বেলজিয়ামের কাছে হারেও ইতিবাচক দিক দেখছেন মানচিনি

ইতালির কোচ হিসেবে দ্বিতীয় মেয়াদের শুরুটা জয় দিয়ে করতে পারেননি রবার্তো মানচিনি। উয়েফা নেশনস লিগের উদ্বোধনী ম্যাচে বেলজিয়ামের কাছে ২-০ গোলে হেরেছে চারবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। তবে পরাজয়ের মধ্যেও দলের পারফরম্যান্সে কিছু ইতিবাচক দিক খুঁজে পেয়েছেন ইতালির প্রধান কোচ।

রোমের স্তাদিও অলিম্পিকোয় অনুষ্ঠিত ম্যাচে বেলজিয়ামের হয়ে গোল করেন মিকা গোড্টস ও দোদি লুকেবাকিও। দুই অর্ধে করা দুই গোলেই ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ ধরে রেখে জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে বেলজিয়াম।

সমর্থকদের দুয়োকে স্বাভাবিকভাবেই দেখছেন মানচিনি

ম্যাচ শেষে ইতালির সমর্থকদের কাছ থেকে দুয়ো শুনতে হয়েছে খেলোয়াড়দের। তবে বিষয়টিকে অস্বাভাবিক কিছু মনে করছেন না মানচিনি। তার মতে, দল হারলে সমর্থকদের হতাশা কিংবা ক্ষোভ প্রকাশ করা ফুটবলেরই স্বাভাবিক অংশ।

ইতালির কোচের দায়িত্বে ফিরে আসার পর থেকেই তার সামনে বড় চ্যালেঞ্জ ছিল দলকে আবার সাফল্যের পথে ফেরানো। বিশ্বকাপের বাছাইপর্বে টানা তৃতীয়বার ব্যর্থ হওয়ার পর জাতীয় দলের দায়িত্ব নেওয়া মানচিনির জন্য তাই শুরু থেকেই পরিস্থিতি কঠিন।

দ্বিতীয়ার্ধের লড়াইয়ে আশার জায়গা

বেলজিয়ামের বিপক্ষে প্রথমার্ধে ইতালি বেশ কিছু সময় চাপে ছিল। বল হারানোর প্রবণতা এবং আক্রমণে তাড়াহুড়োর কারণে নিজেদের স্বাভাবিক খেলায় ফিরতে পারেনি দলটি। গোলরক্ষক জিয়ানলুইজি দোন্নারুম্মার কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সেভ ইতালিকে ম্যাচে টিকিয়ে রাখে।

তবে দ্বিতীয়ার্ধের একটি পর্যায়কে দলের জন্য বিশেষভাবে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন মানচিনি। প্রায় ২৫ মিনিট ইতালি অনেক বেশি আগ্রাসী ছিল, দ্বিতীয় বলগুলো নিজেদের দখলে নিয়েছে এবং প্রতিপক্ষকে খুব বেশি সুযোগ দেয়নি। কোচের মতে, ওই সময়ের পারফরম্যান্স থেকেই দলকে সামনে এগিয়ে নেওয়ার মতো কিছু পাওয়া গেছে।

বল হারানো কমাতে চান কোচ

ইতালির পরাজয়ের অন্যতম কারণ হিসেবে প্রথমার্ধে অতিরিক্ত বল হারানোর বিষয়টি চিহ্নিত করেছেন মানচিনি। তার মতে, প্রতিপক্ষের বিপক্ষে খেলতে গিয়ে অযথা তাড়াহুড়ো না করে আরও শান্তভাবে বল ধরে রাখা প্রয়োজন।

পরবর্তী ম্যাচগুলোতে নিজেদের পাসিং ও বল দখলের মান বাড়ানোর দিকে গুরুত্ব দিতে চান তিনি। জায়গা না থাকলে জোর করে আক্রমণ তৈরির চেষ্টা না করে ধৈর্য ধরে খেলাকেই সমাধানের পথ হিসেবে দেখছেন ইতালি কোচ।

অতীতের ব্যর্থতা ভুলতে চান মানচিনি

বিশ্বকাপের প্লে-অফে বসনিয়া ও হার্জেগোভিনার কাছে পেনাল্টি শুটআউটে হারের স্মৃতি এখনও খেলোয়াড়দের ওপর কিছুটা প্রভাব ফেলছে কি না, এমন প্রশ্নও ওঠে সংবাদ সম্মেলনে।

মানচিনি স্বীকার করেছেন, অতীতের সেই ব্যর্থতার কিছুটা প্রভাব থাকতে পারে। তবে সেটি আঁকড়ে থাকলে সামনে এগোনো সম্ভব নয় বলেও স্পষ্ট করেছেন তিনি। তার মতে, অতীতে কী হয়েছে সেটি পরিবর্তন করার সুযোগ নেই। তাই পুরোনো ব্যর্থতার পরিবর্তে বর্তমানের ইতিবাচক বিষয়গুলো নিয়ে কাজ করাই এখন দলের জন্য বেশি গুরুত্বপূর্ণ।

অভিষেকে সন্তুষ্ট বেলজিয়ামের ভ্যান বোমেল

অন্যদিকে নতুন কোচ মার্ক ভ্যান বোমেলের অধীনে বেলজিয়ামের শুরুটা হয়েছে জয় দিয়ে। আন্তর্জাতিক ফুটবলে কোচ হিসেবে নিজের প্রথম ম্যাচেই ইতালির মতো শক্তিশালী দলের বিপক্ষে জয় পাওয়ায় স্বাভাবিকভাবেই সন্তুষ্ট ভ্যান বোমেল।

তিনি জানান, ম্যাচের আগে অল্প সময়ের মধ্যেই দলের নতুন কৌশল নিয়ে কাজ করতে হয়েছে। মাত্র কয়েক দিনের প্রস্তুতিতে পুরোপুরি নিখুঁত পারফরম্যান্স সম্ভব নয় বলেও মনে করেন তিনি।

তবে দলের আগ্রহ, গতি এবং নিয়ন্ত্রণে সন্তুষ্ট ভ্যান বোমেল। বিশেষ করে প্রথমার্ধে বেলজিয়াম প্রতিপক্ষকে খুব বেশি সুযোগ দেয়নি বলে উল্লেখ করেন তিনি। দ্বিতীয়ার্ধে চাপ ধরে রাখা কিছুটা কঠিন হয়ে গেলেও গোলরক্ষক সেন লামেন্সের গুরুত্বপূর্ণ সেভ এবং পরবর্তী সময়ে বদলি খেলোয়াড়দের কার্যকর ভূমিকা দলকে আবার নিয়ন্ত্রণে ফিরতে সাহায্য করেছে বলে জানান বেলজিয়াম কোচ।

সামনে আরও কঠিন পরীক্ষা ইতালির

বেলজিয়ামের বিপক্ষে হার দিয়ে নেশনস লিগের যাত্রা শুরু হলেও ইতালির সামনে ঘুরে দাঁড়ানোর সুযোগ রয়েছে। আন্তর্জাতিক বিরতিতে পরবর্তী ম্যাচগুলোতে তুরস্কের বিপক্ষে খেলবে দলটি। এরপর ফ্রান্সের মাঠেও কঠিন পরীক্ষায় নামতে হবে তাদের।

ফলে প্রথম ম্যাচের ভুলগুলো দ্রুত সংশোধন করাই এখন মানচিনির দলের বড় লক্ষ্য। সমর্থকদের আস্থা ফেরানোর পাশাপাশি মাঠের পারফরম্যান্সেও ধারাবাহিকতা তৈরি করতে হবে ইতালিকে। বেলজিয়ামের বিপক্ষে ফলাফল ইতালির পক্ষে না গেলেও দ্বিতীয়ার্ধের কিছু সময়ের পারফরম্যান্সকে ভিত্তি করে সামনে এগোতে চান মানচিনি। তার লক্ষ্য, অতীতের ব্যর্থতা নিয়ে পড়ে না থেকে নতুনভাবে দলকে গড়ে তোলা।

spot_imgspot_img
spot_img

Related Articles