Home Blog Page 6

শ্রীলঙ্কাকে গুঁড়িয়ে এশিয়া কাপের ট্রফি পুনরুদ্ধার ভারতের

0

শ্রীলঙ্কাকে গুঁড়িয়ে এশিয়া কাপের ট্রফি পুনরুদ্ধার ভারতের ! ব্যাট হাতে শুরুতেই ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিয়েছিল ভারত। এরপর বল হাতে শ্রীলঙ্কাকে দাঁড়াতেই দিল না তারা। দুবাই আন্তর্জাতিক স্টেডিয়ামে নারী এশিয়া কাপের ফাইনালে শ্রীলঙ্কাকে ৭২ রানে হারিয়ে শিরোপা পুনরুদ্ধার করেছে ভারত। এ জয়ে ১০ আসরের মধ্যে অষ্টমবারের মতো এশিয়া কাপের চ্যাম্পিয়ন হলো হারমানপ্রিত কৌরের দল।

ভারতের জয়ের ভিত গড়ে দেন দুই ওপেনার শেফালি ভার্মা ও স্মৃতি মান্ধানা। দুজনের রেকর্ড গড়া ১২৯ রানের উদ্বোধনী জুটিতে ২০ ওভারে ভারত সংগ্রহ করে ১৮৩ রান। শেফালি ৩৯ বলে ৬৮ রান করেন। ২৪ বলে ফিফটি পূর্ণ করে নারী এশিয়া কাপের ইতিহাসে দ্রুততম পঞ্চাশের রেকর্ড গড়েন তিনি।

অন্য প্রান্তে ধীরগতিতে শুরু করলেও পরে ব্যাটিংয়ে ঝড় তোলেন মান্ধানা। ৩৯ বলে ৫৮ রান করেন ভারতের এই বাঁহাতি ওপেনার। শেফালি-মান্ধানার ১২৯ রানের জুটি এশিয়া কাপের যেকোনো উইকেটে সর্বোচ্চ জুটির রেকর্ডও গড়ে।

দুই ওপেনার ফিরে যাওয়ার পর ভারতের রানের গতি কিছুটা কমে যায়। অধিনায়ক হারমানপ্রিত কৌর করেন ১৪ বলে ১৪ রান। রিচা ঘোষের ব্যাট থেকে আসে ১৭ রান। শেষ দিকে গুনালান কামালিনির পাঁচ বলে ১৫ রানের ক্যামিওতে ১৮৩ রানে ইনিংস শেষ করে ভারত।

এশিয়া জয়ে ভারত হার শ্রীলঙ্কার

জবাবে শুরু থেকেই চাপে পড়ে শ্রীলঙ্কা। ইনিংসের প্রথম বলেই বাউন্ডারি এলেও চতুর্থ বলেই উইকেট হারায় তারা। অধিনায়ক চামারি আতাপাত্তু কিছুক্ষণ লড়াইয়ের চেষ্টা করেন। শেষ পর্যন্ত ৩২ বলে ৩৬ রান করে দীপ্তি শার্মার বলে স্টাম্পড হন তিনি। আতাপাত্তুর বিদায়ের পর শ্রীলঙ্কার জয়ের আশা কার্যত শেষ হয়ে যায়। নিলাকশিকা সিলবা ১৬ বলে ২২ রান করলেও দলের অন্য ব্যাটাররা ভারতীয় বোলিংয়ের সামনে সুবিধা করতে পারেননি। নির্ধারিত ২০ ওভার শেষ হওয়ার আগেই ১১১ রানে গুটিয়ে যায় শ্রীলঙ্কা।

ভারতের হয়ে চার উইকেট নেন শ্রী চারনি। টি-টোয়েন্টিতে সফলতম বোলারদের একজন দীপ্তি শার্মা শিকার করেন তিন উইকেট। ফাইনালে ব্যাট হাতে ৬৮ রান ও বল হাতে এক উইকেট নিয়ে ম্যাচসেরার পুরস্কার পান শেফালি।

পুরো টুর্নামেন্টেও ছিলেন দুর্দান্ত। ১৭১ স্ট্রাইক রেটে ২৩৬ রান ও দুই উইকেট নিয়ে আসরের সেরা খেলোয়াড়ের পুরস্কারও ওঠে তাঁর হাতে। গতবারের ফাইনালে শ্রীলঙ্কার কাছে হারের হতাশা এবার দাপুটে জয়ে মুছে ফেলল ভারত।

সংক্ষিপ্ত স্কোর:

  • ভারত: ২০ ওভারে ১৮৩/৫
  • শ্রীলঙ্কা: ২০ ওভারে ১১১/১০
  • ফল: ভারত ৭২ রানে জয়ী।
  • প্লেয়ার অব দা ম্যাচ: শেফালি ভার্মা।
  • প্লেয়ার অব দা টুর্নামেন্ট: শেফালি ভার্মা।

শেলটনের স্বপ্নভঙ্গ করে ইউএস ওপেনের শিরোপা জভেরেভের

0

যুক্তরাষ্ট্রের ঘরের মাঠে বেন শেলটনের স্বপ্ন পূরণ হলো না। ২৪ হাজার দর্শকের গর্জনকে নীরব করে ইউএস ওপেনের পুরুষ এককের শিরোপা জিতেছেন জার্মানির আলেকজান্ডার জভেরেভ। নিউইয়র্কের আর্থার অ্যাশ স্টেডিয়ামে অষ্টম বাছাই শেলটনকে ৬-৩, ৭-৬ (৭-২), ৫-৭, ৬-২ গেমে হারিয়ে ক্যারিয়ারের দ্বিতীয় গ্র্যান্ড স্ল্যাম শিরোপা জিতেছেন শীর্ষ বাছাই জভেরেভ।

চলতি মৌসুমের শুরুতে ২৯ বছর বয়সী জভেরেভের গ্র্যান্ড স্ল্যাম জয়ের সামর্থ্য নিয়েই প্রশ্ন ছিল। অথচ কয়েক মাসের ব্যবধানে ফ্রেঞ্চ ওপেনের পর ইউএস ওপেনও নিজের করে নিয়ে সেই সংশয়ের জবাব দিয়েছেন তিনি। এর আগে তিনটি গ্র্যান্ড স্ল্যাম ফাইনালে হেরে যাওয়া জার্মান তারকা এবার আর ভুল করেননি।

শুরু থেকেই ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ ছিল জভেরেভের হাতে। প্রথম গেমেই শেলটনের ডাবল ফল্টে সার্ভিস ভেঙে দেন তিনি। প্রথম সেট ৬-৩ ব্যবধানে জয়ের পর দ্বিতীয় সেটও টাইব্রেকারে ৭-২ জিতে নেন। তৃতীয় সেটে অবশ্য ঘুরে দাঁড়ান শেলটন। জভেরেভের সার্ভিসে চাপ তৈরি করে ৭-৫ ব্যবধানে সেটটি জিতে ম্যাচে ফেরার ইঙ্গিত দেন মার্কিন তারকা।

কিন্তু চতুর্থ সেটের শুরুতেই নিজের সার্ভিস গেম হারিয়ে সেই সম্ভাবনা নষ্ট করেন শেলটন। এরপর আর সুযোগ দেননি জভেরেভ। শেষ পর্যন্ত ৬-২ ব্যবধানে সেট জিতে নিশ্চিত করেন শিরোপা।

এবারের ইউএস ওপেনে জভেরেভের পথ কিছুটা সহজও হয়েছিল। চোটের কারণে কার্লোস আলকারাজ ফ্রেঞ্চ ওপেন ও উইম্বলডনে খেলতে পারেননি, আর ইউএস ওপেন থেকে ছিটকে যান ইয়ানিক সিনার। অন্যদিকে শেলটন দুর্দান্ত লড়াই করে প্রথমবার গ্র্যান্ড স্ল্যাম ফাইনালে উঠেছিলেন। কোয়ার্টার ফাইনালে প্রায় পাঁচ ঘণ্টার লড়াইয়ে আলকারাজকে হারিয়ে গড়েছিলেন বড় চমক।

মুখোমুখি লড়াইয়ের পরিসংখ্যানে জভেরেভের স্পষ্ট আধিপত্য রয়েছে। এর আগে তারা পাঁচবার মুখোমুখি হয়েছে। প্রতিবারই শেলটনকে হারের তিক্ত স্বাদ হজম করতে হয়েছে। ম্যাচ শেষে জভেরেভ বলেন, আমরা ৩০ বছর গ্র্যান্ড স্ল্যাম জয় করতে পারিনি। এখন মাত্র তিন মাসের ব্যবধানে দুইবার জয় করলাম। আমার বিশ্বাস সৃষ্টিকর্তা আমার পরিশ্রমের পুরস্কার দিয়েছেন। তিনি দেখেছেন, এর জন্য আমি কতটা কষ্ট করেছি।

শিরোপা জিতলে ২০০৩ সালে অ্যান্ডি রডিকের পর প্রথম মার্কিন পুরুষ হিসেবে গ্র্যান্ড স্ল্যাম জয়ের ইতিহাস গড়তেন শেলটন। সেই অপেক্ষা আরও দীর্ঘ হলো। আর জভেরেভের জন্য ২০২৬ সাল হয়ে থাকল ক্যারিয়ারের সবচেয়ে উজ্জ্বল অধ্যায়-মাত্র তিন মাসের ব্যবধানে দুটি গ্র্যান্ড স্ল্যাম শিরোপা।

দশজন নিয়েও ইউনাইটেডকে হারাল ম্যানসিটি

0

ম্যানচেস্টার ডার্বি মানেই উত্তাপ, উত্তেজনা আর বিতর্ক। এবারও তার ব্যতিক্রম হলো না। বরং ওল্ড ট্র্যাফোর্ডে রবিবারের ১৯৯তম ম্যানচেস্টার ডার্বি যেন সবকিছুকেই ছাড়িয়ে গেল। ফিল ফোডেনের লাল কার্ড, আর্লিং হালান্ডের বিতর্কিত গোল, দুই পোস্টে ইউনাইটেডের আঘাত এবং যোগ করা সময়ে গিয়ানলুইজি দোন্নারুম্মার অসাধারণ সেভ। সব মিলিয়ে নাটকীয় এক ম্যাচে আর্লিং হালান্ডের গোলে ১-০ ব্যবধানে জয় নিয়ে ফিরেছে ম্যানসিটি ।

সিটির জয়ের নায়ক সেই পরিচিত মুখ-আর্লিং হালান্ড। ৬০ মিনিটে জসকো গভার্দিওলের ক্রস থেকে গোল করে তিনি শুধু দলের জয় নিশ্চিত করেননি, ম্যানচেস্টার ডার্বিতে নিজের গোলসংখ্যাও নিয়ে গেছেন নয়ে। এর মধ্য দিয়ে এই দ্বৈরথে সর্বোচ্চ গোলদাতা হিসেবে নিজেকে আরও দূরে নিয়ে গেলেন নরওয়ের এই তারকা।

তবে ম্যাচ শেষে সবচেয়ে বেশি আলোচনা হয়েছে গোলের চেয়ে সিদ্ধান্তগুলো নিয়ে। বিশেষ করে ফোডেনকে সরাসরি লাল কার্ড দেখানো এবং হালান্ডের গোল বৈধ ঘোষণা নিয়ে তৈরি হয়েছে বিতর্ক।

২৩ মিনিটে ঘটনাটির সূত্রপাত। মাটিতে পড়ে থাকা ফোডেনকে ব্রুনো ফার্নান্দেজ লাথি মারার পর প্রতিক্রিয়ায় ফোডেনও পা চালান। সঙ্গে সঙ্গে রেফারি মাইকেল অলিভার লাল কার্ড দেখিয়ে মাঠের বাইরে পাঠান সিটির এই তারকাকে। সিটির খেলোয়াড়েরা সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ করলেও ভিডিও সহকারী রেফারি ম্যাথিউ ডনহিউ সিদ্ধান্ত বদলের মতো কোনো কারণ খুঁজে পাননি।

দশজন নিয়েও ইউনাইটেডকে হারাল ম্যানসিটি
গোলদাতা আর্লিং হালান্ড

১০ জনের সিটিকে পেয়ে এরপর ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার চেষ্টা করে ইউনাইটেড। প্রথমার্ধের শেষ দিকে মার্কাস রাশফোর্ডের দূরপাল্লার ফ্রি-কিক পোস্টে লাগে। বিরতির পর আরও বড় সুযোগ আসে কোবি মাইনুর সামনে। তাঁর বাঁকানো শট গোলরক্ষক দোন্নারুম্মাকে পরাস্ত করলেও পোস্টে লেগে ফিরে আসে।

খেলোয়াড় সংখ্যায় এগিয়ে থেকেও ইউনাইটেড সেই সুযোগগুলো কাজে লাগাতে পারেনি। বরং ৬০ মিনিটে উল্টো গোল হজম করে তারা। প্যাট্রিক ডর্গুর ভুলে বল হারানোর পর সিটির আক্রমণ তৈরি হয়। গভার্দিওলের ক্রস গোলমুখে পৌঁছালে পড়ে যেতে যেতে হালান্ড বলটি জালে পাঠান।

কিন্তু গোলের পরপরই শুরু হয় নতুন নাটক। মাঠের সিদ্ধান্তে হালান্ডকে অফসাইড দেখিয়ে গোল বাতিল করা হয়েছিল। পরে ভিডিও সহকারীর পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত বদলে যায়। প্রিমিয়ার লিগের ম্যাচ সেন্টারের ব্যাখ্যা অনুযায়ী, হালান্ড অনসাইড অবস্থানে ছিলেন এবং অফসাইডে থাকা ফার্নান্দেজ বলটি খেলেননি। ফলে গোলটি বৈধ ঘোষণা করা হয়।

এই সিদ্ধান্তে ইউনাইটেডের খেলোয়াড় ও সমর্থকদের মধ্যে ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। অন্যদিকে সিটি স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলে। এরপর অবশ্য ম্যাচে ফেরার মরিয়া চেষ্টা চালায় ইউনাইটেড। ব্রুনো ফার্নান্দেজ, ব্রায়ান এমবেউমো ও হ্যারি ম্যাগুয়ার সুযোগ তৈরির চেষ্টা করলেও কাঙ্ক্ষিত সমতা ফেরাতে পারেনি স্বাগতিকেরা।

লামিনে ইয়ামালের জোড়া গোলের রাতে বার্সার পাঁচে পাঁচ

0

লেভান্তের মাঠে ম্যাচের শেষ ১২ মিনিট যেন হঠাৎ করেই বদলে দিয়েছিল পুরো গল্প। তিন গোলের ব্যবধানে এগিয়ে থাকা বার্সেলোনা মুহূর্তেই দেখতে পেল জয়ের অনিশ্চয়তা। দুই গোল করে লেভান্তে ব্যবধান ২-৩-এ নামিয়ে কাঁপিয়ে দিয়েছিল বার্সার সমর্থকদের। শেষ পর্যন্ত যোগ করা সময়ের তৃতীয় মিনিটে কারিম আদেয়েমির দুর্দান্ত একক প্রচেষ্টায় সেই শঙ্কার অবসান। লামিনে ইয়ামালের জোড়া গোলের সুবাদে লেভান্তেকে ৪-২ গোলে হারিয়ে লা লিগায় টানা পাঁচ ম্যাচে পাঁচ জয় তুলে নিল বার্সেলোনা।

এই জয়ে ১৫ পয়েন্ট নিয়ে পয়েন্ট তালিকার শীর্ষস্থান আরও শক্ত করেছে বর্তমান চ্যাম্পিয়নরা। দ্বিতীয় স্থানে থাকা রিয়াল মাদ্রিদের চেয়ে তাদের ব্যবধান এখন তিন পয়েন্ট। পাঁচ ম্যাচে বার্সেলোনা করেছে ২১ গোল এবং হজম করেছে চারটি।

বার্সার জয়ে মূল নায়ক অবশ্যই লামিনে ইয়ামাল। স্প্যানিশ এই তরুণের পা থেকে এসেছে দুটি গোল। চলতি লিগে তাঁর গোলসংখ্যা বেড়ে হয়েছে ছয়। আগের ম্যাচেও জোড়া গোল করেছিলেন ইয়ামাল; ফলে মৌসুমের শুরুতেই তাঁর ধারাবাহিকতা বার্সার আক্রমণভাগকে অন্য মাত্রা দিচ্ছে।

তবে ইয়ামালের আলোয় শুরুতেই ছিলেন জাভি এসপার্ট। ম্যাচের মাত্র পঞ্চম মিনিটে তাঁর শট ডিফ্লেক্ট হয়ে লেভান্তের জালে জড়ালে এগিয়ে যায় বার্সেলোনা। সিনিয়র দলের হয়ে এটি ছিল এসপার্টের প্রথম গোল। গোল হজম করে পিছিয়ে পড়লেও ঘরের মাঠে লেভান্তে ভেঙে পড়েনি। ভিক্টর গার্সিয়ার প্রায় ৩০ গজ দূরের ফ্রি-কিক সহজেই ঠেকিয়ে দেন বার্সার গোলরক্ষক হোয়ান গার্সিয়া। এরপর পেতার রাতকভের শট ব্লক হয়, রজার ব্রুগের প্রচেষ্টাও ঠেকিয়ে দেন বার্সার গোলরক্ষক। অর্থাৎ শুরু থেকেই ম্যাচটি একতরফা ছিল না।

বার্সেলোনা অবশ্য নিজেদের দ্বিতীয় আক্রমণাত্মক মুহূর্তেই ব্যবধান বাড়িয়ে ফেলে। ১৯ মিনিটে ফের গোলের উৎস রাফিনহা। ফেরমিন লোপেসের বাড়ানো বল ডিফ্লেক্ট হয়ে রাফিনহার সামনে আসে। লেভান্তের গোলরক্ষক রায়ানকে কাটিয়ে তিনি বল বাড়িয়ে দেন ইয়ামালের দিকে। ছয় গজের মধ্যে থেকে সুযোগ পেয়ে ইয়ামাল আর ভুল করেননি। তাঁর শক্তিশালী শট জালের ছাদে গিয়ে আঘাত করে।

লামিনে ইয়ামালের জোড়া গোলের রাতে বার্সার পাঁচে পাঁচ
বল দখলের লড়াইয়ে রাফিনহা

২-০ ব্যবধানে এগিয়ে গিয়ে বার্সেলোনা নিয়ন্ত্রণে থাকলেও ম্যাচ পুরোপুরি নিজেদের মুঠোয় নিতে পারেনি। বরং রক্ষণে কিছুটা অসতর্কতার ছাপ ছিল।
দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই অবশ্য বার্সেলোনা আবার ব্যবধান বাড়িয়ে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ প্রায় পুরোপুরি নিয়ে নেয়। লেভান্তের ডিফেন্ডার আইসা মান্দির চ্যালেঞ্জে ইয়ামাল বক্সের মধ্যে পড়ে গেলে রেফারি পেনাল্টির নির্দেশ দেন। স্পট-কিক থেকে নিজের দ্বিতীয় গোলটি করেন ইয়ামাল। চলতি লিগে এটি তাঁর ষষ্ঠ গোল।

৩-০ হওয়ার পর মনে হচ্ছিল, বার্সেলোনার সামনে আরও একটি বড় জয় অপেক্ষা করছে। আগের ম্যাচে ভ্যালেন্সিয়াকে ৫-০ গোলে হারিয়েছিল তারা; তার আগে লিগের প্রথম তিন ম্যাচেও আক্রমণভাগের দাপট ছিল চোখে পড়ার মতো। কিন্তু লেভান্তে অন্য গল্প লিখতে শুরু করে।

বার্সেলোনার গোলরক্ষক হোয়ান গার্সিয়ার ভুল ক্লিয়ারেন্সের পর ফাঁকা জালে বল পাঠানোর সুযোগ পেয়েছিলেন ব্রুগে। কিন্তু তাঁর শট ডিফ্লেক্ট হয়ে বাইরে চলে যায়। এরপর ইভান রোমেরোর সহজ সুযোগও গোললাইন থেকে ফিরিয়ে দেন বদলি আন্দ্রেয়াস ক্রিস্টেনসেন। রোমেরোর আরেকটি শটও ব্লক হয়।
৭৯ মিনিটে লেভান্তে প্রথমবারের মতো বার্সার তিন গোলের ব্যবধান ভাঙে। বক্সের মধ্যে ভুল পাসের সুযোগ নিয়ে বল কেড়ে নেন ইভান রোমেরো। এরপর গোলরক্ষক হোয়ান গার্সিয়াকে কাটিয়ে বল জালে পাঠান তিনি। ৮৮ মিনিটে রজার ব্রুগে প্রথমে শট নেন। হোয়ান গার্সিয়া সেটি ঠেকালেও ফিরতি বল পেয়ে দ্বিতীয় চেষ্টায় জালে পাঠান ব্রুগে। হঠাৎ করেই ম্যাচের চিত্র পাল্টে যায়। যে বার্সেলোনা কিছুক্ষণ আগেও তিন গোলের ব্যবধানে এগিয়ে ছিল, সেই দলই শেষ দুই মিনিটে জয় ধরে রাখার লড়াইয়ে।

তবে যোগ করা সময়ের তৃতীয় মিনিটে আদেয়েমি বল নিয়ে বক্সে ঢুকে দুই ডিফেন্ডারকে কাটিয়ে নিচু শটে বল পাঠান রায়ানের পাশ দিয়ে। ৪-২। মুহূর্তেই নিভে যায় লেভান্তের প্রত্যাবর্তনের শেষ আশাটুকুও।

টিভিতে আজকের খেলা – ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬

0

টিভিতে আজকের খেলা: ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬ । আজ রাতে ইউরোপের তিন লিগে জমজমাট ফুটবল। ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগ, লা লিগা আর সেরি আ , তিন লিগেই ম্যাচ।

ফুটবল
ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগ

লিডস–নিউক্যাসল
রাত ১টা, স্টার স্পোর্টস সিলেক্ট ১

লা লিগা
ভিয়ারিয়াল–বেতিস
রাত ১টা, টি স্পোর্টস/ট্যাপম্যাড

ইতালিয়ান সেরি আ
কোমো–পারমা
রাত ১০–৩০ মি., জি ফাইভ/বিগিন অ্যাপ

তোরিনো–রোমা
রাত ১০–৩০ মি., জি ফাইভ/বিগিন অ্যাপ

ইন্টার মিলান–উদিনেসে
রাত ১২–৪৫ মি., জি ফাইভ/বিগিন অ্যাপ

জুনিয়র নারী এশিয়া কাপ হকিতে চ্যালেঞ্জার গ্রুপে চ্যাম্পিয়ন বাংলাদেশ

0

জুনিয়র নারী এশিয়া কাপ হকিতে চ্যালেঞ্জার গ্রুপে চ্যাম্পিয়ন বাংলাদেশ । আন্তর্জাতিক হকির মঞ্চে নতুন ইতিহাস গড়েছে বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-২০ নারী হকি দল। জুনিয়র এশিয়া কাপ হকির চ্যালেঞ্জার গ্রুপে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা। টুর্নামেন্টজুড়ে ধারাবাহিক পারফরম্যান্সের পুরস্কার হিসেবে শিরোপা হাতে তুলেছে বাংলাদেশের তরুণীরা।

রোববার, ১৩ সেপ্টেম্বর জমকালো সমাপনী অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ দলের হাতে চ্যাম্পিয়ন ট্রফি তুলে দেওয়া হয়। শিরোপা জয়ের পর খেলোয়াড়, কোচিং স্টাফ ও কর্মকর্তাদের মধ্যে দেখা যায় উচ্ছ্বাস। নারী হকিতে বাংলাদেশের জন্য এটি গুরুত্বপূর্ণ একটি অর্জন হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

পুরো টুর্নামেন্টজুড়েই দাপট

চ্যালেঞ্জার গ্রুপের পুরো আসরেই আত্মবিশ্বাসী হকি খেলেছে বাংলাদেশ। প্রতিপক্ষের ওপর চাপ তৈরি, আক্রমণে কার্যকরী ভূমিকা এবং দলীয় সমন্বয়ের মাধ্যমে নিজেদের সামর্থ্যের প্রমাণ দিয়েছে অনূর্ধ্ব-২০ দলটি।

তরুণ খেলোয়াড়দের নিয়ে গড়া এই দল টুর্নামেন্টের গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচগুলোতে নিজেদের পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে সক্ষম হয়েছে। ম্যাচে ম্যাচে উন্নতি এবং প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ পারফরম্যান্সের ধারাবাহিকতাই শেষ পর্যন্ত বাংলাদেশকে শিরোপার মঞ্চে পৌঁছে দেয়।

ব্যক্তিগত অর্জনেও উজ্জ্বল বাংলাদেশ

দলীয় সাফল্যের পাশাপাশি ব্যক্তিগত পারফরম্যান্সেও বাংলাদেশের খেলোয়াড়রা নজর কেড়েছেন। বিশেষ করে গোল করার ক্ষেত্রে দুর্দান্ত ছিলেন শারিকা সাফা রিমন।

জুনিয়র নারী এশিয়া কাপ হকিতে চ্যালেঞ্জার গ্রুপে চ্যাম্পিয়ন বাংলাদেশ

টুর্নামেন্টে মোট সাতটি গোল করে যৌথভাবে সর্বোচ্চ গোলদাতার পুরস্কার বা ‘টপ স্কোরার অ্যাওয়ার্ড’ জিতেছেন বাংলাদেশের এই খেলোয়াড়। দলের আক্রমণভাগে তার কার্যকর ভূমিকা বাংলাদেশের সাফল্যে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছে।

শারিকার এই অর্জন বাংলাদেশের নারী হকিতে প্রতিভাবান খেলোয়াড় উঠে আসারও একটি বড় উদাহরণ। আন্তর্জাতিক পর্যায়ে ব্যক্তিগত পুরস্কার জিতে তিনি দেশের হকির জন্য আরও একটি গৌরবের মুহূর্ত তৈরি করেছেন।

নারী হকির জন্য নতুন অনুপ্রেরণা

বাংলাদেশের নারী হকি দীর্ঘদিন ধরেই আন্তর্জাতিক পর্যায়ে নিজেদের অবস্থান শক্ত করার চেষ্টা করছে। বয়সভিত্তিক পর্যায়ে এমন সাফল্য সেই পথচলায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

জুনিয়র পর্যায়ে আন্তর্জাতিক সাফল্য ভবিষ্যতের জাতীয় দলের জন্যও প্রতিভাবান খেলোয়াড় তৈরিতে সহায়ক হবে। এই দলের অনেক খেলোয়াড়ই আগামী দিনে জাতীয় দলের প্রতিনিধিত্ব করে দেশের নারী হকিকে আরও এগিয়ে নিতে পারেন।

চ্যালেঞ্জার গ্রুপের চ্যাম্পিয়ন হওয়ায় শুধু একটি ট্রফিই যোগ হয়নি, বরং আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বাংলাদেশের নারী হকির সম্ভাবনাও আরও একবার সামনে এসেছে।

অভিনন্দনে ভাসছে বাংলাদেশ দল

ঐতিহাসিক এই সাফল্যের পর বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-২০ নারী হকি দলের সব খেলোয়াড়, কোচ ও কর্মকর্তাদের অভিনন্দন জানানো হয়েছে। মাঠের পারফরম্যান্সের মাধ্যমে দেশের জন্য গৌরব বয়ে আনার পাশাপাশি তরুণ প্রজন্মের কাছে অনুপ্রেরণার উদাহরণ তৈরি করেছেন দলের সদস্যরা।

চ্যালেঞ্জার গ্রুপের এই শিরোপা বাংলাদেশের নারী হকির অগ্রযাত্রায় একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হয়ে থাকবে। আন্তর্জাতিক অঙ্গনে আরও বড় সাফল্যের লক্ষ্যে এই অর্জন তরুণীদের আত্মবিশ্বাস বাড়াবে, এমন প্রত্যাশাই এখন বাংলাদেশের হকি অঙ্গনের।

বাংলাদেশের নারী হকির সামনে এখন লক্ষ্য আরও বড়। জুনিয়র পর্যায়ের এই সাফল্যকে ভিত্তি করে ভবিষ্যতে এশিয়া ও আন্তর্জাতিক মঞ্চে আরও শক্ত অবস্থান তৈরি করতে চায় লাল-সবুজের দল।

ইউএস ওপেন ফাইনালে জভেরেভের সামনে শেলটন

0

ইতিহাস গড়ার হাতছানি 

ইউএস ওপেন এর পুরুষ এককের শিরোপা নির্ধারণী ম্যাচে মুখোমুখি হচ্ছেন জার্মানির আলেকজান্ডার জভেরেভ ও যুক্তরাষ্ট্রের বেন শেলটন। আর্থার অ্যাশ স্টেডিয়ামে বাংলাদেশ সময় রাত ১২টায় শুরু হবে বহুল প্রতীক্ষিত এই ফাইনাল।

পাঁচ বছরের ব্যবধানে প্রথম তিনটি গ্র্যান্ড স্ল্যাম ফাইনালে হেরে যাওয়ার পর অবশেষে তিন মাস আগে নিজের প্রথম মেজর শিরোপা জিতেছেন জভেরেভ। এবার টানা তৃতীয় মেজর ফাইনালে উঠে ইতিহাস গড়ার সুযোগ তার সামনে। ২০২৬ সালের ফ্রেঞ্চ ওপেনে ফ্লাভিও কোবোল্লিকে হারিয়ে প্রথম মেজর জেতার পর উইম্বলডনের ফাইনালে অবশ্য ইয়ানিক সিনারের কাছে হেরেছিলেন তিনি।

এবারের ইউএস ওপেনে শুরুটা খুব একটা স্বস্তিদায়ক ছিল না জভেরেভের। প্রথম দুই রাউন্ডেই পাঁচ সেটের লড়াইয়ে যেতে হয়েছিল তাকে। তবে এরপর টানা চার ম্যাচ সরাসরি সেটে জিতে ফাইনালে উঠেছেন বিশ্বের এক নম্বর এই তারকা। চলতি মৌসুমে তার রেকর্ড ৫২-১৩, হার্ড কোর্টে ২৩-৭।

অন্যদিকে, ২৩ বছর বয়সী বেন শেলটন খেলতে যাচ্ছেন ক্যারিয়ারের প্রথম গ্র্যান্ড স্ল্যাম ফাইনাল। নিজের ঘরের মেজরে দর্শকদের সমর্থনও থাকবে তার পক্ষে। চলতি বছর শেলটনের রেকর্ড ৩৯-১৩, আর হার্ড কোর্টে ২৫-৬। গ্রীষ্মে হার্ড কোর্টে ১২ ম্যাচের ১১টিতেই জিতেছেন তিনি, যার মধ্যে রয়েছে মন্ট্রিয়েলে শিরোপা জয়।

ইউএস ওপেনের প্রথম তিন রাউন্ডে চার সেট করে খেলতে হলেও চতুর্থ রাউন্ডে স্তেফানোস সিৎসিপাসকে সরাসরি সেটে হারান শেলটন। এরপর কোয়ার্টার ফাইনালে কার্লোস আলকারাজের বিপক্ষে খেলেন টুর্নামেন্টের অন্যতম আলোচিত ম্যাচ। রাত ৩টা ৩৩ মিনিট পর্যন্ত চলা সেই লড়াইয়ে পঞ্চম সেটের টাইব্রেকে জয় পান মার্কিন তারকা।

সেমিফাইনালে ফ্রান্সেস তিয়াফোকে এক সেটে পিছিয়ে পড়েও হারিয়ে প্রথমবারের মতো ইউএস ওপেনের ফাইনালে জায়গা করে নেন শেলটন। এর মাধ্যমে ১৯৭২ সালে আর্থার অ্যাশের পর ইউএস ওপেনের পুরুষ এককের ফাইনালে ওঠা প্রথম কৃষ্ণাঙ্গ মার্কিন খেলোয়াড় হন তিনি।

ফাইনালে শেলটনের আত্মবিশ্বাসের বড় কারণ তার সাম্প্রতিক রেকর্ড। এটিই তার ক্যারিয়ারের মাত্র ১০ম এটিপি-স্তরের ফাইনাল হলেও এর মধ্যে সাতটিতে জিতেছেন তিনি। সর্বশেষ পাঁচটি ফাইনালেই জয় পেয়েছেন এই তরুণ। ২০২৬ সালে তিনটি ভিন্ন কোর্টে চারটি শিরোপাও জিতেছেন তিনি।

তবে জভেরেভের বিপক্ষে পরিসংখ্যান শেলটনের জন্য খুব একটা আশাব্যঞ্জক নয়। ক্যারিয়ারে পাঁচবার জার্মান তারকার মুখোমুখি হয়ে প্রতিবারই হেরেছেন তিনি। দুই খেলোয়াড়ের লড়াইয়ে জভেরেভ ১১ সেটের ১০টিই জিতেছেন। শেলটন সর্বশেষ সেট জিতেছিলেন তাদের প্রথম সাক্ষাতে; এরপর আর কোনো সেট জিততে পারেননি।

তারপরও ফাইনালে শেলটনকেই এগিয়ে রাখার যুক্তি আছে। বড় ম্যাচে তার পারফরম্যান্স, ঘরের মাঠের দর্শক এবং চলতি টুর্নামেন্টে আলকারাজ ও তিয়াফোর মতো শক্ত প্রতিপক্ষকে হারানোর অভিজ্ঞতা তাকে বাড়তি আত্মবিশ্বাস দেবে। বিপরীতে, শীর্ষ ১০ খেলোয়াড়দের বিপক্ষে গত ৫২ সপ্তাহে জভেরেভের রেকর্ড মাত্র ৩-১৩।

জভেরেভের দুর্দান্ত সার্ভ অবশ্য শেলটনের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হবে। তবে সার্ভিংয়ের দিক থেকে শেলটনও ট্যুরের অন্যতম সেরা। তার রিটার্নিং এখনও শীর্ষ খেলোয়াড়দের তুলনায় দুর্বল হলেও সাম্প্রতিক সময়ে সেখানে উন্নতি স্পষ্ট।

সব মিলিয়ে পরিসংখ্যান ও র‍্যাঙ্কিং জভেরেভের পক্ষে থাকলেও ফাইনালের মঞ্চে শেলটনের মানসিক দৃঢ়তা ও ঘরের দর্শকদের সমর্থন বড় পার্থক্য গড়ে দিতে পারে। আর যদি শেষ পর্যন্ত শেলটনই জেতেন, তাহলে ২০০৩ সালে অ্যান্ডি রডিকের পর প্রথম মার্কিন পুরুষ খেলোয়াড় হিসেবে গ্র্যান্ড স্ল্যাম এককের শিরোপা জয়ের কীর্তি গড়বেন তিনি, সেই একই আর্থার অ্যাশ স্টেডিয়ামে।

খুলনা জেলা ক্রীড়া সংস্থার নির্বাচনে জয়ী ‘সম্মিলিত ক্লাব ঐক্য পরিষদ’

0

উৎসবমুখর ও উৎসবঘন পরিবেশে বহু প্রতীক্ষিত খুলনা জেলা ক্রীড়া সংস্থার কার্যনির্বাহী পরিষদ নির্বাচন-২০২৬ সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে। নতুন মেয়াদে দায়িত্ব গ্রহণের লক্ষে অনুষ্ঠিত এ নির্বাচনে বিপুল প্রাধান্য দেখিয়ে নিরঙ্কুশ জয় ছিনিয়ে নিয়েছে মোল্লা খায়রুল ইসলামের নেতৃত্বাধীন ‘সম্মিলিত ক্লাব ঐক্য পরিষদ’ প্যানেল।

শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) সকাল ৮টা থেকে খুলনা জেলা স্টেডিয়াম ভবনে ভোটগ্রহণ কার্যক্রম শুরু হয়ে একটানা বিকেল ৪টা পর্যন্ত চলে। দিনভর স্থানীয় ক্রিয়া সংগঠক, ক্লাব প্রতিনিধি ও ক্রীড়ামোদী সাধারণ ভোটারদের উপস্থিতি ও সুশৃঙ্খল অংশগ্রহণে ভোটকেন্দ্র চত্বর মুখরিত থাকে। কোনো প্রকার অপ্রীতিকর ঘটনা ছাড়াই শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ভোটগ্রহণ শেষে রাতেই ভোট গণনা কার্যক্রম অনুষ্ঠিত হয়। রাত ১১টার পর আনুষ্ঠানিকভাবে নির্বাচনের ফলাফল প্রকাশ করেন সংশ্লিষ্ট নির্বাচন কর্মকর্তারা।

প্রকাশিত ফলাফল অনুযায়ী, ক্রীড়া সংস্থার মূল চাবিকাঠি হিসেবে বিবেচিত সাধারণ সম্পাদক পদে বিশাল ব্যবধানে জয়লাভ করেছেন ‘সম্মিলিত ক্লাব ঐক্য পরিষদ’-এর প্যানেল প্রধান মোল্লা খায়রুল ইসলাম। ভোটারদের ভালোবাসায় তিনি মোট ১৫৭টি ভোট পেয়ে নির্বাচিত হন। অন্যদিকে তার প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী মো. ইমতিয়াজ হোসেন পিলু অর্জন করেন ৫৩টি ভোট।

নবনির্বাচিত কমিটিতে গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন পদে বিজয়ীদের নাম নিচে উল্লেখ করা হলো:

  • সহ-সভাপতি: এস এম মোয়াজ্জেম রশীদী দোজা, চৌধুরী শফিকুল ইসলাম হোসেন, শাহ্ আসিফ হোসেন রিংকু এবং মো. জুলফিকার আলী খান।
  • অতিরিক্ত সাধারণ সম্পাদক: শেখ হেমায়েত উল্লাহ।
  • যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক: কে এম আশরাফুল আলম নান্নু এবং মো. বেলাল হোসেন।
  • কোষাধ্যক্ষ: হাসান জাহাঙ্গীর মুকুল।

এছাড়া ১৩টি কার্যনির্বাহী সদস্য পদের বিপরীতে বিজয়ী হয়েছেন , শফিউল আলম সবুজ, মো. মাহমুদুল হক সেতু, এ জে এম অহিদুল ইসলাম সেলিম, মো. ইয়াসিন খান, মো. তরিকুল ইসলাম (সাংবাদিক), মো. ইকরামুল কবির মিল্টন, মো. আজিজুর রহমান জুয়েল, মো. তরিকুল ইসলাম, এ কে এম শহিদুল ইসলাম, কাজী নূর মোহাম্মদ, মিজানুর রহমান এবং মো. রেজানুল ইসলাম।

সংরক্ষিত ক্যাটাগরিগুলোর মধ্যে সংরক্ষিত উপজেলা ক্রীড়া সংস্থার সাধারণ সম্পাদক পদে খায়রুল ইসলাম খান এবং মোহাম্মদ আরিফুর রহমান বিজয়ী ঘোষিত হন। অন্যদিকে সংরক্ষিত নারী আসনের দুইটি পদে আর কোনো প্রতিদ্বন্দ্বী না থাকায় আয়েশা আক্তার শুকতারা ও খালেদা পারভীনকে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত ঘোষণা করা হয়।

নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণার পর বিজয়ী প্যানেলের সমর্থক ও সাধারণ ভোটারদের মধ্যে আনন্দ-উচ্ছ্বাস ছড়িয়ে পড়ে। নবনির্বাচিত কমিটির নেতৃবৃন্দ খুলনার ঝিমিয়ে পড়া ক্রীড়াঙ্গনকে নতুন উদ্যমে চাঙ্গা করা, স্থানীয় পর্যায়ে নিয়মিত লিগ পরিচালনা এবং সম্ভাবনাময় তরুণ অ্যাথলেটেদের মানোন্নয়নে কাজ করার প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেছেন।

নতুন মাইলফলকের খুব কাছে মেসি

0

ইন্টার মায়ামির জার্সিতে আবারও গোল পেলেন লিওনেল মেসি। আর্জেন্টাইন তারকার গোলেই জয়ের স্বপ্ন দেখছিল মায়ামি। তবে শেষ পর্যন্ত তা আর হলো না। যোগ করা সময়ে গোল করে ন্যাশভিল ২-২ গোলে ড্র ছিনিয়ে নেয়।

ন্যাশভিলের বিপক্ষে ম্যাচের আগে মায়ামির সময়টা ভালো যাচ্ছিল না। শেষ আট ম্যাচে জয় ছিল মাত্র একটি। ফলে এমএলএসের ইস্টার্ন কনফারেন্সে শীর্ষস্থানের দৌড়ে মেসির দল পিছিয়ে পড়েছে ৯ পয়েন্ট।

মায়ামির বিপক্ষে ম্যাচের চতুর্থ মিনিটেই গোল করে ন্যাশভিলকে এগিয়ে দেন স্যাম সুরিজ। পরে রিড বেকার হুইটিংয়ের আত্মঘাতী গোলে সমতায় ফেরে মায়ামি। এরপর মেসির দুর্দান্ত গোলে লিড নেয় তারা।

ছোট ডি-বক্সের সামনে থেকে দারুণ এক ফিনিশিংয়ে বল জালে জড়ান মেসি। ইন্টার মায়ামির হয়ে এটি ছিল তাঁর ১১৪ ম্যাচে ৯৯তম গোল। অর্থাৎ ক্লাবটির হয়ে ১০০ গোলের মাইলফলক থেকে আর মাত্র এক গোল দূরে ৩৯ বছর বয়সী এই তারকা।

মায়ামির পরবর্তী ম্যাচেই সেই মাইলফলক ছোঁয়ার সুযোগ আছে মেসির। আগামী ১৭ সেপ্টেম্বর ক্যাম্পেওনেস কাপের ফাইনালে ক্রুজ আজুলের মুখোমুখি হবে মায়ামি। ওই ম্যাচে গোল করতে পারলে আমেরিকান ফুটবলে নিজের গোলের সেঞ্চুরি পূর্ণ করবেন মেসি।

চলতি মৌসুমে এমএলএসে এটি মেসির ১৯তম গোল। এর মধ্য দিয়ে আমেরিকান ফুটবলে টানা তিন মৌসুমে অন্তত ১০টি করে গোল করার কীর্তিও গড়েছেন তিনি।

তবে ব্যক্তিগত অর্জনের আনন্দ পুরোপুরি উপভোগ করতে পারেননি মেসি। শেষ মুহূর্তের গোলে জয় হাতছাড়া হওয়ায় হতাশা নিয়েই মাঠ ছাড়তে হয়েছে মায়ামিকে।

যে কারণে পাকিস্তানের স্থায়ী কোচ হতে আগ্রহী হেসন

0

পাকিস্তানের সাদা বলের দলের পাশাপাশি টেস্ট দলের স্থায়ী কোচ হিসেবেও দায়িত্ব নিতে আগ্রহী মাইক হেসন। দীর্ঘ সংস্করণের ক্রিকেটে কাজ করার মতো যথেষ্ট প্রতিভা পাকিস্তানের দলে আছে বলে মনে করেন তিনি। তাঁর বিশ্বাস, সঠিক পরিকল্পনা ও দিকনির্দেশনা পেলে লাল বলের ক্রিকেটেও পাকিস্তানকে সাফল্যের পথে ফেরানো সম্ভব।

ইংল্যান্ড সফরের প্রথম দুই টেস্টে বড় ব্যবধানে হারের পর পাকিস্তানের প্রধান কোচ সারফারাজ আহমেদ ও বোলিং কোচ উমার গুলকে সরিয়ে দেয় পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি)। একই সঙ্গে সাতজন ক্রিকেটারকেও দেশে ফেরত পাঠানো হয়।

কোচ বদলেও ইংল্যান্ডে পাকিস্তানের হোয়াইটওয়াশ

এজবাস্টনে সিরিজের তৃতীয় ও শেষ টেস্টে পাকিস্তানের অন্তর্বর্তীকালীন প্রধান কোচের দায়িত্ব পান হেসন। বোলিং কোচ হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয় অ্যাশলি নাফকে, যিনি সাদা বলের দলের সঙ্গেও কাজ করছেন। তবে কোচ পরিবর্তনেও পাকিস্তানের ভাগ্য বদলায়নি। বার্মিংহ্যামে শনিবার ইংল্যান্ডের কাছে ৮ উইকেটে হেরে তিন ম্যাচের সিরিজে হোয়াইটওয়াশ হয়েছে পাকিস্তান। ইংল্যান্ডের মাটিতে এবারই প্রথম টেস্ট সিরিজে ধবল ধোলাই হওয়ার তিক্ত অভিজ্ঞতা হলো তাদের।

ম্যাচ শেষে সংবাদ সম্মেলনে হেসন জানিয়েছেন, পাকিস্তানের টেস্ট দলের স্থায়ী দায়িত্ব পেলে তিনি আগ্রহের সঙ্গেই কাজ করবেন। পাকিস্তানের ক্রিকেট কাঠামোয় প্রতিভার কোনো ঘাটতি দেখছেন না তিনি।

হেসন বলেন,

অবশ্যই আমি টেস্ট দলের দায়িত্ব নিতে আগ্রহী। টেস্ট ক্রিকেট আমি ভালোবাসি। পাকিস্তানের ক্রিকেট কাঠামোয় যথেষ্ট প্রতিভা আছে। তাদের সঠিক দিকনির্দেশনা দিতে পারলে সামনে এগিয়ে যাওয়া সম্ভব। তবে এক-দুই ম্যাচেই এর পরিবর্তন দেখা যাবে না। এখানে এমন কিছু দক্ষতা আছে, যেগুলো নিয়ে কাজ করার দায়িত্ব নিতে আমি অবশ্যই আগ্রহী।

এর আগে ইংল্যান্ডের কোচ হওয়ার দৌড়েও ছিলেন হেসন। ব্রেন্ডন ম্যাককালাম দায়িত্ব ছাড়ার পর তাঁর উত্তরসূরি খুঁজতে হেসনের সঙ্গে যোগাযোগ করেছিল ইংল্যান্ড। তবে সেই আলোচনা খুব বেশি দূর এগোয়নি। শেষ পর্যন্ত স্টিভেন ফ্লেমিংকে দায়িত্ব দেয় ইংল্যান্ড।

এরপর পাকিস্তানের সাদা বলের দলের সঙ্গে ২০২৭ বিশ্বকাপ পর্যন্ত থাকার বিষয়ে নিজের অঙ্গীকারের কথাও জানিয়েছেন হেসন। তবে টেস্ট দলের স্থায়ী কোচ হওয়ার বিষয়টি এখনই তাঁর হাতে নেই। কারণ, এ বিষয়ে পিসিবি এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়নি।

হেসন বলেন,

এই পর্যায়ে আমি কোনো চাকরির প্রস্তাব নিয়ে ভাবিনি। দেশে ফেরার এক সপ্তাহ পরই এশিয়ান গেমস আছে। এই মুহূর্তে সাদা বলের ক্রিকেটই আমার মূল মনোযোগ। সময় এলে টেস্ট দল নিয়ে সামনে কী করা যায়, সে বিষয়ে নিশ্চয়ই আলোচনা হবে। নির্বাচকদের সঙ্গেও এ নিয়ে কথা বলব।

পাকিস্তানের পরবর্তী টেস্ট সিরিজ নভেম্বরে। ঘরের মাঠে দুই ম্যাচের সিরিজে শ্রীলঙ্কার মুখোমুখি হবে তারা। সেই সিরিজের আগেই টেস্ট দলের কোচিং কাঠামো নিয়ে পিসিবি কী সিদ্ধান্ত নেয়, সেটিই এখন দেখার বিষয়।