শুরুতেই ২৪ রানে ৩ উইকেট হারিয়ে ধুঁকছিল জিম্বাবুয়ে। মনে হচ্ছিল, বল হাতে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নিয়েছে বাংলাদেশ। তবে অভিজ্ঞ দুই ব্যাটার ব্রেন্ডন টেলর ও ক্রেগ আরভিনের দৃঢ়তায় পাল্টে গেছে ম্যাচের চিত্র। চতুর্থ উইকেটে শতরানের জুটি গড়ে প্রাথমিক বিপর্যয় সামলে লড়াইয়ে ফিরেছে জিম্বাবুয়ে।
২৭ ওভার শেষে জিম্বাবুয়ের সংগ্রহ ৩ উইকেটে ১৩৫ রান। টেলর ও আরভিনের ব্যাটে ভর করে বড় সংগ্রহের ভিত গড়ার চেষ্টা করছে দলটি।
এর আগে ইনিংসের শুরুতেই বাংলাদেশের পেসার তাসকিন আহমেদের তোপে পড়ে জিম্বাবুয়ে। প্রথম ওভারেই উইকেট তুলে নিয়ে দলকে দারুণ সূচনা এনে দেন ডানহাতি এই পেসার। তাঁর করা ওভারের শেষ বলে ব্রায়ান বেনেটকে এলবিডব্লিউর ফাঁদে ফেলেন তিনি। প্রথমে উইকেটকিপারের হাতে ক্যাচ যাওয়ায় আউটের আবেদন করেন বাংলাদেশের ফিল্ডাররা। আম্পায়ারও তাতে সাড়া দেন। তবে রিভিউ নেওয়ার পর দেখা যায়, বল ব্যাটে লাগেনি; আঘাত করেছে পায়ে। ফলে এলবিডব্লিউ হয়ে সাজঘরে ফিরতে হয় বেনেটকে।
এরপর পঞ্চম ওভারে আবারও আঘাত হানেন তাসকিন। এবার তাঁর শিকার ওপেনার বেন কারান। লেগ স্টাম্পের সামনে বলের আঘাতে এলবিডব্লিউ হন এই ব্যাটার। ১১ বলে ৬ রান করে বিদায় নেন তিনি। তাসকিনের দুর্দান্ত বোলিংয়ে শুরুতেই বিপাকে পড়ে জিম্বাবুয়ে।
তৃতীয় উইকেটও দ্রুত তুলে নেয় বাংলাদেশ। তিন নম্বরে ব্যাট করতে নামা তাফাদজওয়া সিগাও তাসকিনের বলে সাজঘরে ফেরেন। আউট হওয়ার আগে কিছুটা আক্রমণাত্মক ব্যাটিংয়ের আভাস দিয়েছিলেন তিনি। তিনটি চারের সাহায্যে ১৫ বলে ১৬ রান করেন সিগাও। তাঁর বিদায়ে ২৪ রানেই তিন উইকেট হারিয়ে বড় চাপে পড়ে জিম্বাবুয়ে।
তবে সেই চাপ আর বাড়তে দেননি টেলর ও আরভিন। শুরুতে উইকেটে থিতু হওয়ার দিকে মনোযোগ দেন দুই অভিজ্ঞ ব্যাটার। এরপর ধীরে ধীরে রানের গতি বাড়িয়ে বাংলাদেশের বোলারদের ওপর পাল্টা চাপ তৈরি করেন তাঁরা। তাঁদের দায়িত্বশীল ব্যাটিংয়ে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ ফিরে পেতে শুরু করে জিম্বাবুয়ে।
চতুর্থ উইকেটের জুটিতে ইতোমধ্যে শতরান পার করেছেন টেলর ও আরভিন। ব্যক্তিগত অর্ধশতকও তুলে নিয়েছেন টেলর। ৬৫ বলে ফিফটি পূর্ণ করেন তিনি। শুরুতে দ্রুত তিন উইকেট হারানোর পর এই জুটি জিম্বাবুয়েকে শুধু বিপর্যয় থেকেই উদ্ধার করেনি, বড় সংগ্রহের আশাও জাগিয়েছে।
একদিকে বাংলাদেশের জন্য দ্রুত উইকেট তুলে নিয়ে চাপ ধরে রাখার চ্যালেঞ্জ, অন্যদিকে জিম্বাবুয়ের লক্ষ্য এই জুটিকে আরও বড় করে ইনিংসের ভিত শক্ত করা। ২৭ ওভার শেষে তিন উইকেট হাতে রেখে নয়, বরং সাত উইকেট হাতে নিয়ে স্বাগতিকরা এখন বড় সংগ্রহের পথে এগোতে চাইছে।


