ২য় ইনিংসে ১২৪ আবার মুমিনুল ১২১ রান করেছিলেন ২য় ইনিংসে। তাসকিন ১ম ইনিংসে ৪টি ও শরিফুল ৩টি উইকেট পেয়েছিলেন। ২য় ইনিংসে তাসকিন উইকেট না পেলেও এবাদত ৪টি এবং শরিফুল, মিরাজ ও তাইজুল ২টি করে উইকেট পেয়েছিলেন।

আজ উভয় দলের ৩য় সাক্ষাত। আগের দুই দেখা ছিল বাংলাদেশের জন্য ঘরের মাঠ, এবার নিরপেক্ষ ভেন্যু আবুধাবীর শেখ জায়েদ স্টেডিয়ামে, এই স্টেডিয়ামের উইকেটের চরিত্র হল প্রথম এক বা দুইদিন ব্যাটিং সহায়ক হবে তারপর উইকেট স্লো হয়ে যাবে তখন আবার স্পিনাররা সুবিধা পাবে। আবার ৪র্থ ইনিংসেও ব্যাট করা বিপদ, ৪র্থ ইনিংসের ব্যাটি গড় এই মাঠের ১৩৬ রান। তাই টস জিতলে ব্যাটিং নেয়াটাই আমার কাছে  ভাল মনে হয়। দলে শান্ত শঙ্কা কাটিয়ে যোগ দিয়েছেন, ফিরেছেন প্রথম শ্রেণীর ক্রিকেটে ট্রিপল সেঞ্চুরি করে তাওহিদ হৃদয়, আবার ২০২৩ সালের বোলিং আক্রমনে শুধু তাসকিন আর সাকিব ছাড়া সবাই রয়েছেন শরিফুল, এবাদত, তবে হাসান ও খালেদ ইংল্যান্ডের দারুন সময় কাটিয়ে দলে ফিরেছেন সেই অভিজ্ঞতা কাজে লাগাতে পারেন আবার মিরাজ ও তাইজুলও রয়েছেন, তাইজুল তো ৬২ টেস্টে বাংলাদেশের পক্ষে সবচেয়ে বেশী ২৭২ উইকেট শিকারি বোলার।

আফগানিস্তানের বোলিংয়ের প্রাণ ভোমরা রশিদ খান বর্তমান টেস্ট স্কোয়াডে নেই এইটা স্বস্তি হতে পারে বাংলাদেশ দলের জন্য তবে রশিদ খান না থাকলেও নতুন দুজন লেগ স্পিনার যেমন কায়েস ও খলিল গুরবাজ রয়েছেন যদিও তারা নতুন তারপরও বিপদে ফেলতে পারে বাংলাদেশকে। আজ বাংলাদেশ টেস্ট ক্রিকেটের ১২তম দেশ হিসেবে প্রথমবার নিরপেক্ষ ভেন্যুতে টেস্ট খেলা শুরু করবে। নিরপেক্ষ ভেন্যুতে সবচেয়ে বেশী ৩৯টি টেস্ট খেলেছে পাকিস্তান, ২য় স্থানে আছে অস্ট্রেলিয়া ১৪টি, ৩য় স্থানে শ্রীলংকা ৯টি টেস্ট খেলে। রিপেক্ষ ভেন্যুতে সবচেয়ে কম টেস্ট খেলেছে ভারত মাত্র ২টি টেস্ট।

সারকথা: আবুধাবী টেস্টে বাংলাদেশ যদি স্বাভাবিক খেলাটা খেলতে পারে তাহলে আমার মনে হয় বাংলাদেশ এগিয়ে থাকবে কারণ লংগার ভার্সন ক্রিকেট বাংলাদেশের সাম্প্রতিক পারফরম্যান্স ভাল আমরা কিছুদিন আগে অস্ট্রেলিয়াকে হারিয়ে এসেছি তাছাড়া বাংলাদেশ দলের সামনে টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের খেলা রয়েছে তাই এই টেস্টকে বাংলাদেশ উইন্ডিজ টেস্টের আগে জয় দিয়ে আত্মবিশ্বাস বাড়াতে পারে। শেখ আবু জায়েত স্টেডিয়ামে একমাত্র টেস্ট ম্যাচটি শুরু হবে বাংলাদেশ সময় দুপুর ১২ টায়।    

spot_imgspot_img
spot_img

Related Articles