ইংল্যান্ডের বিপক্ষে তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচ দিয়েই ফ্রান্স জাতীয় দলের কোচ হিসেবে দিদিয়ের দেশ্যমের ১৪ বছরের অধ্যায়ের ইতি ঘটতে যাচ্ছে। আর তার উত্তরসূরি হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার অপেক্ষায় আছেন ফরাসি ফুটবলের কিংবদন্তি জিনেদিন জিদান।
৫৭ বছর বয়সী দেশ্যম চেয়েছিলেন তৃতীয় বিশ্বকাপ শিরোপা জিতে বিদায় নিতে। ২০২৬ বিশ্বকাপের অন্যতম ফেবারিট হিসেবেই যুক্তরাষ্ট্রে গিয়েছিল ফ্রান্স। গ্রুপ পর্ব ও নকআউটের শুরুতে দারুণ ফুটবল খেললেও সেমিফাইনালে স্পেনের কাছে ২-০ গোলে হেরে তাদের টানা তৃতীয় বিশ্বকাপ ফাইনালে ওঠার স্বপ্ন ভেঙে যায়।
এখন তাদের সামনে কেবল তৃতীয় স্থান নিশ্চিত করার লড়াই।
তবে বিদায়ের ম্যাচকে আবেগে ভাসাতে চান না দেশ্যম। ম্যাচের আগে তিনি বলেন, ‘জীবনে অনেক অসাধারণ মুহূর্ত দেখেছি, আবার কঠিন সময়ও পার করেছি। কিন্তু জীবন থেমে থাকে না। আমি ইতিবাচক মানুষ। ফ্রান্সের কোচ হওয়াই আমার জীবনের সবচেয়ে বড় সম্মান।’
দেশ্যমকে সবচেয়ে বেশি মনে রাখা হবে ২০১৮ বিশ্বকাপ জয়ের স্থপতি হিসেবে। খেলোয়াড় হিসেবে ১৯৯৮ সালে ফ্রান্সকে প্রথম বিশ্বকাপ এনে দিয়েছিলেন তিনি, আর দুই দশক পর কোচ হিসেবে উপহার দেন দ্বিতীয় শিরোপা।
২০১০ বিশ্বকাপের ব্যর্থতা ও ড্রেসিংরুমের অস্থিরতার পর ফরাসি ফুটবলে স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনেন দেশ্যম। তার অধীনেই ২০১৮ সালে বিশ্বকাপ জেতে ফ্রান্স এবং কিলিয়ান এমবাপ্পে বিশ্ব ফুটবলের অন্যতম বড় তারকা হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেন।
তবে সব পথ মসৃণ ছিল না। ২০১৬ ইউরোর ফাইনালে পর্তুগালের কাছে হার এবং ২০২২ বিশ্বকাপ ফাইনালে আর্জেন্টিনার বিপক্ষে টাইব্রেকারে পরাজয় তার সময়ের সবচেয়ে বেদনাদায়ক মুহূর্তগুলোর মধ্যে অন্যতম।
তারপরও পরিসংখ্যান দেশ্যমের পক্ষেই কথা বলে। সাতটি বড় আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্টের মধ্যে পাঁচটিতেই ফ্রান্সকে অন্তত সেমিফাইনালে তুলেছেন তিনি।
গত এক বছরে নিজের দর্শনেও পরিবর্তন এনেছেন দেশ্যম। দীর্ঘদিনের রক্ষণাত্মক কৌশল থেকে সরে এসে এমবাপ্পে, ওসমান ডেম্বেলে ও মাইকেল ওলিসেকে কেন্দ্র করে আরও আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলানোর চেষ্টা করেছেন। যদিও স্পেনের বিপক্ষে সেই কৌশল শেষ পর্যন্ত সফল হয়নি।
এই বিশ্বকাপ তার জন্য ব্যক্তিগতভাবেও কঠিন ছিল। টুর্নামেন্ট চলাকালীন মায়ের মৃত্যুতে শেষকৃত্যে অংশ নিতে তাকে দেশে ফিরতে হয়েছিল এবং একটি ম্যাচে দলের সঙ্গেও থাকতে পারেননি।
ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচটি হবে বিশ্বকাপে কোচ হিসেবে দেশ্যমের ২৭তম ম্যাচ, যা একটি নতুন রেকর্ড। এরপরই শেষ হবে ফরাসি ফুটবলের এক সফল অধ্যায়, আর শুরু হতে পারে জিদানের নতুন যুগ।


