যেভাবে পর্তুগালকে সহায়তা করতে চান রোনালদো

যেভাবে পর্তুগালকে সহায়তা করতে চান রোনালদো ! বিশ্বকাপের পরই অবসরের কথা ভেবেছিলেন ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো। তবে শেষ পর্যন্ত জাতীয় দলের জার্সি তুলে রাখার সিদ্ধান্ত নেননি পর্তুগিজ তারকা। তাঁর বিশ্বাস, এখনো দেশের হয়ে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখার সামর্থ্য তাঁর আছে। তাই যত দিন নিজেকে ভালো অনুভব করবেন, তত দিনই খেলা চালিয়ে যেতে চান ৪১ পেরোনো এই ফরোয়ার্ড।

অবসরের নির্দিষ্ট কোনো সময় অবশ্য জানাননি রোনালদো। বরং তাঁর কাছে এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো শারীরিক ও মানসিকভাবে ভালো থাকা। বৃহস্পতিবার ওয়েলসের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে আবারও পর্তুগালের হয়ে মাঠে নামার প্রস্তুতি নিচ্ছেন তিনি। নতুন কোচ জর্জে জেজুসও জানিয়েছেন, ম্যাচটিতে শুরুর একাদশেই থাকছেন দলের সবচেয়ে বড় তারকা।

বিশ্বকাপের পর জাতীয় দলের অনেক খেলোয়াড়ই আন্তর্জাতিক ফুটবলকে বিদায় জানিয়েছেন। রোনালদোর মনেও অবসরের চিন্তা এসেছিল। তবে অনেক ভেবেচিন্তে তিনি সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, এখনই সরে দাঁড়াবেন না।

রোনালদো বলেন, ‘অবশ্যই অবসরের কথা ভেবেছি। আমি সব সময় নিজের সিদ্ধান্ত, ভবিষ্যৎ এমনকি বর্তমান নিয়েও ভাবি। আমি চিন্তাশীল মানুষ। আর এ কারণেই আপনারা আমাকে এখনো এখানে দেখছেন। এর অর্থ হলো, আমি চালিয়ে যাব।

জাতীয় দলের সভাপতি ও কোচের সঙ্গে তাঁর আলোচনা হয়েছে বলেও জানান রোনালদো। তাঁর বিশ্বাস, পর্তুগালকে কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে পৌঁছাতে এখনো তিনি সহায়তা করতে পারবেন।

আমি এখনো বিশ্বাস করি, জাতীয় দলকে তাদের কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে পৌঁছাতে আমি সাহায্য করতে পারি। যেদিন মনে হবে এখানে আমার আর কিছু দেওয়ার নেই, সেদিনই খেলা ছেড়ে দেব।

নতুন কোচের অধীনে পর্তুগালের সামনে নতুন একটি অধ্যায় শুরু হয়েছে। দলটিতে তরুণ খেলোয়াড়দের উপস্থিতিও বেড়েছে। রোনালদোর মতে, এই পরিবর্তনের সময়েও তাঁর ভূমিকা শুধু গোল করার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়।

আমার কাছে মূল বিষয় হলো মাঠে গোল করা এবং দলকে ম্যাচ জিততে সাহায্য করা। তবে আমি মনে করি, শুধু গোল করেই নয়, ফুটবলের বাইরেও জাতীয় দলকে সহায়তা করতে পারি।’

পর্তুগালের প্রয়োজন না থাকলে সরে যাবেন রোনালদো

জাতীয় দলের হয়ে তাঁর ভবিষ্যৎ অনেকটাই নির্ভর করছে দলের প্রয়োজনের ওপর-এমন কথাও স্পষ্ট করেছেন রোনালদো। পর্তুগাল যদি আর তাঁকে না চায়, তাহলে কোনো দ্বিধা ছাড়াই সরে দাঁড়াবেন তিনি। যদি পর্তুগাল আর আমার ওপর নির্ভর করতে না চায়, তাহলে আজই চলে যেতে পারি। এতে আমার কোনো সমস্যা নেই। যখন তারা জাতীয় দলে আমার ওপর আর নির্ভর করতে চাইবে না, আমিই প্রথম তাদের সঙ্গে এ বিষয়ে কথা বলব।

রোনালদোর ভাষায়, পারস্পরিক আস্থার কারণেই তিনি এখনো জাতীয় দলের সঙ্গে আছেন। ‘তারা যদি আমার ওপর নির্ভর করে, আমিও তাদের ওপর নির্ভর করি। পর্তুগালের মানুষও আমার ওপর নির্ভর করে। এ কারণেই আমি জাতীয় দলের হয়ে খেলা চালিয়ে যাচ্ছি।

তবে সমালোচনাও যে তাঁর সঙ্গী, সেটিও জানেন রোনালদো। বিশেষ করে কিছু সংবাদমাধ্যম তাঁকে জাতীয় দল থেকে সরিয়ে দিতে চায় বলে মনে করেন তিনি। দীর্ঘ ক্যারিয়ারে এমন সমালোচনার সঙ্গে অবশ্য অভ্যস্ত হয়ে গেছেন বলে জানিয়েছেন পর্তুগিজ তারকা।

রোনালদো বলেন, ‘আমার মনে হয়, পর্তুগিজ সমর্থকেরা আমাকে পছন্দ করে। এটাও বুঝি, কিছু টিভি চ্যানেল আমার সমালোচনা করতে চায়। তারা আমাকে শেষ করে দেওয়ার চেষ্টা করেছে, কিন্তু সফল হয়নি। এখন তারা চায় আমি যেন আর জাতীয় দলে না আসি। তবে এসবের সঙ্গে আমি অভ্যস্ত। ২০ বছরেরও বেশি সময় ধরে এসব দেখে আসছি।

সমালোচনার চেয়ে ভালোবাসার স্মৃতি গুলোই মনে রাখতে চান রোনালদো। বিশেষ করে শিশু-কিশোরদের ভালোবাসা তাঁর কাছে আলাদা গুরুত্ব বহন করে। মাঠে তাঁর পারফরম্যান্স যেমনই হোক, বিশ্বের নানা প্রান্তের শিশুরা এখনো তাঁকে আদর্শ হিসেবে দেখে-এটা তিনি উপলব্ধি করেন।

আমি জানি কেন ছোট বাচ্চারা ক্রিশ্চিয়ানোকে ভালোবাসে। কারণ তারা আমাকে আদর্শ হিসেবে দেখে। আমি সেই জায়গাটা ধরে রাখব। এমনকি অবসর নেওয়ার পরও, ১০ বছর পরও।

তবে সেই অবসর ঠিক কবে, সেটি রোনালদো নিজেও জানেন না। তাঁর কথায়, হয়তো এটাই তাঁর শেষ মৌসুম হতে পারে, আবার নাও হতে পারে।

এটাই কি আমার শেষ অধ্যায়? হয়তো। আমি জানি না। এটা আমার শেষ মৌসুমও হতে পারে, আবার নাও হতে পারে। শরীর ও মন যত দিন সায় দেবে, তত দিন চালিয়ে যাব। এখনো আমি ভালো অবস্থায় আছি। সামনে কী হবে, তা জানি না।

অবসরের সময় নিয়ে তাই কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে যেতে চান না রোনালদো। আপাতত তাঁর কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ নিজের ভালো থাকা।

আমি নিজেকে নিয়ে খুশি। আগামীকাল খেলব কি না, কিংবা পরের ম্যাচে বিশ্রাম নেব কি না-এসব এখন বড় বিষয় নয়। এই মুহূর্তে আমার কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো, আমি যেন ভালো অনুভব করি।

spot_imgspot_img
spot_img

Related Articles