বাংলাদেশ জাতীয় দলের পেস বোলিং কোচের দায়িত্ব আরও দীর্ঘ হচ্ছে তালহা জুবায়েরের। আগামী বছর ওয়ানডে বিশ্বকাপ পর্যন্ত জাতীয় দলের সঙ্গে কাজ করবেন সাবেক এই পেসার। এর আগে জিম্বাবুয়ে ও অস্ট্রেলিয়া সিরিজে ভারপ্রাপ্ত পেস বোলিং কোচ হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন তিনি।
গত জুনে বাংলাদেশ দলের পেস বোলিং কোচের পদ থেকে সরে দাঁড়ান শন টেইট। তাঁর বিদায়ের পর জিম্বাবুয়ে সিরিজে দায়িত্ব দেওয়া হয় তালহাকে। এরপর অস্ট্রেলিয়া সিরিজেও পেসারদের নিয়ে কাজ করেছেন তিনি। প্রাথমিক ভাবে ধারণা করা হয়েছিল, অস্ট্রেলিয়া সিরিজ শেষেই তাঁর অন্তর্বর্তীকালীন দায়িত্বের মেয়াদ শেষ হবে।
তবে বিসিবির একটি সূত্র জানিয়েছে, তালহার দায়িত্বের মেয়াদ বাড়ানো হচ্ছে। আগামী মাসে আফগানিস্তানের বিপক্ষে সিরিজে তো থাকছেনই, এরপর ওয়েস্ট ইন্ডিজ ও দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে সিরিজেও বাংলাদেশ দলের পেসারদের নিয়ে কাজ করবেন তিনি। সব মিলিয়ে চলতি বছর জাতীয় দলের সঙ্গে থাকার পর আগামী বছর ওয়ানডে বিশ্বকাপ পর্যন্তও তাঁর ওপরই আস্থা রাখছে বিসিবি।
এদিকে ফিল্ডিং কোচ হিসেবে আপাতত দায়িত্বে থাকছেন আশিক মজুমদার। তাঁর চুক্তির মেয়াদ কত দিন, সে বিষয়ে অবশ্য এখনো বিস্তারিত জানা যায়নি।
ব্যাটিং কোচের দায়িত্ব নিয়েও ছিল আলোচনা। জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে টেস্ট সিরিজে হারের পর মোহাম্মদ আশরাফুলকে নিয়ে নানা গুঞ্জন ছড়িয়েছিল। তবে শেষ পর্যন্ত ব্যাটিং কোচ হিসেবে তিনিই দায়িত্ব চালিয়ে যাবেন বলে জানা গেছে।
বাংলাদেশ দলের কোচিং স্টাফে আরও একজন সহকারী কোচ নিয়োগ দেওয়ার পরিকল্পনাও রয়েছে বিসিবির। তবে এ বিষয়ে এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি।
বিশ্বকাপ এর আর মাত্র এক বছর বাকি। ২০২৭ ওয়ানডে বিশ্বকাপের শিরোপা ধরে রাখার প্রস্তুতিতে যখন অস্ট্রেলিয়া আফ্রিকা সফরকে দেখছে গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষার মঞ্চ হিসেবে, তখন জিম্বাবুয়ের লক্ষ্য একেবারেই আলাদা। নিজেদের মাঠে বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়নকে আবারও হারিয়ে চমক দেখাতে চায় তারা। চলতি বছরের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে অস্ট্রেলিয়াকে হারানোর আত্মবিশ্বাস নিয়েই এবার ওয়ানডেতেও একই গল্প লেখার স্বপ্ন স্বাগতিকদের।
দুই দলের তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজ শুরু হচ্ছে এমন এক সময়ে, যখন উভয় দলের সামনেই ভিন্ন বাস্তবতা। অস্ট্রেলিয়া পরের এক বছরকে সামনে রেখে বিশ্বকাপের দল গোছানোর কাজ শুরু করেছে। আফ্রিকার এই ছয়টি ম্যাচকে তারা অনেকটা ‘পর্যবেক্ষণ অভিযান’ হিসেবে দেখছে। জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে তিন ওয়ানডের পর দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে আরও তিনটি ওয়ানডে খেলবে তারা। বিশ্বকাপের এক বছর আগে এসব ম্যাচেই ব্যাটিং অর্ডার, পেস আক্রমণ এবং অলরাউন্ডারদের ভূমিকা নিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা চালাতে চায় অস্ট্রেলিয়া।
অন্যদিকে জিম্বাবুয়ের কাছে এই সিরিজ বর্তমান সময়ের হিসাব মেলানোর সুযোগ। গত টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে অস্ট্রেলিয়াকে হারানোর পর আত্মবিশ্বাস বেড়েছে তাদের। এর আগে ২০২২ সালে অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে ওয়ানডে সিরিজেও অস্ট্রেলিয়াকে হারিয়েছিল জিম্বাবুয়ে। ফলে সাম্প্রতিক সময়ে শক্তিশালী দলটির বিপক্ষে তাদের আত্মবিশ্বাসের ঘাটতি নেই।
১২ বছর পর জিম্বাবুয়ের মাটিতে ওয়ানডে
জিম্বাবুয়ের মাটিতে অস্ট্রেলিয়া সর্বশেষ ওয়ানডে খেলেছিল ১২ বছর আগে। সেই ম্যাচের অস্ট্রেলিয়ান একাদশ থেকে এবারও দলে আছেন শুধু অধিনায়ক মিচেল মার্শ। অন্যদিকে জিম্বাবুয়ের সেই জয়ী দলের সিকান্দার রাজা ও দীর্ঘদিন পর ওয়ানডে দলে ফেরা ব্রেন্ডন টেলরও এবার রয়েছেন।
অর্থাৎ পুরোনো স্মৃতির সঙ্গে নতুন বাস্তবতারও মিশেল রয়েছে এই সিরিজে। জিম্বাবুয়ে যেমন নিজেদের মাঠে অস্ট্রেলিয়াকে আবারও চমকে দিতে চাইছে, অস্ট্রেলিয়া তেমনি এক বছর পর বিশ্বকাপে কী ধরনের দল নিয়ে যাবে, তার অনেক প্রশ্নের উত্তর খুঁজছে।
তবে দুই দলই এই সিরিজে পূর্ণ শক্তির অধিনায়ক ও পেস আক্রমণ নিয়ে নামতে পারছে না। জিম্বাবুয়ের অধিনায়কত্ব করছেন সিকান্দার রাজা। নিয়মিত অধিনায়ক রিচার্ড এনগারাভা চোটের কারণে বাইরে। তানাকা চিভাঙ্গাও চোটের কারণে নেই। অস্ট্রেলিয়ার প্যাট কামিন্সকে বিশ্রাম দেওয়া হয়েছে। দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে পরবর্তী ওয়ানডে ও টেস্ট সিরিজের কথা মাথায় রেখেই তার এই বিশ্রাম। মিচেল স্টার্কও একই কারণে অস্ট্রেলিয়ায় থেকে গেছেন।
বিশ্বকাপের বর্তমান চ্যাম্পিয়ন হলেও ওয়ানডেতে সাম্প্রতিক সময়ে অস্ট্রেলিয়ার পারফরম্যান্স খুব একটা স্বস্তিদায়ক নয়। গত বিশ্বকাপের পর ২৮টি ওয়ানডে খেলে তারা জিতেছে মাত্র ১৩টি। পাকিস্তান ও বাংলাদেশের বিপক্ষে সাম্প্রতিক সিরিজ হারও তাদের দুর্বলতার ছবি স্পষ্ট করেছে।
আরও গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, বাংলাদেশ যে দলকে অস্ট্রেলিয়া সর্বশেষ ওয়ানডে সিরিজে ২-১ ব্যবধানে হারিয়েছিল, সেই বাংলাদেশকেই এর পরের সিরিজে হারিয়েছে জিম্বাবুয়ে। ফলে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে জিম্বাবুয়ের আত্মবিশ্বাসের জায়গাটিও যথেষ্ট শক্ত।
শেষ পাঁচ ওয়ানডেতে দুই দলের ফর্ম
জিম্বাবুয়ে
জয়হারহারহারহার
VS
অস্ট্রেলিয়া
জয়হারহারহারজয়
ফর্মের বিচারে দুই দলের মধ্যে নেই বড় কোনো পার্থক্য।
জিম্বাবুয়ে ও অস্ট্রেলিয়া , দুই দলই সাম্প্রতিক ম্যাচে
জয়-হারের মিশ্র অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে।
জিম্বাবুয়ে এই সিরিজে ফিরিয়েছে বেশ কয়েকজন অভিজ্ঞ ক্রিকেটারকে। ব্রেন্ডন টেলর, রায়ান বার্ল এবং গ্রায়েম ক্রেমারকে আবারও দলে নেওয়া হয়েছে। ক্রেমার আট বছর পর ওয়ানডে দলে ফিরেছেন।
টেলর ও বার্লের প্রত্যাবর্তন বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। ২০২২ সালে টাউনসভিলে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে জিম্বাবুয়ের ঐতিহাসিক জয়ে রায়ান বার্ল বড় ভূমিকা রেখেছিলেন। সেই ম্যাচে তিনি মাত্র ১০ রানে ৫ উইকেট নিয়েছিলেন। চলতি বছরের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপেও অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে জিম্বাবুয়ের জয়ে গুরুত্বপূর্ণ অবদান ছিল তার।
স্বাগতিকদের বোলিং আক্রমণের নেতৃত্বে থাকবেন ব্লেসিং মুজারাবানি ও ব্র্যাড ইভান্স। নতুন বলে গতি, বাউন্স এবং সুইং , সব মিলিয়ে অস্ট্রেলিয়ার ব্যাটিংকে চাপে রাখার মতো অস্ত্র রয়েছে জিম্বাবুয়ের হাতে।
এই সিরিজে অস্ট্রেলিয়ার সবচেয়ে বড় দুশ্চিন্তার নাম ব্লেসিং মুজারাবানি। চলতি বছরের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে কলম্বোয় অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ১৭ রানে ৪ উইকেট নিয়ে জিম্বাবুয়ের জয়ের অন্যতম নায়ক ছিলেন তিনি।
ব্লেসিং মুজারাবানি ও সিকান্দার রাজা
শুধু টি-টোয়েন্টি নয়, জিম্বাবুয়ের সাম্প্রতিক দুই ওয়ানডে সিরিজ জয়েও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন এই পেসার। আয়ারল্যান্ড ও বাংলাদেশের বিপক্ষে সিরিজ জয়ে মুজারাবানি ছিলেন দলের অন্যতম সেরা বোলিং অস্ত্র।
এবার রিচার্ড এনগারাভা না থাকায় তার ওপর দায়িত্ব আরও বেড়েছে। হারারের সকাল সাড়ে ৯টার শুরুতে নতুন বলে উইকেটে বাড়তি গতি ও বাউন্স থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। সেই কন্ডিশনে মুজারাবানির বোলিং অস্ট্রেলিয়ার ব্যাটারদের জন্য বড় পরীক্ষা হতে পারে।
অস্ট্রেলিয়ার জন্য এই সিরিজের সবচেয়ে বড় প্রশ্ন ব্যাটিং অর্ডার। মিচেল মার্শ ও ট্রাভিস হেড আবারও ওপেনিংয়ে ফিরছেন। ফলে বাংলাদেশের বিপক্ষে শেষ ওয়ানডেতে ১৪৯ রানের দুর্দান্ত ইনিংস খেলা কুপার কনোলিকে নিচে নামতে হবে।
কনোলির সেই ১৪৯ ছিল তার আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের প্রথম সেঞ্চুরি। বাংলাদেশের বিপক্ষে মিরপুরে ওপেন করে তিনি অসাধারণ ব্যাটিং করেছিলেন। এখন মার্শ ও হেড ফিরে আসায় তার সামনে নতুন চ্যালেঞ্জ , দলের প্রথম একাদশে নিজের জায়গা ধরে রাখা।
তাকে তিন নম্বরে খেলানোর সম্ভাবনা রয়েছে। আবার শেষ ২০ ওভারে তার আক্রমণাত্মক ব্যাটিংয়ের সুবিধা নিতে তাকে আরও নিচেও রাখা হতে পারে। ফলে কনোলির ব্যাটিং পজিশনও অস্ট্রেলিয়ার বিশ্বকাপ পরিকল্পনার গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
তিন নম্বর নিয়েও অনিশ্চয়তা
স্টিভ স্মিথের অবসরের পর তিন নম্বরে মর্নাস লাবুশেনকে ‘ফায়ারওয়াল’ হিসেবে তৈরি করছিল অস্ট্রেলিয়া। দলের ওপেনারদের আক্রমণাত্মক ব্যাটিংয়ের পর তিন নম্বরে নেমে ইনিংসের ভিত গড়ে দেওয়ার কথা ছিল তার।
কিন্তু ফর্মের কারণে লাবুশেন দলে জায়গা হারিয়েছেন। ফলে তিন নম্বর নিয়েও অস্ট্রেলিয়ার পরিকল্পনায় অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
কুপার কনোলি, জশ ইংলিস ও ক্যামেরন গ্রিন , তিনজনই এই জায়গায় খেলতে পারেন। কিন্তু এখানেই অস্ট্রেলিয়ার আরেকটি সমস্যা। ইংলিস ও গ্রিনকে তিন নম্বরে খেলানো হলে শেষ ২০ ওভারে তাদের বড় শট খেলার সামর্থ্য কিছুটা কমে যেতে পারে।
বিশ্বকাপের মতো বড় টুর্নামেন্টে মাঝের ওভারে ইনিংস গড়া এবং শেষ দিকে দ্রুত রান তোলার মধ্যে ভারসাম্য খুঁজে বের করাই অস্ট্রেলিয়ার অন্যতম বড় কাজ।
ম্যাক্সওয়েলের অবসরে নিচের সারিতে বড় শূন্যতা
গ্লেন ম্যাক্সওয়েলের অবসরের পর অস্ট্রেলিয়ার ব্যাটিংয়ের নিচের সারিতেও তৈরি হয়েছে বড় শূন্যতা। ম্যাক্সওয়েল শুধু একজন বিধ্বংসী ব্যাটার ছিলেন না, অফস্পিন দিয়ে গুরুত্বপূর্ণ কয়েক ওভারও করে দিতে পারতেন।
তার উপস্থিতি অস্ট্রেলিয়াকে সাতজন বিশেষজ্ঞ ব্যাটার নিয়ে খেলার সুযোগ দিত। ২০২৩ বিশ্বকাপে তিনি অ্যাডাম জাম্পার সঙ্গে দ্বিতীয় স্পিনার হিসেবেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিলেন।
এখন সেই জায়গায় কাকে নেওয়া হবে, সেটিও অস্ট্রেলিয়ার বড় প্রশ্ন। জশ ইংলিস ও ক্যামেরন গ্রিন দুজনেরই ব্যাট হাতে শক্তি রয়েছে। কিন্তু তাদের ওপরের দিকে খেলালে শেষ দিকে আক্রমণ করার জন্য দলের হাতে কম বিকল্প থাকবে।
হারারের কন্ডিশনও মাথায় অস্ট্রেলিয়ার
এই সিরিজকে শুধু ফলাফলের দিক থেকে দেখছে না অস্ট্রেলিয়া। আগামী বছর বিশ্বকাপে কী ধরনের কন্ডিশন অপেক্ষা করতে পারে, সেটিও তারা বুঝে নিতে চাইছে।
হারারে ম্যাচগুলো শুরু হবে সকাল সাড়ে ৯টায়। সকালের দিকে উইকেটে নতুন বল বেশি নড়াচড়া করার সম্ভাবনা রয়েছে। সাম্প্রতিক জিম্বাবুয়ে-বাংলাদেশ সিরিজেও পেসাররা বেশ ভালো করেছেন।
ওই সিরিজে তিন ম্যাচে কোনো দলই ২৪৭ রানের বেশি করতে পারেনি। ব্যক্তিগতভাবে ৭৫-এর বেশি রান করেছিলেন মাত্র দুজন ব্যাটার। একটি সেঞ্চুরি হয়েছিল, সেটি করেছিলেন বেন কারান। তবে তার স্ট্রাইক রেট ছিল ৭৮.৪৪।
প্রথম দুই ম্যাচে জিম্বাবুয়ে যথাক্রমে ১৪১ ও ২৪৭ রান করেও জয় পেয়েছিল। ফলে এই সিরিজেও টস জিতে প্রথমে বোলিং করার দিকে দুই দলই ঝুঁকতে পারে।
চতুর্থ পেসারের জায়গায় লড়াই
বিশ্বকাপে যদি প্যাট কামিন্স, মিচেল স্টার্ক ও জশ হ্যাজলউড তিনজনই ফিট থাকেন, তাহলে অস্ট্রেলিয়ার চতুর্থ পেসারের জায়গা নিয়ে লড়াই হবে।
সেই লড়াইয়ে এগিয়ে থাকার সুযোগ নাথান এলিস ও জেভিয়ার বার্টলেটের সামনে। দুজনই এই সিরিজে নিজেদের প্রমাণ করার সুযোগ পাবেন।
বিশেষ করে অস্ট্রেলিয়ার বিশ্বকাপ পরিকল্পনায় চতুর্থ পেসার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বড় তিন পেসারদের ফিটনেস ও ওয়ার্কলোড সবসময়ই বিবেচনায় রাখতে হয়। তাই বিকল্প তৈরি করতেই এই সিরিজে এলিস ও বার্টলেটের দিকে নজর থাকবে।
জোয়েল ডেভিসের দিকেও নজর
অস্ট্রেলিয়ার আরেকটি সম্ভাব্য অস্ত্র হতে পারেন বাঁহাতি স্পিনার জোয়েল ডেভিস। বাংলাদেশে অনুষ্ঠিত টি-টোয়েন্টি সিরিজে অভিষেকেই তিনি ভালো впечатন তৈরি করেছেন।
ওয়ানডেতেও তাকে কোনো এক ম্যাচে সুযোগ দিয়ে দেখা হতে পারে। বিশেষ করে একজন স্পিনিং অলরাউন্ডার হিসেবে তিনি অস্ট্রেলিয়ার ভারসাম্য বাড়াতে পারেন।
অস্ট্রেলিয়ার দলে অ্যাডাম জাম্পা মূল স্পিনার। তার সঙ্গে ডেভিস থাকলে একাদশে অতিরিক্ত স্পিন বিকল্প পাওয়া যাবে। একই সঙ্গে ব্যাটিংয়েও বাড়তি গভীরতা আসবে।
কনোলির সামনে বড় সুযোগ
এই সিরিজে অস্ট্রেলিয়ার ক্রিকেটারদের মধ্যে কুপার কনোলির ওপর আলাদা নজর থাকবে। বাংলাদেশের বিপক্ষে ১৪৯ রানের ইনিংস তার জন্য সম্ভাবনার নতুন দরজা খুলে দিয়েছে।
বাংলাদেশের বিপক্ষে ক্যারিয়ারের প্রথম আন্তর্জাতিক সেঞ্চুরি উদযাপন করছেন কুপার কনোলি
ওই ইনিংস তাকে আগামী বিশ্বকাপের প্রথম পছন্দের একাদশে জায়গা পাওয়ার দাবিদার করেছে। এমনকি দক্ষিণ আফ্রিকা সফরের টেস্ট দলেও তাকে নেওয়া হয়েছে।
তবে ওয়ানডেতে তার সামনে চ্যালেঞ্জও কম নয়। মার্শ ও হেড ফিরলে ওপেনিংয়ের জায়গা আর থাকবে না। ফলে তিন নম্বর অথবা ফিনিশারের ভূমিকায় তাকে মানিয়ে নিতে হবে।
অস্ট্রেলিয়া যদি মাঝের সারির সমস্যা সমাধানে অভিজ্ঞ খেলোয়াড় চায়, তাহলে তিন নম্বরে কনোলি একটি সমাধান হতে পারেন। আবার শেষ দিকে দ্রুত রান তোলার জন্যও তার শক্তিশালী ব্যাটিং ব্যবহার করা যেতে পারে।
জিম্বাবুয়ের সম্ভাব্য একাদশ
জিম্বাবুয়ের সম্ভাব্য একাদশে ওপেনিংয়ে ব্রায়ান বেনেট ও বেন কারানকে দেখা যেতে পারে। এরপর ইনোসেন্ট কাইয়া ও ক্রেইগ আরভিন। উইকেটকিপারের জায়গায় ব্রেন্ডন টেলর অথবা তাদিওয়ানাশে মারুমানি খেলতে পারেন।
অধিনায়ক সিকান্দার রাজা থাকবেন ছয় নম্বরে। ওয়েসলি মাধেভেরে অথবা রায়ান বার্লের একজন অলরাউন্ডারের ভূমিকা পালন করতে পারেন। এরপর ব্র্যাড ইভান্স, ওয়েলিংটন মাসাকাদজা অথবা গ্রায়েম ক্রেমার, নিউম্যান নিয়ামহুরি ও ব্লেসিং মুজারাবানি।
অস্ট্রেলিয়ার সম্ভাব্য একাদশ
অস্ট্রেলিয়ার সম্ভাব্য একাদশে ওপেন করবেন ট্রাভিস হেড ও মিচেল মার্শ। তিন নম্বরে কুপার কনোলি, চার নম্বরে উইকেটকিপার জশ ইংলিস।
পাঁচ নম্বরে ক্যামেরন গ্রিন, ছয় নম্বরে ম্যাট রেনশ। সাত নম্বরে অ্যালেক্স ক্যারি অথবা অলিভার পিক। এরপর জেভিয়ার বার্টলেট, নাথান এলিস, অ্যাডাম জাম্পা ও জশ হ্যাজলউড। প্যাট কামিন্স ও মিচেল স্টার্ক না থাকায় হ্যাজলউডের ওপরও বাড়তি দায়িত্ব থাকবে।
মুখোমুখি লড়াইয়ে জিম্বাবুয়ের আত্মবিশ্বাস
পরিসংখ্যান অবশ্য অস্ট্রেলিয়ার পক্ষেই। জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে এখন পর্যন্ত মাত্র তিনটি ওয়ানডে হেরেছে তারা। তবে এর মধ্যে দুটি হার এসেছে শেষ চার ম্যাচে।
অন্য হারটি এসেছিল ১৯৮৩ সালে। অর্থাৎ সামগ্রিক ইতিহাসে অস্ট্রেলিয়ার আধিপত্য স্পষ্ট হলেও সাম্প্রতিক লড়াইয়ে জিম্বাবুয়ে তাদের জন্য অস্বস্তির কারণ হয়ে উঠেছে।
বিশেষ করে চলতি বছরের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে জিম্বাবুয়ের জয় অস্ট্রেলিয়ার আত্মবিশ্বাসে ধাক্কা দিয়েছে। তাই এই সিরিজে অস্ট্রেলিয়া যেমন নিজেদের ভুলগুলো শুধরে নিতে চাইবে, জিম্বাবুয়ে তেমনি সেই দুর্বলতাগুলো কাজে লাগাতে চাইবে।
শততম ওয়ানডেতে মিচেল মার্শ
জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে প্রথম ওয়ানডেটি মিচেল মার্শের ক্যারিয়ারের ১০০তম ওয়ানডে হতে যাচ্ছে। জিম্বাবুয়ের মাটিতে পাঁচটি ওয়ানডে খেলেছেন তিনি এবং সেখানে তার ব্যাটিং গড় ৫৫.৫০।
২০১৪ সালে জিম্বাবুয়ে সফরে মিচেল মার্শ
তাই ব্যক্তিগতভাবেও এই সিরিজ মার্শের জন্য বিশেষ। অধিনায়ক হিসেবে দলকে নেতৃত্ব দেওয়ার পাশাপাশি বিশ্বকাপের এক বছর আগে নিজের ব্যাটিং ফর্মও ধরে রাখতে চাইবেন তিনি।
এক বছর পর বিশ্বকাপ, এখনই হিসাব শুরু
অস্ট্রেলিয়ার সামনে এখন মূল লক্ষ্য শুধু জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে সিরিজ জয় নয়। আগামী বছরের বিশ্বকাপে শিরোপা ধরে রাখতে হলে এখন থেকেই দলটির প্রতিটি জায়গা নিয়ে সিদ্ধান্ত নিতে হবে।
তিন নম্বরে কে খেলবেন, ম্যাক্সওয়েলের জায়গা কে পূরণ করবেন, শেষ ২০ ওভারে কারা ম্যাচ শেষ করবেন, চতুর্থ পেসার কে হবেন এবং জাম্পার সঙ্গে আরেকজন স্পিনিং অলরাউন্ডার প্রয়োজন কি না, এসব প্রশ্নের উত্তর খুঁজতেই আফ্রিকার এই সফর।
অন্যদিকে জিম্বাবুয়ে চাইছে বর্তমান সময়ের সুযোগ কাজে লাগাতে। অস্ট্রেলিয়ার দুর্বল ব্যাটিং, গুরুত্বপূর্ণ কয়েকজন পেসারের অনুপস্থিতি এবং নিজেদের মাঠের কন্ডিশন, সবকিছুকে কাজে লাগিয়ে আবারও চমক দেখাতে চায় তারা।
সিকান্দার রাজা, ব্রেন্ডন টেলর, রায়ান বার্ল ও গ্রায়েম ক্রেমারের মতো অভিজ্ঞ ক্রিকেটারদের ফেরানোও সেই পরিকল্পনারই অংশ। মুজারাবানির নেতৃত্বে বোলিং আক্রমণও অস্ট্রেলিয়ার জন্য কঠিন পরীক্ষা হতে পারে।
সব মিলিয়ে, বিশ্বকাপের এক বছর আগে এই সিরিজ দুই দলের কাছে দুই রকম বার্তা বহন করছে। অস্ট্রেলিয়ার কাছে এটি ভবিষ্যতের দল গড়ার পরীক্ষা, আর জিম্বাবুয়ের কাছে বর্তমানের শক্তি দেখানোর সুযোগ। বিশ্বচ্যাম্পিয়নকে আবারও মাটিতে নামিয়ে দিতে পারলে জিম্বাবুয়ের আত্মবিশ্বাস যেমন আরও বাড়বে, তেমনি অস্ট্রেলিয়ার বিশ্বকাপ পরিকল্পনার দুর্বল জায়গাগুলোও আরও স্পষ্ট হয়ে উঠবে।
জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে সিরিজে অস্ট্রেলিয়ার তাই শুধু জয় নয়, সামনে তাকিয়ে নিজেদের সঠিক উত্তর খুঁজে পাওয়াটাই সবচেয়ে বড় লক্ষ্য।
ইংল্যান্ড সফরে দুর্দান্ত লড়াই করেও মাত্র ২ রানের আক্ষেপ নিয়ে মাঠ ছাড়তে হলো পাকিস্তান অনূর্ধ্ব-১৯ দলকে। চার ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজের তৃতীয় ম্যাচে স্বাগতিক ইংল্যান্ড অনূর্ধ্ব-১৯ দলকে জয়ের জন্য শেষ পর্যন্ত লড়তে হয়েছে। ওয়র্মসলিতে প্রথমে ব্যাট করে ইংল্যান্ড ৬ উইকেটে ৩০২ রান করার পর পাকিস্তান ৫০ ওভারে ৯ উইকেটে ৩০০ রান তুলতে সক্ষম হয়। ফলে শ্বাসরুদ্ধকর ম্যাচে ২ রানের জয় পায় ইংল্যান্ড। তবে প্রথম দুই ম্যাচ জেতায় সিরিজে এখনো ২-১ ব্যবধানে এগিয়ে পাকিস্তান।
টস জিতে পাকিস্তান প্রথমে ফিল্ডিং নেওয়ার পর ইংল্যান্ডকে বড় সংগ্রহের পথে এগিয়ে দেন জ্যাক নেলসন ও থিও লেমি। নেলসন ৬৮ বলে ৭৪ রান করেন, আর লেমির ব্যাট থেকে আসে ৮৫ বলে ৫৮ রান। পাকিস্তানের বোলারদের মধ্যে রিজওয়ানউল্লাহ ১০ ওভারে ৫৯ রান দিয়ে ৩ উইকেট নেন। নিকাব শফিক পান একটি উইকেট। শেষ পর্যন্ত নির্ধারিত ৫০ ওভারে ৬ উইকেট হারিয়ে ৩০২ রান সংগ্রহ করে ইংল্যান্ড।
জবাবে শুরুটা খুব একটা ভালো হয়নি পাকিস্তানের। তবে মাঝের ও শেষের দিকে ব্যাটারদের দৃঢ়তায় ম্যাচ জমে ওঠে। হামজা জহুর দুর্দান্ত ব্যাটিং করে ৬৫ বলে ৮৬ রান করেন। তাঁর ইনিংসে ছিল আক্রমণাত্মক ব্যাটিংয়ের ছাপ। হাসনাইন আব্বাস দারও গুরুত্বপূর্ণ ৫৬ রান করেন ৬৭ বলে। তাঁদের ব্যাটে ভর করে পাকিস্তান লক্ষ্যের কাছাকাছি পৌঁছে যায়।
শেষ দিকে ম্যাচের উত্তেজনা চরমে ওঠে। শেষ ওভারে পাকিস্তানের প্রয়োজন ছিল ১২ রান। উইকেটে ছিলেন মোহাম্মদ সাইয়াম ও রিজওয়ানউল্লাহ। সাইয়াম ৪৯.৩ ওভারে ছক্কা হাঁকিয়ে আশা জাগালেও পরের বলেই রানআউট হয়ে যান। শেষ পর্যন্ত ৫০ ওভার শেষে পাকিস্তানের সংগ্রহ দাঁড়ায় ৯ উইকেটে ৩০০ রান-জয় থেকে মাত্র ৩ রান দূরে। শেষ ওভারে ইংল্যান্ডের টম ব্র্যাডলি ৯ রান দিলেও একটি গুরুত্বপূর্ণ উইকেট তুলে নিয়ে দলকে ২ রানের জয় এনে দেন।
ইংল্যান্ডের বোলারদের মধ্যে জ্যাক অল্ড ১০ ওভারে ৬৭ রান দিয়ে ৩ উইকেট নেন। লুক হ্যান্ডস পান ২ উইকেট।
এই জয়ে চার ম্যাচের সিরিজে লড়াইয়ে ফিরল ইংল্যান্ড। তবে পাকিস্তানের সামনে এখনো সিরিজ জয়ের সুযোগ রয়েছে। শেষ ম্যাচে জয় পেলেই ৩-১ ব্যবধানে সিরিজ নিজেদের করে নেবে পাকিস্তান অনূর্ধ্ব-১৯ দল। অন্যদিকে সিরিজ বাঁচাতে শেষ ম্যাচে জিততেই হবে ইংল্যান্ডকে।
আর মাত্র এক বছর। এরপরই নিজেদের ওয়ানডে বিশ্বকাপের শিরোপা ধরে রাখার মিশনে নামবে অস্ট্রেলিয়া। আগামী বছরের অ্যাশেজ সিরিজ ঘিরে টেস্ট ক্রিকেটের ব্যস্ততা এখন বেশি আলোচনায় থাকলেও, তার পরপরই শুরু হবে ওয়ানডে বিশ্বকাপ। তাই শিরোপা ধরে রাখার প্রস্তুতিও এখন থেকেই শুরু করতে হচ্ছে অস্ট্রেলিয়াকে।
বিশ্বকাপের আগে অস্ট্রেলিয়ার হাতে অবশ্য খুব বেশি ওয়ানডে নেই। বর্তমান সূচি অনুযায়ী বিশ্বকাপের আগে মাত্র ১২টি ওয়ানডে খেলার সুযোগ পাবে তারা। এর মধ্যে আগামী দুই সপ্তাহে জিম্বাবুয়ে ও দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে দু’টি সিরিজ খেলবে অস্ট্রেলিয়া। বিশ্বকাপের প্রস্তুতিতে এই দুই সিরিজকে গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হিসেবে দেখছে দলটির নির্বাচকেরা।
২০২৩ সালের বিশ্বকাপের পর এখন পর্যন্ত ২৮টি ওয়ানডে খেলেছে অস্ট্রেলিয়া। এর মধ্যে জয় এসেছে ১৩টিতে। দ্বিপক্ষীয় সিরিজ খেলেছে আটটি, জিতেছে মাত্র তিনটি। অর্থাৎ বিশ্বচ্যাম্পিয়ন দল হলেও ওয়ানডেতে সাম্প্রতিক সময়টা খুব একটা ধারাবাহিক নয়। বিশ্বকাপের শিরোপা ধরে রাখতে হলে আগামী এক বছরে বেশ কিছু জায়গায় সমাধান খুঁজতে হবে তাদের।
মাঝের সারিতে বড় পরিবর্তন
অস্ট্রেলিয়ার সবচেয়ে বড় চিন্তার জায়গাগুলোর একটি এখন ব্যাটিংয়ের মাঝের সারি। ওপেনিংয়ে ট্রাভিস হেড ও মিচেল মার্শকে নিয়ে আপাতত খুব বেশি সংশয় নেই। দুজনকেই দলের ব্যাটিংয়ের ওপরের দিকে গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
কিন্তু তিন থেকে সাত নম্বর পর্যন্ত জায়গাগুলো এখনো পুরোপুরি নির্ধারিত নয়। ২০২৩ বিশ্বকাপজয়ী দলের গুরুত্বপূর্ণ সদস্য স্টিভেন স্মিথ আন্তর্জাতিক ওয়ানডে থেকে অবসর নিয়েছেন। একই সঙ্গে মার্নাস লাবুশেনকেও বর্তমান ওয়ানডে দল থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। যদিও বিশ্বকাপের আগে লাবুশেন আবারও নির্বাচকদের ভাবনায় ফিরতে পারেন।
অস্ট্রেলিয়ার হাতে এখন মাঝের সারির জন্য বেশ কয়েকটি বিকল্প। ক্যামেরন গ্রিনকে এখানে গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড় হিসেবে দেখা হচ্ছে। তার সঙ্গে আছেন কুপার কনলি, জশ ইংলিস, অ্যালেক্স ক্যারি, ম্যাট রেনশ, অলিভার পিক ও জোয়েল ডেভিস।
বাংলাদেশের বিপক্ষে মিরপুরে কুপার কনলি ওপেন করে দুর্দান্ত ১৪৯ রানের ইনিংস খেলেছিলেন। তবে তাকে তিন নম্বরেও ব্যবহার করা যেতে পারে। আবার প্রয়োজনে নিচের দিকেও খেলতে পারেন তিনি। ফলে অস্ট্রেলিয়ার জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হবে খেলোয়াড়দের শুধু দলে নেওয়া নয়, বরং নির্দিষ্ট ব্যাটিং পজিশনে তাদের স্থির করা।
বিশ্বকাপের আগে মাত্র ১২টি ওয়ানডে থাকায় অতিরিক্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার সুযোগও কম। তাই অস্ট্রেলিয়া এখন এমন খেলোয়াড়দের নিয়ে এগোতে চাইবে, যারা নিজেদের নির্দিষ্ট ভূমিকায় অভ্যস্ত হয়ে উঠতে পারবেন।
ম্যাক্সওয়েলের জায়গা পূরণ বড় পরীক্ষা
মাঝের সারির পাশাপাশি আরেকটি বড় প্রশ্ন, গ্লেন ম্যাক্সওয়েলের শূন্যতা পূরণ করবে কে? ২০২৩ বিশ্বকাপে ম্যাক্সওয়েল ছিলেন অস্ট্রেলিয়ার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অস্ত্র। ব্যাট হাতে ম্যাচ ঘুরিয়ে দেওয়ার পাশাপাশি বল হাতেও দলের ভারসাম্য বাড়াতেন তিনি। তার উপস্থিতির কারণে অস্ট্রেলিয়া কার্যত সাতজন মূল ব্যাটার নিয়ে খেলতে পারত। আডাম জাম্পার সঙ্গে দ্বিতীয় স্পিনার হিসেবেও কাজ করতেন ম্যাক্সওয়েল।
এখন সেই ভারসাম্য তৈরি করাই অস্ট্রেলিয়ার বড় চ্যালেঞ্জ। বর্তমান দলে একমাত্র বিশেষজ্ঞ স্পিনার হিসেবে জাম্পাই আছেন। বিশ্বকাপেও সম্ভবত এই পরিকল্পনাই থাকবে। তবে ম্যাক্সওয়েলের মতো দ্বিতীয় স্পিনারের প্রয়োজনীয়তা ভারতের কন্ডিশনের মতো গুরুত্বপূর্ণ নাও হতে পারে। কারণ ক্যামেরন গ্রিনকে চতুর্থ পেসার হিসেবে বল হাতে বড় ভূমিকা রাখার জন্য প্রস্তুত করা হচ্ছে।
এ ছাড়া ম্যাট রেনশ, কুপার কনলি, ট্রাভিস হেড ও জোয়েল ডেভিসও প্রয়োজনে স্পিন করতে পারেন। বাংলাদেশের বিপক্ষে কনলি পিঠের চোটের কারণে বোলিং করতে পারেননি। এখন অবশ্য তিনি পুরোপুরি ফিট।
রেনশর অফস্পিন ম্যাক্সওয়েলের মানের না হলেও দলের জন্য কার্যকর বিকল্প। হেডও নিয়মিত অফস্পিন করতে পারেন। অন্যদিকে বাঁহাতি স্পিনার জোয়েল ডেভিসও আলোচনায় উঠে এসেছেন। যদিও লিস্ট ‘এ’ ক্রিকেটে তার অভিজ্ঞতা এখনো মাত্র তিন ম্যাচের।
ছয় ও সাত নম্বরে কে?
অস্ট্রেলিয়ার আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন ছয় ও সাত নম্বর নিয়ে। ২০২৩ বিশ্বকাপে এই ভূমিকায় ম্যাক্সওয়েল ও মার্কাস স্টয়নিস বড় ভূমিকা রেখেছিলেন। এখন তাদের জায়গায় এমন খেলোয়াড় দরকার, যারা শেষ দিকে দ্রুত রান তুলতে পারবেন এবং প্রয়োজনে বলও করতে পারবেন।
২০২৩ বিশ্বকাপের পর থেকে সাত নম্বরে ব্যাট করা খেলোয়াড়দের গড়ের দিক থেকে অস্ট্রেলিয়ার অবস্থান খুব একটা ভালো নয়। শুধু ওয়েস্ট ইন্ডিজ ও জিম্বাবুয়ের গড় অস্ট্রেলিয়ার চেয়ে কম। স্ট্রাইক রেটও খুব একটা উঁচু নয়।
ক্যামেরন গ্রিনের বড় শট খেলার সামর্থ্য রয়েছে। তবে দলের প্রয়োজনে তাকে হয়তো আরও ওপরের দিকে খেলতে হবে। একই কথা প্রযোজ্য জশ ইংলিসের ক্ষেত্রেও। তরুণ অলিভার পিক কিছুটা দৃঢ়তা দেখিয়েছেন, কিন্তু আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে তার পথচলা এখনো একেবারে শুরুর দিকে।
অর্থাৎ বিশ্বকাপের এক বছর আগে অস্ট্রেলিয়ার সামনে সবচেয়ে বড় কাজগুলোর একটি হলো, কে হবে দলের শেষ দিকের ব্যাটিংয়ের নির্ভরযোগ্য ভরসা, সেটি নিশ্চিত করা।
তিন পেসারের বিকল্প পরিকল্পনা
অস্ট্রেলিয়ার পেস আক্রমণ নিয়েও রয়েছে প্রশ্ন। মিচেল স্টার্ক, জশ হ্যাজলউড ও প্যাট কামিন্স, এই তিন বিশ্বকাপজয়ী পেসারকে নিয়ে আবারও বিশ্বকাপে খেলতে চায় অস্ট্রেলিয়া। কিন্তু বাস্তবতা হলো, তাদের সামনে টেস্ট ক্রিকেটের অত্যন্ত ব্যস্ত সূচি।
এই সফরে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে সিরিজে স্টার্ক ও কামিন্স যোগ দেবেন। তবে বিশ্বকাপের আগে তারা আর কতগুলো ওয়ানডে খেলবেন, তা নিশ্চিত নয়। এমনকি পরবর্তী সময়ে খুব বেশি ওয়ানডে খেলার সুযোগ নাও হতে পারে তাদের।
গত বছরের চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতেও এই তিনজনকে ছাড়া অস্ট্রেলিয়ার পেস আক্রমণ কিছুটা দুর্বল দেখিয়েছিল। অবশ্য সেটি খুব বেশি বিস্ময়েরও নয়। স্টার্ক, হ্যাজলউড ও কামিন্স মিলে ওয়ানডেতে ৫৩২ উইকেট নিয়েছেন। ২০২৩ সালের আহমেদাবাদ বিশ্বকাপ ফাইনালের পর এই তিনজন একসঙ্গে মাত্র একটি ওয়ানডে খেলেছেন।
তাই আগামী বিশ্বকাপে তিনজন একসঙ্গে খেললেও অস্ট্রেলিয়াকে স্কোয়াডে আরও কয়েকজন পেসার রাখতে হবে। সেখানেই সামনে আসছে নাথান এলিসের নাম।
২০২৩ বিশ্বকাপের দলে জায়গা না পাওয়া নাথান এলিস এবার নিজেকে আরও শক্তভাবে প্রতিষ্ঠিত করেছেন। পাকিস্তান ও বাংলাদেশের সাম্প্রতিক সফরে নতুন বলে বোলিং করে নজর কেড়েছেন তিনি। এতে প্রমাণ হয়েছে, এলিস শুধু ডেথ ওভারের বা টি-টোয়েন্টির বোলার নন।
নতুন বলে বোলিং করার দায়িত্ব নেওয়াটাও তার জন্য গুরুত্বপূর্ণ ছিল। দীর্ঘ সময় পর নতুন বল হাতে পাওয়ায় শুরুতে কিছুটা নার্ভাস ছিলেন এলিস। তবে ঘরোয়া ক্রিকেটে ক্যারিয়ারের শুরুতে তিনি নিয়মিত নতুন বলেই বোলিং করতেন। পরে অস্ট্রেলিয়ার দলে নতুন বলের বোলারের সংখ্যা বেশি থাকায় তার ভূমিকা বদলে মাঝের ওভার থেকে ডেথ ওভারের দিকে চলে যায়।
এখন সেই অভিজ্ঞতাই বিশ্বকাপের আগে তাকে আরও গুরুত্বপূর্ণ করে তুলছে।
নজরে স্পেন্সার জনসন ও বার্টলেট
জিম্বাবুয়ে ও দক্ষিণ আফ্রিকা সফর স্পেন্সার জনসনের জন্যও বড় সুযোগ। দীর্ঘদিন ধরে তাকে স্টার্কের মতো বাঁহাতি পেসার হিসেবে বিবেচনা করা হয়। তবে পিঠের চোট থেকে ফিরে এবার তাকে প্রমাণ করতে হবে, ৫০ ওভারের ক্রিকেটে দীর্ঘ সময় ধরে বোলিং করার মতো ফিটনেস ও ধারাবাহিকতা তার আছে কি না।
এদিকে জেভিয়ার বার্টলেটও অস্ট্রেলিয়ার পরিকল্পনায় গুরুত্বপূর্ণ নাম। তিনি মূলত নতুন বলের সুইং বোলার। দক্ষিণ আফ্রিকার কন্ডিশন তার বোলিংয়ের জন্য সহায়ক হতে পারে। তাই এই সফরেই নিজের জায়গা আরও শক্ত করার সুযোগ রয়েছে তার সামনে।
বিলি স্ট্যানলেকও নতুন করে আলোচনায় এসেছেন। চলতি বছর ওয়ানডেতে ফিরে এসে তিনি আবারও নিজেকে বিভিন্ন সংস্করণে প্রাসঙ্গিক করে তুলেছেন। রাইলি মেরেডিথও বিশ্বকাপের পরিকল্পনায় ঢুকে পড়তে পারেন। অন্যদিকে ২০২৩ বিশ্বকাপের স্কোয়াডে থাকা শন অ্যাবট আপাতত নির্বাচকদের বিবেচনায় কিছুটা পিছিয়ে পড়েছেন।
সময় কম, কাজ অনেক
বিশ্বকাপের আগে অস্ট্রেলিয়ার হাতে সময় আছে এক বছর। কিন্তু ওয়ানডে ম্যাচ মাত্র ১২টি। ফলে প্রতিটি সিরিজই তাদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। জিম্বাবুয়ে ও দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে আসন্ন সিরিজ তাই শুধু ফলের লড়াই নয়, বিশ্বকাপের দল গঠনের পরীক্ষাও।
স্টিভেন স্মিথের জায়গায় কে আসবেন, ম্যাক্সওয়েলের অলরাউন্ড সামর্থ্য কীভাবে পূরণ করা হবে, ছয় ও সাত নম্বরে কে শেষের ঝড় তুলবেন, গ্রিনকে কোথায় ব্যবহার করা হবে, আর স্টার্ক-কামিন্স-হ্যাজলউডের বিকল্প হিসেবে কারা প্রস্তুত, এসব প্রশ্নের উত্তর আগামী কয়েক মাসেই খুঁজে নিতে হবে অস্ট্রেলিয়াকে।
২০২৩ সালে ভারতকে হারিয়ে বিশ্বকাপ জিতেছিল অস্ট্রেলিয়া। এবার লক্ষ্য সেই শিরোপা ধরে রাখা। কিন্তু বর্তমান পরিসংখ্যান বলছে, পথটা সহজ হবে না। বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হিসেবে নিজেদের শ্রেষ্ঠত্ব ধরে রাখতে হলে আগামী এক বছরেই দলটির মাঝের সারি, অলরাউন্ড ভারসাম্য ও পেস আক্রমণের কাঠামো নতুন করে সাজাতে হবে।
সান সিরোতে শুরুটা ছিল দুঃস্বপ্নের মতো। মাত্র ১৬ মিনিটেই ২-০ গোলে পিছিয়ে পড়েছিল বর্তমান চ্যাম্পিয়ন ইন্টার মিলান। কিন্তু সেখান থেকেই ঘুরে দাঁড়িয়ে শেষ পর্যন্ত উদিনেজকে ৫-৩ গোলে হারিয়ে সেরি ‘আ’-তে নিজেদের নিখুঁত যাত্রা ধরে রেখেছে ক্রিস্তিয়ান চিভুর দল।
এ নিয়ে লিগে চার ম্যাচে চার জয় ইন্টারের। চার ম্যাচে শতভাগ রেকর্ড নিয়ে তারা তালিকার শীর্ষে থাকা রোমার সঙ্গে পয়েন্টে সমান অবস্থানে রয়েছে। এর আগে রোমা তোরিনোকে ২-০ গোলে হারিয়ে সাময়িকভাবে শীর্ষে উঠেছিল। পরে ইন্টারের দুর্দান্ত প্রত্যাবর্তনে তারা আবারও সমতায় ফিরে আসে।
চ্যাম্পিয়নদের বিপক্ষে উদিনেজে শুরু থেকেই ছিল দুর্দান্ত। নবম মিনিটে স্বল্প দূরত্বের কর্নার থেকে রিপাবলিক অব আয়ারল্যান্ডের ডিফেন্ডার জেমস আবানকওয়ার লুপিং হেড ইন্টার গোলরক্ষক জোসেপ মার্তিনেজকে পরাস্ত করে জালে জড়ায়। ১৬ মিনিটে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন ইউর্গেন এক্কেলেনক্যাম্প। কেইনান ডেভিসের পাস পেয়ে কাছ থেকে বল জালে পাঠান তিনি।
দুই গোলে পিছিয়ে গিয়ে অবশ্য ভেঙে পড়েনি ইন্টার। ২৬ মিনিটে কার্লোস অগুস্তোর দুর্দান্ত দূরপাল্লার শটে ব্যবধান কমে আসে। বিরতির ১০ মিনিট আগে মার্কো থুরামের পাস থেকে নিকোলো বারেল্লা ডান দিকের বক্সে বল পেয়ে কিছুটা ভারসাম্য হারিয়েও দারুণ কোণাকুণি শটে গোল করেন। ২-২ সমতায় শেষ হয় প্রথমার্ধ।
বিরতির পর ইন্টারের আক্রমণের গতি আরও বেড়ে যায়। ৫৭ মিনিটে অ্যান্ডি দিয়ুফ ডান দিক দিয়ে বক্সে ঢুকে বল কাটব্যাক করলে থুরাম নিচু শটে দূরের পোস্ট দিয়ে বল জালে পাঠান। প্রথমবারের মতো এগিয়ে যায় স্বাগতিকেরা।
গোলের পর মার্কাস থুরাম
এরপর ৬২ মিনিটে চোটের কারণে মাঠ ছাড়তে হয় জন স্টোনসকে। ম্যানচেস্টার সিটি থেকে বিনা মূল্যে ইন্টারে যোগ দেওয়ার পর এটিই ছিল তাঁর প্রথম একাদশে জায়গা পাওয়া ম্যাচ। উদিনেজের পাল্টা আক্রমণ ঠেকাতে দৌড়ানোর সময় ঊরুর পেছনে চোট পেয়ে তাঁকে তুলে নেওয়া হয়। তাঁর জায়গায় নামেন বেঞ্জামিন পাভার্ড। ৬৭ মিনিটে ইন্টারের চতুর্থ গোল। পিওতর জিয়েলিনস্কির দ্রুত পাস পেয়ে পিও এস্পোসিতো ছোট জায়গার ভেতর চমৎকার সমন্বয়ের পর নিচু শটে গোল করেন।
ম্যাচের শেষ দিকে আরও একবার উদিনেজের জালে বল পাঠায় ইন্টার। ৮০ মিনিটে বাঁ দিকের আক্রমণ থেকে বল পেয়ে অ্যাঞ্জ-ইয়োআন বনি প্রথম প্রচেষ্টা গোলরক্ষক মাদুকা ওকোই ঠেকিয়ে দিলেও ফিরতি বল পেয়ে এবার আর ভুল করেননি। জোরালো শটে বল জালে পাঠিয়ে ইন্টারের জয় নিশ্চিত করেন তিনি।
যোগ করা সময়ে ইদ্রিসা গুয়ে উদিনেজের হয়ে একটি গোল শোধ করলেও তাতে ম্যাচের ফল বদলায়নি। ৫-৩ গোলের জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে ইন্টার।
চ্যাম্পিয়ন্স লিগের প্রথম ম্যাচে রিয়াল মাদ্রিদের কাছে হারের ধাক্কা কাটিয়ে ঘরোয়া ফুটবলে আবারও নিজেদের শক্তির জানান দিল ইন্টার। দুই গোলে পিছিয়ে থেকেও ম্যাচ ঘুরিয়ে নেওয়ার এই জয় শুধু তিন পয়েন্ট নয়, শিরোপা ধরে রাখার লড়াইয়ে চ্যাম্পিয়নদের মানসিক দৃঢ়তারও বড় প্রমাণ।
চীনের ইনার মঙ্গোলিয়ায় জুনিয়র এশিয়া কাপ হকির অভিযান শেষ করে দেশে ফিরছে বাংলাদেশ জুনিয়র পুরুষ হকি দল। টুর্নামেন্টের শেষ ম্যাচ খেলে ইনার মঙ্গোলিয়া ছেড়েছে লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা। এখন দলটির গন্তব্য বেইজিং। সেখান থেকে ঢাকার ফ্লাইটে উঠবে তারা। নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী বাংলাদেশ সময় রাত ৮টা ৪০ মিনিটে দলের ঢাকায় পৌঁছানোর কথা রয়েছে।
এবারের জুনিয়র এশিয়া কাপে প্রত্যাশা নিয়ে চীনে গিয়েছিল বাংলাদেশ। টুর্নামেন্টটি ছিল শুধু ভালো ফলের জন্য নয়, জুনিয়র বিশ্বকাপে জায়গা করে নেওয়ার লড়াইয়ের দিক থেকেও গুরুত্বপূর্ণ। তাই শুরু থেকেই প্রতিটি ম্যাচে নিজেদের সেরাটা দেওয়ার লক্ষ্য ছিল দলের।
তবে টুর্নামেন্টের শুরুটা বাংলাদেশের জন্য কঠিন ছিল। নিজেদের প্রথম ম্যাচে স্বাগতিক চীনের বিপক্ষে দারুণ লড়াই করে বাংলাদেশ। একপর্যায়ে এগিয়েও গিয়েছিল লাল-সবুজের দল। কিন্তু শেষ পর্যন্ত ৩-২ গোলে হেরে যায় বাংলাদেশ। লড়াই জমলেও গুরুত্বপূর্ণ সময়ে চীনকে আটকে রাখতে পারেনি দল।
এরপর দ্বিতীয় ম্যাচে বাংলাদেশের প্রতিপক্ষ ছিল শক্তিশালী মালয়েশিয়া। সেই ম্যাচেও লড়াই করেছে জুনিয়ররা। তবে শেষ পর্যন্ত ৪-২ গোলে হেরে যায় বাংলাদেশ। টানা দুই ম্যাচে পরাজয়ের পর গ্রুপ পর্বে ঘুরে দাঁড়ানোর চ্যালেঞ্জ তৈরি হয় দলের সামনে।
তৃতীয় ম্যাচে সেই ঘুরে দাঁড়ানোর প্রমাণও দেয় বাংলাদেশ। কাজাখস্তানের বিপক্ষে দারুণ পারফরম্যান্স করে ৪-২ গোলের জয় তুলে নেয় তারা। ম্যাচে বাংলাদেশের হয়ে গোল করেন শিমুল ইসলাম, মেহেদী হাসান ওভি, তৈয়ব আলী এবং মুন্না ইসলাম।
তবে গ্রুপ পর্বের চতুর্থ ও শেষ ম্যাচে পাকিস্তানের বিপক্ষে কঠিন পরীক্ষায় পড়ে বাংলাদেশ। শক্তিশালী প্রতিপক্ষের বিপক্ষে গোলের দেখা পায়নি দল। পাকিস্তানের কাছে ৩-০ গোলে হেরে গ্রুপ পর্ব শেষ করে বাংলাদেশ।
একটি জয় ও তিনটি পরাজয় নিয়ে পরের ধাপে স্থান নির্ধারণী ম্যাচে খেলতে হয় বাংলাদেশকে। সেখানেও প্রত্যাশিত ফল পায়নি দল। জাপানের বিপক্ষে ৬-২ গোলে হেরে যায় জুনিয়ররা। এই পরাজয়ের ফলে টুর্নামেন্টে আরও ওপরে ওঠার সুযোগ হাতছাড়া হয় বাংলাদেশের।
তবে টুর্নামেন্টের শেষ ম্যাচে দারুণভাবে ঘুরে দাঁড়ায় দল। সপ্তম-অষ্টম স্থান নির্ধারণী ম্যাচে চাইনিজ তাইপেকে ৫-২ গোলে হারিয়ে অভিযান শেষ করে বাংলাদেশ। শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক হকি খেলেছে লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা। ম্যাচে বাংলাদেশের হয়ে জোড়া গোল করেন মোহাম্মদ রিফাত। একটি করে গোল করেন মুন্না ইসলাম, তৈয়ব আলী ও মোহাম্মদ আবদুল্লাহ।
শেষ ম্যাচের বড় জয় কিছুটা স্বস্তি এনে দেয় বাংলাদেশ শিবিরে। পুরো টুর্নামেন্টে প্রত্যাশিত ধারাবাহিকতা না থাকলেও শেষ ম্যাচে দলের আক্রমণভাগের সক্ষমতা স্পষ্ট হয়েছে। একই সঙ্গে প্রতিযোগিতামূলক আন্তর্জাতিক হকিতে আরও উন্নতির জায়গাগুলোও সামনে এসেছে।
জুনিয়র এশিয়া কাপ হকি থেকে শিক্ষা ও ভবিষ্যতের প্রস্তুতি
শেষ পর্যন্ত জুনিয়র এশিয়া কাপে সপ্তম হয়ে টুর্নামেন্ট শেষ করেছে বাংলাদেশ। ফলাফল হয়তো প্রত্যাশিত হয়নি, তবে তরুণ খেলোয়াড়দের জন্য আন্তর্জাতিক পর্যায়ে শক্তিশালী দলগুলোর বিপক্ষে খেলার অভিজ্ঞতা ভবিষ্যতে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। বিশেষ করে চীন, মালয়েশিয়া, পাকিস্তান ও জাপানের মতো দলের বিপক্ষে খেলা তরুণদের আন্তর্জাতিক হকির বাস্তবতা বুঝতে সহায়তা করবে।
এখন সেই অভিজ্ঞতা নিয়েই দেশে ফিরছে বাংলাদেশ জুনিয়র পুরুষ হকি দল। ইনার মঙ্গোলিয়া থেকে বেইজিংয়ে পৌঁছে সেখান থেকে ঢাকার বিমান ধরবে তারা। নির্ধারিত সময় অনুযায়ী বাংলাদেশ সময় রাত ৮টা ৪০ মিনিটে দলের দেশে পৌঁছানোর কথা। চীনের এই সফর শেষ হলেও সামনে আরও আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতা। তাই ইনার মঙ্গোলিয়ার অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে আগামী দিনে আরও শক্তিশালী দল গড়ার লক্ষ্য থাকবে বাংলাদেশ হকির।
কেন্টের হয়ে দুর্দান্ত ছন্দে থাকা বাংলাদেশের পেসার হাসান মাহমুদকে কাউন্টি চ্যাম্পিয়নশিপের শেষ দিকের ম্যাচগুলো থেকে সরিয়ে নিয়েছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। ব্যস্ত আন্তর্জাতিক সূচির আগে তার কাজের চাপ নিয়ন্ত্রণে রাখতেই এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিসিবি। ফলে ইংলিশ কাউন্টির ডিভিশন টু-তে পদোন্নতির লড়াইয়ে থাকা কেন্ট বড় এক শক্তি হারাল।
চলতি মৌসুমে কেন্টের হয়ে দুর্দান্ত পারফরম্যান্স করেছেন হাসান। কাউন্টি চ্যাম্পিয়নশিপে মাত্র চারটি ম্যাচ খেলেই ২৬ উইকেট নিয়েছেন এই ডানহাতি পেসার। তার দুর্দান্ত বোলিংয়ে কেন্ট ডিভিশন টু-এর পয়েন্ট টেবিলে উঠে এসেছে তৃতীয় স্থানে। টি-টোয়েন্টি প্রতিযোগিতা ভাইটালিটি ব্লাস্টেও কেন্টের হয়ে চারটি উইকেট পেয়েছেন তিনি।
কেন্টের জন্য ওপরের লিগে ওঠার লড়াইও এখন বেশ জমজমাট। ডিভিশন টু থেকে ডিভিশন ওয়ানে ওঠার সুযোগ রয়েছে আর মাত্র একটি দলের। সেই জায়গায় থাকা নর্থহ্যাম্পটনশায়ারের চেয়ে মাত্র দুই পয়েন্ট পিছিয়ে কেন্ট। ইতোমধ্যে ডারহাম চ্যাম্পিয়ন হয়ে ডিভিশন ওয়ানে ফেরার টিকিট নিশ্চিত করেছে। ফলে বাকি একটি পদোন্নতির জায়গার জন্য কেন্ট ও নর্থহ্যাম্পটনশায়ারের লড়াইয়ে হাসানের অনুপস্থিতি নিঃসন্দেহে বড় ধাক্কা।
তবে দলের স্বার্থের চেয়েও এই মুহূর্তে হাসান মাহমুদের দীর্ঘমেয়াদি ফিটনেস ও কাজের চাপ নিয়ন্ত্রণকে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে বিসিবি। ২৬ বছর বয়সী এই পেসার চলতি বছর ক্লাব ও আন্তর্জাতিক ক্রিকেট, দুই জায়গাতেই দুর্দান্ত ফর্মে আছেন। অস্ট্রেলিয়া সফরের মাঝেও তাকে কাউন্টি ক্রিকেটে খেলতে হয়েছে। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের ব্যস্ত সূচির আগে তাই শরীরকে পর্যাপ্ত বিশ্রাম দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বোর্ড।
অস্ট্রেলিয়া সফরেও হাসানের পারফরম্যান্স ছিল নজরকাড়া। ঐতিহাসিক প্রথম টেস্ট জয়ে বাংলাদেশের অন্যতম নায়ক ছিলেন তিনি। ডারউইনে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সেই ম্যাচে ৯ উইকেট নিয়ে বাংলাদেশের জয়ে বড় অবদান রাখেন হাসান। টেস্টে তার গতিময় বোলিং ও ধারাবাহিকতা অস্ট্রেলিয়ার ব্যাটিং লাইনআপকে চাপে রেখেছিল।
কাউন্টি ক্রিকেটেও সেই ছন্দ ধরে রেখেছেন তিনি। চার ম্যাচে ২৬ উইকেট নেওয়া তার পারফরম্যান্সই বলে দিচ্ছে, ইংল্যান্ডের কন্ডিশনে কতটা কার্যকর হয়ে উঠেছেন বাংলাদেশের এই পেসার। ফলে কেন্টের হয়ে মৌসুমের শেষ দুই ম্যাচে তাকে না পাওয়াটা দলটির জন্য বড় ক্ষতি হিসেবেই দেখা হচ্ছে।
তবে সামনে বাংলাদেশের ব্যস্ত সূচি থাকায় হাসানকে নিয়ে ঝুঁকি নিতে চায় না বিসিবি। আগামী ২৮ সেপ্টেম্বর এশিয়ান গেমসের কোয়ার্টার ফাইনালে বাংলাদেশের হয়ে মাঠে নামার কথা রয়েছে তার। এরপর রয়েছে আফগানিস্তান ও ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে টেস্ট সিরিজ। বছরের শেষ দিকে দক্ষিণ আফ্রিকা সফরে তিন সংস্করণেই খেলবে বাংলাদেশ। সব মিলিয়ে সামনে দীর্ঘ ও ব্যস্ত আন্তর্জাতিক মৌসুম।
এই কারণেই হাসানের কাজের চাপ কমিয়ে তাকে সতেজ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিসিবি। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে নিয়মিত খেলা, অস্ট্রেলিয়া সফর এবং ইংলিশ কাউন্টিতে দীর্ঘ সময় বোলিং করার পর আরও ম্যাচ খেলালে চোটের ঝুঁকি বাড়তে পারে। বিশেষ করে বাংলাদেশের পেস আক্রমণের গুরুত্বপূর্ণ সদস্য হয়ে ওঠা হাসানকে নিয়ে এমন ঝুঁকি নিতে নারাজ বোর্ড।
কেন্টের ক্রিকেট পরিচালক সাইমন কুকও বিসিবির সিদ্ধান্তকে সম্মান জানিয়েছেন। হাসানকে হারানোর কারণে হতাশা থাকলেও বাংলাদেশের বোর্ডের সঙ্গে আলোচনা ফলপ্রসূ হয়েছে বলে জানিয়েছেন তিনি।
কুক বলেন, হাসানকে কাউন্টি চ্যাম্পিয়নশিপের শেষ লড়াইয়ে না পাওয়ায় তারা হতাশ। তবে বিসিবির সিদ্ধান্তকে তারা সম্মান করেন। একই সঙ্গে পুরো মৌসুমে কেন্টের হয়ে হাসানের অবদানের জন্য তাকে ধন্যবাদও জানিয়েছেন।
কেন্ট জানিয়েছে, হাসানকে না পেলেও তাদের হাতে আরও দুই বিদেশি পেসার রয়েছেন। কিথ ডাজন ও খালেদ আহমেদ মৌসুমের শেষ দুই ম্যাচের জন্য দলের সঙ্গে থাকছেন। কেন্টের শেষ দুটি ম্যাচ ঘরের মাঠে, প্রতিপক্ষ পয়েন্ট টেবিলের নিচের দুই দল ল্যাঙ্কাশায়ার ও গ্লুচেস্টারশায়ার।
তবে হাসানের বিদায়ে কেন্টের পদোন্নতির (ডিভিশন ওয়ানে ওঠার) লড়াই যে কঠিন হয়ে গেল, তা বলার অপেক্ষা রাখে না। মাত্র দুই পয়েন্টের ব্যবধানের লড়াইয়ে এমন একজন বোলারকে হারানো, যিনি চার ম্যাচে ২৬ উইকেট নিয়েছেন, সেটি বড় ধাক্কাই।
অন্যদিকে বাংলাদেশের জন্য হাসানের বিশ্রামের সিদ্ধান্ত ভবিষ্যতের ব্যস্ত সূচির কথা বিবেচনায় গুরুত্বপূর্ণ। চলতি বছর আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে দুর্দান্ত পারফরম্যান্সের পর তাকে আরও বড় পরীক্ষার সামনে দাঁড়াতে হবে। এশিয়ান গেমস থেকে শুরু করে টেস্ট সিরিজ এবং দক্ষিণ আফ্রিকা সফর, সবখানেই বাংলাদেশের পেস আক্রমণের অন্যতম ভরসা হতে পারেন তিনি।
কেন্টের পদোন্নতির স্বপ্নে হাসানের অনুপস্থিতি তাই বড় আঘাত হলেও বাংলাদেশের ক্রিকেটের জন্য এটি দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার অংশ। বিসিবির লক্ষ্য, গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক সিরিজগুলোর আগে হাসানকে পুরোপুরি সতেজ ও চোটমুক্ত রাখা। কাউন্টিতে দুর্দান্ত ফর্মের পর এবার সেই ছন্দ আন্তর্জাতিক ক্রিকেটেও ধরে রাখাই হবে বাংলাদেশের এই পেসারের সামনে বড় চ্যালেঞ্জ।
নতুন মৌসুমে অবশেষে হারের স্বাদ পেল নিউক্যাসল ইউনাইটেড। সোমবার রাতে প্রিমিয়ার লিগের ম্যাচে লিডস ইউনাইটেডের কাছে ৪-১ গোলে বিধ্বস্ত হয়েছে ম্যাথিয়াস ইয়াইসলের দল। এল্যান্ড রোডে স্বাগতিকদের দাপুটে পারফরম্যান্সে শেষ হয়েছে নিউক্যাসলের ২০২৬-২৭ মৌসুমের অপরাজিত যাত্রা।
এই জয়ে প্রিমিয়ার লিগের পয়েন্ট টেবিলে তৃতীয় স্থানে উঠে এসেছে লিডস। অন্যদিকে নিউক্যাসলের জন্য রাতটি ছিল হতাশার। পুরো ম্যাচে নিজেদের সাম্প্রতিক পারফরম্যান্সের ধারেকাছেও যেতে পারেনি তারা। ম্যাচের শুরু থেকেই লিডসের আক্রমণ সামলাতে বেশ বেগ পেতে হয়েছে সফরকারীদের।
ম্যাচের প্রথম ২০ মিনিটেই নিউক্যাসলকে বড় ধাক্কা খেতে হয়। মুখে আঘাত পাওয়ায় মাঠ ছাড়তে বাধ্য হন নিকো গনসালেজ। তার জায়গায় মাঠে নামেন শন স্টেউর। এর আগে ম্যাচের শুরুতেই লিডস একাধিকবার নিউক্যাসলের রক্ষণে চাপ তৈরি করে। জেমস জাস্টিন ও জেডেন বোগলের প্রচেষ্টায় গোলের কাছাকাছি গিয়েছিল স্বাগতিকরা। তবে নিউক্যাসলের গোলরক্ষক লুকাশ হর্নিচেক কয়েকটি দারুণ সেভে দলকে রক্ষা করেন।
তবে ম্যাচের ৩২ মিনিটে আর রক্ষা হয়নি নিউক্যাসলের। আউ টানাকার শট নিউক্যাসলের দুই খেলোয়াড় শন স্টেউর ও লুইস মাইলির গায়ে লেগে দিক পরিবর্তন করে জালে জড়ায়। আত্মঘাতী ধাক্কার পর ম্যাচে এগিয়ে যায় লিডস।
এর কিছুক্ষণ পরই (৩৪ মিনিট) ব্যবধান দ্বিগুণ করেন ডমিনিক কালভার্ট-লেউইন। নিজেদের অর্ধে বলের নিয়ন্ত্রণ হারানোর সুযোগ কাজে লাগিয়ে আক্রমণে ওঠে লিডস। ডান দিক থেকে জেমস জাস্টিনের ক্রস পেয়ে নিখুঁত হেডে নিউক্যাসলের জালে বল পাঠান কালভার্ট-লেউইন।
প্রথমার্ধের শেষ মুহূর্তে (৪৫+১) আবারও গোল করে নিউক্যাসলের বিপদ আরও বাড়িয়ে দেন ইংলিশ ফরোয়ার্ড ডমিনিক কালভার্ট-লেউইন। স্বাগতিকদের আক্রমণ থেকে বল পেয়ে বক্সে ঢুকে রক্ষণভাগের বাধা কাটিয়ে শট নেন কালভার্ট-লেউইন। তার শট মালিক থিয়াওয়ের গায়ে লেগে দিক পরিবর্তন করে জালে ঢুকে যায়। ফলে বিরতিতে ৩-০ গোলে পিছিয়ে থাকে নিউক্যাসল।
দ্বিতীয়ার্ধে ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করে সফরকারীরা। লুইস হলের শট ঠেকিয়ে দেন লিডস গোলরক্ষক জেমস ট্রাফোর্ড। তবে নিউক্যাসলের আক্রমণে ধার ছিল না। বরং নিজেদের ভুলেই আরও বিপদ ডেকে আনে তারা।
৫৫ মিনিটে বল হারিয়ে আবারও লিডসকে আক্রমণের সুযোগ দেয় নিউক্যাসল। অ্যান্টন স্টাখ অবশ্য সুযোগ কাজে লাগাতে পারেননি। কিন্তু ম্যাচের প্রায় এক ঘণ্টা পূর্ণ হওয়ার আগেই (৫৯ মিনিটে) চতুর্থ গোল পেয়ে যায় লিডস। পোস্টের ভেতরের অংশে লেগে নোয়া ওকাফোরের শট জালে জড়ায়। ততক্ষণে নিউক্যাসলের ম্যাচে ফেরার আশা প্রায় শেষ।
এরপর কোচ ইয়াইসল একসঙ্গে তিন খেলোয়াড় পরিবর্তন করে ম্যাচের চিত্র বদলানোর চেষ্টা করেন। কিন্তু লিডসের নিয়ন্ত্রণ আর ভাঙতে পারেনি নিউক্যাসল। শেষদিকে হার্ভি বার্নস বক্সে ফাউলের শিকার হলেও নিউক্যাসল পেনাল্টি পায়নি।
ম্যাচের ৮৯ মিনিটে অবশেষে নিউক্যাসলের হয়ে একটি গোল শোধ করেন বদলি খেলোয়াড় বাজুমানা তুরে। এটিই ক্লাবটির হয়ে তার প্রথম গোল। তবে তার গোল শুধু ব্যবধানই কমাতে পেরেছে, ম্যাচের ফল বদলাতে পারেনি।
শেষ পর্যন্ত ৪-১ গোলের বড় জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে লিডস ইউনাইটেড। আর নতুন মৌসুমে প্রথমবারের মতো হারের তিক্ত স্বাদ নিয়ে ফিরতে হয় নিউক্যাসলকে। কোচ ইয়াইসলের জন্য এটি ছিল কঠিন এক শিক্ষা, বিশেষ করে নিজেদের অর্ধে বল হারানো এবং রক্ষণভাগের ভুলের বড় মূল্য দিতে হয়েছে তাদের।
ব্রাজিলের জার্সিতে নেইমার অধ্যায়ের সমাপ্তি এবার আনুষ্ঠানিকভাবেই নিশ্চিত হয়ে গেল। বিশ্বকাপের পরই জাতীয় দলে আর না ফেরার ইঙ্গিত দিয়েছিলেন ব্রাজিলের সবচেয়ে বড় তারকাদের একজন। এবার ব্রাজিলের কোচ কার্লো আনচেলত্তিও জানিয়ে দিলেন, নেইমার নিজেই জাতীয় দল থেকে সরে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিশ্চিত করেছেন। ফলে নেইমারকে ছাড়াই এখন নতুন প্রজন্মকে সামনে রেখে ব্রাজিলকে ঢেলে সাজানোর পরিকল্পনা করছেন ইতালিয়ান এই কোচ।
সিএনএন এস্পোর্তেসকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে আনচেলত্তি বলেন, নেইমারের মান ও প্রতিভার কারণে বিশ্বকাপে তাঁর থাকা উচিত ছিল। তবে জাতীয় দলে ফেরার বিষয়ে নেইমার নিজেই আর আগ্রহী নন। একই সঙ্গে আনচেলত্তি স্বীকার করেছেন, নেইমারের মতো একজন খেলোয়াড়ের সরাসরি বিকল্প খুঁজে পাওয়া সম্ভব নয়। তাঁর ভাষায়, নেইমার ‘এক অসাধারণ ও অনন্য প্রতিভা’।
নেইমারকে হারানোর শূন্যতা যে সহজে পূরণ হওয়ার নয়, সেটি জানেন আনচেলত্তি। তবে সেই শূন্যতার দিকে তাকিয়ে না থেকে ভবিষ্যতের ব্রাজিল গড়তেই এখন তাঁর মনোযোগ। লক্ষ্য ২০৩০ বিশ্বকাপ। সে জন্য ২০০৪, ২০০৫ ও ২০০৬ সালে জন্ম নেওয়া তরুণদের জাতীয় দলের ভবিষ্যৎ হিসেবে গড়ে তুলতে চান তিনি। এমনকি ২০০৮ সালে জন্ম নেওয়া কয়েকজন প্রতিভাবান খেলোয়াড়কেও ভবিষ্যতে জাতীয় দলে জায়গা করে দেওয়ার কথা ভাবছেন।
আনচেলত্তির পরিকল্পনায় বয়সের চেয়ে ভবিষ্যৎ সম্ভাবনাই বড় বিষয়। তিনি মনে করেন, ৩৬ বা ৩৭ বছর বয়সেও কোনো খেলোয়াড় ভালো ফুটবল খেলতে পারেন। কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতিতে তরুণদের অগ্রাধিকার দেওয়ার সময় এসেছে। অর্থাৎ ব্রাজিলের পরবর্তী দলটি গড়ে উঠবে অভিজ্ঞ কয়েকজনের সঙ্গে নতুন প্রজন্মের সমন্বয়ে।
নেইমার
শুধু খেলোয়াড় পরিবর্তন নয়, ব্রাজিলের ফুটবল-সংস্কৃতিতেও পরিবর্তন আনতে চান আনচেলত্তি। ব্যক্তিগত নৈপুণ্যের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতার বদলে দলীয় ফুটবলকে গুরুত্ব দিতে চান তিনি। তাঁর মতে, আধুনিক ফুটবলে ব্যক্তিগত প্রতিভা অবশ্যই গুরুত্বপূর্ণ, কিন্তু সাফল্যের ভিত্তি হচ্ছে দলগত কাজ।
আনচেলত্তির এই পরিকল্পনায় তাই নেইমারের বিকল্প হিসেবে একজন নির্দিষ্ট তারকা খোঁজার চেয়ে পুরো দলকে শক্তিশালী করার ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে। তাঁর লক্ষ্য এমন একটি প্রজন্ম তৈরি করা, যারা আধুনিক ফুটবলের সঙ্গে মানিয়ে নিয়ে একসঙ্গে লড়তে পারবে।
নেইমারের যুগ শেষ হলেও ব্রাজিলের স্বপ্ন শেষ হচ্ছে না। বরং পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা এখন নতুন পরিচয়ে নিজেদের গড়ার পথে। ২০৩০ বিশ্বকাপে সেই নতুন ব্রাজিল কতটা সফল হয়, তার উত্তর মিলবে ভবিষ্যতেই। তবে একটি বিষয় পরিষ্কার-নেইমারকে কেন্দ্র করে নয়, এবার দলগত শক্তিকেই ব্রাজিলের নতুন যুগের ভিত্তি করতে চান আনচেলত্তি।