গোলবন্যার ম্যাচে পিএসজি ৫–৪ গোলে জিতে চ্যাম্পিয়নস লিগের ফাইনালে এক পা দিয়ে রাখল। মঙ্গলবার রাতে নিজেদের মাঠ পার্ক দ্য প্যারিসে সফরকারী বায়ার্ন মিউনিখের বিপক্ষে চ্যাম্পিয়নস লিগ সেমির ইতিহাসে এটাই সর্বাধিক গোলের রেকর্ড। সেমির প্রথম লেগে এমন উত্তেজনাকর ম্যাচ জিতে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন প্যারিস সেইন্ট জার্মেই (পিএসজি) এগিয়ে থাকল।
এমন সেমিফাইনাল দেখা যায়নি আগে, গোলবন্যার ম্যাচে পিএসজি জিতেছে। সেমিফাইনাল ম্যাচের ইতিহাসে সর্বাধিক গোল হয়েছে এদিন। দুই দল মিলিয়ে করেছে ৯টি গোল! এই আসরের ইতিহাসে এর আগে ২০১৭-১৮ মৌসুমে প্রথম লেগে ৫-২ এবং দ্বিতীয় লেগে ২-৪ গোলের সেমি দেখা গেলে লিভারপুল ও এএস রোমার মধ্যে। গত মৌসুমে সেমির দ্বিতীয় সাক্ষাতে বার্সেলোনাকে ৪-৩ গোলে হারায় ইন্টার মিলান। এছাড়া চারটি সেমিফাইনাল ম্যাচে ৪-০ গোলের জয়ও দেখা গেছে।
প্যারিসে গোলের শুরুটা এবার করেছিল বায়ার্ন। ম্যাচের ১৭ মিনিটেই প্যারিসের মানুষকে স্তব্ধ করে দেয় হ্যারি কেইনের পেনাল্টি। তার লক্ষ্যভেদে পিছিয়ে পড়ে পিএসজি (০-১)। তবে স্বাগতিকদের উৎসবের রংয়ে রাঙ্গাতে দেরি করেননি কেভিচা কাভারাতস্কেলিয়া। এ জর্জিয়ান স্ট্রাইকার দেজিরে দুয়ের থেকে পাওয়া বল বায়ার্নের জালে জড়িয়ে দেন (১-১)।

সমতায় ফিরে আক্রমণের ধার বেড়ে যায় পিএসজির। গতবারের চ্যাম্পিয়নরা এগিয়ে যায় ৩৩ মিনিটে উসমান দেম্বেলে আর জোয়াও নেভেসের যৌথ প্রযোজনায়। নেভেস গোল করে লিড দেন প্যারিসের দলটিকে (২-১)।
এরপর খেলা চলতে থাকে আক্রমণ-প্রতি আক্রমণের মধ্যে দিয়ে। দুই দলের আক্রমণ ভাগে এক ঝাঁক তারকা আলোর ঝলকানিতে ব্যতিব্যস্ত রাখেন রক্ষণভাগ আর গোলরক্ষককে। সমান তালের এই ছন্দময় লড়াইয়ে শেষ পর্যন্ত সমতা আনে বায়ার্ন ৪১ মিনিটে। পাভলোভিচের কাছ থেকে বল পেয়ে গোল করেন মাইকেল অলিস (২-২)।
গোলবন্যার ম্যাচে পিএসজি জিতল
কিন্তু বাভারিয়ানদের এই আনন্দ মাটি হয়ে যায় নিজেদের ভুলে। এবার প্রথমার্ধের যোগ করা সময়ে পেনাল্টি পায় বায়ার্ন। দেম্বেলে গোল করে এগিয়ে নেন পিএসজিকে (৩-২)। চ্যাম্পিয়নস লিগের ইতিহাসে সেমি কিংবা ফাইনালের প্রথমার্ধে এটাই সবচেয়ে বেশি স্কোরের ম্যাচ।
দ্বিতীয়ার্ধেও উত্তেজনা বজায় থাকে। উভয় দলের রক্ষণভাগ আর গোলরক্ষকদের চরম ব্যস্ত রাখেন আক্রমণভাগের খেলোয়াড়রা। তবে পিএসজি যেন দুর্বার হয়ে ওঠে, তাই এগিয়ে যায় ৫৬ মিনিটে কাভারাতস্কেলিয়ার দ্বিতীয় গোলে। দুই মিনিট পরেই ব্যবধান বাড়িয়ে ৫-২ করেন দেম্বেলে তার আরেকটি গোল করে।

ম্যাচের তখনো বাকি আধা ঘণ্টার বেশি, তাই আরো নাটকীয়তার অপেক্ষায় থাকে পার্ক দ্য প্রিন্সেস। টানা কয়েকটি গোল করে যেন ক্লান্ত, শ্রান্ত হয়ে পড়ে পিএসজি। সেই সুযোগে মরিয়া বায়ার্ন পরপর দুটি গোল করে ব্যবধান কমিয়ে আনে। ৬৫ মিনিটে দায়ো উপামেকানো ও ৬৮ মিনিটে লুইস ডিয়াজ গোলের দেখা পান (৫-৪)।
এরপর যথেষ্ট সময় ছিল আরো কিছু গোল হওয়ার। দুই দলই সুযোগ পেয়েছে। সমতায় ফেরার জন্য কিছু সুযোগ তৈরি করলেও ফিনিশিংয়ের ব্যর্থতায় সেটি পারেনি বায়ার্ন। সবচেয়ে বড় সুযোগটা বরং উজ্জীবিত পিএসজিই পেয়েছে ৮৬ মিনিটে যখন একটি শট সাইডবারে লেগে প্রতিহত হয়।
এরপরও প্রথম লেগে ৫-৪ গোলের জয়ে ফাইনালের পথে এগিয়ে থাকল পিএসজি। চ্যাম্পিয়নস লিগে সেমির ম্যাচ সবচেয়ে বেশি ১২ বার হেরেছে রিয়াল মাদ্রিদ, ১০ বার হেরেছে বার্সেলোনা। এবার বার্সাকে ছুয়েছে বায়ার্ন, তারাও হারল ১০ বার।

এ ছাড়া চ্যাম্পিয়নস লিগের সেমিতে দ্বিতীয় সর্বাধিক ৪০ গোল হজম করার রেকর্ড হয়েছে বায়ার্নের। রিয়াল ৪৪, বার্সা ৩৮ গোল হজম করেছে সেমিতে।
পরের সাক্ষাতটা অ্যালিয়াঞ্জ অ্যারেনায়। সেখানে স্বাগতিক বায়ার্ন ছেড়ে কথা বলবে না, কারণ প্রতিপক্ষের মাঠেই চারটি গোল করে তারাও বেশ সন্তুষ্ট চিত্তেই ঘরে ফিরেছে। তাই সেমির দ্বিতীয় লেগে চমকপ্রদ আরো অনেক কিছুই বাকি থাকছে ফুটবলপ্রেমিদের জন্য।
স্কোর কার্ড
বিশ্বকাপ ২০২৩


















