ইসলামিক সলিডারিটি স্পোর্টস অ্যাসোসিয়েশনের (আইএসএসএ) টেকনিক্যাল ডিরেক্টর আশরাফ সায়েদ আবদেল্লাতিফ দাহরুগ মারা গেছেন। শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) ৬২ বছর বয়সে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। তার মৃত্যুতে গভীর শোক ও সমবেদনা জানিয়েছে বাংলাদেশ আর্চারি ফেডারেশন।
১৯৬৪ সালের ৬ জুলাই জন্ম নেওয়া দাহরুগ দীর্ঘদিন আন্তর্জাতিক ক্রীড়াঙ্গনে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেছেন। ক্রীড়ার উন্নয়ন ও আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে বিভিন্ন কার্যক্রমে তার উল্লেখযোগ্য অবদান ছিল। পেশাগত জীবনে তার অভিজ্ঞতা, দক্ষতা ও ক্রীড়ার প্রতি নিষ্ঠা আন্তর্জাতিক অঙ্গনে তাকে সম্মানিত অবস্থানে নিয়ে যায়।
তার মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন বাংলাদেশ আর্চারি ফেডারেশন ও ওয়ার্ল্ড আর্চারি এশিয়ার সভাপতি কাজী রাজীব উদ্দিন আহমেদ চপল। তার সঙ্গে ফেডারেশনের সব সহসভাপতি, সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ তানভীর রায়হান, সদস্য, কোচ, বিচারক ও কর্মকর্তা-কর্মচারীরা মরহুমের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন।
এক শোকবার্তায় বাংলাদেশ আর্চারি ফেডারেশন জানায়, দাহরুগের মৃত্যু আন্তর্জাতিক ক্রীড়া সম্প্রদায়ের জন্য অপূরণীয় ক্ষতি। তার পেশাদারিত্ব, জ্ঞান ও ক্রীড়ার উন্নয়নে অবদান দীর্ঘদিন শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করা হবে।
শোকবার্তায় মরহুমের শোকসন্তপ্ত পরিবার, সহকর্মী ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের প্রতি গভীর সহমর্মিতা জানানো হয়। একই সঙ্গে মহান আল্লাহর কাছে তার রুহের মাগফিরাত কামনা করে তাকে জান্নাতুল ফেরদৌস নসিব করার প্রার্থনা করা হয়েছে।
আন্তর্জাতিক ক্রীড়াঙ্গনে দীর্ঘ কর্মজীবনের মাধ্যমে নিজের অবস্থান তৈরি করা দাহরুগের বিদায়ে শোক নেমে এসেছে সংশ্লিষ্ট ক্রীড়া মহলে। তার অবদান ও সেবার কথা শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করবে আন্তর্জাতিক ক্রীড়া সম্প্রদায়।
পাকিস্তানের ১১ পয়েন্ট কেটে নিল আইসিসি ! টেস্ট ক্রিকেটে সময়টা মোটেই ভালো যাচ্ছে না পাকিস্তানের। মাঠের পারফরম্যান্সের পাশাপাশি এবার শাস্তির কারণে বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের পয়েন্ট টেবিলেও আরও পিছিয়ে পড়েছে দলটি। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে এজবাস্টন টেস্টে মন্থর ওভার রেটের কারণে পাকিস্তানের ১১ পয়েন্ট কেটে নিয়েছে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি)।
সোমবার এক বিবৃতিতে আইসিসি জানিয়েছে, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে পাকিস্তান ১১ ওভার কম বল করেছে। শাস্তি হিসেবে বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের ১১ পয়েন্ট হারিয়েছে তারা। একই অপরাধে পাক খেলোয়াড়দের ম্যাচ ফির ৫০ শতাংশ জরিমানাও করা হয়েছে।
আইসিসির নিয়ম অনুযায়ী, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রতি এক ওভার কম করার জন্য দলের খেলোয়াড়দের ম্যাচ ফির ৫ শতাংশ জরিমানা করা হয়। সর্বোচ্চ জরিমানার পরিমাণ ৫০ শতাংশ। আর বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের প্লেয়িং কন্ডিশন অনুযায়ী, প্রতি ওভার কম করার জন্য একটি করে পয়েন্ট কাটা হয়।
আইসিসির ম্যাচ রেফারি রাঞ্জান মাদুগালের দেওয়া শাস্তি মেনে নিয়েছেন পাকিস্তান অধিনায়ক বাবর আজম। ফলে এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক শুনানির প্রয়োজন হয়নি।
ইংল্যান্ড সফরেও সাফল্যের মুখ দেখেনি পাকিস্তান। তিন টেস্টের সিরিজে একটি ম্যাচেও হার এড়াতে পারেনি তারা। এজবাস্টনে সিরিজের তৃতীয় ও শেষ টেস্টে ৮ উইকেটে হারের মধ্য দিয়ে ইংল্যান্ডের মাটিতে প্রথমবারের মতো হোয়াইটওয়াশ হয়েছে পাকিস্তান।
লিডসে প্রথম টেস্টে হারের পরই বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের পয়েন্ট তালিকায় আট থেকে নয় নম্বরে নেমে গিয়েছিল পাকিস্তান। এবার ১১ পয়েন্ট হারানোর পর তাদের পয়েন্টের হার দাঁড়িয়েছে মাত্র ৪.৬৩ শতাংশে। তাদের ওপরে থাকা ওয়েস্ট ইন্ডিজের পয়েন্টের হার ২০.৮৩ শতাংশ।
আইসিসিতে পাকিস্তানের সামনে কঠিন পথ
চলতি বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপ চক্রে পাকিস্তানের সামনে এখনো দুটি সিরিজ রয়েছে। নভেম্বরে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে এবং ২০২৭ সালের মার্চে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে খেলবে তারা। অন্যদিকে ওয়েস্ট ইন্ডিজের পরবর্তী সিরিজ বাংলাদেশের বিপক্ষে, আগামী অক্টোবরেই। চলতি চক্রে এখন পর্যন্ত নয়টি টেস্ট খেলেছে পাকিস্তান। জয় পেয়েছে মাত্র দুটিতে। একের পর এক ব্যর্থতায় দলটিতে পরিবর্তনও এসেছে বড় পরিসরে।
ইংল্যান্ডের বিপক্ষে লর্ডসে দ্বিতীয় টেস্টে ১৯৪ রানে হারের পর মোহাম্মাদ রিজওয়ান, সালমান আলী আগা ও ইমাম-উল-হাকসহ সাত ক্রিকেটারকে দেশে ফেরত পাঠানো হয়। একই সঙ্গে টেস্ট দলের প্রধান কোচ সারফারাজ আহমেদ ও বোলিং কোচ উমার গুলকেও দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়। মাঠের ব্যর্থতার সঙ্গে এবার পয়েন্ট কাটার শাস্তি পাকিস্তানের টেস্ট পরিস্থিতিকে আরও কঠিন করে তুলেছে।
আগামী ১৯ সেপ্টেম্বর জাপানের আইচি-নাগোয়ায় পর্দা উঠবে এশিয়ান গেমসের। তার আগে সোমবার শুরু হয়েছে ফুটবল ইভেন্টের খেলা। প্রথম দিনেই লজ্জার পরাজয় উপহার দিয়েছে বাংলাদেশ নারী ফুটবল দল। এশিয়ার অন্যতম শক্তিশালী দল উত্তর কোরিয়ার বিপক্ষে ১০-০ গোলে হেরেছে বাংলাদেশ।
ওসাকার নাগাই স্টেডিয়ামে বাংলাদেশ সময় দুপুর ১টায় শুরু হয় ম্যাচটি। খেলার শুরু থেকেই দাপটে ফুটবল উপহার দেয় উত্তর কোরিয়া। ফিফা র্যাঙ্কিংয়ে উত্তর কোরিয়া ১১ নম্বরে, বাংলাদেশ ১০৭। অর্থাৎ দুই দলের মধ্যে ব্যবধান ৯৬ ধাপ। র্যাঙ্কিংয়ের পার্থক্য ম্যাচের শুরু থেকেই দেখা যায়।
ম্যাচের প্রথমার্ধেই একে-একে বাংলাদেশের জালে ৭ বার বল জড়ায়। দ্বিতীয়ার্ধে আক্রমণের ধার কিছুটা কমে আসলেও আরও ৩ গোল যোগ করে ব্যবধানকে উন্নীত করে ১০-০ ব্যবধানে।
প্রতিপক্ষের জন রং, চাই উন ও কিম কিয়ং করেছেন জোড়া গোল। বাংলাদেশের জালে উত্তর কোরিয়ার গোল উৎসবের শুরুটা হয় ম্যাচের ষষ্ঠ মিনিটেই। শুরু করেন জন রিয়ং জং। এরপর ১০ম মিনিটেও তিনি নিজের ও দলের দ্বিতীয় গোল করেন। খেলার ১২ মিনিটে ব্যবধান ৩-০ করেন হোয়াং ইউ। ৬ মিনিট পর ১৮ মিনিটে চতুর্থ গোলটি করেন চায়ে উন ইয়ং। ৩৫ মিনিটে তিনিও সম্পন্ন করেন নিজের জোড়া গোল। দলের স্কোরলাইন হয় ৫-০।
৪০ ও ৪৩ মিনিটে জোড়া গোল করে প্রথমার্ধেই ৭-০ ব্যবধান করেন কিম কিয়ং ইয়ং। দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেও গোল উৎসব শুরু করে উত্তর কোরিয়া। ৫১তম মিনিটে দলের ৮ম গোল করেন রি সং আ। ৬০ মিনিটে ৯ম গোল করেন জং কুম।
৬০-৯০, এই ৩০ মিনিটে উত্তর কোরিয়াকে বেশ ভালোভাবেই ঠেকিয়ে রেখেছিল বাংলাদেশের মেয়েরা। এই আধাঘন্টায় কোনো গোল হতে দেননি তারা। তবে, ৯০তম মিনিটে উত্তর কোরিয়ার হয়ে ১০ম গোল করেন হান জিন হং।
এশিয়ান গেমসে উত্তর কোরিয়ার মুখোমুখি ঋতুপর্ণারা ! জাপানের আইচি-নাগোয়ায় আগামী ১৯ সেপ্টেম্বর পর্দা উঠবে এশিয়ান গেমসের। তবে ফুটবল ইভেন্টের খেলা শুরু হচ্ছে আজ থেকেই। প্রথম দিনেই মাঠে নামছে বাংলাদেশ নারী ফুটবল দল। শুরুতেই তাদের প্রতিপক্ষ এশিয়ার অন্যতম শক্তিশালী দল উত্তর কোরিয়া। ওসাকার নাগাই স্টেডিয়ামে ম্যাচটি শুরু হবে বাংলাদেশ সময় দুপুর ১টায়।
ম্যাচের আগের দিন সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশের প্রধান কোচ পিটার বাটলার অবশ্য বাস্তবতার কথাই বলেছেন। শক্তিশালী উত্তর কোরিয়ার বিপক্ষে জয় নিয়ে অতিরিক্ত প্রত্যাশা না রেখে খেলাটা উপভোগ করার পরামর্শ দিয়েছেন তিনি। বাটলার বলেন,
এই ম্যাচের জন্য আমাদের আলাদা কোনো বিশেষ পরিকল্পনা নেই। মূল লক্ষ্য হলো নিজেদের সেরাটা উজাড় করে দেওয়া। নিজেদের প্রতি সৎ থেকে বলতে গেলে, এই ম্যাচে আমাদের জয়ের বিন্দুমাত্র সম্ভাবনাও কেউ দেখছে না।
উত্তর কোরিয়ার মুখোমুখি ঋতুপর্ণারা
উত্তর কোরিয়ার বিপক্ষে বাংলাদেশের কঠিন লড়াইয়ের অভিজ্ঞতা খুব পুরোনো নয়। এ বছরের মার্চে এএফসি উইমেন্স এশিয়ান কাপের গ্রুপ পর্বে দলটির কাছে ৫-০ গোলে হেরেছিল বাংলাদেশ। ছয় মাসের ব্যবধানে আবারও সেই প্রতিপক্ষের মুখোমুখি হচ্ছে ঋতুপর্ণা, মারিয়া, মনিকারা।
সেই হারের প্রসঙ্গ টেনে বাটলার বলেন, ‘গত এশিয়ান কাপে আমরা তাদের কাছে ৫-০ গোলে হেরেছিলাম। সেবার আমরা মোটেও ভালো খেলতে পারিনি। তবে সেই হার আমাদের তরুণ মেয়েদের জন্য বড় একটি শেখার অভিজ্ঞতা ছিল।
এশিয়ান গেমসের এফ গ্রুপে বাংলাদেশের অন্য দুই প্রতিপক্ষ মিয়ানমার ও দক্ষিণ কোরিয়া। গ্রুপের তিন দলই ফিফা র্যাঙ্কিংয়ে বাংলাদেশের ওপরে। তবে মিয়ানমারের বিপক্ষে বাংলাদেশের সুখস্মৃতিও আছে। গত বছর এশিয়ান কাপ বাছাইয়ে তাদেরই মাঠে ২-১ গোলে জিতেছিল বাংলার মেয়েরা।
বাংলাদেশ এশিয়ান গেমসের নারী ফুটবলে দ্বিতীয়বার অংশ নিচ্ছে। ২০২৩ সালের আসরে গ্রুপ পর্বের সব ম্যাচেই হেরেছিল তারা। এবার অবশ্য লক্ষ্যটা একটু বড়-মিয়ানমারকে হারিয়ে গ্রুপের তৃতীয় দল হিসেবে শেষ আটে জায়গা করে নেওয়া।
এশিয়ান গেমসের প্রস্তুতিতে গত ৩১ আগস্ট চীনে গিয়েছিল বাংলাদেশ দল। সেখানে ক্যাম্পের পাশাপাশি দুটি প্রস্তুতি ম্যাচও খেলেছে তারা। ২৩ সদস্যের দলে অভিজ্ঞ মারিয়া, মনিকা ও ঋতুপর্ণাদের সঙ্গে আছেন একঝাঁক তরুণ ফুটবলার। উত্তর কোরিয়ার বিপক্ষেও তাঁদের সুযোগ দিতে চান বাটলার।
‘ফলাফল যা-ই হোক না কেন, আমি বেশ কিছু তরুণ মেয়েকে সুযোগ দেব। আমাদের মূল উদ্দেশ্য হলো এই বড় মঞ্চ থেকে অভিজ্ঞতা অর্জন, শেখা এবং নিজেদের ফুটবলের উন্নয়ন ঘটানো।
কঠিন প্রতিপক্ষের বিপক্ষে বাংলাদেশের প্রত্যাশা তাই বাস্তবতার মাটিতেই। তবে বাটলারের চাওয়া, ফল যা-ই হোক, মাঠে যেন নিজেদের সেরাটা দিয়ে খেলেন ঋতুপর্ণারা এবং বড় মঞ্চের অভিজ্ঞতাটা উপভোগ করেন।
দুঃস্বপ্ন পেছনে ফেলে স্ফেরেফের স্বপ্নের শিরোপা ! ম্যাচ পয়েন্টের ঘোষণা হয়ে গেছে। বেন শেল্টনের রিটার্নও গিয়েছে কোর্টের বাইরে। আম্পায়ারের কণ্ঠে ভেসে এল, ‘গেম, সেট অ্যান্ড ম্যাচ-স্ফেরেফ।’ অথচ আলেক্সান্ডার স্ফেরেফ তখনও দাঁড়িয়ে বেজলাইনের দিকে এগিয়ে যাচ্ছেন, যেন ম্যাচ শেষই হয়নি। ধারাভাষ্যকারও বিস্ময় লুকাতে পারেননি। মজা করে বলছিলেন, ‘স্ফেরেফ হয়তো জানেনই না যে ম্যাচ শেষ হয়ে গেছে!
সত্যিই তাই। ম্যাচের শেষ বল পর্যন্ত এতটাই মনোযোগী ছিলেন জার্মান তারকা যে, চ্যাম্পিয়ন হয়ে গেছেন-সেটিও বুঝতে পারেননি। গ্যালারির উল্লাস আর বড় পর্দায় নিজের মুখের ছবি দেখে অবশেষে বাস্তবে ফিরলেন তিনি। এরপর দুই হাত উঁচিয়ে ছুটলেন উদ্যাপনে।
ছয় বছর আগের সেই দুঃস্বপ্নের পর এবার যেন নিজের স্বপ্নের মঞ্চেই দাঁড়িয়ে স্ফেরেফ। এই ইউএস ওপেনেই ২০২০ সালে ফাইনালে দুই সেটে এগিয়ে থেকেও হেরে গিয়েছিলেন। এবার আর সেই ভুলের পুনরাবৃত্তি হয়নি। ইউএস ওপেনের ফাইনালে বেন শেল্টনকে ৬-৩, ৭-৬ (৭-২), ৫-৭, ৬-২ গেমে হারিয়ে ক্যারিয়ারের দ্বিতীয় গ্র্যান্ড স্ল্যাম শিরোপা জিতেছেন ২৯ বছর বয়সী স্ফেরেফ।
শিরোপা জয়ে স্ফেরেফের দীর্ঘ অপেক্ষার অবসান
পেশাদার ক্যারিয়ারের প্রথম এক যুগে গ্র্যান্ড স্ল্যাম শিরোপা ছিল অধরা। ২০২০ সালের ইউএস ওপেনের পর গত বছর অস্ট্রেলিয়ান ওপেনের ফাইনালেও হেরেছিলেন। এবার অবশ্য অপেক্ষার অবসান ঘটেছে। মাত্র তিন মাসের ব্যবধানে দুটি গ্র্যান্ড স্ল্যাম জিতলেন তিনি। এর আগে গত জুনে ফরাসি ওপেনেও চ্যাম্পিয়ন হয়েছিলেন স্ফেরেফ। ইউএস ওপেন জিততে এটি ছিল তাঁর ১১তম চেষ্টা। পুরস্কার হিসেবে পেয়েছেন গ্র্যান্ড স্ল্যামের ইতিহাসে রেকর্ড ৫৫ লাখ মার্কিন ডলার। নারী এককে চ্যাম্পিয়ন এলেনা রিবাকিনাও পেয়েছেন একই অঙ্কের অর্থ।
শিরোপা জয়ের পর স্ফেরেফ বলেছেন, ক্যারিয়ারে দীর্ঘদিন ধরে কঠোর পরিশ্রম ও নানা প্রতিকূলতার মধ্য দিয়ে যাওয়ার ফলই এখন পাচ্ছেন তিনি। ‘ঈশ্বর দেখেছেন আমরা কতটা কঠোর পরিশ্রম করেছি, কতটা কষ্ট সহ্য করেছি, কতটা যন্ত্রণার মধ্য দিয়ে গিয়েছি। আমার মনে হয়, ২০২৬ সাল হলো আগের সব বছরের পরিশ্রমের ফল।
নিজের স্বপ্ন পূরণ হলেও স্ফেরেফকে হৃদয় ভাঙতে হয়েছে স্থানীয় দর্শকদের। যুক্তরাষ্ট্রের কোনো পুরুষ খেলোয়াড়ের গ্র্যান্ড স্ল্যাম জয়ের অপেক্ষা আরও দীর্ঘ হলো। তবে ফাইনালে শেল্টনের প্রতি সমর্থন থাকলেও দর্শকদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন জার্মান তারকা।
আমি জানি, আজ ৯৯ দশমিক ৯ শতাংশ মানুষ চেয়েছিল বেন জিতুক। এ জন্য আমি খুবই দুঃখিত। তবে দর্শকেরা আমার বিপক্ষে থাকলেও তারা সব সময় অবিশ্বাস্য রকম ন্যায্য ছিল। খেলোয়াড় হিসেবে আমরা সেটার প্রশংসা করি।
শেল্টনের এটি ছিল প্রথম গ্র্যান্ড স্ল্যাম ফাইনাল। তাঁর সঙ্গে স্ফেরেফের লড়াই জমবে, এমনটাই প্রত্যাশা ছিল। দুজনের খেলার ধরনেও ছিল বেশ মিল। কিন্তু ফাইনালের শুরু থেকেই স্ফেরেফের নিয়ন্ত্রণে চলে যায় ম্যাচ।
প্রথম সেটে শুরু থেকেই শেল্টনকে চাপে রাখেন স্ফেরেফ। ষষ্ঠ গেমে ম্যাচের অন্যতম সেরা পয়েন্ট জেতেন শেল্টন। ড্রপ শট ধরতে গিয়ে নেটের কাছে দারুণ লড়াইয়ে জয় পান তিনি। এরপর সার্ভ-অ্যান্ড-ভলি কৌশলে ম্যাচের গতিপথ বদলানোর চেষ্টা করেন। কিন্তু কৌশলটি কাজে আসেনি। ডাবল ফল্ট করে সেটটি স্ফেরেফের হাতে তুলে দেন তিনি।
দ্বিতীয় সেটে গ্যালারির সমর্থন ছিল পুরোপুরি শেল্টনের পক্ষে। নবম গেমে স্ফেরেফ ডাবল ফল্ট করলে দর্শকদের উল্লাস আরও বেড়ে যায়। ‘লেটস গো বেন’, ‘কাম অন বেন’ স্লোগানে মুখর হয়ে ওঠে গ্যালারি। কিন্তু তাতে বিচলিত হননি স্ফেরেফ। টাইব্রেকারে ৫-০ ব্যবধানে এগিয়ে গিয়ে শেষ পর্যন্ত সেটটিও জিতে নেন তিনি।
তৃতীয় সেটে একসময় মনে হচ্ছিল, সোজা সেটেই ম্যাচ শেষ করে দেবেন স্ফেরেফ। ষষ্ঠ গেমে দুর্দান্ত ব্যাকহ্যান্ড উইনারে ব্রেক পয়েন্ট বাঁচান তিনি। এরপর শেল্টন কোর্টে পিছলে পড়ে যান। হতাশায় তাঁর মুখ থেকে বেরিয়ে আসে গালি।
তবে সেখান থেকেই ঘুরে দাঁড়ান ২৩ বছর বয়সী শেল্টন। বেজলাইন থেকে একের পর এক শক্তিশালী গ্রাউন্ডস্ট্রোক মেরে স্ফেরেফকে চাপে ফেলেন। শেষ পর্যন্ত সার্ভ ব্রেক করে তৃতীয় সেট জিতে ম্যাচে ফেরেন তিনি।
তবে শেল্টনের সেই প্রত্যাবর্তন ম্যাচের ফল বদলাতে পারেনি। চতুর্থ সেটের শুরুতেই ২৫ শটের একটি দীর্ঘ র্যালির পর সার্ভ ব্রেক করেন স্ফেরেফ। এরপর আর পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি তাঁকে। নিজের সার্ভ ধরে রেখে সহজেই নিশ্চিত করেন কাঙ্ক্ষিত জয়।
এই ফাইনালটি শেল্টনের জন্যও ছিল ঐতিহাসিক। আর্থার অ্যাশের ৫৪ বছর পর ইউএস ওপেনের পুরুষ এককের ফাইনালে ওঠা প্রথম কৃষ্ণাঙ্গ আমেরিকান খেলোয়াড় তিনি। তবে শেষটা হলো হতাশার।
শেল্টনের বান্ধবী ও যুক্তরাষ্ট্রের ফুটবল তারকা ট্রিনিটি রডম্যানও ছুটে এসেছিলেন তাঁকে সমর্থন দিতে। প্রায় ২০০ মাইল পথ পাড়ি দিয়ে তিনি প্লেয়ার্স বক্সে পৌঁছান। কিন্তু শেষ পর্যন্ত প্রিয় মানুষটির জয় দেখা হলো না তাঁর।
ছবি: সংগৃহীত
পরাজয়ের পরও অবশ্য হতাশায় ভেঙে পড়েননি শেল্টন। বরং এই মঞ্চে খেলতে পারাটাকেই বড় অর্জন হিসেবে দেখছেন তিনি। আমার সাফল্যগুলো যেমন উপহার, ব্যর্থতাগুলোও তেমনি উপহার। আপনাদের সামনে এখানে খেলতে পারাটাও আমার জন্য বড় উপহার।’
স্ফেরেফের জন্য এই শিরোপার গুরুত্ব আরও বেশি। গ্র্যান্ড স্ল্যামে ধারাবাহিক ব্যর্থতার পাশাপাশি মাঠের বাইরেও নানা বিতর্কে জড়িয়েছেন তিনি। তাঁর বিরুদ্ধে পারিবারিক সহিংসতার অভিযোগ উঠেছিল, যদিও তিনি তা অস্বীকার করেছেন।
কোর্টেও গত দুই বছরে ইয়ানিক সিনার ও কার্লোস আলকারাসের দাপটের সঙ্গে পেরে উঠছিলেন না স্ফেরেফ। ২০২৪ ও ২০২৫ সালের সব গ্র্যান্ড স্ল্যামই ভাগাভাগি করে নিয়েছিলেন সিনার ও আলকারাস। চলতি বছরও প্রথম দুটি গ্র্যান্ড স্ল্যাম জিতেছিলেন তাঁরা।
অস্ট্রেলিয়ান ওপেন জিতেছিলেন আলকারাস। দীর্ঘ চোট কাটিয়ে ইউএস ওপেনে ফিরে অবশ্য কোয়ার্টার ফাইনালে শেল্টনের কাছে হেরে বিদায় নেন তিনি। অন্যদিকে উইম্বলডন চ্যাম্পিয়ন সিনার চোটের কারণে ইউএস ওপেন থেকে সরে দাঁড়ান। তাতে স্ফেরেফের পথ কিছুটা সহজ হয়েছিল, সেটি অস্বীকার করার উপায় নেই।
শিরোপা জয়ের পর স্ফেরেফকে প্রশ্ন করা হয়েছিল, এখন কি নিজেকে বিশ্বের সেরা খেলোয়াড় মনে করেন? জবাবেও অবশ্য বাস্তবতাকেই সামনে রেখেছেন তিনি।
‘সিনার চোটের কারণে বাইরে এবং আলকারাস চার মাস পর চোট থেকে ফিরেছে। তাই এই মুহূর্তে হয়তো হ্যাঁ, আমিই এক নম্বর। কিন্তু তারা দুজন যদি সুস্থ থাকত এবং নিজেদের সেরা ফর্মে থাকত, তাহলে হয়তো আমি এক নম্বর নই।
এরপর আরও সরাসরি বলেছেন, ‘সবাই সুস্থ থাকলে আমার মনে হয় ইয়ানিক এখনো এগিয়ে থাকবে। ব্যাপারটা এতটাই সহজ।
সিপিএলে মিরাজের আবারও দুর্দান্ত বোলিং । তবে তাঁর দারুণ বোলিংও গায়ানা অ্যামাজন ওয়ারিয়র্সকে হার থেকে বাঁচাতে পারেনি। বারবাডোজ ট্রাইডেন্টসের কাছে ৬ উইকেটে হেরে সিপিএলের প্রাথমিক পর্ব শেষ করেছে গায়ানা।
ব্রিজটাউনে বাংলাদেশ সময় সোমবার ভোরের ম্যাচে টস হেরে আগে ব্যাট করতে নেমে মাত্র ৯৯ রানে অলআউট হয় গায়ানা। দলের হয়ে ২৪ বলে ১৮ রান করেন মিরাজ। পরে বল হাতে ৪ ওভারে মাত্র ২৫ রান দিয়ে নেন ২ উইকেট।
ক্যারিবিয়ান ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেটে এবারই প্রথম খেলছেন মিরাজ। প্রথম তিন ম্যাচেই তাঁর শিকার ৯ উইকেট। ওভারপ্রতি রান দিয়েছেন মাত্র ৫.০৮ করে। বোলিংয়ে দারুণ সফল হলেও ব্যাট হাতে অবশ্য এখনো নিজেকে মেলে ধরতে পারেননি বাংলাদেশের এই অলরাউন্ডার। তিন ম্যাচেই পাঁচ নম্বরে ব্যাটিং করে তাঁর রান ১, ২ ও ১৮।
সিপিএলে মিরাজের ব্যাটিং
গায়ানার ইনিংসের শুরুটা ছিল বেশ নড়বড়ে। তৃতীয় ওভারেই আফগানিস্তানের স্পিনার এএম গাজানফার তিনটি উইকেট নিয়ে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নেন। মাভেন্ড্রা ডিন্ডিয়ালকে ফেরানোর পর টানা দুই বলে সাজঘরে পাঠান শেই হোপ ও শিমরন হেটমায়ারকে। চাপের মুখে মিরাজ শুরু করেন সতর্ক ব্যাটিংয়ে। পাওয়ারপ্লের পর গায়ানা হারায় গ্লেন ফিলিপস ও ডোয়াইন প্রিটোরিয়াসকে। এরপর মিরাজ কিছুটা আগ্রাসী হওয়ার চেষ্টা করেন। ক্রিস গ্রিনের বলে চার মারার পর সুইপ শটে ছক্কাও হাঁকান তিনি। তবে সেই শটেই শেষ পর্যন্ত আউট হন। ২৪ বলে ১৮ রান করে সাজঘরে ফেরেন বাংলাদেশের এই অলরাউন্ডার।
শেষ দিকে রোমারিও শেফার্ডের ২২ রানের ইনিংসে কোনোরকমে ৯৯ রান পর্যন্ত যেতে পারে গায়ানা।
ছোট লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে তৃতীয় ওভারেই উইকেট হারায় বারবাডোজ। এরপর কুইন্টন ডি কককে মাত্র ৩ রানে ফিরিয়ে দেন মিরাজ। তাঁর ফ্লাইটে বিভ্রান্ত হয়ে বোল্ড হন ডি কক। পরে শেরফোন রাদারফোর্ডকেও দ্রুত ফিরিয়ে ম্যাচে উত্তেজনা ফেরানোর চেষ্টা করে গায়ানা।
তবে শাড্র্যাক ডেসকার্টের ঝোড়ো ব্যাটিংয়ে সেই সম্ভাবনাও শেষ হয়ে যায়। তিনটি ছক্কায় ২০ বলে ৩২ রান করে দলের জয় সহজ করে দেন তিনি। শেষ পর্যন্ত ব্র্যান্ডন কিংয়ের অপরাজিত ৪৪ রানের ইনিংসে ৬ উইকেটের জয় নিশ্চিত করে বারবাডোজ।
এই হারে অবশ্য পয়েন্ট তালিকায় গায়ানার অবস্থানে কোনো পরিবর্তন হয়নি। প্রাথমিক পর্ব শেষ হওয়ার আগেই মিরাজদের শীর্ষস্থান নিশ্চিত হয়ে গিয়েছিল। বারবাডোজও তৃতীয় স্থান নিশ্চিত করেছিল।
এক বছরের ব্যবধানে এশিয়া কাপের দুটি ট্রফি নেওয়ার সময় একই অবস্থান নিয়েছে ভারত। এশিয়ান ক্রিকেট কাউন্সিলের (এসিসি) সভাপতি ও পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের (পিসিবি) চেয়ারম্যান মহসিন নাকভির কাছ থেকে ট্রফি নিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে ভারতের পুরুষ ও নারী ক্রিকেট দল। ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা এবং ভারত-পাকিস্তান সম্পর্কের টানাপোড়েনের জেরেই এমন সিদ্ধান্ত বলে জানিয়েছে ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড (বিসিসিআই)।
গত বছর পাকিস্তানকে হারিয়ে এশিয়া কাপের শিরোপা জিতেছিল ভারতের পুরুষ দল। কিন্তু ফাইনালের পর মহসিন নাকভির কাছ থেকে ট্রফি নিতে রাজি হয়নি ভারত। শেষ পর্যন্ত নাকভি ট্রফি নিয়ে মাঠ ছাড়েন। সেই ট্রফি এখনো এসিসির দপ্তরেই রয়েছে বলে জানা গেছে।
একই ঘটনার পুনরাবৃত্তি হলো এবারও। রোববার শ্রীলঙ্কাকে হারিয়ে নারী এশিয়া কাপের শিরোপা জেতার পর ভারতীয় দল নাকভির কাছ থেকে ট্রফি নিতে অস্বীকৃতি জানায়। ফলে পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানেও অংশ নেয়নি বিসিসিআই।
‘ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস’-এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ফাইনালের আগেই এসিসিকে নিজেদের অবস্থান জানিয়ে দিয়েছিল বিসিসিআই। বোর্ড জানিয়েছিল, ভারত চ্যাম্পিয়ন হলে মহসিন নাকভির উপস্থিতিতে ট্রফি গ্রহণ করবে না। সে কারণে এবার পুরস্কার বিতরণীর মঞ্চেও ট্রফি আনা হয়নি।
বিসিসিআইয়ের সচিব দেবজিৎ সাইকিয়া জানিয়েছেন, ভারতীয় দল চেয়েছিল এসিসির অন্য কোনো কর্মকর্তার কাছ থেকে ট্রফি নিতে। বিশেষ করে এসিসির ডেপুটি চেয়ারম্যান খালিদ আল জারুনির হাতে ট্রফি তুলে দেওয়ার অনুরোধ করা হয়েছিল। তবে সেই প্রস্তাবে সম্মতি দেননি নাকভি।
এ কারণে পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান বর্জন করা ছাড়া ভারতের সামনে আর কোনো পথ ছিল না বলে জানিয়েছেন সাইকিয়া। ‘হিন্দুস্তান টাইমস’-কে তিনি বলেন,
দেড় বছর আগের ধারাবাহিকতায় আমরা এই পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে অংশ নিতে চাইনি। আমরা এখনো আমাদের পুরুষদের এশিয়া কাপের ট্রফিটি হাতে পাইনি। তবে বিদেশি কিছু ভাড়াটে ঘাতকের হাতে প্রাণ দেওয়া আমাদের দেশের বহু মানুষের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে আমরা আমাদের এই অবস্থান অটুট রাখতে চাই।
এশিয়া কাপের ট্রফি নিয়েও আশাবাদী ভারত
সাইকিয়া আরও বলেন, ‘আমরা এশিয়ান ক্রিকেট কাউন্সিলের ডেপুটি চেয়ারম্যানকে ট্রফি হস্তান্তরের অনুরোধ জানিয়েছিলাম। কিন্তু তা মেনে নেওয়া হয়নি। ফলে পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে অংশ না নেওয়া ছাড়া আমাদের সামনে অন্য কোনো উপায় ছিল না। তবে ট্রফি না নেওয়ার ঘটনায় শিরোপা জয়ের আনন্দে কোনো ঘাটতি নেই বিসিসিআইয়ের। সাইকিয়া জানিয়েছেন, শেষ পর্যন্ত দুটি ট্রফিই ভারতের হাতে আসবে বলে তারা আশাবাদী।
তিনি বলেন, ‘এশিয়া কাপে দারুণ জয়ের জন্য বিসিসিআই নারী দলকে অভিনন্দন জানিয়েছে। পুরো দেশ আমাদের ক্রিকেটারদের নিয়ে গর্বিত ও উচ্ছ্বসিত। কোনো এক পর্যায়ে আমরা দুটো ট্রফিই ফিরে পাব।
২০২৬ সালের ব্যালন ডি’অরের লড়াই জমে উঠেছে বেশ আগেই। সম্ভাব্য দুই প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী লামিন ইয়ামাল ও কিলিয়ান এমবাপের কথাবার্তায় সেই উত্তেজনা আরও স্পষ্ট হয়ে উঠছে। দুজনই এবার নিজেদের পুরস্কার জয়ের যোগ্য বলে মনে করছেন।
মুভিস্টারের অনুষ্ঠান ‘ইউনিভার্সো ভালদানো’-তে দেওয়া ইয়ামালের একটি সাক্ষাৎকারের অংশ প্রকাশের পর তা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। পূর্ণ সাক্ষাৎকারটি প্রকাশিত হওয়ার কথা আগামী শুক্রবার। এর আগেই প্রকাশিত অংশে বার্সেলোনার এই তরুণ তারকা জানিয়েছেন, এবারের ব্যালন ডি’অর তাঁরই প্রাপ্য বলে মনে করেন তিনি।
স্প্যানিশ সংবাদমাধ্যম স্পোর্ট ইয়ামালের বক্তব্য প্রকাশ করেছে। সেখানে তিনি বলেন,
আমি ব্যালন ডি’অর কাকে দেব? সত্যি বলতে, সম্ভবত দুজন খেলোয়াড় আছে, যারা বিশ্বের সেরা। তবে এ বছর আমি মনে করি, এটি পাওয়ার যোগ্য আমি।
বিশ্বের সেরা দুই খেলোয়াড় হিসেবে কাদের দেখেন-এমন প্রশ্নেরও সরাসরি উত্তর দিয়েছেন ইয়ামাল। তাঁর মতে, ‘আমার কাছে কিলিয়ান এমবাপে ও আমি সেরা দুই খেলোয়াড়। যারা ম্যাচ দেখে, তারা এটা ভালোভাবেই জানে।’
ইয়ামালের এমন মন্তব্যের কয়েক দিন আগেই ব্যালন ডি’অর জয়ের দাবি তুলেছিলেন এমবাপে। ফরাসি তারকা বলেছিলেন, পুরস্কারটি ব্যক্তিগত হলেও দলীয় সাফল্যের বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ। তবে নিজের সামর্থ্য নিয়ে তাঁর কোনো সংশয় নেই।
এমবাপে বলেন,
আমি বিশ্বাস করি, এ বছর আমি এটি (ব্যালন ডি’অর) জিততে পারি। এটি আমার অন্যতম লক্ষ্য, একই সঙ্গে স্বল্পমেয়াদি লক্ষ্যও।
ব্যালন ডি’অরের মঞ্চে ইয়ামাল ও এমবাপের লড়াই অবশ্য শুধু ব্যক্তিগত পরিসংখ্যানেই সীমাবদ্ধ নয়। ব্যক্তিগত পারফরম্যান্সের পাশাপাশি দলীয় সাফল্যও এই পুরস্কারের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ বিবেচনা করা হয়। সে জায়গায় ইয়ামাল কিছুটা এগিয়ে থাকবেন বলেই মনে করা হচ্ছে।
গোল করার দিক থেকে দুজনই ছিলেন আলোচনায়। তবে এবারের বিশ্বকাপে স্পেনের সাফল্য ইয়ামালের পক্ষে বড় যুক্তি হতে পারে। ফ্রান্সকে হারিয়ে ফাইনালে ওঠার পর শিরোপাও জিতেছে স্পেন। ফলে ব্যক্তিগত পারফরম্যান্সের সঙ্গে দলীয় সাফল্য মিলিয়ে ইয়ামালের দাবিটা আরও জোরালো।
আগামী ২৬ অক্টোবর লন্ডনের প্যালাডিয়াম থিয়েটারে বসবে ব্যালন ডি’অরের ৭০তম আসর। প্রথম বিজয়ী স্যার স্ট্যানলি ম্যাথিউসকে সম্মান জানাতেই এবার লন্ডনকে বেছে নেওয়া হয়েছে। ইতিমধ্যে পুরস্কারের ৩০ জনের সংক্ষিপ্ত তালিকাও প্রকাশ করা হয়েছে। এখন অপেক্ষা শুধু চূড়ান্ত বিজয়ীর নাম ঘোষণার।
ইংল্যান্ড সফরের মাঝপথে টেস্ট দল থেকে বাদ পড়ে দেশে ফিরেছিলেন সালমান আলী আঘা। দুই সপ্তাহ না পেরোতেই ব্যাট হাতে নিজের জবাবটা দিলেন পাকিস্তানের এই অলরাউন্ডার। প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে ক্যারিয়ার সেরা ইনিংস খেলে অপরাজিত ৩০০ রান করেছেন তিনি।
অ্যাবোটাবাদ ক্রিকেট স্টেডিয়ামে প্রেসিডেন্টস ট্রফির প্রথম রাউন্ডে মার্কহোর আইটি সলিউশন্সের বিপক্ষে কিংসমেন একাডেমির হয়ে এই ইনিংস খেলেন সালমান। ৩৩৬ বলের ইনিংসে ট্রিপল সেঞ্চুরি পূর্ণ করেন তিনি। প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে এটাই তাঁর সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত স্কোর। এর আগে সর্বোচ্চ ছিল ১৬৯ রান।
ইংল্যান্ড সফরের মাঝপথে পাকিস্তান দল থেকে ছয়জন ক্রিকেটারের সঙ্গে সালমানকেও দেশে ফেরত পাঠানো হয়েছিল। সফরের প্রথম টেস্টে হেডিংলিতে বাবর আজমের বদলি হিসেবে খেলেছিলেন তিনি। আঙুলের চোটে বাবর না থাকায় সুযোগ পেয়েছিলেন সালমান। তবে লর্ডস টেস্টে বাবর ফিরলে একাদশ থেকে বাদ পড়েন তিনি। পরে পাকিস্তানের টেস্ট দল পুনর্গঠনের অংশ হিসেবে তাঁকেও দেশে পাঠানো হয়।
এর আগে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে সময়টা ভালো যাচ্ছিল না সালমানের। সর্বশেষ তিন টেস্টের পাঁচ ইনিংসে তাঁর রান ছিল মাত্র ৪৫। সেই রানখরার মধ্যেই দল থেকে বাদ পড়তে হয় তাঁকে।
ঘরোয়া ক্রিকেটে ফিরে ব্যাটিংয়ে কিছু পরিবর্তন এনে সাফল্য পেয়েছেন বলে জানিয়েছেন সালমান। পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের প্রকাশিত এক ভিডিওতে তিনি বলেন,
ফর্ম ফিরে পেতে ব্যাটিংয়ে সামান্য কিছু পরিবর্তন তাঁকে সাহায্য করেছে। এমন মাইলফলক জীবনে একবারই আসে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
টেস্টে সালমানের দারুণ ইনিংস
সালমানের অপরাজিত ৩০০ রানের ওপর ভর করে কিংসমেন একাডেমি ৭ উইকেটে ৫৬৫ রান তুলে ইনিংস ঘোষণা করে। দলটি একসময় ৭২ রানেই ৩ উইকেট হারিয়ে চাপে ছিল। সেখান থেকে মোহাম্মদ সুলেমানের সঙ্গে চতুর্থ উইকেটে ২৭৪ রানের জুটি গড়ে ইনিংসের মোড় ঘুরিয়ে দেন সালমান। পরে সুলেমানও তুলে নেন প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে নিজের ষষ্ঠ শতক। নিজের মাইলফলকের চেয়ে দলের প্রয়োজনকেই বেশি গুরুত্ব দিয়েছিলেন বলে জানান সালমান। তাঁর লক্ষ্য ছিল দীর্ঘ সময় ব্যাট করে বড় জুটি গড়া এবং দলের জন্য বড় সংগ্রহ নিশ্চিত করা।
পাকিস্তানের এই অলরাউন্ডার ঘরোয়া প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটের গুরুত্বও তুলে ধরেছেন। তাঁর মতে, আন্তর্জাতিক ক্রিকেটারদের নিয়মিত ঘরোয়া ক্রিকেটে খেলা উচিত। পাকিস্তানের নতুন কেন্দ্রীয় চুক্তিতেও ঘরোয়া প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে অংশ নেওয়ার ওপর বাড়তি গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
সালমানের মতো দীর্ঘদিন পর পাকিস্তানের ঘরোয়া প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে ফিরেছেন শাহিন শাহ আফ্রিদিও। ২০১৯ সালের পর দেশের মাটিতে প্রথমবার প্রথম শ্রেণির ম্যাচ খেলছেন তিনি।
কঠিন সময়ের মধ্যে পাওয়া এই ট্রিপল সেঞ্চুরি পরিবারকে উৎসর্গ করেছেন সালমান। এখন এই ইনিংস তাঁর আত্মবিশ্বাস ফেরানোর পাশাপাশি পাকিস্তানের টেস্ট দলে ফেরার দাবিও জোরালো করতে পারে।
নাকভির কাছ থেকে ট্রফি নিল না ভারত ! ফাইনাল শেষ হওয়ার প্রায় ৫০ মিনিট পর শুরু হয় পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান। মঞ্চে একে একে ওঠেন ম্যাচ কর্মকর্তারা ও রানার্সআপ শ্রীলঙ্কা দলের ক্রিকেটাররা। লঙ্কান অধিনায়ক চামারি আতাপাত্তুর হাতে রানার্সআপ ট্রফি তুলে দেন এশিয়ান ক্রিকেট কাউন্সিলের (এসিসি) সভাপতি মহসিন নাকভি। এরপরই শেষ হয়ে যায় পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান। মঞ্চে দেখা যায়নি চ্যাম্পিয়ন ভারতীয় দলকে।
রোববার নারী এশিয়া কাপের ফাইনালে শ্রীলঙ্কাকে ৭২ রানে হারিয়ে শিরোপা জেতে ভারত। এই জয়ের মাধ্যমে গত আসরের ফাইনালে হারের প্রতিশোধও নেয় হারমানপ্রিত কৌরের দল। নারী এশিয়া কাপের ১০ আসরে এটি ভারতের অষ্টম শিরোপা।
নাকভির কাছ থেকে ভারত যে ট্রফি নেবে না, তার ইঙ্গিত অবশ্য ফাইনাল শেষ হওয়ার পরই পাওয়া যায়। সাধারণত পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে অধিনায়কদের প্রতিক্রিয়া নেওয়া হলেও এবার মাঠেই ম্যাচ শেষ হওয়ার পরপর ভারতীয় অধিনায়কের বক্তব্য নেওয়া হয়। পরে পুরস্কার বিতরণী শুরু হলেও ভারতীয় দলের কাউকে মঞ্চের সামনে দেখা যায়নি।
ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিসিআই) সচিব দেবাজিৎ সাইকিয়া পরে জানান, দুই দেশের চলমান সামরিক উত্তেজনার কারণেই এই সিদ্ধান্ত। তাঁর ভাষ্য, ভারতের সঙ্গে পাকিস্তানের ক্রিকেটীয় সম্পর্ক স্বাভাবিক অবস্থায় নেই। বহুজাতিক টুর্নামেন্টে পাকিস্তানের বিপক্ষে খেললেও পাকিস্তানের গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক নেতার কাছ থেকে ট্রফি গ্রহণ করতে চায়নি ভারত।
ছবি: সংগৃহীত
ট্রফি না নিয়েই ভারতের শিরোপা উদযাপন
নাকভি একই সঙ্গে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের চেয়ারম্যান ও দেশটির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। গত বছরের পুরুষদের এশিয়া কাপের ফাইনালেও নাকভির কাছ থেকে ট্রফি নেয়নি ভারত। এবার নারী দলও সেই অবস্থানের সঙ্গে সংহতি জানিয়েছে। ফাইনালের পর ভারতীয় দল নিজেদের মতো করে শিরোপা উদযাপন করে। দলের নিয়মিত আয়োজন অনুযায়ী সেরা ফিল্ডার নান্দিনি শর্মার হাতে পদক তুলে দেন সাইকিয়া। সেখানে উপস্থিত ছিলেন বিসিসিআইয়ের সহসভাপতি রাজীব শুক্লাও।
ভারতীয় দলের কোচ অমল মজুমদারও বোর্ডের সিদ্ধান্তের সঙ্গে একমত পোষণ করেন। তিনি বলেন,
ভারত চ্যাম্পিয়ন হয়েছে এবং তাদের কাছে সেটিই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। এশিয়া কাপ শেষ করে এখন দলটির লক্ষ্য এশিয়ান গেমস।
তবে নাকভির কাছ থেকে ট্রফি না নেওয়ার পর ভারতীয় দল আনুষ্ঠানিকভাবে শিরোপার ট্রফি পাবে কি না, সে বিষয়ে এখনো কোনো ঘোষণা আসেনি।