২০১৯ সালে আয়ারল্যান্ডে অনুষ্ঠিত ত্রিদেশীয় সিরিজ এর পর আর কোনো ত্রিদেশীয় টুর্নামেন্টের শিরোপা জেতা হয়নি বাংলাদেশের। এর মধ্যে বেশ কয়েকটি সিরিজে অংশ নিয়েছে টাইগাররা। ২০১৮ সালের নিদাহাস ট্রফির ফাইনালে উঠেও শেষ মুহূর্তে ভারতের কাছে হেরে যায় বাংলাদেশ। ত্রিদেশীয় সিরিজে বাংলাদেশের সাফল্য কম হওয়ার সম্ভাব্য কারণ ব্যাখ্যা করেছেন অধিনায়ক লিটন দাস।
মরুর বুকে আফগানিস্তান ও জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ত্রিদেশীয় সিরিজ খেলতে প্রস্তুত বাংলাদেশ। ওয়ানডে সংস্করণের এই টুর্নামেন্টে তিন দলের জন্যই বড় চ্যালেঞ্জ হতে পারে মধ্যপ্রাচ্যের প্রচণ্ড গরম। তবে কন্ডিশনের পাশাপাশি ত্রিদেশীয় সিরিজের চাপও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে বলে মনে করেন লিটন।
ত্রিদেশীয় সিরিজে বাংলাদেশের সাফল্য কম কেন, সংবাদ সম্মেলনে এমন প্রশ্নের জবাবে লিটন বলেন, ‘আমার কাছে মনে হয়, কোনো কারণ নেই। আমরা খুব কম ত্রিদেশীয় সিরিজ খেলি। আমি অনেক দিন ধরে খেললেও ত্রিদেশীয় সিরিজ খেলার অভিজ্ঞতা খুব কম।’
লিটনের মতে, এশিয়া কাপ ও বিশ্বকাপের মতো বড় টুর্নামেন্টে নিয়মিত অংশ নিলেও ত্রিদেশীয় সিরিজে খেলার অভিজ্ঞতা বাংলাদেশের ক্রিকেটারদের তুলনামূলক কম। এ ধরনের টুর্নামেন্টে ফাইনালে ওঠার চাপও আলাদা।
বাংলাদেশ অধিনায়ক বলেন, ‘আমরা বড় বড় টুর্নামেন্ট-এশিয়া কাপ, বিশ্বকাপ-এসব খেলি। কিন্তু ত্রিদেশীয় সিরিজ সেভাবে খেলা হয় না। ত্রিদেশীয় সিরিজে বাড়তি একটা চাপ থাকে। তিন দলের ওপরই থাকে ফাইনালে উঠতে হবে। আমার মনে হয়, সেখানে বাড়তি চাপ আসে। সিরিজে আসলে সেভাবে চাপ থাকে না। এক ম্যাচ হারলেও সুযোগ থাকে।’
তবে সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশের পারফরম্যান্সে উন্নতি দেখছেন লিটন। তাঁর বিশ্বাস, দলের ক্রিকেটাররা এখন আগের চেয়ে পরিণত এবং এই সিরিজে ভালো করার সামর্থ্য রাখেন।লিটন বলেন, ‘ত্রিদেশীয় সিরিজে হেরে গেলে চাপ থাকে, রান রেটের ব্যাপার থাকে। আমাদের ছেলেরা এখন ভালো ক্রিকেট খেলছে। গত কিছু সিরিজে ভালো খেলেছি। ম্যাচুরিটি লেভেলও ভালো আছে। আশা করছি, আমরা এখানে ভালো ক্রিকেট খেলব।’
অধিনায়কত্ব উপভোগ করার বিষয়েও কথা বলেছেন লিটন। আগে বিভিন্ন সময়ে বাংলাদেশকে নেতৃত্ব দেওয়া এই ব্যাটার জানান, শুরু থেকেই অধিনায়কত্ব উপভোগ করেন তিনি। দলের ব্যাটিং এবং বড় সংগ্রহ গড়া নিয়েও নিজের ভাবনা তুলে ধরেছেন লিটন। তাঁর মতে, আগে ব্যাটিং কিংবা পরে-দুই ক্ষেত্রেই ব্যাটারদের দায়িত্ব নিয়ে খেলতে হবে।লিটন বলেন, ‘শুরুতে বা পরে ব্যাট করেন, রান তো ব্যাটারদেরই করতে হবে। তাঁদের পুরো দায়িত্ব নিয়েই ব্যাটিং করতে হবে।’
আগে ব্যাটিং করে বড় সংগ্রহ গড়লেও রান তাড়া করার সময় বাংলাদেশের ব্যাটারদের সংগ্রাম করতে দেখা যায়। এর কারণ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে লিটন বলেন, ‘ভালো প্রশ্ন। আগে ব্যাট করলে তো কোনো টার্গেট থাকে না। পরে ব্যাট করতে গেলে ৩০০ বা ৩০০ প্লাস রান টার্গেট থাকে, তখন একটু আগ্রাসী ব্যাট করতে হয়। আমরা বেশির ভাগ সময় ছয় ব্যাটার নিয়েই খেলি। লোয়ার অর্ডার সেভাবে দলে অবদান রাখতে না পারলে কাজটা একটু কঠিন হয়ে যায়। তবে চেষ্টা করছি সেসব শুধরে নেওয়ার।’
এদিকে সংবাদ সম্মেলনের শুরুতেই উঠে আসে মজার এক প্রসঙ্গ। দুবাই কিংবা আমিরাতে কখনো উটে চড়েছেন কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে হেসে লিটন বলেন, ‘না, না।’
জিম্বাবুয়ের অধিনায়ক সিকান্দার রাজা উটে চড়তে গিয়ে পড়ে ব্যথা পেয়েছিলেন। এ কারণে তাঁর সংবাদ সম্মেলনে আসতে দেরি হয়। বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন করা হলে লিটন বলেন, ‘(জিম্বাবুয়ের অধিনায়ক) আসেনি কেন, এটা আসলে আমার হাতে না। আমি নিশ্চিত, খেলাটার জন্য তারা সেরা প্রস্তুতি নিয়েছে, যেভাবে বাংলাদেশ দল নিয়েছে।’
১৭ অক্টোবর জিম্বাবুয়ে ও বাংলাদেশের ম্যাচ দিয়ে শুরু হচ্ছে ত্রিদেশীয় সিরিজের মাঠের লড়াই। আবুধাবির শেখ জায়েদ ক্রিকেট স্টেডিয়ামে ম্যাচটি শুরু হবে বাংলাদেশ সময় বিকেল সাড়ে ৫টায়।




