বেইজিংয়ে দারুণ লড়াই করে চায়না ওপেনের সেমিফাইনালে জায়গা করে নিয়েছেন নোভাক জোকোভিচ। প্রথম সেটে হেরে পিছিয়ে পড়লেও দুর্দান্ত প্রত্যাবর্তনে টুর্নামেন্টের শীর্ষ বাছাই আলেকজান্ডার জভেরেভকে হারিয়েছেন সার্বিয়ার এই তারকা।
কোয়ার্টার ফাইনালে বিশ্ব র্যাঙ্কিংয়ের দুই নম্বর খেলোয়াড় জভেরেভকে ৪-৬, ৬-৪, ৬-৪ গেমে হারান ৩৯ বছর বয়সী জোকোভিচ। শেষ চারে তার প্রতিপক্ষ হবেন তৃতীয় বাছাই দানিল মেদভেদেভ।
এই জয় জভেরেভের বছর শেষে বিশ্বের এক নম্বর খেলোয়াড় হওয়ার লড়াইকেও কিছুটা ধাক্কা দিয়েছে। ম্যাচ শেষে জোকোভিচ বলেন, এ ধরনের মুহূর্তের জন্যই আমি এখনো খেলি এবং প্রতিদ্বন্দ্বিতা করি। তিনি আরও বলেন, বিশ্বের সেরা খেলোয়াড়দের সঙ্গে সমানে লড়াই করতে পারা এবং ১৫ হাজার দর্শকের সামনে ভালো খেলাটা তাকে এখনও অনুপ্রাণিত করে।
দুই খেলোয়াড়ের প্রথম সেটে শুরু থেকেই ছিল তীব্র লড়াই। জভেরেভ জোকোভিচের শক্তিশালী শট সামলাতে বাধ্য করছিলেন। ম্যাচের প্রথম গেমেই জোকোভিচের সার্ভিস ব্রেক করে শেষ পর্যন্ত ৬-৪ ব্যবধানে প্রথম সেট জিতে নেন জার্মান তারকা।
তবে দ্বিতীয় সেটে ধীরে ধীরে ম্যাচে ফিরে আসেন জোকোভিচ। ৫-৪ গেমে জভেরেভের সার্ভিস ব্রেক করে সেটটি ৬-৪ ব্যবধানে জিতে ম্যাচে সমতা ফেরান ২৪ বারের গ্র্যান্ড স্ল্যাম জয়ী। তৃতীয় সেটেও দুজনের মধ্যে তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতা হয়। শেষ পর্যন্ত ৫-৪ গেমে জভেরেভের সার্ভিস ভেঙে ম্যাচের জয় নিশ্চিত করেন অভিজ্ঞ জোকোভিচ।
চায়না ওপেনে জোকোভিচের টানা ৩২তম জয়
এই জয়ের ফলে বেইজিংয়ে জোকোভিচের টানা অপরাজিত ম্যাচের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৩২-এ। একই সঙ্গে চায়না ওপেনে সপ্তম শিরোপা জয়ের পথে আরও এক ধাপ এগিয়ে গেলেন তিনি। ২০২৬ সালটি তার জন্য কঠিন গেলেও বেইজিংয়ে নিজের পুরোনো ছন্দের কিছুটা ফিরে পেয়েছেন জোকোভিচ। বিভিন্ন কারণে এ বছরটা আমার জন্য কঠিন ছিল। কিন্তু আমি এখনো লড়াই করে যাচ্ছি, এখনো প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছি এবং তরুণদের কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলছি,বলেন জোকোভিচ।
সেমিফাইনালে তার প্রতিপক্ষ মেদভেদেভ। কোয়ার্টার ফাইনালে ফ্রান্সিসকো সেরুন্দোলোকে ৭-৬ (৭-৪), ৬-৩ ব্যবধানে হারিয়ে শেষ চারে জায়গা করে নিয়েছেন রুশ তারকা। অন্য সেমিফাইনালে মুখোমুখি হবেন পোল্যান্ডের হুবার্ট হুরকাচ ও অস্ট্রেলিয়ার অ্যালেক্স ডি মিনর। হুরকাচ ৭-৬ (৭-২), ৬-২ ব্যবধানে কারেন খাচানভকে হারিয়েছেন। আর প্রথম সেটে আন্দ্রে রুবলেভের কাছে ১-৬ ব্যবধানে পিছিয়ে পড়েও দারুণ প্রত্যাবর্তন করে ডি মিনর ম্যাচটি জিতেছেন ১-৬, ৬-২, ৬-৩ ব্যবধানে।
সব মিলিয়ে, চায়না ওপানে জোকোভিচের সামনে এখন আর মাত্র দুই ম্যাচের দূরত্ব। সেমিফাইনালে মেদভেদেভকে হারাতে পারলে ফাইনাল, আর সেখানে জয় পেলেই ২০২৬ সালে তার প্রথম শিরোপা।




