এশিয়ান গেমসের কোয়ার্টার ফাইনালে আবারও বাংলাদেশের মুখোমুখি মালয়েশিয়া। তিন বছর আগে হাংঝু এশিয়ান গেমসে শেষবার দুই দলের দেখা হয়েছিল। সেবার বাংলাদেশকে ১১৬ রানে আটকে দিয়েও মাত্র ২ রানে হেরেছিল মালয়েশিয়া। এবারও নকআউট পর্বে একই প্রতিপক্ষ, তাই পুরোনো সেই ম্যাচের স্মৃতি নিশ্চয়ই মনে থাকবে মালয়েশিয়ার ক্রিকেটারদের।
তবে এবার ম্যাচটি মাঠে গড়ানো নিয়েই রয়েছে বড় শঙ্কা। জাপানের নিশিনে গত কয়েক দিন ধরে টানা বৃষ্টি হচ্ছে। শনিবার থেকে হওয়া চারটি ম্যাচের সবকটিই পরিত্যক্ত হয়েছে, যার মধ্যে দুটি ছিল কোয়ার্টার ফাইনাল। মঙ্গলবার বাংলাদেশ-মালয়েশিয়া ম্যাচও বৃষ্টির কবলে পড়তে পারে। ম্যাচটি স্থানীয় সময় দুপুর ২টায়, বাংলাদেশ সময় বেলা ১১টায় শুরু হওয়ার কথা থাকলেও আবহাওয়ার পূর্বাভাসে অন্তত সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে।

এশিয়ান গেমসের সিডিং নিয়ম অনুযায়ী, ম্যাচ পরিত্যক্ত হলে র্যাঙ্কিংয়ে এগিয়ে থাকা দল পরের রাউন্ডে যাবে। সে ক্ষেত্রে বাংলাদেশেই সুবিধা পাবে। পূর্ণ শক্তির দল নিয়ে এশিয়ান গেমসে আসা বাংলাদেশ শুরুতেই এমন পরিস্থিতির জন্য প্রস্তুত থাকলেও মাঠে খেলে জিতেই সেমিফাইনালে উঠতে চাইবে।
গ্রুপ পর্বে মালয়েশিয়া মাত্র একটি ম্যাচ খেলতে পেরেছে। সেই ম্যাচে হংকংকে ৮ উইকেটে হারায় তারা, হাতে রেখে দেয় আরও ৪৮ বল। ওমানের বিপক্ষে তাদের পরের ম্যাচটি বৃষ্টিতে পরিত্যক্ত হয়। অন্যদিকে বাংলাদেশ সরাসরি কোয়ার্টার ফাইনালে খেলার সুযোগ পেয়েছে। তাদের সর্বশেষ টি-টোয়েন্টি ম্যাচ ছিল জুলাইয়ে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে তিন ম্যাচের সিরিজ, যেখানে বাংলাদেশ ২-১ ব্যবধানে জয় পেয়েছিল।
বাংলাদেশের ব্যাটিংয়ের বড় ভরসা হতে পারেন তানজিদ হাসান। সাম্প্রতিক সময়ে সব ফরম্যাটেই দারুণ ছন্দে আছেন এই ওপেনার। অস্ট্রেলিয়া সফরে ডারউইনে বাংলাদেশের ঐতিহাসিক জয়ে তিনি ম্যাচজয়ী সেঞ্চুরি করেন, যা ছিল টেস্ট ক্রিকেটে তার প্রথম শতক। এর আগে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ওয়ানডেতে টানা দুটি ফিফটি এবং পরে টি-টোয়েন্টি সিরিজেও দুটি ফিফটি করেন তিনি। এশিয়ান গেমসে বাংলাদেশের ইনিংসের শুরুটা তার ব্যাটেই জমে উঠতে পারে।
মালয়েশিয়ার সবচেয়ে বড় ভরসা বিরানদীপ সিং। দেশটির হয়ে টি-টোয়েন্টিতে তিনিই সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক ও সর্বোচ্চ উইকেট শিকারি। সাত বছরের ক্যারিয়ারে তার রান ৩৫১৫, গড় ৩৭ এবং স্ট্রাইক রেট ১২৭.৩৫। বোলিংয়েও তিনি কার্যকর, ১৩০টি উইকেটের সঙ্গে তার ইকোনমি রেট ৫.৪২। হংকংয়ের বিপক্ষে মালয়েশিয়ার শেষ ম্যাচে আগে বল হাতে দলের কাজে এসেছেন তার ভাই পাভানদীপ সিং। পরে রান তাড়ায় অপরাজিত ৩২ রান করে ম্যাচ শেষ করেন বিরানদীপ। বাংলাদেশের বিপক্ষেও তার অলরাউন্ড পারফরম্যান্সের দিকে তাকিয়ে থাকবে মালয়েশিয়া।
বাংলাদেশের দলে কিছু পরিবর্তনের সম্ভাবনা রয়েছে। অসুস্থতার কারণে নাজমুল হোসেন শান্ত খেলতে পারছেন না। হ্যামস্ট্রিং চোটের কারণে অলরাউন্ডার মোহাম্মদ সাইফউদ্দিনও দলের বাইরে। ফলে ২৯ বছর বয়সী ‘রহস্যময় স্পিনার’ আল ইসলামের টি-টোয়েন্টি অভিষেক হতে পারে। অধিনায়ক লিটন দাস এর আগে জানিয়েছিলেন, মিডল অর্ডারে ইয়াসির আলীকে আরও সময় দিতে চান তারা। জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে সর্বশেষ সিরিজে একটি ফিফটি করেছিলেন ইয়াসির, যেখানে তার স্ট্রাইক রেট ছিল ১৪৫.৭৬।
সম্ভাব্য একাদশে বাংলাদেশের ওপেনিংয়ে তানজিদ হাসানের সঙ্গে লিটন দাসকে দেখা যেতে পারে। এরপর পারভেজ হোসেন ইমন, তৌহিদ হৃদয়, ইয়াসির আলী, মোসাদ্দেক হোসেন, রিশাদ হোসেন, আল ইসলাম, মেহেদী হাসান, মোস্তাফিজুর রহমান ও হাসান মাহমুদ থাকতে পারেন।
মালয়েশিয়াও হংকংয়ের বিপক্ষে খেলা একাদশ ধরে রাখার সম্ভাবনাই বেশি। তাদের সম্ভাব্য একাদশে রয়েছেন মুহাম্মদ হাজিক আইমান, অধিনায়ক সৈয়দ আজিজ, বিরানদীপ সিং, মুহাম্মদ সিয়াহাদাত, মুহাম্মদ আমির, আইনুল হাফিজ, মুহাম্মদ ওয়াফিক, পাভানদীপ সিং, শারভিন মুনিয়ান্ডি, মুহাম্মদ আকরাম ও বিজয় উন্নি।
নিশিনের উইকেটে এখন পর্যন্ত রান হয়েছে তুলনামূলক কম। তাই ম্যাচ মাঠে গড়ালে বাংলাদেশের ব্যাটারদের জন্য মালয়েশিয়ার স্পিন ও পেস আক্রমণ পরীক্ষা হয়ে উঠতে পারে। বিশেষ করে হংকংয়ের বিপক্ষে মালয়েশিয়ার বোলাররা যে নিয়ন্ত্রিত পারফরম্যান্স দেখিয়েছে, সেটি তাদের আত্মবিশ্বাস জোগাবে।
বাংলাদেশ অবশ্য এশিয়ান গেমসে নিজেদের ইতিহাসও সমৃদ্ধ করতে চায়। ২০১০ সালে পুরুষদের ক্রিকেটের প্রথম এশিয়ান গেমসে স্বর্ণ জিতেছিল বাংলাদেশ। এরপর ২০১৪ ও ২০২৩ সালের আসরে ব্রোঞ্জ পদক পেয়েছে তারা। এবার অধিনায়ক লিটন দাসের লক্ষ্য স্বর্ণ পদক।
এশিয়ান গেমসে এবারই প্রথম খেলছেন লিটন। টুর্নামেন্টের আগে তিনি জানিয়ে ছিলেন, বাংলাদেশ সব সময়ই ট্রফি জয়ের লক্ষ্য নিয়ে মাঠে নামে। এবার দলের বড় স্বপ্ন সোনার পদক জয়। সেই লক্ষ্যে প্রথম বাধা মালয়েশিয়া। আর তিন বছর আগের দুই রানের ব্যবধানের স্মৃতি সামনে রেখে মাঠে নামবে মালয়েশিয়াও।
তবে সবকিছুর আগে প্রশ্ন একটাই, বৃষ্টি কি দুই দলকে মাঠে নামার সুযোগ দেবে? ম্যাচ পরিত্যক্ত হলে সিডিংয়ের নিয়মে বাংলাদেশই সেমিফাইনালে উঠবে। আর খেলা হলে ২০২৩ সালের সেই দুই রানের রোমাঞ্চকর লড়াইয়ের নতুন অধ্যায় দেখার অপেক্ষায় থাকবে ক্রিকেট প্রেমীরা।




