ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬
সময় কত দ্রুত চলে যায়! ২০০৭ সালে বার্সেলোনার একটি দাতব্য ফটো শুটে মাত্র ৫ মাস বয়সী লামিন ইয়ামালকে গোসল করিয়েছিলেন লিওনেল মেসি। ১৯ বছর পর সেই ছবি আজ সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল। উপলক্ষ অবশ্য বিশ্বকাপের ফাইনাল। ছবির দৃশ্যটা এমন ছিল যেন চাচা তার ভাতিজাকে পরম মমতায় গোসল করাচ্ছেন। আর আজ মনে হচ্ছে চাচা তার ভাতিজাকে খেলোয়াড় বানিয়ে বলছেন ভাতিজা তুমি কত বড় খেলোয়াড় হয়েছো আসো আগে আমার সাথে তুমি পরীক্ষা দাও! তবে পরীক্ষার মঞ্চটা ঘরোয়ো কোন মঞ্চ নয় একেবারেই বিশ্ব মঞ্চ, যে পরীক্ষার কোন ট্রায়াল নেই সরাসরি বিশ্বকাপের ফাইনাল। তাই ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬ এর ফাইনালকে বলা যায় মেসি-ইয়ামাল চাচা ভাতিজার বিশ্বকাপ ফাইনাল।

বিশ্বকাপে প্রথম বারের মত প্রতিপক্ষ ইয়ামাল-মেসি। আর এই ফাইনালকে ঘিরে ২০০৭ সালে ইয়ামালকে গোসল করানোর মেসির সেই ছবিটা আলোচানায় সয়লাব সোশ্যাল মিডিয়ায় আর সাথে নানা মন্তব্য ও প্রশ্ন, তাহলে কে জিতবে বিশ্বকাপ ট্রফি? চাচা নাকি ভাতিজা? ৩৯ বছর বয়সী মেসির সামনে যখন আর্জেন্টিনার হয়ে ২য় বিশ্বকাপ জয়ের সুযোগ তখন অন্যদিকে ১৯ বছর বয়সী ইয়ামাল স্পেনকে শিরোপা জেতানোর স্বপ্নে বিভোর। এই মহারণ ম্যাচের আগে নিউইয়র্কে সেই ঐতিহাসিক ভাইরাল ছবি নিয়ে কথা বলেছেন আর্জেন্টাইন মহা তারকা মেসি। তিনি বলেন- সত্যি বলতে, ছবিটা একেবারে পাগলামির মতো। তখন ও শিশু ছিল, আমরা একসঙ্গে ছবি তুলেছিলাম। আর আজ আমরা বিশ্বকাপের ফাইনালে একে অপরের মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছি। এটাই তো জীবন।
’
মেসি আরো বলেন, ‘লামিন অসাধারণ প্রতিভাবান। আমি ওকে খুব কাছ থেকে অনুসরণ করি, কারণ ও এমন একটি ক্লাবে খেলে, যাকে আমি ভালোবাসি। মাত্র ১৯ বছর বয়সেই ও বিশ্ব ফুটবলের অন্যতম সেরা খেলোয়াড় হয়ে উঠেছে। ওর সামনে ইতিহাস গড়ার দারুণ সুযোগ রয়েছে। তবে আমরা আমাদের সর্বোচ্চ চেষ্টা করব, যেন এবার সেটা ও করতে না পারে। আমি শুধু ওর জন্য শুভ কামনা জানাতে পারি।’

ইয়ামালের প্রশংসা করে মেসি আরো বলেন ‘কোনো সন্দেহ নেই, এই মুহূর্তে ও বিশ্বের অন্যতম সেরা খেলোয়াড়। ওর সাফল্য কামনা করি, কারণ ওর ভালো হওয়া মানেই বার্সেলোনার ভালো হওয়া। আর সত্যি বলতে, ওই ছবিটা আসলেই অবিশ্বাস্য-জীবন কত অদ্ভুত!’ ২০২৪ সালের ইউরো চ্যাম্পিয়নশিপ চলাকালে ইয়ামালের বাবা মুনির নাসরাউই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছবিগুলো প্রকাশ করলে তা নতুন করে আলোচনায় আসে।
ভাগ্যবান ফটোগ্রাফারঃ ছবির ফটোগ্রাফার জোয়ান মনফোর্ট জানান, ইউনিসেফ ও স্থানীয় সংবাদপত্র দিয়ারিও স্পোর্ট-এর যৌথ উদ্যোগে একটি দাতব্য ক্যালেন্ডারের জন্য ছবিগুলো তোলা হয়েছিল। তবে ফটোগ্রাফার তার ক্যারিয়ারের অনন্য ছবিটি তুলেছিলেন তা কি তিনি তখন ভেবেছিলেন যে এই ছবিটা একদিন বিশ্বময় পরিচিতি পাবে? হয়তো না, হয়তো এইটুকু ভেবেছিলেন যে বার্সার ভবিষ্যত এক তারকা আর এক শিশু মাত্র এর বেশি কিছু কি? আর আজ তার তোলা ছবির দুজনেই যে বিশ্বের শ্রেষ্ঠ ফুটবল মহাতারকা তাও আবার বিশ্বকাপের ফাইনালে দুজনেই একই মঞ্চে দুজনার প্রতিপক্ষ বিশ্বকাপ জয়ের জন্য। সত্যি ভাগ্যবান ফটোগ্রাফার বটে!


