স্কটিশ প্রিমিয়ার লিগের ভক্তরা শনিবার রাতে দারুণ এক ম্যাচ উপভোগ করেছে। শিরোপা জয়ের জন্য সেল্টিকের সামনে একটাই মাত্র পথ ছিল, জয়। প্রতিপক্ষ হার্টেসের সামনে তুলনামূলক সহজ পথ ছিল, ড্র। কিন্তু হার্টসকে পাত্তা দেয়নি সেল্টিক। তাদের স্তদ্ধ করে শিরোপা জয় করেছে সেল্টিক। শনিবার রাতে নিজেদের মাঠের খেলায় পিছিয়ে পড়েও ৩-১ গোলের জয় নিয়ে মাঠ ছেড়েছে তারা, জিতেছে শিরোপাও। টানা পঞ্চম শিরোপা এটি তাদের।
সর্বাধিক শিরোপা
স্কটিশ ফুটবলের সবচেয়ে পুরানো ক্লাবের একটি সেল্টিক। স্বাভাবিকভাবেই তাদের শিরোপা জয়ের সংখ্যাও বেশি। এবার নিয়ে দলটি ৫৬ বার শিরোপা জয়ের কীর্তি গড়েছে। এতদিন রেঞ্জার্সের সঙ্গে তারা কীর্তিটা ভাগাভাগি করছিল। এবারের শিরোপা জয়ের মাঝ দিয়ে রেঞ্জার্সকে পেছনে ফেললো তারা।
১৮৯২-৯৩ মৌসুমে সেল্টিক প্রথমবারের মতো শিরোপা জয় করে। নতুন মৌসুমে প্রিমিয়ার লিগের শিরোপাটা তারা নিজেদের সম্পত্তিতে পরিণত করেছে। এ শতাব্দিতে এবার নিয়ে বিশবার শিরোপা জয়ের উৎসব করেছে। টানা পঞ্চম শিরোপা এটি তাদের।

এগিয়ে থেকেও হার্টসের হার
এবার শিরোপা জয়ের পথে সেল্টিকের সামনে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছিল হার্টস। ৩৭তম রাউন্ড শেষে দলটি পরিস্কারভাবে পয়েন্ট টেবিলে এগিয়ে ছিল। সে সুবাদে শেষ ম্যাচে তাদের ড্র হলেই চলতো। কিন্তু দলটি দাপটের সঙ্গে লিগ শেষ করার পরিকল্পনা করেছিল। সে মতোই তারা এগিয়ে চলছিল। বিরতির বাঁশি বাজার আগেই খেলায় আধিপত্য বিস্তার করে তারা। এগিয়ে যায় ১-০ গোলে। কিন্তু ব্যবধানটা তারা বেশিক্ষণ ধরে রাখতে পারেনি। বিরতির আগেই পেনাল্টি থেকে গোল করে সমতায় ফেরে সেল্টিক।
ড্র থেকে এক পয়েন্ট নিয়ে হার্টস যখন শিরোপা জয়ের উৎসবের পরিকল্পনায় ব্যস্ত তখনই তাদের স্তব্ধ করে দেয় ডাইজেন মিদা ও কালুম ওসমান্ড। মিদা ৮৭ মিনিটে গোল করে সেল্টিক সমর্থকদের আনন্দে ভাসিয়ে দেন। আর ওসমান্ড গোল করেন ইনজুরি সময়ের অষ্টম মিনিটে। তার এ গোলের সঙ্গে সঙ্গে হার্টস শিরোপা জয়ের সম্ভাবনা শেষ হয়ে যায়। ১৯৬০ সালের পর প্রথমবারের মতো দলটি শিরোপা জয়ের খুব কাছে এসেও ব্যর্থ হলো।
ম্যাচে নাটকীয়তা
তবে ম্যাচে নাটকীয়তা কম ছিল না। মিদার গোল ঘিরে যখন সেল্টিক সমর্থকরা আনন্দে মেতে উঠেছিল তখন লাইন্সম্যানের পতাকা তাদের হতবুদ্ধি করে দেয়। তবে খুব বেশিক্ষণ তাদের আনন্দ কেড়ে নিতে পারেনি লাইন্সম্যানের পতাকা। কিন্তু ভিএআর দেখে রেফারি গোলের সিদ্ধান্ত দিলে সেল্টিক সমর্থকরা আবার আনন্দে ভেসে যান। ম্যাচ শেষে সেল্টিকের পয়েন্ট ৩৮ ম্যাচে ৮২, হার্টসের ৮০।
স্কোর কার্ড
বিশ্বকাপ ২০২৩



















