ফাইনালের হতাশা ভুলে ব্রোঞ্জের যুদ্ধে ইংল্যান্ড-ফ্রান্স

ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬

ফিফা বিশ্বকাপে আজ শনিবার দিবগত রাত ৩ টায় ব্রোঞ্জ পদকের জন্য মাঠে নামছে ফ্রান্স ও ইংল্যান্ড। ম্যাচটিতে নেই ফাইনালে উঠার কোন তাড়না নেই বিশ্বকাপ জয়ের স্বপ্ন, কিন্তু যেটা আছে সেটা হল সম্মান, ভবিষ্যতের বার্তা আর বিশ্বকাপে পরিসংখ্যানে এগিয়ে যাওয়ার হিসেব। দু-দলের মুখোমুখি লড়াইয়ে অবশ্য এগিয়ে ব্রিটিশরা তবে সাম্প্রতিক পারফরম্যান্সে এগিয়ে আবার ফরাসিরা। তাই এই ম্যাচকে বলা যায় ‘ফাইনালের হতাশা ভুলে ব্রোঞ্জের যুদ্ধে ইংল্যান্ড-ফ্রান্স’।

ফ্রান্সের অধিনায়ক এমবাপ্পে

বিশ্বকাপের ফাইনালে উঠতে না পারার দুঃখ কোন কিছুতেই ভোলার নয় তারপরও দুধের স্বাদ ঘোলে তো মিটাতেই হয় সেই দিক থেকে ৩য় স্থান নির্ধারনী ম্যাচটা উভয় দলের কাছে কিছুটা সান্তনা আবার কিছুটা হতাশা ভোলার ম্যাচ তবে কিভাবে হতাশা ভুলে দু-দল এই ম্যাচ থেকে কিছু পেতে পারে তা দেখবো।

১. সেমিফাইনালের হতাশা কাটানোর লড়াই:

ইংল্যান্ডের সবচেয়ে বড় চাপ হবে আর্জেন্টিনার বিপক্ষে ডিফেন্সিভ খেলার ভুল শুধরানো আর শেষ মুহূর্তে ম্যাচ হারানোর হতাশা ভুলে মাঠে নামা। অপরদিকে ফ্রান্সের চাপ হবে স্পেনের বিপক্ষে নিজেদের আক্রমণভাগের নিষ্প্রভ পারফরম্যান্সের জবাব দেওয়া।

২. কার বিদায়টা হবে হাসিমুখে:
ফ্রান্সের কোচ দিদিয়ের দেশমের জন্য এটি জাতীয় দলের দায়িত্বে শেষ ম্যাচ হতে পারে। তাই ফরাসিরা তাঁর অধ্যায়ের শেষটা জয়ে রাঙাতে চাইবে।

৩. ইংল্যান্ডের জন্য ইতিহাস গড়ার সুযোগ:
ইংল্যান্ড ১৯৯০ ও ২০১৮ সালে তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচ হেরেছিল। এবার জিতলে ১৯৬৬ সালের পর বিশ্বকাপে তাদের অন্যতম সেরা সমাপ্তি হবে।

৪. ব্যক্তিগত লড়াই:
এই ম্যাচে অনেক খেলোয়াড়ের জন্য গোল্ডেন বুট বা ব্যক্তিগত পরিসংখ্যান সমৃদ্ধ করার সুযোগ থাকবে। ফলে আক্রমণাত্মক ফুটবল দেখার সম্ভাবনা বেশি।

৫. প্রমাণের ম্যাচ:
যারা সেমিফাইনালে সমালোচিত হয়েছেন, তারা নিজেদের প্রমাণ করতে মরিয়া থাকবেন। বিশেষ করে ইংল্যান্ডের খেলোয়াড়দের ওপর চাপ থাকবে সমালোচনার জবাব দেওয়ার।

৬. বেঞ্চের তারকাদের সুযোগ ও কৌশল:
তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচে অনেক সময় কোচরা নতুন বা কম খেলা ফুটবলারদের সুযোগ দেন। এতে ম্যাচের গতি ও কৌশল কিছুটা ভিন্ন হতে পারে।

৭. নির্ভার কিন্তু আক্রমণাত্মক ফুটবল:
ফাইনালে ওঠার চাপ নেই। তাই দুই দলই তুলনামূলক মুক্তভাবে খেলতে পারে। বিশ্বকাপের তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচগুলোতে সাধারণত গোলও বেশি হয়।

ইংল্যান্ডের অধিনায়ক হ্যারিকেইন

দুই দলের বিশ্বকাপে মুখোমুখি লড়াইয়ের পরিসংখ্যান:

২০২৬ বিশ্বকাপের তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচের আগে দুই দল বিশ্বকাপে ৩ বার মুখোমুখি হয়েছিল। আজকের ম্যাচটি হবে ৪র্থ বিশ্বকাপ সাক্ষাৎ।

বছরপর্বফলাফল
১৯৬৬গ্রুপ পর্বইংল্যান্ড ২-০ ফ্রান্স
১৯৮২দ্বিতীয় গ্রুপ পর্বইংল্যান্ড ৩-১ ফ্রান্স
২০২২কোয়ার্টার ফাইনালফ্রান্স ২-১ ইংল্যান্ড

দুই দলের আন্তর্জাতিক ফুটবলে মুখোমুখি লড়াইয়ের পরিসংখ্যান:

দুই দল মোট ৩২টি অফিসিয়াল আন্তর্জাতিক ম্যাচে মুখোমুখি হয়েছে। যার মধ্যে ইংল্যান্ড জিতেছে ১৭ টি আর ফ্রান্স জিতেছে ১০টি ম্যাচ অপরদিকে ৫টি ম্যাচ ড্র হয়েছে।  

অর্থাৎ, সামগ্রিক মুখোমুখি লড়াইয়ে ইংল্যান্ডে এগিয়ে যদিও কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ফ্রান্স তুলনা মূলকভাবে বেশি সফল হয়েছে।

তাই ফ্রান্স-ইংল্যান্ড তৃতীয় স্থান নির্ধারনী ম্যাচের ভেতরের গল্পটা হতে পারে উভয় দলের কাছে হতাশা বনাম পুনর্জাগরণ, আবার কোচ দেশমের সম্মান বাঁচানোর শেষ সুযোগের বিদায়ী লড়াই, অন্যদিকে টুখেলের জন্য সেটা আত্ম সম্মানের যুদ্ধ, ফাইনাল মিসের ক্ষত সারানোর ৯০ মিনিট।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

spot_imgspot_img
spot_img

Hot Topics

Related Articles